ঢাকা ২২ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
হিলিতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে র‌্যালি তবে কি রোনালদোকে ভয় পাচ্ছেন স্পেন কোচ? ব্রুনোর পেনাল্টি নেওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন আনচেলত্তি চট্টগ্রামে আহত ছাত্রদল নেতা সাইফুদ্দিনের মৃত্যু সিটিজেনস ব্যাংক পিএলসির ৪র্থ বছরে পদার্পণ বাংলা একাডেমিতে শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক পার্বত্য তিন জেলায় বাঙালিদের আয়কর ছাড় ও বন্ধ ঋণ চালুর দাবি নরওয়ে গোলকিপারকে ‘বেকুব’ বলেছিলেন নেইমার প্রশান্ত মহাসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন ৪০ পাউন্ডে শুরু করে মাসে ৩ লাখ টাকা! ভিন্টেজ পোশাক বিক্রি করে তরুণীর অসাধারণ সাফল্য প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে নগর গবেষণাকেন্দ্র উদ্বোধন বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পরও আনচেলত্তির ওপর আস্থা, থাকছেন ২০৩০ পর্যন্ত উত্থানে শেয়ারবাজার ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পের সফরের আগে কিয়েভে রুশ হামলা, নিহত ৯ সব হাসপাতালে বাধ্যতামূলকভাবে লেবার রুম স্থাপনের নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাশেরকান্দি পয়োশোধনাগার: বাজেট ও মেয়াদ শেষ হলেও প্রকল্প সম্পূর্ণ হয়নি ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩৪২ পেনাল্টি বিতর্কে মুখ খুললেন ভিনিসিয়ুস টাঙ্গাইলে নারীকে পেটালেন ইউপি চেয়ারম্যান জয়পুরহাটে কমেছে পাট চাষ, জাগ দেওয়াই মূল সংকট প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ বরিশালে কথিত যুবদল নেতা গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রে সুপার টাইফুনে নিহত ৫ কূটনৈতিক টানাপড়েনে আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানি আয়ে ভাটা স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বোমা ফাটালেন রোনালদো বরগুনায় সংরক্ষিত বন দখল ও গাছ কাটার অভিযোগে ৫ জন কারাগারে ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৫০ নারী-পুরুষ নান্দাইলে ধর্ষণের বিচার চড়থাপ্পড় ও জরিমানায় হালান্ডের জোড়া গোলে বিদায় ব্রাজিল, মধ্যরাতে উল্লাস মৌলভীবাজারে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩৪২

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৩১ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩৪২
ছবি: খবরের কাগজ

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩ হাজার ৩৪২ জনে পৌঁছেছে। দুর্যোগের ১১ দিন পরও যেসব মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, সেগুলোর শেষকৃত্য শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

গত ২৪ জুন আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে রাজধানী কারাকাসের উত্তরে উপকূলীয় লা গুয়াইরা এলাকায় অসংখ্য ভবন ধসে পড়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছে।

আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা শেষ হওয়ায় তাদের অভিযান গুটিয়ে নিচ্ছে। এখন নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো দাফনের জন্য গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ।

এএফপির সাংবাদিকরা জানান, লা গুয়াইরার ‘লা এসপেরানজা কবরস্থানের’ একটি নিরিবিলি এলাকায় এখন পর্যন্ত শনাক্ত না হওয়া ১৫০টিরও বেশি মরদেহ দাফন করতে দেখা গেছে। 

প্রতিটি কবরে সাদা রঙের সাধারণ ক্রুস এবং ছোট ছোট ফুলের তোড়া দিয়ে সারিবদ্ধ কবরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি কবরেই একই মৃত্যুর তারিখ ২৪ জুন ২০২৬ লেখা রয়েছে। দুটি খননযন্ত্র মাটিতে আরও কবর খননের কাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা এলি জাভালা দাফনের কাজে সহায়তা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা গভীর শোকে মুহ্যমান। ২৫ জুন থেকেই আমরা এই কাজ শুরু করেছি, যাতে এসব মানুষকে সম্মানের সঙ্গে দাফন করা যায়।’

রবিবার প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে অন্তত ৩ হাজার ৩৪২ জন নিহত এবং ১৬ হাজার ৭০০ জন আহত হয়েছে।

