ঢাকা ২২ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
সাঙ্গু নদীর উজানে ভ্রমণে সতর্কতা, আটকা দেড় শতাধিক পর্যটক নিম্নচাপের প্রভাবে হাতিয়ায় ফিরেছে শত শত মাছ ধরার ট্রলার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র আজ বিশ্ব চুমু দিবস মেঘদূতের বার্তা নিয়ে আসে কদম চাঁদপুরে শর্টগান ও ১২ রাউন্ড গুলি জব্দ ঈশ্বরদীতে র‍্যাবের অভিযানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র জব্দ, গ্রেপ্তার ৪ প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ যুবরাজের ক্রিশ্চিয়ান সার্ভিস সোসাইটিতে চাকরির সুযোগ, পদ ৩৫০ ঈশ্বরগঞ্জে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপিত শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে আইনি বাধা নেই: রুমিন ফারহানা গাজায় যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলের হামলা, নিহত ৪ ইয়ামাল জানালেন তার কঠিন প্রতিপক্ষের নাম ধামরাইয়ে গ্যাসের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ পানছড়িতে ইউপিডিএফ-জেএসএসের গোলাগুলি, ৩ জন নিহত চারঘাট-বাঘায় কোনো কাঁচা রাস্তা থাকবে না: এমপি চাঁদ চিটাগাং চেম্বার সভাপতির সাথে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধিদলের মতবিনিময় শ্রীলঙ্কায় কারাগারে সংঘর্ষে নিহত ২৫, আহত শতাধিক ইনডোর প্লেগ্রাউন্ডগুলোর কাছে একজন মায়ের অনুরোধ বাঁশখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ যুবকের মৃত্যু মৃত্যুর পর মরদেহ এফডিসিতে না নেওয়ার অনুরোধ রোজিনার পূর্বপ্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি শিক্ষার উন্নয়নে সর্বোচ্চ কাজ করব: এমপি হাবীবা নওগাঁয় ছেলের হাতে বাবা খুন লংগদুতে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুর মৃত্যু, আহত ৭ স্বস্তি ফেরাতে পদক্ষেপ নিন মিরসরাইয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আনসার কর্মকর্তা নিহত জীবননগরে বিএনপি নেতার ফোনালাপ ভাইরাল হলিউড স্টুডিওগুলোর এআই ব্যবহারের তথ্য জানতে চায় মিডজার্নি প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়ালে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ডিসি ফরিদা

ভূমিকম্প-ঝুঁকিতে বাংলাদেশ পূর্বপ্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
পূর্বপ্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি

সম্প্রতি নানা মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। কয়েক দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে একাধিকবার ভূমিকম্প জনসাধারণের মনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বা উপকেন্দ্র যখন রাজধানীর একেবারে দোরগোড়ায়, তখন এই উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে সব জায়গায়। অনেকের কাছে এই ঘন ঘন মৃদু ঝাঁকুনিগুলো সাময়িক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে হলেও ভূতত্ত্ববিদদের মতে, এটি একটি ভয়াবহ সতর্কবার্তা। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ভূমিকম্প-ঝুঁকিতে থাকা দেশের জন্য এটি চিন্তার বিষয়। সম্প্রতি দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার প্রলয়ংকারী জোড়া ভূমিকম্প বিশ্ববাসীর মনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ভূমিকম্প এমন একটি মহাবিপর্যয়, যা নিয়ন্ত্রণ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে সঠিক পূর্বপ্রস্তুতি ও সতর্কতার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানি বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

ভূতাত্ত্বিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্প-ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশের উত্তর ও পূর্বে ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মিজ প্লেটের সংযোগস্থল বা বাউন্ডারি রয়েছে, যা রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রারও বেশি শক্তিশালী মেগা আর্থকোয়েক তৈরি করতে সক্ষম। বিশেষ করে মধুপুর ফল্ট, ডাউকি ফল্ট এবং সিলেট-চট্টগ্রামের সাবডাকশন জোনগুলো দীর্ঘ সময় ধরে ভূগর্ভে বিপুল পরিমাণ শক্তি সঞ্চয় করে চলেছে। বিজ্ঞানী ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন যে বাংলাদেশে যেকোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে। বিশেষ করে ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অসংখ্য ভবন ধস এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম বা সিলেটের মতো মেগা সিটিগুলোয় অপরিকল্পিত আবাসন এবং ভবন নির্মাণ বিধিমালা বা রাজউকের নিয়ম লঙ্ঘনের এক ভয়াবহ প্রতিযোগিতা রয়েছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জরিপ অনুযায়ী ঢাকার অর্ধেকের বেশি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। কিন্তু আমরা ভূমিকম্প মোকাবিলার জন্য কোনো ধরনের প্রস্তুতিই ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারিনি। যদিও গত বৃহস্পতিবার নগর ভবনে আয়োজিত এক সভায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর প্রস্তুতির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় ভূমিকম্পসহ বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সিটি করপোরেশন, রাজউক এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ভূমিকম্পের ফলে মানবিক বিপর্যয় ও ধ্বংসাত্মক অবস্থা নিরূপণ করে যথাসম্ভব প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা খুবই জরুরি।

