যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে গত শনিবার ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে নির্বাচনি সমাবেশের আদলে ভাষণ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় ৪০ মিনিটের এ ভাষণে তিনি দেশপ্রেমের আহ্বানের পাশাপাশি নতুন ভোটার নিবন্ধনে বিধিনিষেধ, ‘কমিউনিজমের হুমকি’ এবং নিজ প্রশাসনের বিভিন্ন সাফল্যের দাবি তুলে ধরেন।
ঝড়ের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ডাকযোগে ভোট সীমিত করা এবং ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার আইন দ্রুত পাস করা উচিত।
তিনি দাবি করেন, তার প্রশাসন ইরানের সামরিক শক্তিকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করেছে। ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজয়, চাঁদে মানুষের অবতরণ, রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের প্রথম উড্ডয়ন এবং দেশটির গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রশংসা করেন।
একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কমিউনিজমের বিস্তার ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। তার মতে, ‘এটি ক্যানসারের মতো, শুরুতেই কেটে ফেলতে হবে।’ যদিও তিনি সরাসরি ডেমোক্র্যাটদের নাম উল্লেখ করেননি, অতীতে বামপন্থি ডেমোক্র্যাট নেতাদের ‘কমিউনিস্ট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
২০১৯ সালের পর আবারও স্বাধীনতা দিবসে ন্যাশনাল মলে ভাষণ দিলেন ট্রাম্প। ১৯৫১ সালের পর এ ধরনের আয়োজন খুবই বিরল। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার সঙ্গে লড়াই করে দর্শনার্থীরা অনুষ্ঠানে প্রবেশের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। এই রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহের কারণে এলাকার বেশ কয়েকটি প্যারেড ও অন্যান্য অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়। বজ্রঝড়ের আশঙ্কায় একপর্যায়ে সবাইকে কাছাকাছি জাদুঘর ও সরকারি ভবনে আশ্রয় নিতে বলা হয়।
ট্রাম্প আগেই বলেছিলেন, তিনি ‘খুব দীর্ঘ’ ভাষণ দেবেন। শেষ পর্যন্ত তার বক্তব্য ৪০ মিনিটেরও কম স্থায়ী হয়। এদিন শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী সংগঠন ‘প্যাট্রিয়ট ফ্রন্ট’-এর সদস্যরাও ওয়াশিংটনে মিছিল করেন। যদিও পুলিশ কোনো সহিংস ঘটনার খবর পায়নি।
ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ফ্রিডম ২৫০’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ন্যাশনাল মলে আয়োজন করা হয়েছে ‘গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’। সেখানে নাগরদোলাসহ নানা বিনোদনমূলক রাইডের পাশাপাশি রক্ষণশীল সংগঠন ও প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের স্টলও স্থান পেয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এই আয়োজনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ, উদ্ভাবন, ঐতিহ্য ও জাতীয় অর্জনকে তুলে ধরা হচ্ছে।
তবে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্য প্রতিনিধি পাঠায়নি এবং নির্ধারিত অনেক শিল্পীও অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন। তাদের অভিযোগ, জাতীয় উদযাপনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক–যার মধ্যে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ডেমোক্র্যাট এবং অর্ধেক রিপাবলিকান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত রাজনৈতিক হয়ে উঠেছে।
রাজধানী ওয়াশিংটনকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ নিয়েও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক ফোয়ারা ও ভাস্কর্য সংস্কার করা হলেও লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কার প্রকল্প নানা সমস্যায় পড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স