ঢাকা ২২ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
হিলিতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে র‌্যালি তবে কি রোনালদোকে ভয় পাচ্ছেন স্পেন কোচ? ব্রুনোর পেনাল্টি নেওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন আনচেলত্তি চট্টগ্রামে আহত ছাত্রদল নেতা সাইফুদ্দিনের মৃত্যু সিটিজেনস ব্যাংক পিএলসির ৪র্থ বছরে পদার্পণ বাংলা একাডেমিতে শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক পার্বত্য তিন জেলায় বাঙালিদের আয়কর ছাড় ও বন্ধ ঋণ চালুর দাবি নরওয়ে গোলকিপারকে ‘বেকুব’ বলেছিলেন নেইমার প্রশান্ত মহাসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন ৪০ পাউন্ডে শুরু করে মাসে ৩ লাখ টাকা! ভিন্টেজ পোশাক বিক্রি করে তরুণীর অসাধারণ সাফল্য প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে নগর গবেষণাকেন্দ্র উদ্বোধন বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পরও আনচেলত্তির ওপর আস্থা, থাকছেন ২০৩০ পর্যন্ত উত্থানে শেয়ারবাজার ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পের সফরের আগে কিয়েভে রুশ হামলা, নিহত ৯ সব হাসপাতালে বাধ্যতামূলকভাবে লেবার রুম স্থাপনের নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাশেরকান্দি পয়োশোধনাগার: বাজেট ও মেয়াদ শেষ হলেও প্রকল্প সম্পূর্ণ হয়নি ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩৪২ পেনাল্টি বিতর্কে মুখ খুললেন ভিনিসিয়ুস টাঙ্গাইলে নারীকে পেটালেন ইউপি চেয়ারম্যান জয়পুরহাটে কমেছে পাট চাষ, জাগ দেওয়াই মূল সংকট প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ বরিশালে কথিত যুবদল নেতা গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রে সুপার টাইফুনে নিহত ৫ কূটনৈতিক টানাপড়েনে আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানি আয়ে ভাটা স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বোমা ফাটালেন রোনালদো বরগুনায় সংরক্ষিত বন দখল ও গাছ কাটার অভিযোগে ৫ জন কারাগারে ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৫০ নারী-পুরুষ নান্দাইলে ধর্ষণের বিচার চড়থাপ্পড় ও জরিমানায় হালান্ডের জোড়া গোলে বিদায় ব্রাজিল, মধ্যরাতে উল্লাস মৌলভীবাজারে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র

দাশেরকান্দি পয়োশোধনাগার: বাজেট ও মেয়াদ শেষ হলেও প্রকল্প সম্পূর্ণ হয়নি

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
দাশেরকান্দি পয়োশোধনাগার: বাজেট ও মেয়াদ শেষ হলেও প্রকল্প সম্পূর্ণ হয়নি
ছবি: খবরের কাগজ

৩ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। এর মধ্যে চীন ঋণ হিসেবে দিয়েছে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। তার পরও গুলশান, বনানী, বসুন্ধরা, ভাটারা, বাড্ডা, বারিধারা এলাকার বর্জ্য নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় পাইপলাইন বা স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণরূপে তৈরি হয়নি। ফলে প্ল্যান্টটি পূর্ণ ক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। সক্ষমতার অর্ধেক বর্জ্য পরিশোধন হচ্ছে।

লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আয় হচ্ছে না। তারপরও ২০২৭ সাল থেকে এই ঋণের কিস্তি টানতে হবে। এ ছাড়া বর্জ্যশোধনের নির্গত ধোঁয়া থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সম্ভাব্যতা যাচাই করার পরও পরিকল্পনায় ত্রুটি থেকে গেছে। আড়াই বছর আগে কাজ শেষ হলেও পরিবহনপুলে জমা হয়নি জিপগাড়ি, পিকআপ ও মোটরসাইকেল। দাশেরকান্দি পয়োশোধনাগার প্রকল্পটির এই হচ্ছে বাস্তব চিত্র। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। 

