ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ডেঙ্গু পরীক্ষা ফ্রি করল সরকার পানছড়িতে মর্গে পড়ে আছে গুলিতে নিহত ৩ তরুণের মরদেহ মাদারগঞ্জে চিকিৎসকের অবহেলায় সাপেকাটা রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ সিংগাইরে সেনাবাহিনীর অস্থায়ী প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর মিরসরাইয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরির গার্ডরুমে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ ২০৩০ বিশ্বকাপ সরাসরি খেলবে ছয় দেশ পাঠকের গল্প : ল্যান্ডফোনের ক্রসকানেকশন মাঠের বাইরের বিতর্কের জবাব বেলজিয়াম দিল মাঠেই শিবচরে হতদরিদ্র ৬ পরিবারের মাঝে গাভী বিতরণ যেভাবে চাকরি খুঁজবেন যেসব দেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা পাচ্ছেন পর্যটকরা গজারিয়ায় রাস্তা উন্মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন কেপ ভার্দে ধাক্কার পর মিশরকে নিয়ে সতর্ক আর্জেন্টিনা ভারী বর্ষণে ডুবল চট্টগ্রাম, পাহাড়ধসের শঙ্কা ১০ মিনিটে ৬৬টি হটডগ খেয়ে জিতলেন সাড়ে ৯ লাখ টাকা বেরোবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালনকারীদের ফ্যান খুলে নেওয়ার অভিযোগ দিনাজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-ছেলে নিহত ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪০৬ সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ চট্টগ্রামে শিক্ষাসামগ্রী পেল দরিদ্র শিক্ষার্থীরা নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: ডা. জুবাইদা রহমান বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সম্প্রসারণের খবরে কৃষিজমিতে বহুতল ভবন ট্রিলিয়নিয়ার তকমা হারালেন প্রযুক্তি মোগল ইলন মাস্ক চকরিয়ায় পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ ঘিওরে ৬০ বছরের বৃদ্ধের বিরুদ্ধে চার বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ওমানের উপকূলে ট্যাংকারে আগুন মিশরকে ‘দলগতভাবে’ রুখতে চান স্কালোনি বরগুনায় জনসাধারণের সুবিধা উপেক্ষা করে সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণের অভিযোগ দিনাজপুরে কোটি টাকার প্রত্নসম্পদ উদ্ধার ব্রাজিলের বিদায়ে অবাক হননি পারেদেস

সাহাবিদের গল্প-০৫ বিলাসী যুবক থেকে ছেঁড়া চাদরের শহিদ

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:০২ এএম
বিলাসী যুবক থেকে ছেঁড়া চাদরের শহিদ
ছবি: সংগৃহীত

মক্কার অলিগলিতে যখন তিনি হেঁটে যেতেন, মানুষ ঘুরে তাকাত। দামি পোশাক, উন্নত সুগন্ধি, পরিপাটি চুলধনাঢ্য পরিবারের আদরের সন্তান মুসআব ইবনে উমাইর ছিলেন মক্কার তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে পরিপাটি বিলাসী। সিরাত ও ইতিহাসগ্রন্থগুলো (তাবাকাতে ইবনে সাদ) তার এই বিলাসী জীবনের বিবরণ দিয়েছে, মা তাকে রাখতেন রাজপুত্রের মতো করে।

তারপর একদিন তিনি শুনলেন কোরআনের আহ্বান। ঈমান আনলেন। আর সঙ্গে সঙ্গে হারালেন সব মা তাকে বন্দি করলেন, সম্পদ থেকে বঞ্চিত করলেন, ঘর থেকে তাড়িয়ে দিলেন। সেই কোমল শরীরে উঠল মোটা, তালি দেওয়া কাপড়। কিন্তু অন্তরে? অন্তরে তখন এমন ঐশ্বর্য, যা মক্কার সব সোনা দিয়েও কেনা যায় না।

এই যুবকই হলেন ইসলামের প্রথম রাষ্ট্রদূতহিজরতের আগে মদিনায় গিয়ে যিনি ঘরে ঘরে ইসলামের আলো পৌঁছে দিয়েছিলেন। তারপর উহুদের ময়দান। ইসলামের পতাকা হাতে লড়তে লড়তে শহিদ হলেন মুসআব।

দাফনের সময় ঘটল হৃদয়বিদারক ঘটনাটি। খাব্বাব ইবনুল আরাত রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘মুসআব উহুদের দিন শহিদ হলেন, অথচ তাকে কাফন দেওয়ার মতো একটি চাদর ছাড়া কিছুই পেলাম না। সেই চাদরে মাথা ঢাকলে পা বেরিয়ে যায়, পা ঢাকলে মাথা। তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, চাদরে তার মাথা ঢেকে দাও, আর পায়ের ওপর ইজখির ঘাস বিছিয়ে দাও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ১২৭৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯৪০)