গত কয়েক বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলেও ভূমিকম্প মোকাবিলার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। নগর পর্যায়ে নিয়মিত মহড়ার অভাব, উদ্ধার সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা, প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মীর স্বল্পতা এবং বিল্ডিং কোড বাস্তবায়নের দুর্বলতা উদ্বেগজনক। এ অবস্থায় বড় ধরনের ভূমিকম্প ঘটলে ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোকে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখতে হবে এবং বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

রাজধানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে সরু গলিতে যাতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সহজে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য দীর্ঘমেয়াদি নগর পুনর্বাসন পরিকল্পনা ও রাস্তা প্রস্তুতকরণ প্রকল্প হাতে নিতে হবে। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে শতভাগ ভূমিকম্প-সহনীয় প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে কি না, তা মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে। ভূমিকম্পের মতো এমন একটি দুর্যোগ মোকাবিলা শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে অন্য স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, রাজউক এবং নগর পরিকল্পনাবিদদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জাতীয় ভূমিকম্প প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন সেল গঠন করতে হবে। আশা করছি, সরকার একটি সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে ভূমিকম্প মোকাবিলায় সক্ষমতার পরিচয় দেবে।

বিদ্যুৎ বিলে গ্রাহক ভোগান্তি স্বস্তি ফেরাতে পদক্ষেপ নিন

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
স্বস্তি ফেরাতে পদক্ষেপ নিন

দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলে গ্রাহক ভোগান্তি বাড়ছে। একদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং, অন্যদিকে প্রিপেইড ও ডিজিটাল বিদ্যুৎ মিটারে অস্বাভাবিক বিল কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিদিন অসংখ্য গ্রাহক অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়ার অভিযোগ তুলছেন। খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যেও জনদুর্ভোগের এ রকম চিত্র ফুটে উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তৈরি করা এই অস্বাভাবিক বিলের বোঝা তাদের ওপর অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাবনা প্রতিনিধির তথ্যমতে, মিটার রিডিং না করে জুন মাসে মনগড়া ও ‘ভূতুড়ে’ অতিরিক্ত বিল ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাবনা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আওতাধীন কাশীনাথপুর জোনাল ও সাথিয়া সাব-জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে। হঠাৎ করে বিদ্যুৎ বিল দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ হয়ে যাওয়ায় চরম ক্ষোভ ও বিপাকে পড়েছেন বেড়া ও সাথিয়া উপজেলার শত শত সাধারণ গ্রাহক। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদ্যুতের দাম বাড়লেও বিলের অঙ্ক যেভাবে লাফিয়ে বেড়েছে, তা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। এদিকে সারা দেশের বেশ কিছু উপজেলায় দুই মাস ধরে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও, ভাঙচুর ও মানববন্ধন হয়েছে কয়েক দফা। সারা দেশে বিদ্যুৎ বিলের নামে ডাকাতির ঘটনায় গ্রাহকদের ক্ষোভ প্রকাশের পর বিদ্যুৎ বিভাগও নড়েচড়ে বসেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ অস্বাভাবিক বিলের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল-সংক্রান্ত অভিযোগ নিরসনে বিতরণ সংস্থার সঙ্গে সরাসরি বা হটলাইনে যোগাযোগের জন্য গ্রাহকদের অনুরোধ জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুৎসংকটের দ্বিমুখী চাপে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন গ্রাহকরা। কয়েক মাস ধরে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মে-জুন মাসে বিলের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, বিদ্যুতের ব্যবহার প্রায় আগের মতো থাকলেও বিল বেড়েছে দ্বিগুণ, কোথাও কোথাও এর থেকেও বেশি। এ ধরনের অভিযোগ বর্তমানে রাজধানী থেকে বিভাগীয় শহর, জেলা থেকে উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গ্রাহকদের মুখে মুখে। অন্যদিকে শহরের তুলনায় গ্রামে বেশি লোডশেডিং হওয়ায় বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। গ্রাহকরা বলছেন, কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ না পেয়েও কেন তাদের অস্বাভাবিক বিলের বোঝা বহন করতে হবে। শুধু বিলের পরিমাণ নয়, রিচার্জের পর কোন খাতে কত টাকা কাটা হচ্ছে, তা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও অন্য খাতে অর্থ কেটে নেওয়া হলেও তার স্বচ্ছ হিসাব অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় না। ফলে প্রকৃত বিদ্যুৎ বিল ও অতিরিক্ত চার্জের পরিমাণ সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হতে পারছেন না।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টিকে বিচ্ছিন্ন অভিযোগ বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। ডিজিটাল মিটারের সফটওয়্যার, কনফিগারেশন, ওভার-রিডিং কিংবা বিলিংব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে তদন্ত করা জরুরি। ডিজিটালব্যবস্থায় যদি অনিয়ম ঘটে থাকে, তবে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। আগে অনিয়ম হতো ম্যানুয়ালি, এখন হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। 
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম খবরের কাগজকে বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্থায় দুর্নীতি বন্ধ না হলে জনগণের সঙ্গে এসব প্রতারণা চলতে থাকবে। বিদ্যুৎ খাতে বর্তমান সংকট কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির অভাবের ফল। বিদ্যুৎ খাতে কাঠামোগত অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ না করলে শুধু গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত মূল্য চাপিয়ে এই সংকট কাটানো সম্ভব নয়। যারা অনিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও ভোক্তার ক্ষতি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং পুরো খাতে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে যে তুঘলকি কাণ্ড ঘটছে, তা সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে ডিজিটালব্যবস্থায় যদি অনিয়ম থাকে, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। গ্রাহকদের এ ধরনের ভোগান্তি থেকে স্বস্তি দিতে বিদ্যুৎ খাতে কাঠামোগত অনিয়ম, দুর্নীতি, অপচয় রোধকল্পে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে সাধারণ গ্রাহকদের স্বস্তি ফিরে আসবে।