এটি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম পয়োশোধনাগার ও দেশের প্রথম আধুনিক বড় আকারের শোধনাগার। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার মাত্র এক-চতুর্থাংশ বর্জ্য পরিশোধন করতে পারছে। রাজধানীর পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে ঢাকা ওয়াসার মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে দাশেরকান্দি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ২০১৫ সালের ২৫ আগস্টে প্রকল্পটি অনুমোদন পায় একনেক সভায়।

২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন করার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন খরচ ধরা হয় ৩ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীনের ঋণ ধরা হয় ২ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা। বাকি ১ হাজার ১২৪ কোটি টাকা সরকারি কোষাগার থেকে খরচ করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ হয়নি। দুই বার সংশোধন করে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। খরচও বাড়ানো হয় ৩ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। পরে খরচ ধরা হয় ৩ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। 

প্রকল্পের প্রধান প্রধান কাজ ধরা হয় ৭৪ কোটি টাকা খরচ করে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট একটি, ট্রাংক স্যুয়ারেজ লাইন প্রায় ১০ কিলোমিটার ও স্যুয়ারেজ লিফটিং স্টেশন একটি। লক্ষ্য ছিল ঢাকা মহানগরীর জন্য পরিবেশসম্মত ও টেকসই পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জনসম্পদের দূষণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা এবং ঢাকা শহরের গুলশান, বারিধারা, কুড়িল, সংসদ ভবন এলাকা, ফার্মগেট, আফতাব নগর, হাতিরঝিল এলাকার সৃষ্ট পয়োবর্জ্য পরিশোধন করে বালু নদীতে নিষ্কাশিত করার মাধ্যমে পানি ও পরিবেশ দূষণ রোধ করা। এ ছাড়া সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার ফেজ-১ ফেজ-২-এর ইনটেক পয়েন্টে শীতলক্ষ্যা নদীর পানির দূষণ কমানো। 

এসব কাজ করার জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতের জন্য ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা খরচ করে একটি ডাবল কেবিন পিকআপ, একটি জিপ গাড়ি ও ৫টি মোটরসাইকেল কেনা হয়। আড়াই বছর আগে কাজ শেষ হয়েছে। তার পরও পরিবহন পুলে জমা দেয়নি এসব গাড়ি। ঢাকা ওয়াসায় ব্যবহার করা হচ্ছে। পরামর্শকদের পেছনে খরচ করা হয় ২৫ কোটি টাকা। এভাবে বিভিন্ন খাতে ৩ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও সংশ্লিষ্ট এলাকার স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্ক এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে শোধনাগার নির্মাণ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় বর্জ্য সেখানে পৌঁছাচ্ছে না। 

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্ল্যান্টটির নকশাগত সক্ষমতা দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন লিটার (এমএলডি) বা ৬০ কোটি লিটার বর্জ্য পরিশোধনের। কিন্তু স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্ক অসম্পূর্ণ থাকায় বর্ষাকালে ৪৮০ এমএলডি ও শুষ্ক মৌসুমে এটি মাত্র ৩০০ এমএলডি সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। ফলে বিপুল বিনিয়োগের পরও কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। প্রত্যাশিত রাজস্বও অর্জিত হচ্ছে না। অথচ ২০২৭ সাল থেকে এই ঋণের কিস্তি দেওয়া শুরু হবে। অথচ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আয় হচ্ছে না। ফলে এই প্রকল্পটি ঋণের বোঝাস্বরূপ। প্রকল্প চালুর আগেই বর্জ্য সংগ্রহের লাইন তৈরি করা দরকার ছিল।

ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আগে থেকেই জানত। তারপরও নেটওয়ার্ক তৈরি না করে প্ল্যান্ট নির্মাণের কাজ শেষ করে, যা পরিকল্পনার বড় ধরনের অসংগতি। দীর্ঘ ৯ বছরে ৭৪টি অডিট আপত্তি তোলা হলেও মাত্র ২০টির নিষ্পত্তি হয়েছে। এখনো ৫৪টি আপত্তি অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে। কাজের মান দেখভাল করার জন্য বছরে ৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) ও প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটি (পিএসসি) সভা করার কথা। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ২০ শতাংশ পিআইসি ও ১১ শতাংশ পিএসসি সভা হয়েছে। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রামপুরা-বাড্ডা এলাকার পয়োলিফটিং স্টেশন ও দাশেরকান্দি প্ল্যান্টে কঠিন বর্জ্য পৃথক করে সংরক্ষণের যে ব্যবস্থা রয়েছে তার একটি অংশ অকেজো অবস্থায় থাকায় সেবাদান ব্যাহত হচ্ছে। হাতিরঝিল খালের পানির মান আগের তুলনায় উন্নত হলেও গুলশান-১ গুদারাঘাট এলাকা এখনো দুর্গন্ধের জন্য চলাচল কষ্টকর হচ্ছে। প্রথম প্রকল্প পরিচালক ছিলেন প্রকৌশলী মো. মোহসিন আলী মিয়া ও পরে প্রকৌশলী মো. মমতাজুর রহমান। 

হাতিরঝিল উত্তর ও দক্ষিণ পাশের বিদ্যমান ১১টি স্পেশাল স্যুয়ারেজ ডাইভার্সন স্ট্রাকচার (এসএসডিএস) এর মাধ্যমে সংযুক্ত এলাকার পয়োবর্জ্য সরাসরি রামপুরা খালের মাধ্যমে বালু হয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে নিষ্কাশনের পরিবর্তে এই প্ল্যান্টে শোধন করা হচ্ছে। ফলে বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর পানি দূষণ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। 

দুর্নীতিসংশ্লিষ্টদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে

ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই) করার পরও পরিকল্পনায় ত্রুটি থেকে গেছে। ফলে এত টাকা খরচ করেও প্রকল্পটি প্রত্যাশিত কাজে আসছে না। ঘোড়ার আগে গাড়ি কেনা হয়েছে। এখানে দুর্নীতি হয়েছে। আসলে প্রকল্পের অর্থনৈতিক ও কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই যথাযথভাবে হয়েছিল কি না, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। প্রকল্পের সঙ্গে যারাই

সংশ্লিষ্ট তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। তা না হলে অন্যরা আবার এভাবে অর্থের অপচয় করবেন।’
সার্বিক বিষয়ে জানতে ঢাকা ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলমগীর হাছিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। পরে উপপ্রধান জনতথ্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘এটা একটা টেকনিক্যাল প্রকল্প। সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তাদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য নিতে সময় লাগবে।’

উত্থানে শেয়ারবাজার

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
উত্থানে শেয়ারবাজার
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

নতুন অর্থবছরের প্রথম কার্যদিবসে শেয়ারবাজারে দরপতন হলেও দ্বিতীয় কার্যদিবসে গতকাল রবিবার বড় উত্থান হয়েছে। এই উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে জ্বালানি ও অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। সেই সঙ্গে বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলোও শেয়ারবাজারের বড় উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

জ্বালানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বস্ত্র কোম্পানির ওপর ভর করে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি লেনদেন বেড়ে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। বেড়েছে মূল্যসূচক। সেই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ার মাধ্যমে। তবে আধা ঘণ্টার মধ্যে দাম কমার তালিকা বড় হয়। এতে সূচকও কিছুটা ঋণাত্মক হয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতিতে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখাতে থাকে আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। সেই সঙ্গে জ্বালানি ও বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলোও দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখাতে থাকে। এতে সূচকও ঋণাত্মক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসে, যা অব্যাহত থাকে লেনদেনের শেষ পর্যন্ত।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৭৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। দাম কমেছে ১৫৩টির এবং ৫৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

অন্যদিকে আর্থিক খাতের ১৮টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে এবং ৪টির দাম কমেছে। জ্বালানি খাতের ১৮টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে দাম কমেছে ৩টির। বস্ত্র খাতের ৩২টির শেয়ার দাম বেড়েছে এবং ১৮টির দাম কমেছে।

