ঢাকা ২২ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
স্বাধীনতা দিবসে ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারমূলক ভাষণ কৃষিকে আধুনিকায়নে ঝিনাইদহে ৯০ কৃষকের হাতে উঠল স্প্রে মেশিন দেনমোহর আদায়ে নীতিমালা করতে হাইকোর্টে রিট জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি হচ্ছেন আইরিন খান ট্রাম্পের ফোনে বালোগানের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ফিফা, বিশ্বকাপে তোলপাড় ৩ বছর পর বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে মুখোমুখি ৬ বিভাগে ভারী বৃষ্টি, ৫ জেলায় বন্যার সতর্কতা ইস্টার্ন ব্যাংকের আলী রেজার দুর্নীতি: তথ্যের অপেক্ষায় অনুসন্ধান স্থবির আ.লীগের বিচার হবে কি না, তদন্ত চলছে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ শিশু বলাৎকার ও যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ শূলের মঞ্চে দুই রাকাত লুঙ্গি পরা যুবকের ‘প্যান্টের পকেটে’ মিলেছে গাঁজা! কোয়ার্টার ফাইনালে কার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড? কালো লেডিবার্ড বিটল ‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ স্লোগান, ইরানে ক্ষোভের আগুন এনসিটি পরিচালনার ভার পাচ্ছে ডিপি ওয়ার্ল্ড! মেক্সিকোর বিরুদ্ধে নাটকীয় জয় ১০ জনের ইংল্যান্ডের এনবিআরের অদক্ষতায় নিষ্পত্তি হচ্ছে না রাজস্ব মামলা! মেক্সিকো-ইংল্যান্ড ম্যাচ ড্র হলে ভবিষ্যৎ কী? স্পেন-পর্তুগালের ডু অর ডাই কর্ণফুলী টানেল: নিয়ম ভেঙে লুটপাটের মহোৎসব ফিফা বিশ্বকাপে কতজন ইংলিশ খেলোয়াড় হ্যাটট্রিক করেছেন? ৬ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল সিলেটে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৩ স্কুলছাত্র নিহত এখনো নোবেল পুরস্কার না পাওয়ায় ট্রাম্পের আক্ষেপ ৬ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ইংল্যান্ডের জ্যারেলকে লাল কার্ড দেখালেন কেন? মুখোমুখি রোনালদো-ইয়ামাল দুই প্রজন্মের লড়াই উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে ৮ জনের মৃত্যু

স্পেন-পর্তুগালের ডু অর ডাই

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ এএম
স্পেন-পর্তুগালের ডু অর ডাই
ছবি: সংগৃহীত

স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার সুযোগটুকুও যেন মিলল না পর্তুগালের। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় জয় তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা বাঁচিয়েছে ঠিকই; কিন্তু সেই উল্লাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ সামনে দাঁড়িয়ে ইউরোপের সবচেয়ে পরিণত, সবচেয়ে ধারাবাহিক দল স্পেন। এক বছর আগেই উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনালে লা রোজাদের হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ইউরোপের ব্রাজিল খ্যাত পর্তুগিজরা। সেই মধুর স্মৃতি সঙ্গী করে ২৩তম ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ফেবারিট স্পেনের মুখোমুখি হচ্ছে সব সময়ের সমীহ জাগানিয়া দল পর্তুগাল। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে ম্যাচটি শুরু হবে আজ (৬ জুলাই) রাত ১টায়। 

ডালাসে বিশ্বকাপের রাত শুধু স্পেন ও পর্তুগালের লড়াই নয়, এটি দুই প্রজন্মেরও মহারণ। একদিকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, অন্যদিকে বিশ্ব ফুটবলের নতুন বিস্ময় লামিনে ইয়ামাল। শেষ ষোলোর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে তাই দুই দলের লড়াইয়ের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে এই দুই তারকার ব্যক্তিগত দ্বৈরথও। রোনালদো মানেই বড় মঞ্চের মানুষ। ক্যারিয়ারের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন বারবার। বয়স বাড়লেও গোল করার ক্ষুধা, নেতৃত্ব দেওয়ার মানসিকতা এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা এখনো পর্তুগালের সবচেয়ে বড় ভরসা। নকআউট পর্বে তার অভিজ্ঞতাই হতে পারে পর্তুগালের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সে স্বাক্ষর রেখেছেন সি আর সেভেন। 

অন্যদিকে মাত্র কিশোর বয়সেই লামিনে ইয়ামাল স্পেনের প্রাণভোমরায় পরিণত হয়েছেন। তার গতি, ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার দক্ষতা ইতোমধ্যেই বিশ্ব ফুটবলের নজর কেড়েছে। বড় ম্যাচের চাপকে উপভোগ করাই যেন তার স্বভাব। তবে এবারের বিশ্বকাপে ইয়ামালকে ঠিক তার মতো চেনা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত নিজের সেরা ছন্দে ফিরতে পারেননি বার্সা সুপারস্টার। এটাই হয়তো পর্তুগালের জন্য ভয়ের! দেখা যাচ্ছে এই ম্যাচেই জ্বলে উঠলেন ইয়ামাল; আর পুড়ে ছারখার হয়ে গেল পর্তুগিজরা! ম্যাচটি তাই শুধু দুই দলের কৌশলের লড়াই নয়, দুই ভিন্ন দর্শনেরও লড়াই। একদিকে বছরের পর বছর ধরে বিশ্ব ফুটবল শাসন করা এক কিংবদন্তি, অন্যদিকে আগামী এক যুগের নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা এক তরুণ প্রতিভা। রোনালদো যেখানে অভিজ্ঞতা দিয়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবেন, সেখানে ইয়ামাল গতি ও সাহসী ফুটবলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে চাইবেন।

স্পেনের আক্রমণের বড় শক্তি ইয়ামালের ডান প্রান্তের দৌড়। অন্যদিকে পর্তুগাল রোনালদোর ফিনিশিং এবং বক্সের ভেতরের উপস্থিতির ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভর করবে। দুই দলের কৌশলও অনেকটাই আবর্তিত হবে এই দুই তারকাকে ঘিরে। একজনকে থামাতে পারলে যেমন প্রতিপক্ষ বড় সুবিধা পাবে, তেমনি একজন জ্বলে উঠলেই ম্যাচের ভাগ্য মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে। বিশ্ব ফুটবল বহুবার দেখেছে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে নেতৃত্বের পালাবদল। সেই ইতিহাসের আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়ের সাক্ষী হওয়ার অপেক্ষায় এখন ফুটবল বিশ্ব। রোনালদোর অভিজ্ঞতা নাকি ইয়ামালের তারুণ্যের ঝলক? শেষ পর্যন্ত কার হাসি ফুটবে তার উত্তর মিলবে ডালাসের সবুজ ঘাসেই।

কাগজে-কলমে পর্তুগাল নিঃসন্দেহে অন্যতম শক্তিশালী দল। রোনালদোর নেতৃত্বে প্রতিটি পজিশনেই রয়েছে বিশ্বমানের ফুটবলার। কিন্তু মাঠের গল্পটি একেবারেই ভিন্ন। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে এক ম্যাচ ছাড়া কোথাও নিজেদের আসল শক্তির পরিচয় দিতে পারেনি তারা। অধিকাংশ ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর বদলে লড়াই করে কোনোমতে জয় ছিনিয়ে আনতে হয়েছে। গ্রুপ পর্বে দুই ড্র করে কলম্বিয়ার পেছনে থেকে রানার্সআপ হওয়া, এরপর ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে বেঁচে যাওয়া। সবমিলিয়ে পর্তুগালের পারফরম্যান্সে প্রশ্নের সংখ্যা উত্তরকে ছাড়িয়ে গেছে। সবচেয়ে বিস্ময় জাগিয়েছে মাঝমাঠ। মৌসুমজুড়ে ক্লাব ফুটবলে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ভিতিনহাদের কাছ থেকে যে নেতৃত্ব ও সৃজনশীলতার প্রত্যাশা ছিল, তার খুব সামান্যই দেখা গেছে। মাঝমাঠের সেই নিস্তেজতা রক্ষণভাগকেও করেছে নড়বড়ে। পুরো দলের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন কেবল গোলরক্ষক দিয়াগো কোস্টা।

