ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বকাপে কোনো দলই একক আধিপত্য বিস্তার করতে পারছে না: স্কালোনি ৬ দিন বিরতির পর বসছে সংসদ অধিবেশন হাতিয়ায় মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ মিলনের মরদেহ উদ্ধার মাদারীপুরে ডিবি পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই পদত্যাগ করলেন রবার্তো মার্তিনেস পটিয়া পৌরসভার তিন  টেন্ডার নিয়ে বিতর্ক, বিক্ষুব্ধ স্থানীয় ঠিকাদাররা সোনারগাঁ ইউনিভার্সিটিতে শুরু হয়েছে ফল আপরাইজ অ্যাডমিশন ফেয়ার জাকার্তা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর, ঢাকা ‘সহনীয়’ অবস্থানে পেকুয়ায় পাহাড় ধসে ১ শিশু নিহত সাজেকে কীটনাশকে প্রস্তুত চা পান করে অসুস্থ ১২ গ্রামবাসী সিলেটে ব্যবস্থাপনা ও ইজারা নিয়ে সিসিক-বাজার কমিটি দ্বন্দ্ব যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ের পর লুকাকুর ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ডান্স’ ভাইরাল বালোগুনের লাল কার্ড বিতর্কে রেফারির পাশে ফিফা সোনারগাঁয় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগ লিডিং ইউনিভার্সিটি বিএনসিসি প্লাটুনের কালেক্টিভ ক্যাম্পে গৌরবময় অর্জন আবারও ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে ট্রাম্পের খোঁচা ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় কীভাবে উদযাপন করলেন হালান্ড? ফাঁশ করলেন বান্ধবী ৫ বিভাগে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস ট্রাম্প ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় ৬০ শতাংশ ইসরায়েলি প্রস্তুতিমূলক কাজেই ৪ বছর পার রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প চবিতে ক্যানটিন সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আমার আগে পর্তুগাল কিছুই জেতেনি: রোনালদো রাজবাড়ীতে তরুণ-তরুণীকে বেঁধে পিটিয়ে বিয়ে মেসি না সালাহ? বরিশালে দুই মামলা: মৃত, কারাবন্দিরা আসামি, মামলা নিয়ে প্রশ্ন বর্ণবাদী আক্রমণের জবাবে প্যারাগুয়ের সিনেটরকে ধুয়ে দিলেন এমবাপ্পে ফুটপাতে দোকান বসিয়ে ভাড়া আট প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স স্থগিত শিক্ষাব্যবস্থার কঙ্কাল বেরিয়ে এসেছে

পে-স্কেল বাস্তবায়নে দফায় দফায় বৈঠক

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৪ এএম
পে-স্কেল বাস্তবায়নে দফায় দফায় বৈঠক
প্রতীকী ছবি

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে খানিকটা বেকায়দায় পড়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার। আর্থিক সংকটে থাকলেও ঘোষণা অনুযায়ী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করতে হচ্ছে। তবে ঠিক কোন মাস থেকে সরকারি কর্মচারীদের হাতে নতুন কাঠামোর বেতন তুলে দিতে পারবে, তা নিয়ে সরকারি নীতিনির্ধারকরা গত কয়েক দিন দফায় দফায় বৈঠক করেছেন।

সূত্র জানায়, গতকালও (৬ জুলাই) সচিব কমিটির বৈঠকে পে-স্কেল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আরও কয়েক ধাপ পার করে নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন সরকারি কর্মচারীদের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানা গেছে। সচিব কমিটির সুপারিশে কিছু কাটছাঁটের কথা বলা হয়েছে। সুপারিশে গ্রেডগুলোতে মূল বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা এবং ভাতাদিতে পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে। দেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। 

