ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বালোগুনের লাল কার্ড বিতর্কে রেফারির পাশে ফিফা লিডিং ইউনিভার্সিটি বিএনসিসি প্লাটুনের কালেক্টিভ ক্যাম্পে গৌরবময় অর্জন আবারও ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে ট্রাম্পের খোঁচা ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় কীভাবে উদযাপন করলেন হালান্ড? ফাঁশ করলেন বান্ধবী ৫ বিভাগে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস ট্রাম্প ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় ৬০ শতাংশ ইসরায়েলি প্রস্তুতিমূলক কাজেই ৪ বছর পার রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প চবিতে ক্যানটিন সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আমার আগে পর্তুগাল কিছুই জেতেনি: রোনালদো রাজবাড়ীতে তরুণ-তরুণীকে বেঁধে পিটিয়ে বিয়ে মেসি না সালাহ? বরিশালে দুই মামলা: মৃত, কারাবন্দিরা আসামি, মামলা নিয়ে প্রশ্ন বর্ণবাদী আক্রমণের জবাবে প্যারাগুয়ের সিনেটরকে ধুয়ে দিলেন এমবাপ্পে ফুটপাতে দোকান বসিয়ে ভাড়া আট প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স স্থগিত শিক্ষাব্যবস্থার কঙ্কাল বেরিয়ে এসেছে সাত বছরেও শেষ হয়নি মহাসড়ক সুরক্ষার কাজ যমুনাপাড়ে সব হারানোর আর্তনাদ লবণ চাষ: পকেট ভারী হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ও মিল মালিকদের পিরামিড অভিযানে মেসিবাহিনী সূচক বাড়লেও লেনদেনে ভাটা ৭ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ৭ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল কোয়ার্টার ফাইনালে কে হচ্ছে বেলজিয়াম মুখোমুখি? মায়াবী আভার বন পিটুনিয়া কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ স্পেন, ম্যাচ কবে-কখন? পে-স্কেল বাস্তবায়নে দফায় দফায় বৈঠক যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম ভ্যাঙ্কুভারে ইউরোপ-লাতিন লড়াই

সূচক বাড়লেও লেনদেনে ভাটা

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
সূচক বাড়লেও লেনদেনে ভাটা
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের মতো দ্বিতীয় কার্যদিবস গতকাল সোমবার দেশের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলেছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। ফলে দুই বাজারেই বেড়েছে মূল্যসূচক। তবে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ার ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৬৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। দাম কমেছে ১৫৫টির এবং ৭১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। ৮৫টির দাম কমেছে এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩০টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৩৫টির এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৩৫টির এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১৭টির দাম বেড়েছে। ৩টির দাম কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স তার আগের দিনের তুলনায় ১২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭৯৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক তার আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৯২ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৮৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

মূল্যসূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪১৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ৫৩০ কোটি ৭ লাখ টাকা। লেনদেন কমেছে ১১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৭ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকোর শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ৩০ লাখ টাকার। ২৯ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট।

এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ড্রাগন সোয়েটার, আইটি কনসালটেন্টস, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্র্যাক ব্যাংক ও জেনেক্স ইনফোসিস।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৭৩ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৫৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৫টির দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৯৩টির এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৬৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

লবণ চাষ: পকেট ভারী হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ও মিল মালিকদের

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
লবণ চাষ: পকেট ভারী হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ও মিল মালিকদের
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

দেশের বাজারে লবণের দাম বাড়লেও তার সুফল পাচ্ছেন না প্রান্তিক লবণচাষিরা। মাঠপর্যায়ের চাষিদের অভিযোগ–উৎপাদন খরচ বাড়লেও তারা লবণের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। মূলত বাজারজাতকরণ ও সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরে থাকা মধ্যস্বত্বভোগীরাই সিংহভাগ মুনাফা লুটে নিচ্ছেন। ফলে কায়িক শ্রম দেওয়া উৎপাদক এবং সাধারণ ভোক্তার পরিশোধ করা দামের মধ্যে একটি বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে। 

  • বাজারে লবণের দাম বাড়লেও প্রান্তিক লবণচাষিরা উৎপাদন খরচ অনুযায়ী ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না।
  • সংরক্ষণ সুবিধা ও অর্থায়নের অভাবে মৌসুমে চাষিরা কম দামে লবণ বিক্রি করতে বাধ্য হন।
  • সমবায়ভিত্তিক বিপণন, স্বচ্ছ সরবরাহব্যবস্থা এবং বাজার তদারকি জোরদার করা হলে লবণচাষিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন।

লবণচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ চাষির পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা বা কার্যকর অর্থায়নের সুযোগ না থাকায় উৎপাদনের মৌসুমেই তাঁরা কম দামে লবণ বিক্রি করতে বাধ্য হন। পরে সেই লবণ বিভিন্ন হাত ঘুরে মিল, পাইকারি ও খুচরা বাজারে গিয়েই দাম কয়েক গুণ বেড়ে যায়।     

কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় লবণচাষিরা আরও অভিযোগ করেন, একসঙ্গে অনেক পরিমাণ লবণ উৎপাদিত হওয়ায় দাম কমে যায়। এ সময় সংরক্ষণ ব্যবস্থার অসুবিধা এবং পরবর্তী উৎপাদনের খরচ জোগাতে অনেক চাষি দ্রুত লবণ বিক্রি করেন। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা কম দামে লবণ কিনে মজুত করেন। পরে বাজারে সরবরাহ কমে এলে বেশি দামে তা বিক্রি করেন।

চকরিয়ার লবণচাষি মো. কামাল খবরের কাগজকে জানান, লবণ উৎপাদনের সময় প্রতি মণ লবণে খরচ হয় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।  কিন্তু সেই লবণ বিক্রির সময় ২৫০ টাকার বেশি পাওয়া যায় না। এভাবে প্রতি মণে আমাদের লোকসান হয়। প্রতিবছরই লোকসানের ঝুঁকিতে  থাকি।

তিনি আরও বলেন, আমরা লবণ উৎপাদনের খরচ অনুযায়ী দাম পাই না। এই ঘটনা নতুন নয়। মধ্যস্বত্বভোগীরা আমাদের কাছ থেকে  অপরিশোধিত লবণ কিনে মিল মালিকদের কাছে লাভে বিক্রি করেন। মিল মালিকরা এই লবণ পরিশোধন করে বাজারে কয়েকগুণ লাভে বিক্রি করেন। এভাবে মধ্যস্বত্বভোগী ও  মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে আমাদের ঠকিয়ে লাভ করে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ বেশি দামে লবণ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।  

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লবণের দাম প্রতি কেজি গড়ে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। ফ্রেশ, এসিআই, প্রাণ, তীর, মৌচাক ব্র্যান্ডের লবণ কেজি হিসেবে বিক্রি হয় ৪০ থেকে ৪২ টাকায়।

আরেক লবণচাষি বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের মিনজিরিতলা গ্রামের মোহাম্মদ ছগির খবরের কাগজকে জানান, বর্তমানে আমাদের লবণের সিজন নেই। এ সময়ে আমরা কিছু দাম পাই, তবে সেটা আহামরি লাভ হয় না। বর্তমানে লবণ উৎপাদন বন্ধ থাকায় কেজিপ্রতি ১০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।  সিজনের সময় আরও কমে আমাদের থেকে লবণ ৪-৫ টাকা কেজি দরে ক্রয় করা হয়। সে হিসেবে আমাদের প্রতি মণ বিক্রি দাম দাঁড়ায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে। তাই আমাদের তেমন কোনো লাভ হয় না। বরং অনেক সময় লোকসান হয়। 

এদিকে, উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সরবরাহের একাধিক স্তর থাকায় প্রতিটি ধাপে মূল্য সংযোজনের পাশাপাশি মুনাফাও যোগ হয়। তবে কোথায় কত মুনাফা হচ্ছে, সে হিসাব না থাকায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং এর সুযোগ নিয়ে থাকে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট।          

অন্যদিকে বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য থাকলেও অনেক সময় কৃত্রিম সংকটের ধারণা তৈরি হয়। এতে পাইকারি ও খুচরা বাজারে দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা দেয়। ভোক্তারা বেশি দাম দিলেও সেই অর্থ লবণচাষি পর্যায়ে পৌঁছায় না।

ছানুয়া ইউনিয়নের লবণচাষি বোরহান উদ্দিন মিজান খবরের কাগজকে বলেন, আমাদের আসলে এই কাজে লাভ কিছুই নেই। যা লাভ আসে তা সব যায় ব্যবসায়ীদের পকেটে। বছর দুয়েক আগেও আমাদের মণপ্রতি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা বিক্রি হতো। কিন্তু এখন উৎপাদন খরচ যেখানে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা হয়, সেখানে ২০০ থেকে ২৫০ টাকার বেশি মিল মালিকদের থেকে দাম পাওয়া যায় না। বাজারে যেসব ব্র্যান্ডের লবণ পাওয়া যায়, সেগুলো দেখা যায় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়।  

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ও  সাবেক সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, কৃষিপণ্যের মতো লবণের ক্ষেত্রেও বাজারব্যবস্থাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ করতে হবে। উৎপাদকদের সংগঠিত করে সমবায়ভিত্তিক বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং ভোক্তারাও তুলনামূলক কম দামে পণ্য কিনতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, লবণের মতো পণ্যেও চাষিরা ঠকছেন। অন্যদিকে লাভবান হচ্ছে মিলমালিক ও মধ্যস্বত্বভোগীরা। ক্রেতাদেরও বেশি দামে লবণ কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।

সারাদেশে বছরে লবণের চাহিদা

শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বিসিকের (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বার্ষিক লবণের মোট চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ ৩০ হাজার টন। এর মধ্যে খাবার (ভোজ্য) লবণ ও অন্যান্য খাতে লাগে প্রায় ১৬ লাখ টন এবং বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় (টেক্সটাইল, ডাইং, চামড়া ইত্যাদি) ব্যবহৃত হয় বাকি প্রায় ৯ লাখ টন।     

এদিকে, খাবার লবণের চাহিদা রয়েছে মোট চাহিদার বাকি ৫০ শতাংশ, যা প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন। এগুলো মিলগুলোতে প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য রাখা হয়। তবে অপরিশোধিত লবণ ধুয়ে পরিষ্কার ও আয়োডিনযুক্ত করে যখন ভোজ্য লবণ বা প্যাকেটজাত খাবার লবণ তৈরি করা হয়, তখন বিভিন্ন প্রক্রিয়ার কারণে এর ওজন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম হয়। ফলে দেশের মানুষের বার্ষিক প্রকৃত খাবার লবণের ব্যবহার দাঁড়ায় প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ মেট্রিক টন।

খাবার লবণ ছাড়াও ভারী শিল্প ও চামড়া সংরক্ষণ, বিশেষ করে কোরবানির ঈদের সময় পশুর চামড়া কাঁচা রাখতে বছরে প্রায় ১ লাখ টন লবণের প্রয়োজন হয়, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ যেমন শুঁটকি উৎপাদন ও গবাদি পশুর খাদ্য তৈরিতে বাকি লবণ ব্যবহৃত হয়।  

বাংলাদেশের উন্নয়নে পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাইকা প্রেসিডেন্ট

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
বাংলাদেশের উন্নয়নে পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাইকা প্রেসিডেন্ট
জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে জাইকার দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো।

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো সম্প্রতি পাঁচ দিনের বাংলাদেশ সফর শেষ করে জাপান ফিরেছেন।

সফর শেষে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্ব অত্যন্ত শক্তিশালী। আগামী বছরগুলোতেও এ সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় পাশে থাকতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’

সফরকালে ড. তানাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, চলমান উন্নয়ন সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় জাপানের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ঢাকা মেট্রোরেল, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

এ ছাড়া পাওয়ার এশিয়া উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশকে দেওয়া ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন জরুরি সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়।

ড. তানাকা পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং সড়ক পরিবহন, সেতু, নৌপরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

এসব বৈঠকে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সফরের শুরুতে, তিনি ২০১৬ সালের হোলি আর্টিজান বেকারি হামলায় নিহত সাত জাপানি নাগরিকের স্মরণে আয়োজিত দশম বার্ষিক স্মরণসভায় অংশ নেন এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও জাপানের জনগণের মধ্যে শান্তি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সফরকালে ড. তানাকা জাইকার সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগের আওতায় নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন করেন। এসব প্রকল্প বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগ জাপানের ‘আপডেটেড ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক (এফওআইপি)’ ভিশনের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

৪ জুলাই তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে জাইকার সহায়তায় পরিচালিত মানবিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ই-ভাউচার কেন্দ্র, ইউএনএইচসিআরের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আইওএম পরিচালিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং জীবিকাভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন।

এ ছাড়াও শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) সঙ্গে বৈঠক করে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ও চলমান সহায়তা কার্যক্রম নিয়েও মতবিনিময় করেন তিনি।

একই দিনে, তিনি জাইকার অনুদান সহায়তায় নির্মাণাধীন কক্সবাজার ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার এবং উপকূলীয় এলাকায় বাস্তবায়নাধীন মৎস্যজীবীদের জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সফরের শেষ দিনে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এবং জাপানি প্রযুক্তিনির্ভর ‘জে-ড্রাম’ উদ্যোগ পরিদর্শন করেন। এ সময় বাংলাদেশের নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির উন্নয়নে জাইকার সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

পাঁচ দিনের এ সফরে ড. তানাকা আকিহিকো বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের অবকাঠামো, মানবসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশ, জ্বালানি নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে জাইকার সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

নাঈম/

জুলাইয়ের প্রথম পাঁচদিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
জুলাইয়ের প্রথম পাঁচদিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ
মার্কিন ডলার। ছবি: সংগৃহীত

