টানা তিন দিনের অবিরাম বৃষ্টি আর মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে দুই উপজেলার অন্তত ১৬টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
আকস্মিক এই প্লাবনে তলিয়ে গেছে অভ্যন্তরীণ বেশ কিছু গ্রামীণ সড়ক, ফলে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত মাতামুহুরী নদীর পানি অনেক বেড়ে গেলেও তা এখনো বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। তবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় এবং বৃষ্টিপাত চলতে থাকায় দুই উপজেলার মানুষের চোখে-মুখে এখন শুধুই বড় কোনো বন্যার আতঙ্ক। বৃষ্টি না কমলে যেকোনো মুহূর্তে মাতামুহুরীর দুই কূল ছাপিয়ে গ্রাস করবে পুরো জনপদ।
বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী থেকে মহেশখালীর মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর সংযোগ সড়ক নির্মাণে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স কোম্পানির বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া একটি অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে ফাঁসিয়াখালী ও চিরিঙ্গা ইউনিয়নের অন্তত ৫টি গ্রামে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নিরুপায় হয়ে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা নিজেদের ঘরবাড়ি রক্ষায় ওই মাটির বাঁধ কেটে পানি অপসারণের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়বেষ্টিত এলাকাগুলোতে পাহাড় ধসের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে।
চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদ দেলোয়ার খবরের কাগজকে বলেন, ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছি। উজান থেকে আসা ঢলের পানি যাতে দ্রুত ভাটির দিকে নেমে যেতে পারে, সেজন্য উপকূলীয় সবকটি স্লুইস গেটের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। সার্বিক পরিস্থিতি তদারকির জন্য একটি জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
রাজু দাশ/অদিতি/