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৯২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। ৭৫টির দাম কমেছে এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪২টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ২৮টির এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৩টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৫০টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১১টির দাম বেড়েছে। ৭টির দাম কমেছে এবং ১৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স তার আগের দিনের তুলনায় ৪৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭৮৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক তার আগের দিনের তুলনায় ২৯ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৯১ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৭৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫৩০ কোটি ৭ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ৪৩৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। লেনদেন বেড়েছে ৯০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির ৫৩ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ২৬ লাখ টাকার। ৪০ কোটি ৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বেক্সিমকো।

এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- আইপিডিসি ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, আইটি কনসালটেন্টস, ফারইস্ট নিটিং, শাহাজিবাজার পাওয়ার এবং বিএসআরএম স্টিল।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দাম বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসের। কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৪ টাকা ২ পয়সা বা ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেড়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ড্রাগন সোয়টার অ্যান্ড স্পিনিং লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফাস্ট মিউচুয়াল ফান্ডে দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ।

এ ছাড়া ডিএসইতে দাম বৃদ্ধির শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো – প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ইস্টার্ন ক্যাবলস, ক্রাউন সিমেন্ট, এম.এল ডাইং, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি), ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স পিএলসি এবং ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেড।

এদিন ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ফ্যামিলিটেক্স (বিডি) লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ২০ পয়সা বা ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমেছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ কমেছে। তৃতীয় স্থানে থাকা জিল বাংলা সুগার মিলস্‌ লিমিটেডের শেয়ারের দাম ৫ দশমিক ৬১ শতাংশ কমেছে।

এ ছাড়া ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো- দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিলস্‌, সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড, মাইডাস ফাইন্যান্স, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, শাইনপুকুর সিরামিক্স, প্রাইম ইসলামী ইন্স্যুরেন্স এবং প্রাইম টেক্সটাইল স্পিনিং মিলস্‌ লিমিটেড।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৯৭ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৫৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪২টির দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৯৬টির এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৬৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৬০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

কূটনৈতিক টানাপড়েনে আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানি আয়ে ভাটা

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:০৩ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:০৬ এএম
কূটনৈতিক টানাপড়েনে আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানি আয়ে ভাটা
ছবি: সংগৃহীত

সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে (২০২৫-২৬) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানি আয় বেড়েছে মাত্র ৯ কোটি ৬৮ লাখ ৬৫ হাজার ১৭৯ টাকা। এ ছাড়া অনিয়মিত পণ্য আমদানির কারণে রাজস্ব আয়ও কমেছে। মূলত, জুলাই অভ্যুত্থানের পর ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপড়েনের জেরে বাংলাদেশ থেকে উচ্চ চাহিদসম্পন্ন বেশ কয়েকটি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত সরকার, যার প্রভাব পড়ে আখাউড়া স্থলবন্দরের রপ্তানি বাণিজ্যে। ফলে সামগ্রিকভাবে বন্দরের রপ্তানি আয় আশানুরূপ বাড়েনি বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য চলছে। আমদানির চেয়ে রপ্তানি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় রপ্তানিমুখী বন্দর হিসেবে বিবেচিত হয় আখাউড়া স্থলবন্দর। প্রতিদিন হিমায়িত মাছ, রড, সিমেন্ট, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়। যদিও বন্দরের সূচনালগ্নে রপ্তানি পণ্যের তালিকা দীর্ঘ ছিল। বর্তমানে রপ্তানি হওয়া পণ্যের প্রায় অর্ধেকই হিমায়িত মাছ। রপ্তানিকৃত পণ্য ত্রিপুরার আগরতলা স্থলবন্দর হয়ে সরবরাহ করা হয় দেশটির উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে।