গতকালের সচিব কমিটির বৈঠকে অংশ নেওয়া এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খবরের কাগজকে বলেন, তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হলে কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা হতে পারে। সেসব অসুবিধা মিনিমাইজ করে তিন ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে আজ (গতকাল) সচিব কমিটি। প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধি করা হবে। পরে অন্যান্য সুবিধা কার্যকর করা হবে। তবে ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন দেখিয়ে সে হিসেবে বেতন-ভাতাদিসহ সময়মতো পাওনা পরিশোধ করা হবে। 

অর্থ বিভাগের সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার খবরের কাগজকে বলেন, ‘সচিব কমিটি আমাদের এখনো সুপারিশমালা জমা দেয়নি। তাদের হয়তো আরও কিছু সময়ের প্রয়োজন। তাই নতুন এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য আরও হয়তো কিছু সময় লাগবে। তবে দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘তবে এক বা দুই ধাপে হয়তো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। সচিব কমিটি সে বিষয়টিও দেখছে। এখানে তিন ধাপ পর্যন্তও প্রয়োজন হতে পারে। তবে আমরা চাই বেতন বাড়ানোর সুবিধা দ্রুত একসঙ্গে সবার কাছে পৌঁছে দিতে। আর এ জন্য কাজ চলছে।’ 

অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলেছেন, দেশের অর্থনীতির এখন ভঙ্গুর দশা। রপ্তানি আয়ের ধারা নিম্নমুখী। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি তলানিতে। বিনিয়োগ বাড়ছে না। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা কমছে না। রাজস্ব ঘাটতি বেড়ে রেকর্ড করেছে। ব্যাংকের ঋণে নির্ভরতা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে একবারে সব সুবিধা দিয়ে নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য অনেক বড় চাপ হয়ে যাবে। 

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতিতে সরকারকে বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বেশ চাপে পড়তে হবে। বিশেষ করে যখন রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান অর্থনীতির বিশ্লেষক ড. মো. আবদুল মজিদ খবরের কাগজকে বলেন, সরকারের রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড ঘাটতি আছে। পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন সরকারের জন্য সহনীয় হবে। তবে ধাপে ধাপে এ কাজ বাস্তবায়ন করতে গেলে টাকা খরচ হবে বেশি। চাকরিজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে পারে। 

এর আগে এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অনেক দিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হয় না। এদিকে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো কার্যকর করতে সরকার কাজ করছে। ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা হবে। 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) এবং আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে মাসিক বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পরিচালিত হয়। ফলে বেসিক বেতনকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করে কার্যকর করতে গেলে পুরো সফটওয়্যার কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে। সেটাও বেশ জটিল কাজ। গতকালের সভায় এসব বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো কোনো কিছু চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।

অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, প্রথম থেকে নবম গ্রেড পর্যন্ত বেতন বাড়তে পারে ৬০-৭০ শতাংশ আর দশম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৯০-১০০ শতাংশ। 

গতকালের বৈঠকে পে-স্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া বাস্তবায়নের সময়সূচি, পর্যায়ক্রমিক বেতন সমন্বয় এবং বিভিন্ন ক্যাডার ও শ্রেণির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়গুলো নিয়েও কথা হয়। ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামোর মূল বেতন কার্যকর এবং ভাতা ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। 

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক খবরের কাগজকে বলেন, ‘২০১৫ সালের পে-স্কেল বাস্তবায়নের সময় অধিকাংশ কাজ ম্যানুয়ালি করা হতো। বর্তমানে পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারনির্ভর। যদি ধাপে ধাপে দেওয়া হয় অর্থাৎ ৫০ বা ৬০ শতাংশ বেসিক দেওয়া হয় এবং পরে অবশিষ্ট অংশ কার্যকর করা হয়, তাহলে দুই দফায় পুরো সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে। একযোগে এ পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জটিল। তাই সম্পূর্ণ বেতন কাঠামো একবারে বাস্তবায়নের দাবি ও পরামর্শ দিয়েছি।’

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১ জুলাই কমিশনের সুপারিশ করা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বাকি ৫০ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন ভাতা কার্যকর করার পরিকল্পনা ছিল।