বর্ষার আগেই বিপৎসংকেত জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যবস্থা নিন

রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। গত কয়েক দিন সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অলি-গলিতে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জলজটে কোথাও যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, আবার কোথাও হাঁটুসমান পানিতে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন নগরবাসী। পরিস্থিতির জন্য অপরিকল্পিত বর্জ্যব্যবস্থাপনাকে দায়ী হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রাপ্ত হিসাব মতে, রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে সাত হাজার টন বর্জ উৎপন্ন হয়, এর প্রায় ১৫ শতাংশই প্লাস্টিকজাত। এসব প্লাস্টিক, পলিথিন অন্য বর্জ্যের বড় অংশ শেষ পর্যন্ত গিয়ে জমা হয় ড্রেন, নালা খালে। ফলে পানি চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সামান্য বৃষ্টিতে ড্রেন উপচে পানি রাস্তায় উঠে আসে। অনেক স্থানে ড্রেনের অস্তিত্ব থাকলেও পলি ময়লার স্তূপে সেগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য গত দেড় দশকে একের পর এক প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও সামান্য বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এখনো পানির নিচে তলিয়ে যায়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্থায়ী সমাধানের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি চোখে পড়ছে না। এদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন করে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু খাল খনন বা ড্রেন পরিষ্কার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ঢাকার পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার পুরো শৃঙ্খলই বিভিন্ন স্থানে বাধাগ্রস্ত। সড়কের ক্যাচপিট থেকে শুরু করে ড্রেন, খাল, স্লুইসগেট, পাম্প স্টেশন এবং নদীতে পানি প্রবাহের প্রতিটি ধাপেই রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। কোথাও অবৈধ দখল, কোথাও বর্জ্যের স্তূপ, আবার কোথাও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা পুরো ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তুলছে। ফলে একটি অংশ সংস্কার করা হলেও অন্য অংশের সমস্যার কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। ক্ষেত্রে নগরপরিকল্পনাবিদ   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার কারণ শুধু অবকাঠামোগত দুর্বলতা নয়, বরং দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সমন্বয়হীন ব্যবস্থাপনা।

