মক্কার অদূরে তানইম প্রান্তর। উৎসবের আমেজে জড়ো হয়েছে কুরাইশরা–আজ বদরের প্রতিশোধ নেবে তারা। শূলের মঞ্চে দাঁড় করানো হয়েছে এক বন্দিকে। মৃত্যু নিশ্চিত জেনে বন্দি মানুষটি ঘাতকদের কাছে শুধু একটিই আবেদন করলেন, ‘আমাকে দুই রাকাত নামাজ পড়ার সুযোগ দাও।’
তিনি খুবাইব ইবনে আদি রাদিয়াল্লাহু আনহু। রাজি গোত্রের বিশ্বাসঘাতকতায় বন্দি হয়ে বিক্রি হয়েছিলেন মক্কায়, যেখানে বদরে নিহতদের স্বজনরা প্রতিশোধের আগুনে ফুঁসছিল।
অনুমতি মিলল। ধীরস্থির, প্রশান্ত দুই রাকাত নামাজ পড়লেন তিনি। সালাম ফিরিয়ে বললেন সেই ঐতিহাসিক কথা, ‘তোমরা যদি মনে না করতে যে আমি মৃত্যুর ভয়ে ভীত, তবে আমি নামাজ আরও দীর্ঘ করতাম!’ এরপর আবৃত্তি করলেন, ‘মুসলিম হিসেবে যখন আমার মৃত্যু হচ্ছে, তখন কোন পাশে আমি ঢলে পড়লাম তাতে কিছুই যায় আসে না। যখন এই মৃত্যু আল্লাহরই পথে...’
সহিহ বুখারিতে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় এসেছে, মৃত্যুদণ্ডের আগে দুই রাকাত নামাজ পড়ার এই সুন্নত খুবাইবই সর্বপ্রথম চালু করেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩০৪৫)
একবার ভাবুন। সামনে নিশ্চিত মৃত্যু। সেই মুহূর্তে মানুষ কী চায়? প্রাণভিক্ষা? শেষবার প্রিয়জনের মুখ? খুবাইব চাইলেন নামাজ। কারণ তিনি জানতেন, কিছুক্ষণ পরেই তিনি যার সামনে দাঁড়াবেন, তার সামনে সিজদারত অবস্থায় শেষ প্রস্তুতিটুকু নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে বড় পাওয়া।
আর আমরা? সুস্থ শরীর, নিরাপদ ঘর, হাতে অফুরন্ত সময়। তবু আজানের ডাক শুনে বলি, ‘আর একটু পরে।’ মিটিং, ট্রাফিক, ঘুম–হাজারটা অজুহাতে নামাজ পেছাতে থাকি। খুবাইব রাদিয়াল্লাহু আনহু শূলের মঞ্চ থেকে আমাদের শিখিয়ে গেলেন; নামাজ বোঝা নয়, নামাজই মুমিনের শেষ আশ্রয়, শ্রেষ্ঠ প্রশান্তি। হে আল্লাহ! আমাদের জীবনের শেষ আমল যেন হয় নামাজ, আর অন্তরের শেষ কথা যেন হয় আপনার জিকির। আমিন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক