বিশ্বকাপের নকআউটে দ্বিতীয় সুযোগ বলে কিছু নেই। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের দুঃসহ লড়াই থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার শেষ ষোলোর মঞ্চে নামছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সামনে আফ্রিকার শক্তিশালী প্রতিনিধি মিসর। যাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে ইতিহাস গড়া নকআউট জয়। একদিকে শিরোপা ধরে রাখার মিশন, অন্যদিকে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন। সব মিলিয়ে আটলান্টায় অপেক্ষা করছে আরেকটি তুঙ্গস্পর্শী লড়াই।
এই প্রথমবার বিশ্বকাপে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও মিসর। দুই দলের একমাত্র সাক্ষাৎ ২০০৮ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে। কায়রোতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ২-০ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। গোল করেছিলেন সার্জিও আগুয়েরো ও নিকোলাস বুর্দিসো। চোটের কারণে সে ম্যাচে খেলেননি লিওনেল মেসি।
গ্রুপ পর্বে শতভাগ সাফল্য নিয়ে শেষ বত্রিশে ওঠা আর্জেন্টিনা নকআউটে কেপ ভার্দের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় পড়ে। ১২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে ৩-২ গোলের জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচ শেষে স্কালোনি স্বীকার করেন, দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ক্র্যাম্পে ভুগছিলেন এবং নিজেদের ভুলগুলো দ্রুত শুধরে নিতে হবে।
আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা অবশ্যই লিওনেল মেসি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল করে এবারের বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা সাতে নিয়ে গেছেন তিনি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুটি আলাদা আসরে অন্তত সাতটি করে গোলের কীর্তি গড়েছেন। মিসরের বিপক্ষে গোল করতে পারলে ১৯৩০ সালের গিয়ের্মো স্তাবিলের পর এক আসরে আট গোল করা দ্বিতীয় আর্জেন্টাইন হবেন তিনি। পাশাপাশি টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করার বিরল রেকর্ডেও নাম লেখাবেন।
অন্যদিকে মিসরও এসেছে প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে। শেষ বত্রিশে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ১-১ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচ জয়ের ইতিহাস গড়ে তারা। এখন তাদের লক্ষ্য ক্যামেরুন, সেনেগাল, ঘানা ও মরক্কোর পর পঞ্চম আফ্রিকান দল হিসেবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা।
মিসরের আক্রমণের প্রাণভোমরা মোহাম্মদ সালাহ। হ্যামস্ট্রিংয়ের অস্বস্তি নিয়েই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পুরো ১২০ মিনিট খেলেছেন তিনি এবং টাইব্রেকারে গোলও করেছেন। এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ১৬টি সুযোগ তৈরি করেছেন সালাহ। আরও দুটি সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে ২০১০ বিশ্বকাপে ঘানার কেভিন-প্রিন্স বোয়াটেংয়ের আফ্রিকান রেকর্ড স্পর্শ করবেন।
পরিসংখ্যান আর্জেন্টিনার পক্ষেই। বিশ্বকাপে আফ্রিকার দলগুলোর বিপক্ষে টানা আট ম্যাচ জিতেছে তারা। এবারই আলজেরিয়া ও কেপ ভার্দেকে হারিয়েছে। মিসরকে হারাতে পারলে এক বিশ্বকাপে তিনটি আফ্রিকান দলকে হারানোর প্রথম দল হবে আলবিসেলেস্তেরা। আর্জেন্টিনা টানা ১০ বিশ্বকাপ ম্যাচে অন্তত দুটি করে গোল করেছে। এবারও সেই ধারাবাহিকতায় হাঁটতে চায় স্কালোনি শিবির।
তবে কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। সাবেক তারকা সার্জিও আগুয়েরো সতর্ক করেছেন, শারীরিকভাবে শক্তিশালী মিসর কেপ ভার্দের চেয়েও কঠিন প্রতিপক্ষ হতে পারে। সালাহ, ওমর মারমুশ ও এমাম আশুরের গতিময় পাল্টা আক্রমণ তাই আর্জেন্টিনার রক্ষণকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে।
একদিকে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ রক্ষার লড়াই, অন্যদিকে মিসরের ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন। তাই আটলান্টায় লিওনেল মেসি ও মোহাম্মদ সালাহর এই মহারণে রোমাঞ্চের আর কোনো কমতি থাকবে না।