আক্রমণভাগেও আলোচনার কেন্দ্রে রোনালদো। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দুই গোল করলেও অন্য ম্যাচগুলোতে তাকে অনেক সময় খুঁজেই পাওয়া যায়নি। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বল জালে জড়িয়েও মিলিমিটারের অফসাইডে গোল হারিয়েছেন, পরে পেনাল্টি থেকে দলকে সমতায় ফিরিয়েছেন। তবু পুরো টুর্নামেন্টে তার প্রভাব প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই ফিকে। তবে পর্তুগালের সবচেয়ে বড় সংকট হয়তো কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড় নন বরং পুরো দলের সমন্বয়। তারকাদের সমাবেশ থাকলেও সেই দলটি এখনো যেন একটি সত্যিকারের ইউনিট হয়ে উঠতে পারেনি। এত এত সমস্যা পরও স্পেনের বিপক্ষে ঐক্যের মালা গেঁথে জয়ের স্বপ্নই বুনছে পর্তুগিজরা।  

অন্যদিকে প্রথম ম্যাচের ধাক্কা পেছনে ফেলে ধীরে ধীরে নিজের চেনা রূপে ফিরেছে স্পেন। বলের দখল, নিখুঁত পাস, তীক্ষণ আক্রমণ আর আত্মবিশ্বাস; সবমিলিয়ে আবারও দেখা মিলছে ইউরোপের চ্যাম্পিয়নদের। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে অনায়াস জয়ের পর এখন স্পেনের সামনে আরও বড় পরীক্ষা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিট হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই কেপ ভার্দের বিপক্ষে ড্র স্পেনকে ঘিরে তৈরি করেছিল নানা প্রশ্ন। সেই সংশয় খুব বেশি দিন টেকেনি। দ্বিতীয় ম্যাচে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে স্পেন জানিয়ে দেয়, তারা পথ হারায়নি। এরপর উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলের পরিণত জয় তাদের গ্রুপসেরা করেই নকআউট পর্বে তুলে আনে। শেষ বত্রিশে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে যেন দেখা যায় পুরোনো স্পেনকে। ৩-০ গোলের সহজ জয়ে এক মুহূর্তের জন্যও প্রতিপক্ষকে ম্যাচে ফিরতে দেয়নি তারা। মিকেল ওইয়ারসাবালের জোড়া গোল আর পেদ্রো পররোর দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে স্পেনের জয় ছিল নিখুঁত এক শিল্পকর্মের মতো।

এই জয়ের পর স্পেনজুড়ে যেন ফিরে এসেছে পুরোনো উচ্ছ্বাস। দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোও প্রশংসায় ভাসিয়েছে দলটিকে। দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্নে ছোটা স্পেন এখন টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত। ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর যে ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছিল, সেটি বিশ্বকাপেও ধরে রেখেছে তারা। শুরুর দিকে লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের চোট কিছুটা দুশ্চিন্তা তৈরি করলেও এখন সেই মেঘ অনেকটাই কেটে গেছে। মিকেল ওইয়ারসাবাল ইতোমধ্যেই চার গোল করে দলের আক্রমণের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন। লামিন ইয়ামাল, পেদ্রো পররো ও অ্যালেক্স বায়েনাও গোল করে আক্রমণভাগকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছেন।

সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা অবশ্য স্পেনের সামগ্রিক খেলায়। বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত আক্রমণে ওঠা এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার যে পরিচিত ফুটবল দর্শন, সেটিই আবার দেখা যাচ্ছে। তবে এবার অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় পাস করতে মুখিয়ে আছে স্পেনের সোনালি প্রজন্ম।

মুখোমুখি ও পরিসংখ্যান
ইউরোপের এই দুই প্রতিবেশী দেশের লড়াইকে বলা হয় ‘আইবেরিয়ান ডার্বি’। 
১৯২১ সাল থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ ইতিহাসে দুই দল সর্বমোট ৪১টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে।

হেড টু হেড 
মোট ম্যাচ: ৪১
স্পেনের জয়: ১৮ 
পর্তুগালের জয়: ৭ 
ড্র: ১৬

স্পেনের গোল: ৭৭
পর্তুগালের গোল: ৪৫

দুই দলের সবশেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৫ সালের জুন মাসে উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে। যেখানে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ২-২ গোলে সমতা থাকার পর টাইব্রেকারে পর্তুগাল ৫-৪ ব্যবধানে জয়লাভ করে।

