ইসরায়েলের ৬০ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, দেশে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন গভীর হওয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় দেশটির স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জিউইশ পলিসি ইনস্টিটিউটের একটি জরিপে এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
জরিপের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, উত্তরদাতাদের মধ্যে ৬০ শতাংশই মনে করেন ইসরায়েলে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা রয়েছে। ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান আহারন বারাকের ‘গৃহযুদ্ধ থেকে এক মুহূর্ত দূরে রয়েছে ইসরায়েল’–এমন মন্তব্যের পরই এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। গতকাল সোমবার ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
জরিপে ২৭ শতাংশ উত্তরদাতা বারাকের মন্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হন। আরও ৩৩ শতাংশ বলেন, তিনি পরিস্থিতিকে কিছুটা অতিরঞ্জিত করেছেন, তবে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি বাস্তব। বিপরীতে ১৬ শতাংশ উত্তরদাতা এমন কোনো আশঙ্কা দেখছেন না বলে জানান।
জরিপে ইসরায়েলের রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্ট ছিল। মধ্যপন্থি ও বাম ঘরানার উত্তরদাতারা সম্ভাব্য গৃহ-অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ডানপন্থিদের মধ্যে এ ধরনের আশঙ্কা কম ছিল।
এ ছাড়া জরিপে বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়েও মতভেদ তৈরি হয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত-প্রধান এবং অ্যাটর্নি জেনারেলসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করার মতো আইনি জটিলতায় বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়েও উত্তরদাতাদের মাঝে দ্বিমত দেখা গেছে।
এমন সময়ে এই জরিপ প্রকাশিত হলো, যখন ইসরায়েল একাধিক আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে রয়েছে এবং লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী বাহ্যিক সংঘাতের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের সমাধান না হলে ইসরায়েলি সমাজে বিদ্যমান বিভাজন আরও গভীর হতে পারে।
জিউইশ পলিসি ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. শুকি ফ্রিডম্যান বলেন, এই ফলাফল একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা নির্দেশ করছে। তিনি ইসরায়েলি নেতাদের সমঝোতার জন্য কাজ করা এবং জনসমক্ষে সংযত বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও সতর্ক করেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাড়তে থাকা অবিশ্বাস ও দ্বিমত দ্রুত সমাধান না হলে দেশ একটি সাংবিধানিক ও সামাজিক সংকটের দিকে ধাবিত হতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি