ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
জাকার্তা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর, ঢাকা ‘সহনীয়’ অবস্থানে সাজেকে কীটনাশকে প্রস্তুত চা পান করে অসুস্থ ১২ গ্রামবাসী বালোগুনের লাল কার্ড বিতর্কে রেফারির পাশে ফিফা সোনারগাঁয় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগ লিডিং ইউনিভার্সিটি বিএনসিসি প্লাটুনের কালেক্টিভ ক্যাম্পে গৌরবময় অর্জন আবারও ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে ট্রাম্পের খোঁচা ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় কীভাবে উদযাপন করলেন হালান্ড? ফাঁশ করলেন বান্ধবী ৫ বিভাগে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস ট্রাম্প ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় ৬০ শতাংশ ইসরায়েলি প্রস্তুতিমূলক কাজেই ৪ বছর পার রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প চবিতে ক্যানটিন সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আমার আগে পর্তুগাল কিছুই জেতেনি: রোনালদো রাজবাড়ীতে তরুণ-তরুণীকে বেঁধে পিটিয়ে বিয়ে মেসি না সালাহ? বরিশালে দুই মামলা: মৃত, কারাবন্দিরা আসামি, মামলা নিয়ে প্রশ্ন বর্ণবাদী আক্রমণের জবাবে প্যারাগুয়ের সিনেটরকে ধুয়ে দিলেন এমবাপ্পে ফুটপাতে দোকান বসিয়ে ভাড়া আট প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স স্থগিত শিক্ষাব্যবস্থার কঙ্কাল বেরিয়ে এসেছে সাত বছরেও শেষ হয়নি মহাসড়ক সুরক্ষার কাজ যমুনাপাড়ে সব হারানোর আর্তনাদ লবণ চাষ: পকেট ভারী হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ও মিল মালিকদের পিরামিড অভিযানে মেসিবাহিনী সূচক বাড়লেও লেনদেনে ভাটা ৭ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ৭ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল কোয়ার্টার ফাইনালে কে হচ্ছে বেলজিয়াম মুখোমুখি? মায়াবী আভার বন পিটুনিয়া কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ স্পেন, ম্যাচ কবে-কখন?

যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৩ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:১২ এএম
যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বেলজিয়াম। অন্যদিকে বড় ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সিয়াটল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় শুরু হওয়া ম্যাচের প্রথমার্ধে আক্রমণে আধিপত্য দেখায় বেলজিয়াম। চার্লস ডি কেটেলারের জোড়া গোলে প্রথমার্ধ শেষে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল রেড ডেভিলসরা।

বিরতি থেকে ফিরে বেলজিয়ামের রক্ষণভাগে চাপ বাড়াতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। সমতায় ফিরতে মরিয়া দলটি নিজেদের ভুলে উল্টো গোল হজম করে বসে। 

ম্যাচের ৬১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বল ক্লিয়ার করতে এগিয়ে আসেন যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ। কিন্তু বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হন তিনি। সেই সুযোগে বল কেড়ে নেন কেটেলারে। এরপর বল পেয়ে শট নেন হান্স ভানাকেন। যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্ডার টিম রিম তা ঠেকানোর চেষ্টা করলেও সফল হননি। ফলে বল গড়িয়ে জালে জড়িয়ে যায়। এতে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম।

ম্যাচের ৭৯ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে উঠে ভালো সুযোগ তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্র। বক্সের বাইরে মাঝামাঝি জায়গায় বল পেয়ে জোরালো শট নেন বারহাল্টার। তবে তার প্রচেষ্টা সামান্য ব্যবধানে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বাইরে চলে যায়।

কিছুক্ষণ পর আবারও গোলের সুযোগ পেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার পিছলে পড়লে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান ফোলারিন বালোগান। সামনে তখন শুধু গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তবে কঠিন কোণ থেকে নেওয়া তার শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক।