তবে বাস্তবায়নের হিসাব করতে গিয়ে দেখা যায়, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কমিশনের সুপারিশের মাত্র অর্ধেক কার্যকর করলে প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি খুবই সামান্য হবে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মোট বেতন কমে যাওয়ারও আশঙ্কা তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিন ধাপের পরিবর্তে এবার দুই ধাপে বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন মূল বেতন এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরের শুরু থেকে নতুন ভাতা কার্যকর করা হবে। 

সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২১ সদস্যের বেতন কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। 

কমিশন ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রেখে প্রতিটি গ্রেডেই উল্লেখযোগ্য হারে বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।

এ ছাড়া বৈশাখী ভাতা বর্তমান ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত যাতায়াত ভাতা চালু এবং নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা দেওয়ার প্রস্তাবও ছিল কমিশনের প্রতিবেদনে।

কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় গ্রেডে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা, তৃতীয় গ্রেডে ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা এবং চতুর্থ গ্রেডে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত করার সুপারিশ ছিল।

তবে বর্তমান সচিব কমিটি কমিশনের বেশ কয়েকটি সুপারিশে পরিবর্তনের পক্ষে মত দেয়। বিশেষ করে বিভিন্ন ভাতা ও অতিরিক্ত সুবিধার ক্ষেত্রে ব্যয় কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। কুক, মালী ও গাড়িসংক্রান্ত ভাতাসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কিছু সুবিধা আগের মতো রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তুতিমূলক কাজেই ৪ বছর পার রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:১০ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
প্রস্তুতিমূলক কাজেই ৪ বছর পার রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প
ছবি: সংগৃহীত

উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (আরএমইউ) প্রকল্প। পরিকল্পনা ছিল ২০২৬ সালের মধ্যেই চালু হবে ১ হাজার ২০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল। গড়ে উঠবে একাডেমিক ভবন, গবেষণা কেন্দ্র ও শিক্ষার্থীদের আবাসন।

কিন্তু চার বছর পেরিয়ে গেলেও হাসপাতাল, একাডেমিক ভবন কিংবা আবাসিক হলের মতো মূল অবকাঠামোর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। সম্পন্ন হওয়া কাজেও ধরা পড়েছে একাধিক প্রকৌশলগত ত্রুটি। ফলে প্রকল্পের অগ্রগতি ও নির্মাণকাজের মান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন চিত্র। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় চার বছরের বাস্তবায়নকাল ও শত শত কোটি টাকা ব্যয়ের পরও প্রকল্পটি এখনো প্রস্তুতিমূলক পর্যায়েই আটকে রয়েছে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ভৌত অগ্রগতি ৩৮ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৩৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। কিন্তু আইএমইডি বলছে, এই অগ্রগতির বড় অংশই জমি অধিগ্রহণ, ভূমি ভরাট, সীমানাপ্রাচীর ও প্রবেশদ্বার নির্মাণের মতো প্রাথমিক কাজ। অথচ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ১ হাজার ২০০ শয্যার হাসপাতাল, একাডেমিক ভবন, গবেষণা অবকাঠামো, আবাসিক হল, ইউটিলিটি ব্যবস্থা এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহের মতো কাজ এখনো নির্মাণপর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।

জানা গেছে, ২০২২ সালের জুনে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৬৭ কোটি ৯ লাখ টাকা। কাজ শেষ হওয়ার সময়সীমা ছিল ২০২৬ সালের জুন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৫৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ অতিরিক্ত প্রায় ৩৯১ কোটি টাকা যোগ হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইটের গাঁথুনিতে অতিরিক্ত পুরু মর্টার ব্যবহার, মর্টারের মিশ্রণে অসামঞ্জস্য, যথাযথ কিউরিং না করা, ইট বসানোর ত্রুটি, দেয়ালের সরলরেখা বজায় না রাখা এবং কোথাও কোথাও নিম্নমানের বালু ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া রড-সিমেন্টের কংক্রিটের কয়েকটি অংশ নির্ধারিত চাপ-সহনশীলতা অর্জন করতে পারেনি।
 