যে যুবকের একেকটি পোশাকের দাম ছিল বিপুল, তার কাফনের কাপড়টুকুও পুরো হলো না! দুনিয়ার হিসাবে এ কী ভয়ংকর ‘লোকসান’। অথচ আখিরাতের পাল্লায়? খাব্বাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলছেন, আমাদের কেউ কেউ পুরস্কারের কিছুই দুনিয়াতে ভোগ না করে চলে গেছেন; মুসআব তাদেরই একজন। তার পূর্ণ প্রতিদান জমা রইল আল্লাহর কাছে।

আজ আমাদের সারা জীবন কাটে ব্র্যান্ড, ব্যালান্স আর স্ট্যাটাসের পেছনে ছুটে। মুসআব রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রশ্ন রেখে গেলেন, যে পোশাক কবরে যাবে না, তার জন্য এত আয়োজন; আর যে আমল কবরে সঙ্গী হবে, তার জন্য কতটুকু?

হে আল্লাহ! দুনিয়াকে আমাদের হাতে রাখুন, অন্তরে নয়। আমাদের শেষ পরিণতি মুসআবের মতো সম্মানের করুন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

সাহাবিদের গল্প-০৫ বিলাসী যুবক থেকে ছেঁড়া চাদরের শহিদ

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:০২ এএম
বিলাসী যুবক থেকে ছেঁড়া চাদরের শহিদ
ছবি: সংগৃহীত

মক্কার অলিগলিতে যখন তিনি হেঁটে যেতেন, মানুষ ঘুরে তাকাত। দামি পোশাক, উন্নত সুগন্ধি, পরিপাটি চুলধনাঢ্য পরিবারের আদরের সন্তান মুসআব ইবনে উমাইর ছিলেন মক্কার তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে পরিপাটি বিলাসী। সিরাত ও ইতিহাসগ্রন্থগুলো (তাবাকাতে ইবনে সাদ) তার এই বিলাসী জীবনের বিবরণ দিয়েছে, মা তাকে রাখতেন রাজপুত্রের মতো করে।

তারপর একদিন তিনি শুনলেন কোরআনের আহ্বান। ঈমান আনলেন। আর সঙ্গে সঙ্গে হারালেন সব মা তাকে বন্দি করলেন, সম্পদ থেকে বঞ্চিত করলেন, ঘর থেকে তাড়িয়ে দিলেন। সেই কোমল শরীরে উঠল মোটা, তালি দেওয়া কাপড়। কিন্তু অন্তরে? অন্তরে তখন এমন ঐশ্বর্য, যা মক্কার সব সোনা দিয়েও কেনা যায় না।

এই যুবকই হলেন ইসলামের প্রথম রাষ্ট্রদূতহিজরতের আগে মদিনায় গিয়ে যিনি ঘরে ঘরে ইসলামের আলো পৌঁছে দিয়েছিলেন। তারপর উহুদের ময়দান। ইসলামের পতাকা হাতে লড়তে লড়তে শহিদ হলেন মুসআব।

দাফনের সময় ঘটল হৃদয়বিদারক ঘটনাটি। খাব্বাব ইবনুল আরাত রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘মুসআব উহুদের দিন শহিদ হলেন, অথচ তাকে কাফন দেওয়ার মতো একটি চাদর ছাড়া কিছুই পেলাম না। সেই চাদরে মাথা ঢাকলে পা বেরিয়ে যায়, পা ঢাকলে মাথা। তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, চাদরে তার মাথা ঢেকে দাও, আর পায়ের ওপর ইজখির ঘাস বিছিয়ে দাও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ১২৭৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯৪০)

যে যুবকের একেকটি পোশাকের দাম ছিল বিপুল, তার কাফনের কাপড়টুকুও পুরো হলো না! দুনিয়ার হিসাবে এ কী ভয়ংকর ‘লোকসান’। অথচ আখিরাতের পাল্লায়? খাব্বাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলছেন, আমাদের কেউ কেউ পুরস্কারের কিছুই দুনিয়াতে ভোগ না করে চলে গেছেন; মুসআব তাদেরই একজন। তার পূর্ণ প্রতিদান জমা রইল আল্লাহর কাছে।

আজ আমাদের সারা জীবন কাটে ব্র্যান্ড, ব্যালান্স আর স্ট্যাটাসের পেছনে ছুটে। মুসআব রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রশ্ন রেখে গেলেন, যে পোশাক কবরে যাবে না, তার জন্য এত আয়োজন; আর যে আমল কবরে সঙ্গী হবে, তার জন্য কতটুকু?