ম্যাচের ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে (৯০+৩) যুক্তরাষ্ট্রের শেষ আশাটুকুও শেষ করে দেন রোমেলু লুকাকু। বক্সের বাঁ দিকে ক্রিশ্চিয়ান রিচার্ডসের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত সামনে এগিয়ে যান তিনি। এরপর দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে শক্তিশালী শটে বল জালে পাঠান বেলজিয়ামের এই তারকা স্ট্রাইকার।

লুকাকুর গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-১। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় বড় জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় বেলজিয়াম। আর বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায় নেয় সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র।

এসজি/

বালোগুনের লাল কার্ড বিতর্কে রেফারির পাশে ফিফা

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
বালোগুনের লাল কার্ড বিতর্কে রেফারির পাশে ফিফা
ছবি: সংগৃহীত

বালোগুনকে লাল কার্ড দেখানো নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। এ ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রেফারি রাফায়েল ক্লাউসের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে তার জবাবে ব্রাজিলিয়ান এই রেফারির প্রতি পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছে ফিফা।

বিশ্বকাপের শেষ-৩২ পর্বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে খেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচে তারিক মুহারেমোভিচের গোড়ালিতে বুট দিয়ে আঘাত করেন মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলাশিন বালোগুন।

প্রথমে খেলা চললেও পরে ভিএআর পর্যালোচনা করেন রেফারি রাফায়েল ক্লাউস। এরপর বালোগুনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান তিনি। লাল কার্ড পেলেও ম্যাচটি জিতে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। পরে বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে ফিফা। ফলে শেষ-১৬ পর্বে খেলার সুযোগ পান তিনি।

এ সিদ্ধান্তের কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে ক্লাউসের অতীত রেকর্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প। 

তিনি বলেন, ‘তার অতীত রেকর্ড ঘেঁটে দেখলে তাকে কিছুটা সন্দেহজনক মনে হতে পারে।’

ট্রাম্পের মন্তব্যের পরই বিবৃতি দেয় ফিফা। সেখানে রাফায়েল ক্লাউসের প্রতি পূর্ণ আস্থার কথা জানায় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফিফা জানায়, ক্লাউস বিশ্বের অন্যতম সেরা পেশাদার রেফারি। তিনি ফিফা বিশ্বকাপের 'টিম ওয়ান' এলিট রেফারি গ্রুপেরও সদস্য । পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে ক্লাউস সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও সততার পরিচয় দিয়েছেন।

টুর্নামেন্ট চলাকালে রেফারিদের গণমাধ্যমে কথা না বলার নীতি রয়েছে। তাই এ বিষয়ে ক্লাউস কোনো মন্তব্য করেননি। ৪৬ বছর বয়সী ক্লাউস ইতোমধ্যে ৬০০-এর বেশি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন।

ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় কীভাবে উদযাপন করলেন হালান্ড? ফাঁশ করলেন বান্ধবী

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:২১ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় কীভাবে উদযাপন করলেন হালান্ড? ফাঁশ করলেন বান্ধবী
এরলিং হ্যাল্যান্ড তার বান্ধবী ইসাবেল হাউজসেং জোহানসেনের সাথে। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে অন্যতম ফেবারিট ব্রাজিলকে বিদায় করে রূপকথা লিখেছে নরওয়ে। আর এই রূপকথার মহানায়ক আর কেউ নন- আর্লিং ব্রাউট হালান্ড। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর স্টেডিয়ামের ভেতরেই হালান্ড মেতে উঠেছিলেন বন্য উদযাপনে। আর সেই অন্দরমহলের উদযাপনের এক ঝলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের জন্য শেয়ার করেছেন তার বান্ধবী ইসাবেল হাউগসেং জোহানসেন।

স্টেডিয়ামের ভেতরেই ‘পাগলামি’ উদযাপন

ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারানোর পর মাঠের উত্তেজনা আছড়ে পড়ে গ্যালারি আর ড্রেসিংরুমের সংলগ্ন ভিআইপি জোনে। সেখানে বান্ধবী ইসাবেল এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জয়ের আনন্দ ভাগ করে নেন হালান্ড।