চলতি ২০২৬ সালের জুলাই মাসের প্রথম পাঁচ দিনে বাংলাদেশে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ (৫৬৭ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। যা ২০২৫ সালের জুলাই মাসের একই সময়ের ৪১ কোটি ১০ লাখ (৪১১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের তুলনায় ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৬ সালের ৫ জুলাইই প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ২১ কোটি ৯০ লাখ (২১৯ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্স প্রবাহের এ শক্তিশালী ধারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবণতাকেই প্রতিফলিত করছে।

নাঈম/

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ডলারের মান কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে আবারও নিম্নগতি দেখা গেছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বাংলাদেশ সময় বেলা ১টা ৫০ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬৫ দশমিক ২১ ডলারে নেমে এসেছে।

আর আগস্টে সরবরাহযোগ্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৭ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। 

স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ার ব্যাখ্যা করে কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে স্বর্ণের দাম এখনও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতির বিষয়ে অবস্থান বুঝতে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন।’

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান (প্যারোল) সংক্রান্ত তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল আসায় মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হারের উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়। ফলে গত সপ্তাহে স্বর্ণের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।

জেপি মরগ্যান জানিয়েছে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩০০ ডলার এবং চতুর্থ প্রান্তিকে ৪ হাজার ৫০০ ডলারে সীমিত থাকতে পারে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬২ দশমিক ২৮ ডলারে নেমেছে। এ ছাড়া প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৪৯ দশমিক ৬১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৮৮ দশমিক ১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

এএফ/

চিটাগাং চেম্বার সভাপতির সাথে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধিদলের মতবিনিময়

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
চিটাগাং চেম্বার সভাপতির সাথে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধিদলের মতবিনিময়
ছবিঃ খবরের কাগজ

চট্টগ্রামে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের সঙ্গে বিশ্ব ব্যাংকের সিনিয়র ট্রেড স্পেশালিস্ট সত্যপ্রসাদ সাহুর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শনিবার (৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (ডিজিটাল পোর্টস ও মেরিটাইম ইনফ্রাস্ট্রাকচার) পাসকাল অলিভিয়ের, কনসালট্যান্ট (পোর্টস ও মেরিটাইম লজিস্টিক্স) আহমেদুল করিম চৌধুরী ও ক্যাপ্টেন মো. নাসির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে বন্দর ও সামুদ্রিক লজিস্টিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যবসার ব্যয় হ্রাস, পণ্য খালাসে সময় কমানো এবং সাপ্লাই চেইনের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘পোর্ট ও মেরিটাইম ট্রেড লজিস্টিক ডিজিটালাইজেশন’ করা গেলে বাংলাদেশের ইজ অব ডুয়িং বিজনেস বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, ইজ অব ডুয়িং বিজনেস উন্নত হলে এবং কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমলে এই অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ত্বরান্বিত হবে। ডিজিটাল প্রযুক্তি সম্পন্ন বন্দর ও কাস্টমস এবং লজিস্টিক্স ব্যবস্থাপনা কেবল প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াবে না বরং আন্তর্জাতিক মানের ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন নিশ্চিত করবে। 

চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে বন্দরের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ি কাস্টমস সিস্টেমও আধুনিকায়ন প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম, পেপারলেস ট্রেড, ই-পেমেন্ট এবং সমন্বিত ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা গেলে কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ, শিপিংলাইন, ব্যাংক, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স ও ব্যবসায়ীদের মাঝে দ্রুত ও নিরবিচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করা যাবে।

সিনিয়র ট্রেড স্পেশালিস্ট সত্য প্রসাদ সাহু বলেন, পোর্ট অ্যান্ড মেরিটাইম ট্রেড লজিস্টিক্স ডিজিটালাইজেশন মূলত পোর্ট ও মেরিটাইম সাপ্লাইচেইনের আধুনিকায়ন। ডিজিটাল ট্রেড লজিস্টিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম কমবে, কন্টেইনার জট কমবে, ব্যবসার লেনদেন ব্যয় কমবে এবং আন্তর্জাতিক লজিস্টিক্স পারফরম্যান্স ইনডেক্স এ বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত হবে। 

সিনিয়র কনসালট্যান্ট পাসকাল অলিভিয়ের বলেন, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বন্দরগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লকচেইন, আইওটি, বিগ ডেটা অ্যানালাইসিস, স্মার্ট কার্গো ট্র্যাকিং এবং স্বয়ংক্রিয় অপারেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়। 

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেমের মাধ্যমে বন্দর ও মেরিটাইম লজিস্টিক্স পরিচালিত হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এই ধরণের পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম নেই। ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম গড়ে তোলা গেলে ব্যবসা-সংক্রান্ত সব স্তরের স্টেকহোল্ডাদের একই ছাতার নিচে আনা সম্ভব হবে।

ইফতেখারুল ইসলাম/অদিতি/