জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আনেন। তিনি বলেন, ‘একাধিকবার অনুরোধ করার পরও অসুস্থ ছেলের চিকিৎসার বিষয়ে সারজিস আলমের কাছ থেকে কোনো কার্যকর সহযোগিতা পাইনি।’
গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জুলাই জাতীয় সম্মেলনে জাহিদের মা ফাতেমা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তার বড় ছেলে আব্দুল্লাহ বিন জাহিদ ফ্যাসিস্টের দোসরদের গুলিতে নিহত হন। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ১৪ দিনের মাথায় তার ১৩ বছর বয়সী ছোট ছেলে জিসানের তৃতীয় স্তরের ক্যানসার ধরা পড়ে। পরে ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তার স্বামী মারা যান। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সারজিসের সঙ্গে আমার চারবার দেখা হয়েছে। সারজিস আমার বাসায়ও গিয়েছিল। আমি তাকে বলেছিলাম, আমার ছেলের অস্ত্রোপচারটা যেন বিদেশে, বিশেষ করে সিঙ্গাপুরে করানোর ব্যবস্থা করে দেয়। কিন্তু কোনো সহযোগিতা পাইনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে তিনবার গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখান থেকেও কোনো সহায়তা পাইনি।’ তার ভাষায়, ‘আমার সন্তান চিকিৎসা পায়নি, কারণ সে একজন শহিদের ভাই।’
তবে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কঠিন সময়ে বিএনপি তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। লন্ডনে থাকা অবস্থায়ও তারেক রহমান তার অসুস্থ ছেলের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছেন। ফাতেমা জানান, ক্যানসার আক্রান্ত ছেলের দুটি অস্ত্রোপচার বিএনপির সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসার প্রয়োজন হলে দ্রুত সহায়তাও পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষদিকে শহিদ পরিবারের পুনর্বাসন ও সম্মানজনক জীবনযাপনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সন্তানকে আর ফিরে পাব না। শুধু চাই বিচার হোক এবং শহিদ পরিবারগুলো যেন সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে।’