পরিকল্পনাবিদ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক . আদিল মুহাম্মদ খান খবরের কাগজকে বলেন, ঢাকায় সম্প্রতি মাত্র ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অথচ বর্ষা মৌসুমে ৫০ থেকে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত আমাদের দেশের জন্য স্বাভাবিক। সাধারণ বৃষ্টিতেই নগরজীবন অচল হয়ে পড়া প্রমাণ করে, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো সমন্বিত কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। ওয়াসার প্রণীত মাস্টারপ্ল্যান সিটি করপোরেশনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর আর হালনাগাদ করা হয়নি। ফলে বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম সমন্বয়হীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রত্যাশিত ফল মিলছে না। টেকসই সমাধানের জন্য আধুনিক মাস্টারপ্ল্যানের ভিত্তিতে খাল সংস্কার, ড্রেনেজব্যবস্থার উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। তাই এসব প্রকল্পের অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে কারা দায়ী সেসব বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে জবাবদিহি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত। তা না হলে জনগণের অর্থের অপচয় চলতে থাকবে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না।

প্রতিবছর বর্ষার মৌসুমে ধরনের জলাবদ্ধতা রাজধানীবাসীর জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারকে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার পরিবর্তে টেকসই দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করতে হবে। আশা করছি, সরকার একটি সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূরীকরণে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

পোলাওয়ের চালের দামে নৈরাজ্য সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২ এএম
সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

পোলাওয়ের চালে অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় ভোক্তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। সম্প্রতি খবরের কাগজের বাজারদর তদারকিতে পণ্যটির কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা এ পরিস্থিতির জন্য মিলমালিক, করপোরেট গ্রুপের সিন্ডিকেটকেই দায়ী করছেন। কিছু শিল্পগ্রুপ ও মিলমালিক মিলে শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করে পণ্যটির বাজার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। তারা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। এর প্রভাব এখন বাজারে পড়ছে। অন্যদিকে করপোরেট গ্রুপের মালিকরা সিন্ডিকেটের অভিযোগের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করছেন। তারা বলছেন, সরকার রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে। তাই সব চাল রপ্তানি হয়েছে। চিনিগুঁড়া চালের উৎপাদন তুলনামূলক কম হয়। তাই এই চাল রপ্তানিতে অনেক সময় সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকে। মাঝে মাঝে বছরে এক থেকে দুবার নির্ধারিত পরিমাণ চিনিগুঁড়া চাল রপ্তানির অনুমতি দেয়। বিদেশে এ চালের ভালো চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়ায় এই চালের চাহিদা বেশি। তারা বলছেন, করপোরেটদের হাতে চালের বাজার যায়নি। পুরো বাজারে ২ থেকে ৩ শতাংশ চাল করপোরেট প্রতিষ্ঠানের। বাংলাদেশের চালের বাজারে কিছু নিয়ন্ত্রণ আছে। লাইসেন্সিং, রিপোর্টিংয়ের ইস্যু আছে। খাদ্য অধিদপ্তরকে সবকিছুর হিসাব দিতে হয়।

অন্যদিকে খুচরা চাল বিক্রেতা ও রাইস মিলমালিকরাও চিনিগুঁড়া চালের এমন অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় অবাক হয়েছেন। তাদের অভিযোগ করপোরেটরা প্যাকেটজাত করে ভালো মানের দোহাই দিয়ে ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছে। বাজারে চরম নৈরাজ্য চলছে। খবরের কাগজের সরেজমিন প্রতিবেদনে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত নিয়ন্ত্রণে কঠোর তদারকি চায় ক্যাব। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন ভোক্তা অধিকার রক্ষায় সোচ্চার এ সংগঠনটির নেতারা।

কোরবানির ঈদের পর থেকে চিনিগুঁড়া চালের দাম বাড়ছে। আকিজ, স্কয়ার, প্রাণসহ বিভিন্ন কোম্পানির এই প্যাকেটজাত চাল ১৯০ টাকা ও বস্তার চাল ১৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। দাম আরও বেড়ে ২১০ টাকা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন কারওয়ান বাজার ও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা। কিন্তু দিনাজপুর, নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও, চাঁপাইনবাবগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে পোলাওয়ের ধান বাজারে কেনাবেচা হচ্ছে না। ধানের দাম বাড়েনি। কয়েক মাস আগে কেনাবেচা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা মণ।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, যেভাবে চালের দাম বাড়ছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। করপোরেট প্যাকেটজাতের নামে কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেশি নিচ্ছে। এটা হতে পারে না। বেশি দাম নেওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন মামলা করেছে। সেটা মনে রাখতে হবে। বাজার কোনো নিয়ন্ত্রণে নেই। লুটপাট শুরু হয়েছে। ভোক্তাদের পকেট কাটা হচ্ছে। সরকারের দায়িত্বে যারা আছেন তারা কী করছেন?