তবে ব্যবসায়ীদের অনীহায় গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কোনো পণ্যই আমদানি হয়নি। এ কারণে রাজস্ব আয় কমে গেছে। পণ্য আমদানি অনিয়মিত হওয়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে যেসব পণ্য আমদানির অনুমতি রয়েছে, তার অধিকাংশই ত্রিপুরার বাইরের রাজ্য থেকে আনতে হয়। যার ফলে আমদানি খরচ মিটিয়ে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা করা যায় না।

আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি হয়েছে ৫২৪ কোটি ২ লাখ ৮৯ হাজার ২৩৮ টাকার পণ্য। রপ্তানি পণ্যের তালিকায় ছিল হিমায়িত মাছ, সিমেন্ট, শুঁটকি, আটা-ময়দা, ভোজ্যতেলসহ কয়েকটি পণ্য। আর বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৫১৪ কোটি ৩৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৯ টাকার পণ্য।

অন্যদিকে ২০২৫-২৬ অর্থছরে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪০ টাকার চাল, আগরবাতি ও জিরা। এ থেকে সরকারের রাজস্ব এসেছে ৭১ লাখ ৩২ হাজার ৫৯৩ টাকা। আর বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ৭ কোটি ৩১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫৯ টাকার জিরা, ডাল ও কাজু বাদাম। ওই অর্থবছরে আমদানি পণ্য থেকে রাজস্ব আসে ৪ কোটি ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৯ টাকা।

মূলত, ২০২৫ সালের ১৭ মে স্থলবন্দরগুলো দিয়ে বাংলাদেশ থেকে বেশ কয়েকটি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত সরকার। এক বছরের বেশি সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি। ফলে আখাউড়া স্থলবন্দরে পণ্য রপ্তানি কমেছে।

আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক রাজীব উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, ভারতের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা প্লাস্টিক, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফলের স্বাদযুক্ত জুস, পিভিসিসামগ্রী এবং তুলার মতো উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন পণ্য রপ্তানি করতে না পারায় বন্দরের রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মূলত, হিমায়িত মাছের পর সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হতো প্লাস্টিক, প্রক্রিয়াজত খাবার ও পিভিসিসামগ্রী।

বন্দরের আরেক ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন জানান, পণ্য আমদানি বাড়াতে হলে স্থানীয় বাজারে যখন যে পণ্যের চাহিদা তৈরি হবে, সেই পণ্য আমদানির অনুমতি দিতে হবে। অন্যথায় পণ্য আমদানি বাড়া বা নিয়মিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ দিনের পর দিন লোকসান দিয়ে কেউ পণ্য আমদানি করবেন না।

আখাউড়া স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি নিছার উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে যে টানাপড়েন ছিল, তা এখন অনেকটাই কেটে গেছে। তবে আমরা আশা করেছিলাম নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারত আমদানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। কিন্তু সেটি না করায় এবার আমাদের রপ্তানি আয় আশানুরূপভাবে বাড়েনি। আমাদের দাবি থাকবে, দুই দেশের সরকার আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত নিষেধাজ্ঞাটি প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করবে।’

এ বিষয়ে আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সাদরুল হাসান চৌধুরী জানান, পণ্য আমদানি অনিয়মিত হওয়ার কারণে রাজস্ব আয় কিছুটা কমেছে। তবে আমদানি-রপ্তানি বাড়ানোর জন্য ব্যবসায়ীদর সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে থাকে শুল্ক কর্তৃপক্ষ। আর ব্যবসায়ীদের সব পণ্য আমদানির অনুমতি দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। 

ইস্টার্ন ব্যাংকের আলী রেজার দুর্নীতি: তথ্যের অপেক্ষায় অনুসন্ধান স্থবির

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:০১ এএম
ইস্টার্ন ব্যাংকের আলী রেজার দুর্নীতি: তথ্যের অপেক্ষায় অনুসন্ধান স্থবির
ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) সাবেক এমডি ও সিইও আলী রেজা ইফতেখার