প্রায় ২০০ ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। যার বেশিরভাগই লা গুয়াইরা এলাকায়। এতে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে আশ্রয়কেন্দ্র ও অস্থায়ী শিবিরে বসবাস করছেন।

সরকার এখনও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে জাতিসংঘের ধারণা, ভূমিকম্পের ফলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের এখনও কোনো খোঁজ মেলেনি।

অনেক পরিবার এখনও ধ্বংসস্তূপে স্বজনদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

আজহার/

প্রশান্ত মহাসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:২১ পিএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
প্রশান্ত মহাসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন
ছবি: বাসস

চীন প্রশান্ত মহাসাগরে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষামূলক নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

পাপুয়া নিউ গিনির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নিউজিল্যান্ড সরকারের একটি সূত্র এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছে।

পাপুয়া নিউ গিনির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাস্টিন টকাচেঙ্কো এএফপিকে জানান, চীন এ বিষয়ে আমাকে অবহিত করেছে। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, চীন আমাকে জানিয়েছে। চীনা রাষ্ট্রদূত নিজে আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন।’

নিউজিল্যান্ড সরকারের একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, চীন তাদের আসন্ন একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে আগেই সতর্ক করেছে।

আজহার/

ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পের সফরের আগে কিয়েভে রুশ হামলা, নিহত ৯

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০২ পিএম
ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পের সফরের আগে কিয়েভে রুশ হামলা, নিহত ৯
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো সম্মেলনের প্রাক্কালে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ রুশ হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত ও আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন।

সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালায় রাশিয়া।

এ হামলায় আবাসিক ভবনগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এসব বহুতল ভবনের বাসিন্দারা আটকা পড়েছেন। শহরের রাস্তায় গাড়ি জ্বলতে দেখা গেছে।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, এ হামলায় পোডিলস্কি জেলার একটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে উদ্ধারকারীরা বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়েছেন। এ ছাড়াও শহরজুড়ে বিমান হামলায় সাইরেন বেজে ওঠলে বাসিন্দারা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, ‘মস্কো একটি নতুন ব্যাপক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) থেকে শুরু হতে যাওয়া তুরস্ক সম্মেলনের প্রেক্ষাপট হবে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ।

তবে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জানায়, আঙ্কারায় অবস্থানরত ট্রাম্প গত রবিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রায় ৯০ মিনিটের এক টেলিফোন আলাপে আবারও যুদ্ধ শেষ করতে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট শনিবার জেলেনস্কির সঙ্গেও কথা বলেছেন।

এ হামলাটি গত বৃহস্পতিবার কিয়েভে রাশিয়ার এক ভয়াবহ হামলায় ৩০ জন নিহত হওয়ার কয়েকদিন পর চালানো হলো, যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তৃতীয় সর্বোচ্চ মারাত্মক হামলা।

থিওটোনিয়াস/

যুক্তরাষ্ট্রে সুপার টাইফুনে নিহত ৫

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:০৬ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে সুপার টাইফুনে নিহত ৫
সোমবার ঝড়ের কেন্দ্রবিন্দু (আই অফ দ্য স্টর্ম) অতিক্রম করার কথা ছিল/ ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানা সুপার টাইফুন 'বাভি'-তে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৫ জন।

ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার বেগের ভয়ঙ্কর বাতাস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপাঞ্চল গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানে বাভি।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার গতির বাতাস এবং ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত দমকা হাওয়া নিয়ে ঝড়টি গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের ওপর দিয়ে অতিক্রম করছে।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ এই ঝড় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। সমুদ্রে প্রায় ১১ মিটার উচ্চতার ঢেউও সৃষ্টি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড় পর্যবেক্ষণ সংস্থা জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার (জেটিডব্লিউসি) বাভি-কে সুপার টাইফুন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। মূলত ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির বাতাস থাকলে কোনও টাইফুনকে সুপার টাইফুন বলা হয়। এনডব্লিউএসের মতে, এর ধ্বংসক্ষমতা ক্যাটাগরি-৪ বা ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের সমান।