পোলাওয়ের চালের দামে নৈরাজ্য ভাঙতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বাজারে শক্তিশালী করপোরেট সিন্ডিকেটের বিষয়ে যে অভিযোগ এসেছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকার বাজার তদারকি না করলে সমস্যা আরও বাড়বে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। এ ছাড়া কৃষক পর্যায়ে ধানের উৎপাদন খরচ কমাতে তাদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে; যাতে ভোক্তারা কম দামে চাল কিনতে পারেন। আশা করছি, সরকার চালের নৈরাজ্য ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেবে।

মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ভয়াবহতা রুখতে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
ভয়াবহতা রুখতে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে

দেশে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। নিয়মিত অভিযান, গ্রেপ্তার ও মামলার পরও থামানো যাচ্ছে না মাদকের বিস্তার। শহর থেকে গ্রামে- সবখানেই ইয়াবা, হেরোইন ও ফেনসিডিল সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। এই মরণ নেশায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকছে কিশোর ও তরুণরা। ফলে বাড়ছে চুরি, ছিনতাই ও পারিবারিক অস্থিরতা। মূলত সীমান্তঘেঁষা অবস্থান, পাচারের সহজ রুট আর দুর্বল সামাজিক প্রতিরোধের সুযোগ নিয়ে গোটা সীমান্তবর্তী জেলা মাদকের ‘হটস্পটে’ পরিণত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে নিয়মিত বাহক ও খুচরা কারবারিরা গ্রেপ্তার হলেও পাচারকারী চক্রের মূল নিয়ন্ত্রক ও প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকদের বড় একটি অংশ ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। ফলে সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হলেও থামছে না পাচার, বরং নতুন নতুন রুট ও কৌশলে বিস্তৃত হচ্ছে অবৈধ এই নেটওয়ার্ক।

তথ্যমতে, গত তিন মাসে (মার্চ থেকে মে) শুধু বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে ৫০ লাখ ৮৯ হাজার ৮০৩ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের ৮২ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের মাদকে আসক্ত। অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, সারা দেশে তিন মাসে (মার্চ থেকে মে) মাদকসংক্রান্ত মামলায় ১৮ হাজার ২১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মাদকের ভয়াবহ বিস্তার বন্ধ না হওয়ার নেপথ্যে অন্তত ছয়টি বিশেষ কারণের কথা উল্লেখ করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অপরাধ বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, মাদকের প্রবল চাহিদা ও সহজলভ্যতা, ভৌগোলিক ট্রানজিট, গডফাদাররা অধরা থাকা, সিনথেটিক বা কৃত্রিম মাদকের বিস্তার ও অপকৌশল, আইনি ফাঁকফোকর এবং পুনর্বাসনের অভাব থেকেই সমাজে মাদকের ব্যাপক বিস্তার অব্যাহত রয়েছে। মাদক মামলার আসামিরা সহজেই আইনি সুযোগ নিয়ে জামিন পেয়ে যাচ্ছে। আইনজীবী মনজিল মোরসেদ খবরের কাগজকে বলেন, মাদক আইনের মামলার ক্ষেত্রে অনৈতিক চর্চা বন্ধ করা খুব জরুরি। রাজধানী ঢাকায় মাদকসেবী ও কারবারিদের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, রাজধানীর চারপাশের এলাকাগুলো এবং নিম্ন আয়ের বসতি বা বস্তি-মহল্লাগুলোয় মাদক তৎপরতা ভয়ানক রূপ নিয়েছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক খবরের কাগজকে বলেন, দেশে মাদকের আগ্রাসন তীব্র হচ্ছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যেমন এ বিষয়ে কঠোর হতে হবে, তেমনি পরিবার ও সমাজেরও বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রথম নিয়ন্ত্রণটা পরিবার ও সমাজ থেকে আসা জরুরি।