বিশ্বকাপে মুখোমুখি 
ম্যাচ: ২
স্পেনের জয়: ১ 
পর্তুগালের জয়: ০
ড্র: ১

বিশ্বকাপের মূলপর্বে পর্তুগাল কখনো স্পেনকে হারাতে পারেনি
২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দুই দলের মধ্যকার ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে গণ্য করা হয়। রোমাঞ্চকর সেই ম্যাচটি ৩-৩ গোলে ড্র হয়েছিল। ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করেছিলেন।

ট্রাম্পের ফোনে বালোগানের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ফিফা, বিশ্বকাপে তোলপাড়

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:০৬ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:১২ এএম
ট্রাম্পের ফোনে বালোগানের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ফিফা, বিশ্বকাপে তোলপাড়
ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডটি পুনর্বিবেচনা করার জন্য জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এনডিটিভি

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে এক নজিরবিহীন ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তুমুল ঝড় তুলেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও ফোনালাপের পর মার্কিন তারকা স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে ফিফা। এর ফলে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে খেলতে আর কোনো বাধা রইল না এই মার্কিন তারকার। 

ফিফার এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বেলজিয়াম। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন ফোলারিন বালোগান। ফিফার নিয়মানুযায়ী, সরাসরি লাল কার্ড দেখলে খেলোয়াড়কে পরবর্তী ম্যাচটিতে বাধ্যতামূলক নিষিদ্ধ থাকতে হয় এবং এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আপিল করার সুযোগ থাকে না।

তবে রবিবার (৫ জুন) সবাইকে চমকে দিয়ে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি বালোগানের ওপর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাল কার্ড পাওয়ার দিনই (গত বুধবার) ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করে এই শাস্তি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান।

ফিফার এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ’সঠিক কাজটি করার জন্য এবং একটি বড় অবিচারকে উল্টে দেওয়ার জন্য ফিফাকে ধন্যবাদ!’

অন্য দিকে, ফিফার এই বিতর্কিত ইউ-টার্নে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে রয়্যাল বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ফিফার নিজস্ব নিয়মকানুনের সম্পূর্ণ পরিপন্থি এই সিদ্ধান্তে তারা স্তম্ভিত।

বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ’আমি জানতাম না যে ফিফা বিশ্বকাপে ৫ই জুলাই এখন ১ এপ্রিলে পরিণত হয়েছে এবং আজ এপ্রিল ফুল দিবস!’  চলতি বিশ্বকাপে তিন গোল করা বালোগান সোমবার রাতে সিয়াটলে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হওয়ার জন্য মার্কিন দলে ফিরছেন, যা স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হলেও ফুটবলীয় নৈতিকতা ও ফেয়ার-প্লে নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

আজহার/অমিয়/

কোয়ার্টার ফাইনালে কার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড?

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
কোয়ার্টার ফাইনালে কার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড?
ছবি: সংগৃহীত

কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড নরওয়ের বিপক্ষে খেলবে, যারা এর আগে রাউন্ড অফ সিক্সটিনে ব্রাজিলকে হারিয়েছিল।

ইংল্যান্ড-নরওয়ে ম্যাচটি ১১ জুলাই মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বকাপে এটিই হবে নরওয়ের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল।

সোমবার (৬ জুলাই) অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে ইংল্যান্ড ৩-২ গোলে মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে।

প্রথমার্ধে জুড বেলিংহাম দ্রুত জোড়া গোল করেন এবং বিরতির পর হ্যারি কেইন পেনাল্টি থেকে গোল করেন। মেক্সিকোর হয়ে গোল করেন রাউল হিমেনেজ এবং হুলিয়ান কিনোনেস। তবুও শেষ রক্ষা হলো না এই স্বাগতিক দলের।

উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে নিজেদের মাঠ অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে এই প্রথম হারল মেক্সিকো।

থিওটোনিয়াস/

মেক্সিকোর বিরুদ্ধে নাটকীয় জয় ১০ জনের ইংল্যান্ডের

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
মেক্সিকোর বিরুদ্ধে নাটকীয় জয় ১০ জনের ইংল্যান্ডের
ছবি: সংগৃহীত

জুড বেলিংহ্যামের জোড়া গোল ও হ্যারি কেইনের পেনাল্টিতে ভর করে মেক্সিকোকে ৩–২ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। শেষ ষোলোর রোমাঞ্চকর ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় মেক্সিকোর মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে।

