বিনোদন দুনিয়ার শীর্ষ প্রযুক্তি ও কপিরাইট নিয়ে চলমান আইনি লড়াইয়ে এবার নতুন মোড় নিয়েছে। হলিউডের বড় স্টুডিওগুলোর বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে এবার পাল্টা কৌশল নিয়েছে জনপ্রিয় এআই ইমেজ জেনারেটর ‘মিডজার্নি’। ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি, ডিজনি ও ইউনিভার্সাল স্টুডিওর মতো প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলো সিনেমা ও শো তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কীভাবে ব্যবহার করছে, তা আদালতে দেখতে চেয়েছে মিডজার্নি। বিনোদনবিষয়ক মার্কিন সাময়িকী ভ্যারাইটির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত বছর সুপারম্যান ও ব্যাটম্যানের মতো কপিরাইটযুক্ত চরিত্রের ছবি অনুমতি ছাড়া তৈরির অভিযোগে মিডজার্নির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল হলিউডের এই স্টুডিওগুলো। তাদের দাবি ছিল, মিডজার্নি কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করেছে।
এর জবাবে মিডজার্নির যুক্তি, ইন্টারনেট থেকে উন্মুক্ত ছবি ব্যবহার করে এআই মডেল প্রশিক্ষণ দেওয়া ‘ফেয়ার ইউজ’ বা ন্যায্য ব্যবহারের আওতাভুক্ত। একই সঙ্গে মিডজার্নির দাবি, স্টুডিওগুলো নিজেরাও তাদের নিজস্ব এআই প্রযুক্তি তৈরিতে একই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করছে।
নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করতে স্টুডিওগুলোর এআই ব্যবসা পরিকল্পনা, গবেষণা প্রতিবেদন, ডেটাবেস এবং বোর্ড মিটিংয়ের উপস্থাপনা আদালতে জমা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে মিডজার্নি। তবে গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে একজন ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক স্টুডিওগুলোকে তাদের এআই ব্যবহারের অধিকাংশ তথ্য গোপন রাখার অনুমতি দেন। আদালত কেবল সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত বা ‘কনজিউমার ফেসিং’ এআই সম্পর্কিত তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। এখন সেই আদেশ বাতিলের জন্য ফেডারেল আদালতের কাছে আবেদন করেছে মিডজার্নি। আইনিবিষয়ক সাময়িকী মিলিস-এর তথ্য অনুযায়ী, মিডজার্নির আইনজীবীদের দাবি, স্টুডিওগুলো নিজেরাও যদি কপিরাইটযুক্ত কনটেন্ট দিয়ে নিজেদের এআই মডেল প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে, তবে তাদের মামলার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে।
মিডজার্নির আইনজীবী ববি গাজার বলেন, ‘বাদীরা যে অভিযোগ করেছে, তারা নিজেরাও যদি ঠিক একই কাজ করে থাকে, তবে তা মিডজার্নির আত্মপক্ষ সমর্থনে বড় প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।’ আইনজীবীদের মতে, ফেডারেল বিচারকের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে এআই ও কপিরাইটসংক্রান্ত অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রে একটি বড় নজির হয়ে থাকবে।