মাদক নির্মূলে সরকারকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সীমান্তে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। মাদকের ভয়াবহতা রুখতে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে এগোতে হবে সরকারকে। পরিবারের অভিভাবক, শিক্ষক এবং সমাজের নেতৃস্থানীয় সবাইকে এ ব্যাপারে আন্তরিক ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদক প্রতিরোধে সীমান্তরক্ষী বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুর্বার সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এনবিআরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
এনবিআরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে

বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দাবস্থা চলছে, যার নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পড়েছে। এরই মধ্যে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এতে অসন্তুষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএমএফ। এনবিআরের কাছে ঘাটতির কারণ জানতে চেয়েছে সংস্থাটি। রাজস্ব আদায়ের এ ঘাটতিতে ঋণচুক্তি নিয়ে নতুন করে দর-কষাকষি শুরু করতে পারে আইএমএফ–এমন আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগামী মাসের মাঝামাঝি আইএমএফের একটি প্রাক-মিশন ঢাকা সফরে আসবে। সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচির আকার নিয়ে আলোচনা হবে। নতুন আলোচনায় রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ভ্যাট সংস্কার, করছাড় কমানো এবং কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন গুরুত্ব পাবে।  গত সোমবার জাতীয় সংসদে বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় ব্যর্থ হয়নি; বরং পূর্ববর্তী সরকার এমন কিছু শর্তে ঋণ নিতে সম্মত হয়েছিল, যা জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি ছিল। এ কারণে বর্তমান সরকার ওই কর্মসূচি থেকে সরে এসে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আইএমএফের শর্ত মেনে সরকারকে এ ঋণ নিতে হবে। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হবে অন্যতম শর্ত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি খুব একটা সন্তোষজনক পর্যায়ে নেই। রাজস্ব জিডিপির হার আগের থেকে কমেছে। চলতি অর্থবছর শেষে ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ৮৮ হাজার কোটি টাকা। আইএমএফ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের নিম্ন রাজস্ব-জিডিপি অনুপাতকে বড় দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। ভবিষ্যতে ঋণচুক্তি নিয়ে সংস্থাটি আরও কঠোর হতে পারে। 
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য অনুসারে, চলতি অর্থবছরের গত ১১ মাসে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৪ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। গত ১১ মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৮১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা, ঘাটতির হার ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ। 
লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে এনবিআরকে শেষ মাসে (জুন) চলতি অর্থবছরের গত ১১ মাসে আদায় করা রাজস্বের প্রায় ৪০ শতাংশ আয় করতে হবে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪১ শতাংশ বেশি। চলতি জুনে আরও ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করার কথা থাকলেও এনবিআর তা পারেনি। জুনের প্রথম ২০ দিনে ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে। সে হিসাবে ২০ জুন পর্যন্ত রাজস্ব আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা। গত ২৯ জুন পর্যন্ত আদায়ের পর সাময়িক হিসাবে ঘাটতি প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল মজিদ খবরের কাগজকে বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, সামষ্টিক অর্থনীতির পুনর্গঠন, চরম মূল্যস্ফীতির চাপ, বিনিয়োগের নেতিবাচক ধারা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে রাজস্ব আদায়ে ধস দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া লক্ষ্যমাত্রা বাড়ালেও আদায়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এনবিআরের সক্ষমতা বাড়ানো হয়নি। এমন অবস্থায় আগামী অর্থবছরেও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করছি। অর্থনীতির এই বিশ্লেষক আরও বলেন, ১১ মাসের মতো শেষ মাসে অর্থাৎ জুনে ১০ শতাংশ রাজস্ব আদায় বেশি হলেও রাজস্ব ঘাটতি থাকবে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি।

দেশে রাজস্ব আদায়ের জন্য বাস্তবভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ জরুরি। সাধারণত এনবিআর তিনটি খাত থেকে রাজস্ব আদায় করে থাকে। এগুলো হলো আমদানি শুল্ক, ভ্যাট ও আয়কর। এগুলো নিয়মিত পরিসরে আদায়ের পাশাপাশি বিভিন্নভাবে জরিমানা আদায়ের মাধ্যমে রাজস্ব আয় করে থাকে। বর্তমান লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে এনবিআরকে আরও আধুনিকায়ন করতে হবে। এক কথায় এনবিআরকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। বর্তমান এনবিআরের যে জনবল এবং দক্ষতার অভাব রয়েছে, সে বিষয়ে সরকারকে মনোযোগ দিতে হবে। কর ব্যবস্থাপনা নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। অর্থনীতিবিদদের সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শ বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি কমিয়ে আনা জরুরি।