প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতির আরেকটি বড় কারণ অর্থ ব্যয়ের নিম্নহার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪০৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও ব্যয় হয়েছে মাত্র ৩৬ কোটি ৭ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৮ শতাংশ। এর পরের অর্থবছরেও ব্যয় হয়েছে বরাদ্দের মাত্র ২২ শতাংশ। অর্থাৎ অর্থ বরাদ্দ থাকলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

আইএমইডির প্রতিবেদনে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে উঠে এসেছে কেনাকাটায় ধীরগতি। সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী মোট ৬১টি ক্রয় প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে ৪১টি পণ্য, ১৩টি নির্মাণ, পাঁচটি সেবা এবং দুটি ভৌত সেবা প্যাকেজ। এ পর্যন্ত মাত্র একটি পণ্য প্যাকেজের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ৪০টি পণ্য প্যাকেজের ক্রয় প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি। কোনো সেবা প্যাকেজেও অগ্রগতি নেই। আটটি নির্মাণ প্যাকেজের দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হলেও হাসপাতাল, একাডেমিক ভবন ও অন্যান্য প্রধান অবকাঠামোর নির্মাণকাজ এখনো শুরু হয়নি।

আইএমইডি প্রকল্পের ধীরগতির পেছনে জমি অধিগ্রহণ জটিলতা, সীমানা বিরোধ, বন বিভাগের অনুমোদনে বিলম্ব, বর্ষাকালের জলাবদ্ধতা, নকশা পরিবর্তন, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং বালু সংকটের কথা উল্লেখ করেছে। তবে সংস্থাটি মনে করছে, এসব সমস্যার বড় অংশই যথাযথ পরিকল্পনা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং কার্যকর তদারকির অভাবের ফল। প্রতিবেদনে দ্রুত দরপত্র সম্পন্ন, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা, কঠোর প্রকৌশল তদারকি এবং নিয়মিত স্বাধীন মান পরীক্ষা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক বলেন, ‘আইএমইডির প্রতিবেদনের বিষয়গুলো আমাদের নজরে এসেছে। প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বরিশালে দুই মামলা: মৃত, কারাবন্দিরা আসামি, মামলা নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
বরিশালে দুই মামলা: মৃত, কারাবন্দিরা আসামি, মামলা নিয়ে প্রশ্ন
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

বরিশালের বানারীপাড়া ও মহানগরে দায়ের হওয়া দুটি পৃথক মামলা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বানারীপাড়ায় একটি মামলায় দীর্ঘদিন এলাকায় না থাকা ও আত্মগোপনে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গভীর রাতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। 

অন্যদিকে বরিশাল মহানগরের একটি নালিশি মামলায় চারজন মৃত ব্যক্তি, কারাগারে থাকা সাবেক এক সংসদ সদস্য, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং বিএনপির ছয় নেতা ও জামায়াতপন্থি এক পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধেও মিছিল, বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে এ ধরনের মামলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বানারীপাড়া থানায় গত ১৯ জুন রাত ৪টা ৩৫ মিনিটে ইউনিয়ন শ্রমিক দলের নেতা মো. রাসেল বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের ৪৪০ নেতা-কর্মীর পাশাপাশি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সালেক মল্লিক শিমুলকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে গরদ্বার গ্রামে বাদীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো এবং বসতঘরে আগুন দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দাবি, মামলায় নামধারী ৪০ আসামির অধিকাংশই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে দীর্ঘদিন এলাকায় নেই। তাদের ও আসামিদের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মওলাদ হোসেন সানা ২০২৪ সালের জুনের পর থেকে এলাকায় যাননি। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে এবং তিনি আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন। সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনিকেও কয়েক বছর ধরে এলাকায় দেখা যায়নি। একইভাবে পৌর যুবলীগের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ, আওয়ামী লীগ কর্মী জসিম মীর, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল হুদা ও ছাত্রলীগের সভাপতি ফোরকান আলী হাওলাদার, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন রায়ও দীর্ঘদিন আত্মগোপনে রয়েছেন। এসব ব্যক্তি কীভাবে ওই রাতের ঘটনায় অংশ নিলেন?