অনিয়ম-দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) সাবেক এমডি ও সিইও আলী রেজা ইফতেখারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান থেমে আছে। গত বছর শুরু হওয়া অনুসন্ধানের স্বার্থে তথ্য চেয়ে ইবিএল কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েক দফা চিঠি দেয় দুদক। প্রতিবারই সময় চেয়ে পাল্টা চিঠি দেন ইবিএলের কর্মকর্তারা। সর্বশেষ ১০ কর্মদিবস সময় বেঁধে গত মাসে চূড়ান্ত নোটিশ দেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান।

এই নোটিশে বলা হয়, তথ্য পাওয়া না গেলে দায়ী ইবিএলের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই চিঠিতেও কাজ হয়নি। অবশ্য পরে ইবিএল কর্মকর্তারা অতি সামান্য কিছু তথ্য সরবরাহ করেন। বাকি তথ্যের জন্য আবারও তিন মাসের সময় চেয়ে আবেদন করেন। ফলে সেসব তথ্যের অপেক্ষায় থেমে আছে অনসুন্ধান।

ঋণজালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফতের বিরুদ্ধে গত বছর ১৩ এপ্রিল মামলা করে দুদক। সেই মামলার তদন্তের একপর্যায়ে আলী রেজা ইফতেখারের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। সেসব তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধেও আলাদা অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় দুদকের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে। তিনি অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আলী রেজা ইফতেখারের বিষয়ে ৬ রকমের নথিপত্র চেয়ে ইবিএলের কাছে একটি চিঠি পাঠান। কর্তৃপক্ষ সময় চাইলে তা মঞ্জুর করা হয়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে ফের ৩ মে ইস্টার্ন ব্যাংকের কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়।

চিঠিতে ইস্টার্ন ব্যাংকে থাকা আলী রেজা ইফতেখারের ব্যক্তিগত নথির সত্যায়িত কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের কপি, মোবাইল ও টেলিফোন নম্বরসহ বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বেতন-ভাতার সমুদয় হিসাববিবরণী, তার নামে পরিচালিত সব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য (চালু ও বন্ধ) এবং এ যাবৎ তাকে দেওয়া অবসরকালীন সুবিধাসহ সব আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র চাওয়া হয়।

নথি সরবরাহের জন্য ইস্টার্ন ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ১৭ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে ইস্টার্ন ব্যাংক নথি সরবরাহে ব্যর্থ হয়। এরপর আরও ১০ কর্মদিবস সময় চেয়ে দুদকে আবেদন করে ইস্টার্ন ব্যাংক। সার্বিক বিবেচনায় ৭ কর্মদিবস পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করেন দুদকের কর্মকর্তা। সে অনুসারে গত ৩ জুনের মধ্যে সব নথি দুদকে দাখিল করার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যেও নথিপত্র সরবরাহ করা হয়নি। উপরন্তু আরও ৩ মাস সময় চেয়ে ৪ জুন আবেদন করেন ইবিএলের ডিএমডি মাহমুদুন নবী চৌধুরী ও হেড অব এএমএলডি মো. শাহজাহান আলী।

এই আবেদনে ক্ষুব্ধ দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান ৮ জুন ইবিএলের এমডিকে কড়া ভাষায় নোটিশ দেন। নোটিশে ১৮ জুনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব নথি সরবরাহের চূড়ান্ত বার্তা দেওয়া হয়। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুদক আইনের ১৯(৩) ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করা হয়।

চূড়ান্ত বার্তার পর অতি সামান্য তথ্য সরবরাহ করে ইবিএল কর্তৃপক্ষ। বাকি তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় অনুসন্ধানকাজ আপাতত থেমে আছে।

এদিকে তথ্য সরবরাহে টালবাহানার পরিপ্রেক্ষিতে ইবিএলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদক আইনের ১৯(৩) ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন দুদক কর্মকর্তারা। এ জন্য কমিশনের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। কমিশন না থাকায় এখনই সেই ব্যবস্থাও নিতে পারছেন না দুদক কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, আলী রেজা ইফতেখার ২০০৪ সালে ইবিএলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। ২০০৬ সালে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন। ২০০৭ সালে তিনি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিযুক্ত হন। চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল তিনি অবসরে যান। বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি কোনো ব্যাংকেই কোনো এমডি এত দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। দীর্ঘ সময়ে অন্তত ৫ বার তাকে এমডি পদে পুনঃনিয়োগ দেওয়া হয়। 

