আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করল নরওয়ে। অন্যদিকে ইউরোপের দলটির বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
রবিবার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় নিউ জার্সির নিউ ইয়র্ক স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া ম্যাচের শুরুতে অফসাইডের কারণে নরওয়ের গোল বাতিল হয়। এরপর গোলের বড় সুযোগ পায় ব্রাজিল। কিন্তু ব্রুনো গিমারাইসের পেনাল্টি শট রুখে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নিল্যান্ড।
এরপর প্রথমার্ধের বাকি সময় আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগিয়ে গোল আদায় করতে পারেনি কোনো দল। তাতে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধে আবারও বল দখলে আধিপত্য দেখায় নরওয়ে। বার্গ মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে দারুণভাবে এগিয়ে যান। তিনি ব্রাজিলের বক্সের কাছে পৌঁছে সতীর্থকে পাস না দিয়ে জোরালো শট নেন, যা ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়।
ম্যাতেউস কুনিয়ার বদলি নেমে গোলের সুবর্ণ সুযোগ পান এন্ড্রিক। ৫৯ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের অসাধারণ পাসে গোলরক্ষককে একা পেয়েও তাকে পরাস্ত করতে পারেননি তিনি। পরে কর্নার থেকে ব্রাজিলের আরও একটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন নিল্যান্ড। কর্নার থেকে আসা বলটি তিনি পাঞ্চ করে দূরে সরিয়ে দেন। এরপর বক্সের ডান দিকে বল পেয়ে নিচু শট নেন রায়ান। কিন্তু নিল্যান্ড পা দিয়ে সেটিও ঠেকিয়ে দেন।
এরপর দুটি সুযোগ আসে হালান্ডের সামনে। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে শেল্ডেরুপ বাম দিক থেকে দারুণ একটি ক্রস ভেতরে পাঠান, তবে ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসন ডাইভ দিয়ে সেটি হাত ছুঁইয়ে দূরে সরিয়ে দেন। বলটি সামান্য ব্যবধানে হালান্ডের নাগালের বাইরে চলে যায়। এরপর ওদেগার্ডের নেওয়া কর্নার থেকে আজের অল্পের জন্য বল ছুঁতে ব্যর্থ হন। তবে বল আবারও বাম দিক থেকে ফেরত এলে হালান্ড স্লাইড করে সংযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু অল্পের জন্য বলের নাগাল পাননি তিনি।
এরপর দারুণ কিছু আক্রমণ গড়ে তুলে ব্রাজিল। কিন্তু দানিলোর দুর্বল ক্রস প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার ব্লক করে দিলে সেই সুযোগ নষ্ট হয়। এরপরই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে যায় নরওয়ে। হালান্ড বল বাম দিকে শেল্ডেরুপের কাছে পাঠান, যিনি জোরালো শট নেন। তবে ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসন সেটি দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন।
ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের যখন ১০ মিনিট বাকি ঠিক তখনই ব্রাজিলের জালে বল জড়ান হালান্ড। শেল্ডেরুপের ক্রস থেকে হেডে গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে নেন তিনি। এর ৬ মিনিট পর ৮৬ মিনিটে নরওয়েকে বাঁচিয়ে দেন নিল্যান্ড। আজেরের গায়ে লেগে বলটি লুপ করে তার মাথার ওপর দিয়ে জালের দিকেই যাচ্ছিল। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে আঙুল ছুঁইয়ে বলটিকে পোস্টে ঠেলে দেন নিল্যান্ড। তাতে নিশ্চিত গোল থেকে বেঁচে যায় নরওয়ে।
এরপর নিজের জোড়া গোলের দেখা পান হালান্ড। ম্যাচের ৯০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে গোলটি করেন তিনি। অ্যালিসন ঝাঁপিয়ে পড়েও তা ঠেকাতে পারেননি।
শেষ মুহূর্তে বক্সের ভেতর কাসেমিরোকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। স্পট কিকে গোল করেন নেইমার, কিন্তু তা সমতায় ফেরার জন্য যথেষ্ট ছিল না। তাতে শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করল নরওয়ে। অন্যদিকে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। প্রথম পেনাল্টি মিস ও সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপ পোড়াবে তাদের।
এসজি/