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. একরামুল হক বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি বিস্ফোরণের আলামত পেয়েছেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে এর বেশি মন্তব্য করা যাবে না বলে তিনি জানান।

বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবর রহমান বলেন, মামলায় আবদুল্লাহ ফকির নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মামলার অন্যতম আসামি ও সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনি বলেন, পুরো ঘটনাটি সাজানো। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হয়রানির উদ্দেশ্যেই এ মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, মামলার ঘটনার সময় এবং মামলার দায়েরের সময়ের পার্থক্য তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা। আর গভীর রাতে মামলাটি করা হয়েছে, এটিও কি সম্ভব?

একই মামলার আসামি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সালেক মল্লিক শিমুল বলেন, তিনি মামলার বিষয়ে কিছুই জানতেন না। বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন, তাকে আসামি করা হয়েছে। বাদী রাসেলকেও তিনি চেনেন না।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহ আলম মিঞা বলেন, ‘বিষয়টি পরে জেনেছি। তদন্তাধীন মামলা নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে চাই না। তবে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাই।’

বাদী মো. রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

নালিশি মামলায় মৃত চারজনও আসামি

গত ৫ জুলাই বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল জেলার সাবেক সমন্বয়ক মারজুক আবদুল্লাহ একটি নালিশি মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি সরাসরি আমলে না নিয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন।

মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের ২৪৮ জন নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১০, ১৬ ও ২২ জুন তারা বরিশাল নগরে মিছিল, সড়ক অবরোধ, বোমা বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে নাশকতা চালান। তবে মামলার আসামির তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২১২ নম্বর আসামি খন্দকার রেজাউর রহমান ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি, ১৯৮ নম্বর আসামি আবুল ফারুক হুমায়ুন ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ, ২২৫ নম্বর আসামি এইচ এম হাফিজুর রশিদ ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর এবং ১৯৫ নম্বর আসামি মোহাম্মদ আলী হাওলাদার একই বছরের ২৬ জুলাই মারা যান। অথচ তাদের বিরুদ্ধে মিছিলে অংশ নেওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

১৯৮ নম্বর আসামি মৃত আবুল ফারুক হুমায়ুনের ছেলে শহরিয়ার রিজন আত্মগোপনে থেকে খবরের কাগজকে বলেন, ‘তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম আমি গোপনে এসে ককটেল মেরে আবার চলে গেলাম। কিন্তু বাবা মারা গেছেন তিন বছর আগে। তিনি কি কবর থেকে উঠে এসে বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন?

এ ছাড়া মামলার ২ নম্বর আসামি সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ এবং ১৫১ নম্বর আসামি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এ ছাড়া ১ নম্বর আসামি সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। ১২ নম্বর আসামি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম জাহাঙ্গীর হোসেন আত্মগোপনে রয়েছেন। ৩ নম্বর আসামি সজ্জাত সেরনিয়াবাত ভারতে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া মামলার এজাহারভুক্ত অধিকাংশ আসামিই দীর্ঘ দুই বছর ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন। দুই বছর তাদের এলাকায় দেখা যায়নি।

একই মামলায় ১৭১ নম্বর আসামি করা হয়েছে বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য ও সাবেক সংরক্ষিত কাউন্সিলর মজিদা বোরহানকে। ১৪৯ নম্বরে রয়েছেন নগরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা মো. ইউনুস। ১৫৮ নম্বরে রয়েছেন ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ওই ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক মাসুম। ১৬৩ নম্বরে রয়েছেন ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হুমায়ন কবির, ১৬৫ নম্বরে সাবেক সংরক্ষিত কাউন্সিলর রাশিদা পারভীন এবং ১৭৪ নম্বরে সাবেক সংরক্ষিত কাউন্সিলর সেলিনা আক্তার।