আলী রেজা ইফতেখার ২০১২ সালে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়ান লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ‘সিইও অব দ্য ইয়ার ২০১২’ পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০২০-২১ এবং ২০১৪-১৫ মেয়াদে দেশের ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

জুলাইয়ের প্রথম ৪ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৫ কোটি ডলার

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
জুলাইয়ের প্রথম ৪ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৫ কোটি ডলার
ছবি: সংগৃহীত

চলতি জুলাই মাসের প্রথম ৪ দিনে দেশে ৩৪ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। 

রবিবার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত জুন মাসে দেশে এসেছে ২৮১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫১ কোটি ৫১ লাখ ডলার।

বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৪৪ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৮৫ কোটি ৩৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার ও বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৬ লাখ ১০ হাজার ডলার।

রিফাত/

বেনাপোল বন্দরে রাজস্বে বড় ধাক্কা, ঘাটতি ৪৭৩১ কোটি টাকা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
বেনাপোল বন্দরে রাজস্বে বড় ধাক্কা, ঘাটতি ৪৭৩১ কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টম হাউসে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে বড় ধস নেমেছে। সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার অনেক কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা।

কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানি কমে যাওয়া, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতি ও শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তন রাজস্ব কমার অন্যতম কারণ।

চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। কিন্তু বছর শেষে আদায় হয়েছে মাত্র ৬ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৪২ শতাংশ কম। একই সময়ে বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ ২ হাজার ১৪৪ মেট্রিক টন।

আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭ হাজার ২৯ দশমিক ৩৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল এবং আমদানির পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০৯ মেট্রিক টন। অর্থাৎ এক বছরে আমদানি কমেছে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার মেট্রিক টন এবং রাজস্ব কমেছে প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা।

বাণিজ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি কমে যাওয়া সরাসরি রাজস্ব আদায়ে প্রভাব ফেলে। আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, আমদানি নীতির পরিবর্তন ও কিছু পণ্যে শুল্কহার সমন্বয়ের কারণে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ধীরগতি এসেছে। বিশেষ করে শিল্পকারখানার কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্যের আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্বে আদায়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া বন্দরের একটি অসাধু সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে কম শুল্কের পণ্যের ঘোষণা দিয়ে উচ্চ শুল্কের পণ্য খালাস করছে। এতে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।

সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী বাবলুর রহমান বলেন, উচ্চ শুল্কযোগ্য পণ্যের আমদানিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শিল্পের কাঁচামাল, ইলেকট্রনিকস পণ্য, যন্ত্রাংশ এবং বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল আমদানি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এসব পণ্য থেকেই সরকারের শুল্ক ও ভ্যাট আয়ের বড় অংশ আসে। ফলে এসব পণ্যের আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ে সরাসরি ও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আলহাজ মহসিন মিলন বলেন, ‘আগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৫৫০টি পণ্যবাহী ট্রাক আমদানি হতো, এখন তা কমে ২৫০ থেকে ৩০০টিতে নেমেছে। একইভাবে রপ্তানি ট্রাকের সংখ্যা ৩০০ থেকে ১৫০টিতে নেমে এসেছে।’

বেনাপোল স্থলবন্দরের ডিরেক্টর শামীম হোসেন জানান, ওজন স্কেলে কারচুপি এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমান বলেন, ‘সরকারের এক টাকার রাজস্বও যাতে ফাঁকি না যায়, সেদিকে কাস্টমস সর্বোচ্চ সতর্ক। ওজন স্কেলে কারচুপি, মিথ্যা ঘোষণা ও শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে জড়িতদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’