ম্যাচের শুরুতেই বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টির কারণে কিকঅফ এক ঘণ্টা পিছিয়ে যায়। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও ম্যাচটি শুরু হওয়ার পর দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে।

প্রথমার্ধে মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন জুড বেলিংহ্যাম। তবে বিরতির আগে জুলিয়ান কুইনোনেস গোল করে মেক্সিকোকে ম্যাচে ফেরান।

দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসাহ লাল কার্ড দেখলে দলটি ১০ জনে নেমে যায়। এরপরও ইংল্যান্ড চাপ সামলে এগিয়ে যায় হ্যারি কেইনের পেনাল্টি গোলে। পরে মেক্সিকোর হয়ে রাউল হিমেনেজ পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমালেও শেষ পর্যন্ত সমতা ফেরাতে পারেনি স্বাগতিকরা।

৩–২ গোলের এই জয়ে ইংল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের মুখোমুখি হবে। নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডকে সামলানোই হবে ইংল্যান্ডের পরের ম্যাচের বড় চ্যালেঞ্জ।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

মেক্সিকো-ইংল্যান্ড ম্যাচ ড্র হলে ভবিষ্যৎ কী?

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
মেক্সিকো-ইংল্যান্ড ম্যাচ ড্র হলে ভবিষ্যৎ কী?
ছবি: সংগৃহীত

যদি মেক্সিকো বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচটি ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময় শেষেও সমানে সমান থাকে, তবে খেলাটি ৩০ মিনিটের অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে, যা দুটি অর্ধে বিভক্ত থাকবে।

এর পরেও যদি জয়-পরাজয় নির্ধারিত না হয়, তবে পেনাল্টি শুটআউটের মাধ্যমে ঠিক করা হবে কোন দল প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে যাবে।

৯৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে জুড বেলিংহামের জোড়া গোলে ইংল্যান্ড ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়, এরপর জুলিয়ান কুইনোনস মেক্সিকোর হয়ে একটি গোল শোধ করেন।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে আরও একটি নাটকীয় মোড় আসে যখন ৫৪ মিনিটে জারেল কোয়ানসাহকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়, এবং এর পরপরই হ্যারি কেইনের পেনাল্টি গোলে ইংল্যান্ড ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

কিন্তু মাত্র সাত মিনিট পরেই কেইন ব্রায়ান গুতিয়েরেজকে ফাউল করলে, রাউল জিমিনেজ স্পট কিক থেকে গোল করেন।

উল্লেখ্য, ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ সিক্সটিনের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে মেক্সিকো এবং ইংল্যান্ড মুখোমুখি হয়েছিল, যেখানে মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে থ্রি লায়ন্স ৩-২ গোলে এগিয়ে ছিল।

থিওটোনিয়াস/

ফিফা বিশ্বকাপে কতজন ইংলিশ খেলোয়াড় হ্যাটট্রিক করেছেন?

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
ফিফা বিশ্বকাপে কতজন ইংলিশ খেলোয়াড় হ্যাটট্রিক করেছেন?
মেক্সিকোর বিপক্ষে গোল করছেন ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম। ছবি: রয়টার্স

১৯৬৬ সালের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে তিনটি গোল করে জিওফ হার্স্ট প্রথম ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন, যেবার ইংল্যান্ড তাদের প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল।

সোমবার (৬ জুলাই) শেষ ১৬-র ম্যাচে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে দ্রুতগতির জোড়া গোল করে শুরুতেই দলকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যান ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যাম। মেক্সিকোর বিপক্ষে বেলিংহ্যাম যদি আর একটি গোল করতে পারেন, তবে তিনি চতুর্থ ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়বেন।

১৯৬৬ সালের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে জিওফ হার্স্ট প্রথম এই কৃতিত্ব অর্জন করেন, যখন ইংল্যান্ড তাদের প্রথম ও একমাত্র শিরোপা জিতেছিল।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের বিপক্ষে তিনবার বল জালে জড়িয়েছিলেন গ্যারি লিনেকার।

২০১৮ সালের বিশ্বকাপে পানামার বিপক্ষে তিন গোল করে হ্যারি কেইন তৃতীয় ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন।

জিওফ হার্স্ট – ১৯৬৬, গ্যারি লিনেকার – ১৯৮৬, হ্যারি কেইন – ২০১৮।

আজহার/