তামান্না রুপা/

দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তাদের ‘ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড’-এর নাম পরিবর্তন করে আবার ‘প্যাসিফিক কমান্ড’ করেছে। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তাদের ‘ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড’-এর নাম পরিবর্তন করে আবার ‘প্যাসিফিক কমান্ড’ করেছে। পেন্টাগনের দাবি, এটি কেবল আগের নামেই ফিরে যাওয়া। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিবর্তন কেবল নামের নয়; বরং এটি ওয়াশিংটনের বৃহত্তর কৌশলগত অগ্রাধিকারেরও একটি বার্তা।

২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে কমান্ডটির নামের সঙ্গে ‘ইন্দো’ শব্দটি যুক্ত করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বোঝাতে চেয়েছিল, চীন তার প্রধান কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী এবং ভারত হচ্ছে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অংশীদার। তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস বলেছিলেন, নাম পরিবর্তনটি ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সংযোগের স্বীকৃতি।
ভারতের সংসদ সদস্য শশী থারুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছেন, ‘কোয়াডের কফিনে আরেকটি পেরেক?’

দক্ষিণ এশিয়ায় বদলাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি
যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে এমন একটি যুগ থেকে বেরিয়ে আসছে, যখন দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের মাধ্যমে আঞ্চলিক নীতি পরিচালনার প্রবণতা ছিল। পাকিস্তানকে নিরাপত্তা-সংকট, বাংলাদেশকে উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্র এবং নেপালকে ভারতের নিরাপত্তাবলয়ের অংশ হিসেবেই দেখা হতো। ছোট দেশগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন রাষ্ট্র বলা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই ভারতের প্রভাববলয়ের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও নেপালের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক জোরদার করছে। এসব দেশকে সক্ষমতা ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন স্বাধীন অংশীদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি স্নায়ুযুদ্ধের ধাঁচের জোট রাজনীতি নয়। বরং বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বে এমন অংশীদারত্ব গড়ে তোলা, যেখানে পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতা করা হবে, আবার প্রয়োজন অনুযায়ী চীন, রাশিয়া, ভারত বা অন্য দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব হবে।

ভারতের ভূমিকা নিয়ে নতুন হিসাব

ভারতের কিছু কৌশলবিশারদ মনে করছেন, এ পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিকভাবে ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও আবির্ভূত হতে পারে। ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস উৎপাদন এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে ভারতের অগ্রগতি ভবিষ্যতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে পারে। চীনের উত্থানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ওয়াশিংটন ভারতের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে না।

পাকিস্তান ও বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়ছে

পাকিস্তানকে পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্ক এখন নতুন মাত্রা পাচ্ছে। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির পাকিস্তানকে উপসাগরীয় পুঁজি, মার্কিন প্রযুক্তি এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনীতির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

তামা, স্বর্ণসহ বিপুল খনিজ সম্পদ পাকিস্তানকে চীনের সরবরাহব্যবস্থার সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ১৯ শতাংশ শুল্কহার এবং বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার মতো কূটনৈতিক সুবিধা পেয়েছে।

অন্যদিকে প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরের তীরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এটি উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্র হওয়ার পাশাপাশি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও অস্থিতিশীল মায়ানমারের কাছাকাছি হওয়ায় ওয়াশিংটনের আগ্রহ বাড়ছে।

বাংলাদেশ এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিয়োগ, জ্বালানি ও প্রযুক্তি সহযোগিতা বাড়াতে পারে, একই সঙ্গে চীনের কাছ থেকে সরঞ্জাম কেনা এবং ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যও চালিয়ে যেতে পারে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং মায়ানমারে নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র ভূমিকা নিলে ঢাকায় তাদের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।

নতুন বাস্তবতায় দক্ষিণ এশিয়া

অতীতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়েছিল ওয়াশিংটন। চীনের ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র অনেক সময় অংশীদারত্ব ও নির্ভরতার সীমারেখা মুছে ফেলেছিল।

‘প্যাসিফিক কমান্ড’ নাম পুনর্বহাল সেই যুগের সমাপ্তি হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। বরং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এখন আরও বাস্তববাদী ও স্বার্থভিত্তিক হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়া এখন এমন এক ভূ-রাজনৈতিক পরিসরে পরিণত হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি দেশ নিজ নিজ স্বার্থে ভিন্ন ভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছে। পাকিস্তান নিরাপত্তা ও খনিজ সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করছে, একই সঙ্গে চীনের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখছে। বাংলাদেশও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ালেও অন্য অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছে।