এ ছাড়া ৫১ নম্বর আসামি করা হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর চিকিৎসকদের সংগঠন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) নেতা এইচ এম রফিকুল বাড়ির স্ত্রী কাজী আফরোজাকে।

বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে আমার মা, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির বর্তমান উপদেষ্টা ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক নারী কাউন্সিলর মজিদা বোরহানকে। তাকে কী হিসেবে আসামি করা হয়েছে, সেটি জানার জন্য বাদীর সঙ্গে অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি।’
কাজী আফরোজা বলেন, ‘মামলার কাগজ সাজিয়ে আমার কাছে লোক পাঠানো হয়েছিল। মোটা অঙ্কের টাকা দিলে মামলায় নাম থাকবে না, এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়। যেহেতু আমি আওয়ামী লীগ করি না এবং আওয়ামী লীগের কোনো কর্মকাণ্ডেও ছিলাম না, তাই টাকা দিইনি। এখন দেখি, আমার নামও আসামির তালিকায় দেওয়া হয়েছে।’

বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মীর জাহিদুল কবির বলেন, ‘শুনেছি, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলায় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা ইউনুস মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক মাসুমসহ আরও কয়েকজন বিএনপি নেতাকেও এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি আমাকে বিস্মিত করেছে।’
বরিশাল মহানগর পুলিশের কমিশনার আশিক সাঈদ বলেন, ‘বোমা-ককটেল ফাটিয়ে মিছিল হলে আমরা অবশ্যই জানতাম। অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেনি। আদালত যেহেতু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করব।’

অভিযোগের বিষয়ে মারজুক আবদুল্লাহ বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নগরে মিছিল করেছেন এবং বোমা ও ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। এসব ঘটনার ভিত্তিতেই তিনি মামলা করেছেন। আসামির তালিকায় মৃত ব্যক্তিদের নাম থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, সাক্ষীদের তথ্য অনুযায়ী তালিকা করা হয়েছে। কোনো ভুল থাকলে পরে সংশোধন করা হবে।

এদিকে দুটি মামলাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক দাবি করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এর নিন্দা জানিয়েছেন এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ফৌজদারি মামলায় এজাহার বা অভিযোগপত্রে মৃত ব্যক্তি, ঘটনার সময় কারাগারে থাকা ব্যক্তি কিংবা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বাস্তবসম্মত সুযোগ ছিল না–এমন ব্যক্তিদের আসামি করা হলে তা তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা ও মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাজু হাওলাদার পলাশ বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী আদালত কোনো নালিশি মামলা সরাসরি গ্রহণ না করে তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা, আসামিদের অবস্থান, ঘটনাস্থলে উপস্থিতি, আলামত, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার অমিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো মামলায় ইচ্ছাকৃতভাবে নিরপরাধ ব্যক্তি বা মৃত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে—এমনটি প্রমাণিত হলে তা আদালতের দৃষ্টিতে গুরুতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একইভাবে তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব হলো কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে স্বাধীনভাবে সব তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে আদালতে নিরপেক্ষ প্রতিবেদন দাখিল করা।

শিক্ষাব্যবস্থার কঙ্কাল বেরিয়ে এসেছে

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
শিক্ষাব্যবস্থার কঙ্কাল বেরিয়ে এসেছে
ছবি: সংগৃহীত

চলতি উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি ও সমমান) পরীক্ষার তৃতীয় দিনে গতকাল সোমবার সব শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ৩২ হাজার ১২৯ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এর আগে গত শনিবার দ্বিতীয় দিনের পরীক্ষায় ২৭ হাজার ৩২৭ ও গত বৃহস্পতিবার প্রথম দিনের পরীক্ষায় ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।