হে আল্লাহ! দুনিয়াকে আমাদের হাতে রাখুন, অন্তরে নয়। আমাদের শেষ পরিণতি মুসআবের মতো সম্মানের করুন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

সাহাবিদের গল্প-০৪ শূলের মঞ্চে দুই রাকাত নামাজ

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ এএম
শূলের মঞ্চে দুই রাকাত নামাজ
ছবি: সংগৃহীত

মক্কার অদূরে তানইম প্রান্তর। উৎসবের আমেজে জড়ো হয়েছে কুরাইশরা–আজ বদরের প্রতিশোধ নেবে তারা। শূলের মঞ্চে দাঁড় করানো হয়েছে এক বন্দিকে। মৃত্যু নিশ্চিত জেনে বন্দি মানুষটি ঘাতকদের কাছে শুধু একটিই আবেদন করলেন, ‘আমাকে দুই রাকাত নামাজ পড়ার সুযোগ দাও।’

তিনি খুবাইব ইবনে আদি রাদিয়াল্লাহু আনহু। রাজি গোত্রের বিশ্বাসঘাতকতায় বন্দি হয়ে বিক্রি হয়েছিলেন মক্কায়, যেখানে বদরে নিহতদের স্বজনরা প্রতিশোধের আগুনে ফুঁসছিল।

অনুমতি মিলল। ধীরস্থির, প্রশান্ত দুই রাকাত নামাজ পড়লেন তিনি। সালাম ফিরিয়ে বললেন সেই ঐতিহাসিক কথা, ‘তোমরা যদি মনে না করতে যে আমি মৃত্যুর ভয়ে ভীত, তবে আমি নামাজ আরও দীর্ঘ করতাম!’ এরপর আবৃত্তি করলেন, ‘মুসলিম হিসেবে যখন আমার মৃত্যু হচ্ছে, তখন কোন পাশে আমি ঢলে পড়লাম তাতে কিছুই যায় আসে না। যখন এই মৃত্যু আল্লাহরই পথে...’

সহিহ বুখারিতে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় এসেছে, মৃত্যুদণ্ডের আগে দুই রাকাত নামাজ পড়ার এই সুন্নত খুবাইবই সর্বপ্রথম চালু করেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩০৪৫)

একবার ভাবুন। সামনে নিশ্চিত মৃত্যু। সেই মুহূর্তে মানুষ কী চায়? প্রাণভিক্ষা? শেষবার প্রিয়জনের মুখ? খুবাইব চাইলেন নামাজ। কারণ তিনি জানতেন, কিছুক্ষণ পরেই তিনি যার সামনে দাঁড়াবেন, তার সামনে সিজদারত অবস্থায় শেষ প্রস্তুতিটুকু নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে বড় পাওয়া।

আর আমরা? সুস্থ শরীর, নিরাপদ ঘর, হাতে অফুরন্ত সময়। তবু আজানের ডাক শুনে বলি, ‘আর একটু পরে।’ মিটিং, ট্রাফিক, ঘুম–হাজারটা অজুহাতে নামাজ পেছাতে থাকি। খুবাইব রাদিয়াল্লাহু আনহু শূলের মঞ্চ থেকে আমাদের শিখিয়ে গেলেন; নামাজ বোঝা নয়, নামাজই মুমিনের শেষ আশ্রয়, শ্রেষ্ঠ প্রশান্তি। হে আল্লাহ! আমাদের জীবনের শেষ আমল যেন হয় নামাজ, আর অন্তরের শেষ কথা যেন হয় আপনার জিকির। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

৬ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৬ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৬ জুলাই ২০২৬, সোমবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৪৩ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

এশা

৮.২০ মিনিট

 

ফজর (৭ জুলাই)

.৫১ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমল ৩৬০ জোড়াকে সচল রাখার ইবাদত

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
৩৬০ জোড়াকে সচল রাখার ইবাদত
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই শুরু হয় আমাদের অন্তহীন কর্মব্যস্ততা। অফিস, ব্যবসা কিংবা পড়ালেখার পেছনে ছুটতে ছুটতে আমরা ভুলে যাই এই মানবদেহের কথা, যা ৩৬০টি হাড়ের জোড়া নিয়ে গঠিত। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য এই প্রতিটি জোড়া সচল ও সুস্থ থাকা অপরিহার্য।

কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবেছি, প্রতিদিন সকালে এই সুস্থতার জন্য আমাদের কোনো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত? অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন এক সহজ আমল শিখিয়েছেন, যা প্রতিদিন সকালে আমাদের পুরো শরীরের সুস্থতার পক্ষ থেকে এক মহত্তম শুকরিয়া বা সাদকা হিসেবে গণ্য হয়। তা হলো–চাশতের নামাজ (সালাতুদ দুহা)।

ইসলামে সকালের এই নফল ইবাদতের গুরুত্ব অপরিসীম। হজরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকেই এমন অবস্থায় সকাল করে যে, তার (শরীরের) প্রত্যেক জোড়ার বিপরীতে একটি করে সাদকা দেওয়া আবশ্যক।

কাজেই প্রত্যেকবার সুবহানাল্লাহ বলা সাদকা, আলহামদুলিল্লাহ বলা সাদকা, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা সাদকা, আল্লাহু আকবর বলা সাদকা, সৎ কাজের আদেশ দেওয়া সাদকা এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করাও সাদকা। আর এই সবকিছুর পক্ষ থেকে চাশতের দুই রাকাত নামাজ আদায় করাই যথেষ্ট। (মুসলিম, ৭২০)

এই নামাজের নিয়ম ও সময় অত্যন্ত সহজ। সূর্য পুরোপুরি উদিত হওয়ার পর (সাধারণত সকাল ৮টা থেকে ৯টার পর) থেকে শুরু করে ঠিক দুপুর হওয়ার আগ পর্যন্ত এই নামাজ পড়া যায়। চাশতের নামাজ কমপক্ষে দুই রাকাত, তবে চাইলে চার, আট বা তার বেশিও পড়া যায়।

যান্ত্রিক জীবনে একটু সময় বের করে এই আমলটি করলে একদিকে যেমন সুন্নতের অনুসরণ হয়, অন্যদিকে সারা দিনের কাজের বরকত ও মানসিক প্রশান্তি লাভ করা যায়। তাই সকালের শত ব্যস্ততার মাঝেও মাত্র ৫টি মিনিট বরাদ্দ করে আসুন আমরা চাশতের এই অনন্য সুন্নতের সুবাসে নিজেদের জীবনকে ধন্য করি।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

নারীর জীবনের এ সিদ্ধান্ত কী শুধুই ব্যক্তিগত?

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
নারীর জীবনের এ সিদ্ধান্ত কী শুধুই ব্যক্তিগত?
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঝে মধ্যেই দেখা যায়–কেউ নতুন ফ্যাশনের অংশ হিসেবে, কেউ আবার দুঃখ বা মানসিক আঘাতের প্রতিক্রিয়ায় মাথার সব চুল কামিয়ে ফেলছেন। অনেকেই এটিকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা আধুনিকতার প্রকাশ মনে করেন। কিন্তু একজন মুসলিম নারীর জীবনে কি এ সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়, নাকি এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান?

ইসলাম নারীর স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও মর্যাদাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। আর সেই সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক হলো তার চুল। এ কারণেই অধিকাংশ ইসলা ফকিহ নারীদের মাথা মুণ্ডন বা সম্পূর্ণ টাক করাকে বৈধ মনে করেননি।

হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নারীদের মাথা মুণ্ডন করতে নিষেধ করেছেন। যদিও এ বর্ণনাটি দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত, তবু এর অর্থকে সমর্থন করে ইসলামের অন্যান্য দলিল ও ফকিহদের মতামত রয়েছে। এ কারণেই হজ বা উমরার সময়ও নারীরা মাথা মুণ্ডন করেন না; বরং চুলের অগ্রভাগ থেকে সামান্য অংশ কাটেন। (মিশকাতুল মাসাবিহ, ৪৪৮৫)

অন্যদিকে, শোক বা বিপদের কারণে চুল মুণ্ডন করাও ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আবু মুসা আশ‘আরী (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে শুনেছেন যে, উচ্চৈঃস্বরে বিলাপকারিণী, কাপড় বিদীর্ণকারিণী এবং মাথা মুণ্ডনকারিণীর সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। (ইবনু হিব্বান, ৩১৪০)

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়, যে উচ্চৈঃস্বরে বিলাপ করে, কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং মাথার চুল মুণ্ডন করে। (ইবনু হিব্বান, ৩১৪১)
এ ছাড়া নারীদের জন্য পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণ করাও ইসলামে নিষিদ্ধ। পোশাক-আশাক, চালচলন কিংবা চুলের ধরনে পুরুষদের অনুকরণ করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) পুরুষের বেশ ধারণকারী নারীদের ওপর লা‘নত করেছেন। (মিশকাতুল মাসাবিহ, ৪৪৭০)

অতএব, শরিয়তের দৃষ্টিতে সৌন্দর্যচর্চা, শোক প্রকাশ কিংবা নিছক ফ্যাশনের কারণে নারীদের মাথার সব চুল কামিয়ে ফেলা বা টাক করা জায়েজ নয়। একজন মুমিন নারীর জন্য আল্লাহর বিধানের প্রতি আনুগত্যই প্রকৃত সৌন্দর্য, আর সেই সৌন্দর্যই তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক