মক্কার অলিগলিতে যখন তিনি হেঁটে যেতেন, মানুষ ঘুরে তাকাত। দামি পোশাক, উন্নত সুগন্ধি, পরিপাটি চুল–ধনাঢ্য পরিবারের আদরের সন্তান মুসআব ইবনে উমাইর ছিলেন মক্কার তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে পরিপাটি ও বিলাসী। সিরাত ও ইতিহাসগ্রন্থগুলো (তাবাকাতে ইবনে সাদ) তার এই বিলাসী জীবনের বিবরণ দিয়েছে, মা তাকে রাখতেন রাজপুত্রের মতো করে।
তারপর একদিন তিনি শুনলেন কোরআনের আহ্বান। ঈমান আনলেন। আর সঙ্গে সঙ্গে হারালেন সব। মা তাকে বন্দি করলেন, সম্পদ থেকে বঞ্চিত করলেন, ঘর থেকে তাড়িয়ে দিলেন। সেই কোমল শরীরে উঠল মোটা, তালি দেওয়া কাপড়। কিন্তু অন্তরে? অন্তরে তখন এমন ঐশ্বর্য, যা মক্কার সব সোনা দিয়েও কেনা যায় না।
এই যুবকই হলেন ইসলামের প্রথম রাষ্ট্রদূত–হিজরতের আগে মদিনায় গিয়ে যিনি ঘরে ঘরে ইসলামের আলো পৌঁছে দিয়েছিলেন। তারপর উহুদের ময়দান। ইসলামের পতাকা হাতে লড়তে লড়তে শহিদ হলেন মুসআব।
দাফনের সময় ঘটল হৃদয়বিদারক ঘটনাটি। খাব্বাব ইবনুল আরাত রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘মুসআব উহুদের দিন শহিদ হলেন, অথচ তাকে কাফন দেওয়ার মতো একটি চাদর ছাড়া কিছুই পেলাম না। সেই চাদরে মাথা ঢাকলে পা বেরিয়ে যায়, পা ঢাকলে মাথা। তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, চাদরে তার মাথা ঢেকে দাও, আর পায়ের ওপর ইজখির ঘাস বিছিয়ে দাও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ১২৭৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯৪০)
যে যুবকের একেকটি পোশাকের দাম ছিল বিপুল, তার কাফনের কাপড়টুকুও পুরো হলো না! দুনিয়ার হিসাবে এ কী ভয়ংকর ‘লোকসান’। অথচ আখিরাতের পাল্লায়? খাব্বাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলছেন, আমাদের কেউ কেউ পুরস্কারের কিছুই দুনিয়াতে ভোগ না করে চলে গেছেন; মুসআব তাদেরই একজন। তার পূর্ণ প্রতিদান জমা রইল আল্লাহর কাছে।
আজ আমাদের সারা জীবন কাটে ব্র্যান্ড, ব্যালান্স আর স্ট্যাটাসের পেছনে ছুটে। মুসআব রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রশ্ন রেখে গেলেন, যে পোশাক কবরে যাবে না, তার জন্য এত আয়োজন; আর যে আমল কবরে সঙ্গী হবে, তার জন্য কতটুকু?
হে আল্লাহ! দুনিয়াকে আমাদের হাতে রাখুন, অন্তরে নয়। আমাদের শেষ পরিণতি মুসআবের মতো সম্মানের করুন। আমিন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক