বিদায়ী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, তার উত্তরসূরিকে আন্তর্জাতিক সংকট ও কূটনীতিতে তার মতোই পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। তিনি মনে করেন, বর্তমান বিশ্বের অস্থির বাস্তবতায় পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ নীতিকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর গত মাসে পদত্যাগের ঘোষণা দেন স্টারমার।
স্টারমার বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বিষয় আর অভ্যন্তরীণ বিষয় সামলানোর মধ্যে সঠিক ভারসাম্য কী হওয়া উচিত– এ নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়। কিন্তু বাস্তবে দুটো একই বিষয়।’ তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, ভবিষ্যতের কোনো প্রধানমন্ত্রী কি তার তুলনায় কূটনীতিতে কম সময় দিতে পারবেন? জবাবে স্টারমার বলেন, ‘আমি মনে করি এটা অসম্ভব।’
পররাষ্ট্রনীতিতে বেশি সময় ব্যয় করার কারণে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনার মুখেও পড়েছেন স্টারমার। তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় থাকা সংসদ সদস্য অ্যান্ডি বার্নহাম জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, আবাসন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও বেশি ক্ষমতা হস্তান্তরের মতো অভ্যন্তরীণ ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ‘উইথ কিয়ার’ শিরোনামের একটি ভিডিওতে স্টারমার তার সরকারের আন্তর্জাতিক ভূমিকার পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, তার নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান ফিরে পেয়েছে। তিনি ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জোটে সক্রিয় অংশগ্রহণকে তার সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্টারমার বলেন, ‘এখন অন্য দেশগুলো নেতৃত্বের জন্য আমাদের দিকে তাকায়- সরকারে গত দুই বছরে এমনটা অর্জন করতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, শিশুদারিদ্র্য কমানো এবং ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) সেবার উন্নয়নও তার সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে।’ সূত্র: রয়টার্স