পরবর্তীতে ইসাবেল তার ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে এই উদযাপনের বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিগুলোর ক্যাপশনে তিনি নরওয়েজিয়ান ভাষায় লেখেন— 'Galskap', যার বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় 'পাগলামি'।

শেয়ার করা ছবিগুলোর একটিতে দেখা যায়, জয়ের ক্লান্তি আর তৃপ্তি নিয়ে একটি ফোল্ডিং চেয়ারে হাত গুটিয়ে বসে আছেন হালান্ড। আরেকটি ছবিতে তার বান্ধবী ইসাবেলকে নরওয়ের ঐতিহ্যবাহী ভাইকিংদের মতো একটি শিংওয়ালা সোনার হেলমেট মাথায় দিয়ে পোজ দিতে দেখা যায়। বন্ধু এবং পরিবারের এই ঘরোয়া কিন্তু বন্য উদযাপন মুহূর্তেই নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে।

আজহার/

আমার আগে পর্তুগাল কিছুই জেতেনি: রোনালদো

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
আমার আগে পর্তুগাল কিছুই জেতেনি: রোনালদো
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ছবি: সংগৃহীত

স্পেনের কাছে ০-১ গোলে হেরে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বলেন, ‘আমি পর্তুগালের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছি। আমার আগে পর্তুগাল একটিও শিরোপা জেতেনি।’

সোমবার (৬ জুলাই) স্পেনের কাছে শেষ ষোলোতে হেরে বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগাল বাদ পড়ায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো মর্মাহত ছিলেন। যদিও তিনি ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করেন, এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ, তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা বুটজোড়া তুলে রাখার বিষয়ে কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী নন তিনি।

৪১ বছর বয়সি এই তারকার জন্য বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন অপূর্ণ থাকলেও, ২০১৬ সালের ইউরোপিয় চ্যাম্পিয়নশিপ জয় সমানভাবে, এমনকি তার চেয়েও বেশি সন্তোষজনক।

নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দিকে ফিরে তাকিয়ে রোনালদো জানান, পর্তুগালকে তিনটি শিরোপা জিততে সাহায্য করার পেছনে তার অবদান রয়েছে  ২০১৬ সালের একটি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০১৯ ও ২০২৫ সালের দুটি উয়েফা নেশনস লিগ, যেখানে এর আগে তাদের কোনো শিরোপাই ছিল না।

খেলা শেষে রোনালদো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, ‘এভাবে বিশ্বকাপ ছাড়তে আমার খারাপ লাগছে। আমি আমার সর্বস্ব দিয়েছি। আমি আমার সেরাটা দিয়েছি। হ্যাঁ, এটা আমার শেষ বিশ্বকাপ ছিল, কিন্তু এখন আমি আত্মবিশ্লেষণ করার এবং পরিবারের সঙ্গে থাকার জন্য সময় পাব। আমি কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি উত্তেজনার বশে কোনো সিদ্ধান্ত নিই না। আমি পর্তুগালের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আগে পর্তুগাল একটিও শিরোপা জেতেনি। জাতীয় দলের জেতা সবচেয়ে বড় শিরোপাটি ছিল ২০১৬ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ, যা সত্যি বলতে আমার কাছে বিশ্বকাপের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।’ 

থিওটোনিয়াস/

বর্ণবাদী আক্রমণের জবাবে প্যারাগুয়ের সিনেটরকে ধুয়ে দিলেন এমবাপ্পে

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
বর্ণবাদী আক্রমণের জবাবে প্যারাগুয়ের সিনেটরকে ধুয়ে দিলেন এমবাপ্পে
আপনার পদের অযোগ্য’: বর্ণবাদী মন্তব্যের জেরে প্যারাগুয়ের সিনেটরকে ধুয়ে দিলেন এমবাপ্পে। ছবি: সংগৃহীত

ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেকে লক্ষ্য করে এক প্যারাগুয়েন সিনেটরের করা তীব্র বর্ণবাদী ও আপত্তিকর মন্তব্যের পর বিশ্ব ফুটবলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

এই ঘটনার কড়া জবাব দিয়ে সংশ্লিষ্ট সিনেটরকে ‘নিকৃষ্ট নারী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এমবাপ্পে। একই সঙ্গে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন ওই রাজনীতিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনের একটি রোমাঞ্চকর ও উত্তপ্ত ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ফ্রান্স। ম্যাচের একমাত্র জয়সূচক গোলটি আসে এমবাপ্পের পেনাল্টি শট থেকে। ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের সঙ্গে এমবাপ্পের কিছুটা কথা কাটাকাটি ও হাত মেলানো নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।

এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (টুইটার) প্যারাগুয়ের র‌্যাডিক্যাল লিবারেল পার্টি-র সিনেটর চেলেস্তে আমারিলা এমবাপ্পেকে লক্ষ্য করে একের পর এক বর্ণবাদী আক্রমণাত্মক পোস্ট করেন। তিনি এমবাপ্পেকে 'ঔপনিবেশিক ক্যামেরুনীয়, যে নিজেকে ফরাসি বলে জাহির করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে' বলে মন্তব্য করেন। এখানেই শেষ নয়, তিনি এমবাপ্পেকে "অশিক্ষিত ও বর্বর' আখ্যা দিয়ে বলেন যে, ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের উচিত ছিল তাকে চড় মারা। এমনকি তিনি আরও কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত করে লেখেন, 'সে মায়ের দুধের বদলে নারকেলের রস খেয়ে বড় হয়েছে এবং শিম্পাঞ্জিদের আওয়াজই তার শোনা সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

সিনেটরের এমন ন্যাক্কারজনক মন্তব্যের পর চুপ থাকেননি বিশ্ব ফুটবলের এই অন্যতম মহাতারকা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি দীর্ঘ ও কড়া বিবৃতি দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান ফরাসি অধিনায়ক।

সিনেটরকে উদ্দেশ্য করে এমবাপ্পে লেখেন, 'মাদাম চেলেস্তে আমারিলা, আপনি একজন নিকৃষ্ট নারী এবং আপনার পদের সম্পূর্ণ অযোগ্য। আপনি কোনোভাবেই প্যারাগুয়ে দেশটিকে প্রতিনিধিত্ব করেন না, যে দেশ পুরো টুর্নামেন্টে নিজেদের আবেগ ও সম্মান বিলিয়ে দিয়ে লড়াই করেছে।'

তিনি প্যারাগুয়ের ফুটবলারদের প্রশংসা করে আরও যোগ করেন, 'আপনার এই অবিবেচকের মতো আচরণ এবং প্রকাশ্য বর্ণবাদের কারণে আজ পুরো বিশ্ব আপনার দেশের খেলোয়াড়দের ঐতিহাসিক লড়াই এবং বিশ্বকাপের দারুণ যাত্রার কথা ভুলে গেছে। মানুষ এখন শুধু আপনার মতো এক অযোগ্য নারীর কথা বলছে, যে নিজের দেশের সবচেয়ে কুৎসিত রূপটা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে। আমি কখনই আপনার মতো মানুষদের পুরো বিশ্বে এভাবে ঘৃণা ও বর্ণবাদ ছড়ানোর স্বাধীনতা দেব না। সূত্র: এনডিটিভি

আজহার/

পিরামিড অভিযানে মেসিবাহিনী

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
পিরামিড অভিযানে মেসিবাহিনী
বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে আজ আরেকবার জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় মেসি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের নকআউটে দ্বিতীয় সুযোগ বলে কিছু নেই। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের দুঃসহ লড়াই থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার শেষ ষোলোর মঞ্চে নামছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সামনে আফ্রিকার শক্তিশালী প্রতিনিধি মিসর। যাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে ইতিহাস গড়া নকআউট জয়। একদিকে শিরোপা ধরে রাখার মিশন, অন্যদিকে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন। সব মিলিয়ে আটলান্টায় অপেক্ষা করছে আরেকটি তুঙ্গস্পর্শী লড়াই।