‘ইন্দো’ শব্দটি বাদ দেওয়ার মাধ্যমে পেন্টাগন কেবল এমন একটি বাস্তবতাকেই স্বীকৃতি দিয়েছে, যা ইতোমধ্যেই দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে দৃশ্যমান। এখন এই অঞ্চলকে এখন একাধিক স্বাধীন শক্তির সমন্বয়ে গঠিত বহুমাত্রিক ভূ-রাজনৈতিক পরিসর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

স্বাধীনতা দিবসে ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারমূলক ভাষণ

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:২৫ এএম
স্বাধীনতা দিবসে ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারমূলক ভাষণ
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে গত শনিবার ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে নির্বাচনি সমাবেশের আদলে ভাষণ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় ৪০ মিনিটের এ ভাষণে তিনি দেশপ্রেমের আহ্বানের পাশাপাশি নতুন ভোটার নিবন্ধনে বিধিনিষেধ, ‘কমিউনিজমের হুমকি’ এবং নিজ প্রশাসনের বিভিন্ন সাফল্যের দাবি তুলে ধরেন। 

ঝড়ের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ডাকযোগে ভোট সীমিত করা এবং ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার আইন দ্রুত পাস করা উচিত। 

তিনি দাবি করেন, তার প্রশাসন ইরানের সামরিক শক্তিকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করেছে। ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজয়, চাঁদে মানুষের অবতরণ, রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের প্রথম উড্ডয়ন এবং দেশটির গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রশংসা করেন। 

একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কমিউনিজমের বিস্তার ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। তার মতে, ‘এটি ক্যানসারের মতো, শুরুতেই কেটে ফেলতে হবে।’ যদিও তিনি সরাসরি ডেমোক্র্যাটদের নাম উল্লেখ করেননি, অতীতে বামপন্থি ডেমোক্র্যাট নেতাদের ‘কমিউনিস্ট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। 

২০১৯ সালের পর আবারও স্বাধীনতা দিবসে ন্যাশনাল মলে ভাষণ দিলেন ট্রাম্প। ১৯৫১ সালের পর এ ধরনের আয়োজন খুবই বিরল। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার সঙ্গে লড়াই করে দর্শনার্থীরা অনুষ্ঠানে প্রবেশের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। এই রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহের কারণে এলাকার বেশ কয়েকটি প্যারেড ও অন্যান্য অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়। বজ্রঝড়ের আশঙ্কায় একপর্যায়ে সবাইকে কাছাকাছি জাদুঘর ও সরকারি ভবনে আশ্রয় নিতে বলা হয়। 

ট্রাম্প আগেই বলেছিলেন, তিনি ‘খুব দীর্ঘ’ ভাষণ দেবেন। শেষ পর্যন্ত তার বক্তব্য ৪০ মিনিটেরও কম স্থায়ী হয়। এদিন শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী সংগঠন ‘প্যাট্রিয়ট ফ্রন্ট’-এর সদস্যরাও ওয়াশিংটনে মিছিল করেন। যদিও পুলিশ কোনো সহিংস ঘটনার খবর পায়নি। 

ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ফ্রিডম ২৫০’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ন্যাশনাল মলে আয়োজন করা হয়েছে ‘গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’। সেখানে নাগরদোলাসহ নানা বিনোদনমূলক রাইডের পাশাপাশি রক্ষণশীল সংগঠন ও প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের স্টলও স্থান পেয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এই আয়োজনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ, উদ্ভাবন, ঐতিহ্য ও জাতীয় অর্জনকে তুলে ধরা হচ্ছে।

তবে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্য প্রতিনিধি পাঠায়নি এবং নির্ধারিত অনেক শিল্পীও অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন। তাদের অভিযোগ, জাতীয় উদযাপনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক–যার মধ্যে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ডেমোক্র্যাট এবং অর্ধেক রিপাবলিকান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত রাজনৈতিক হয়ে উঠেছে।

রাজধানী ওয়াশিংটনকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ নিয়েও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক ফোয়ারা ও ভাস্কর্য সংস্কার করা হলেও লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কার প্রকল্প নানা সমস্যায় পড়েছে।

সূত্র: রয়টার্স