এই প্রথমবার বিশ্বকাপে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও মিসর। দুই দলের একমাত্র সাক্ষাৎ ২০০৮ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে। কায়রোতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ২-০ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। গোল করেছিলেন সার্জিও আগুয়েরো ও নিকোলাস বুর্দিসো। চোটের কারণে সে ম্যাচে খেলেননি লিওনেল মেসি।

গ্রুপ পর্বে শতভাগ সাফল্য নিয়ে শেষ বত্রিশে ওঠা আর্জেন্টিনা নকআউটে কেপ ভার্দের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় পড়ে। ১২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে ৩-২ গোলের জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচ শেষে স্কালোনি স্বীকার করেন, দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ক্র্যাম্পে ভুগছিলেন এবং নিজেদের ভুলগুলো দ্রুত শুধরে নিতে হবে।

আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা অবশ্যই লিওনেল মেসি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল করে এবারের বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা সাতে নিয়ে গেছেন তিনি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুটি আলাদা আসরে অন্তত সাতটি করে গোলের কীর্তি গড়েছেন। মিসরের বিপক্ষে গোল করতে পারলে ১৯৩০ সালের গিয়ের্মো স্তাবিলের পর এক আসরে আট গোল করা দ্বিতীয় আর্জেন্টাইন হবেন তিনি। পাশাপাশি টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করার বিরল রেকর্ডেও নাম লেখাবেন।

অন্যদিকে মিসরও এসেছে প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে। শেষ বত্রিশে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ১-১ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচ জয়ের ইতিহাস গড়ে তারা। এখন তাদের লক্ষ্য ক্যামেরুন, সেনেগাল, ঘানা ও মরক্কোর পর পঞ্চম আফ্রিকান দল হিসেবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা।

মিসরের আক্রমণের প্রাণভোমরা মোহাম্মদ সালাহ। হ্যামস্ট্রিংয়ের অস্বস্তি নিয়েই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পুরো ১২০ মিনিট খেলেছেন তিনি এবং টাইব্রেকারে গোলও করেছেন। এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ১৬টি সুযোগ তৈরি করেছেন সালাহ। আরও দুটি সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে ২০১০ বিশ্বকাপে ঘানার কেভিন-প্রিন্স বোয়াটেংয়ের আফ্রিকান রেকর্ড স্পর্শ করবেন।

পরিসংখ্যান আর্জেন্টিনার পক্ষেই। বিশ্বকাপে আফ্রিকার দলগুলোর বিপক্ষে টানা আট ম্যাচ জিতেছে তারা। এবারই আলজেরিয়া ও কেপ ভার্দেকে হারিয়েছে। মিসরকে হারাতে পারলে এক বিশ্বকাপে তিনটি আফ্রিকান দলকে হারানোর প্রথম দল হবে আলবিসেলেস্তেরা। আর্জেন্টিনা টানা ১০ বিশ্বকাপ ম্যাচে অন্তত দুটি করে গোল করেছে। এবারও সেই ধারাবাহিকতায় হাঁটতে চায় স্কালোনি শিবির।

তবে কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। সাবেক তারকা সার্জিও আগুয়েরো সতর্ক করেছেন, শারীরিকভাবে শক্তিশালী মিসর কেপ ভার্দের চেয়েও কঠিন প্রতিপক্ষ হতে পারে। সালাহ, ওমর মারমুশ ও এমাম আশুরের গতিময় পাল্টা আক্রমণ তাই আর্জেন্টিনার রক্ষণকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে।

একদিকে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ রক্ষার লড়াই, অন্যদিকে মিসরের ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন। তাই আটলান্টায় লিওনেল মেসি ও মোহাম্মদ সালাহর এই মহারণে রোমাঞ্চের আর কোনো কমতি থাকবে না।