এমন ব্যাপক অনুপস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষাব্যবস্থার কঙ্কাল বেরিয়ে এসেছে। এখন প্রয়োজন এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার কৌশল দ্রুত নির্ধারণ করা।

জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান গতকাল সোমবার দৈনিক খবরের কাগজকে বলেন, সরকারের বর্তমান নকলবিরোধী অবস্থানের কারণে যাদের প্রস্তুতি ভালো নয়, তারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সরকারের এই উদ্যোগকে কেউ কেউ সমালোচনা করছে বা ট্রল করছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে ভালো হয়েছে। নকলবিরোধী অবস্থানের কারণে উপস্থিতি কমেছে, কিন্তু কঙ্কালটা বেরিয়ে এসেছে, শিক্ষাব্যবস্থার চিত্রটা উঠে এসেছে। এই ক্ষত শুকাতে এখন সরকারকে কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।

পাবলিক পরীক্ষার আগে তো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে টেস্ট পরীক্ষা হয়। বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর অনুপস্থিতি যাচাই প্রক্রিয়াটির দুর্বলতারও জানান দিচ্ছে, বলেন উপাচার্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অনারারি অধ্যাপক ও সাবেক পরিচালক হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘এই হারে ঝরে পড়ার কারণ খুঁজে বের করা দরকার। সরকারকে সেটি বুঝতে হবে। আমরা কতটা যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দিতে পেরেছি, সেটিও দেখতে হবে। আমাদের শিক্ষক, অভিভাবক সবাইকে সচেতন হতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা ধারণা জন্মেছে যে, রাস্তায় নামলেই সবকিছু পেয়ে যাবে। ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাসে ফেরা উচিত ছিল। সেটি হয়নি।’

প্রসঙ্গত, গতকাল এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার তৃতীয় দিনে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে বহিষ্কারের সংখ্যাও প্রথম দুই দিনের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গতকাল অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় সারা দেশে মোট ৪৮ জন পরীক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছে। এর আগে দ্বিতীয় দিনে এই সংখ্যা ছিল ১৭ ও প্রথম দিনে ছিল ৭।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় দিনে গতকাল ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজি (আবশ্যিক) প্রথম পত্র পরীক্ষায় মোট ৯ লাখ ৯৯ হাজার ২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেয় ৯ লাখ ৭১ হাজার ৯৮৭ জন। বোর্ডগুলোতে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে গতকাল বহিষ্কার করা হয়েছে ৪৩ জন পরীক্ষার্থীকে।

তাদের মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সর্বোচ্চ ১০, কুমিল্লায় ৮, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ বোর্ডে ৭ জন করে, বরিশাল বোর্ডে ৪, রাজশাহী ও যশোর বোর্ডে ৩ জন করে এবং সিলেট বোর্ডে ১ জন।

এ ছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ২ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন-২, ক্যারিয়ার গাইডেন্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিংসহ বিভিন্ন বিষয়ের পরীক্ষায় বহিষ্কার হয়েছে ৩ জন।

উল্লেখ্য, ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ২০২৫ সালের পরীক্ষার প্রথম দিন ১৯ হাজার ৭৫৯ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। ২০২৪ সালে প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিল ১৫ হাজার ২০৩ পরীক্ষার্থী। এর আগের বছর ২০২৩ সালে আটটি শিক্ষা বোর্ডের অধীন অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ৫ হাজার ৫২২ জন। ওই বছর বন্যার কারণে চট্টগ্রাম, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পরে শুরু হয়েছিল।

এবার নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার হারও উদ্বেগজনক। এবার নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ফরমই পূরণ করেনি। অর্থাৎ তারা পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। দুই বছর আগে (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিল প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী, মানে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। প্রথম তিন দিনের অনুপস্থিতির সংখ্যাটি যোগ করলে পরীক্ষা না দেওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বেশি হবে। 

সাত বছরেও শেষ হয়নি মহাসড়ক সুরক্ষার কাজ

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
সাত বছরেও শেষ হয়নি মহাসড়ক সুরক্ষার কাজ
ফাইল ফটো

গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোকে অতিরিক্ত ওজনবাহী যানবাহনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে গৃহীত প্রকল্প গত সাত বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১৯ সালে ১ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। এ পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২৮ শতাংশ।

  • ১ হাজার ৬০৯ কোটি টাকার এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প সাত বছরেও শেষ হয়নি; এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে মাত্র ২৮ শতাংশ।
  • ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও ‘ওয়ে-ইন-মোশন’ যন্ত্র কেনায় বারবার দরপত্র ব্যর্থ হওয়ায় কাজ পিছিয়েছে।
  • ২৫টি স্টেশনের মধ্যে মাত্র ১০টির কাজ এগিয়েছে; বাকি ১৫টির কাজ ভূমি না পাওয়ায় শুরু হয়নি।

গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে পণ্য পরিবহনের উৎসমুখে ‘এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ দেশের ৭টি বিভাগের ১৬টি জেলায় ২৫টি এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী ২০২২ সালের ৩০ জুনের মধ্যে এই প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা ছিল। নকশা ও কারিগরি নানা পরিবর্তন এনে এই প্রকল্পের মেয়াদ তিনবার বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। চতুর্থ দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে প্রকল্প শেষ করার সময় নির্ধারণ করা হয় চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। এই দফায় ২১ কোটি টাকা ব্যয় সংকোচন করা হয়। তবে আজ পর্যন্ত প্রকল্প শেষ হওয়া তো দূরের কথা, এখনো আর্থিক অগ্রগতি ৭২ শতাংশ বাকি আছে। 

প্রকল্পের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অত্যাধুনিক ‘ওয়ে-ইন-মোশন’ স্কেল সংগ্রহ। দুবার দরপত্র আহ্বান করেও যন্ত্রগুলো সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি, এখন তৃতীয়বার দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে। এ ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণের ধীরগতি প্রকল্পের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। 

সম্প্রতি সরকারের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই প্রকল্পের হালহকিকত।

পরামর্শক নিয়োগ ও ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা; প্রভাব পড়েছে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রায়

সংশোধিত ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) অনুযায়ী ২০১৯-২০ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত সাতটি অর্থবছরে প্রকল্পের অনুকূলে মোট ১ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

প্রথম বছরে প্রকল্প অনুমোদনে বিলম্ব এবং পরে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে পরামর্শক নিয়োগ, ডিজাইন ও ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা দেখা দেয়, যার প্রভাব পড়ে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রার ওপর। পরে ডিপিপি সংশোধনের সময় ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। 

বিশেষ করে ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আগের বছরের ঘাটতি মেটাতে বরাদ্দ ও অর্থ ছাড়ের পরিমাণ বাড়ানো হয়। তবে ভূমি অধিগ্রহণে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় ব্যয়ের হার অর্থ ছাড়ের তুলনায় যথাক্রমে ১৫ শতাংশ ও ৬ শতাংশ কম ছিল।

২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্পের ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্থছাড় হয় ৯৪ কোটি টাকা এবং ব্যয় হয়েছে মাত্র ১৮ কোটি টাকা। 

২০২৬ সালের মে পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ ও অর্থ ছাড়ের পরিমাণ যথাক্রমে ৭৩০ কোটি এবং ৬৩০ কোটি টাকায় সীমাবদ্ধ রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৪৪৮ কোটি টাকা, যা সামগ্রিক লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২৮ শতাংশ।

প্রকল্পের অঙ্গভিত্তিক ব্যয় পর্যালোচনায় দেখা যায়, রাজস্ব খাতে বরাদ্দ করা ৫৮ কোটি টাকার মধ্যে পরামর্শক সেবা খাতেই বরাদ্দ রয়েছে ৫৪ কোটি টাকা।

প্রকল্পের মূলধন খাতে ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা সংস্থান থাকলেও ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৪১৯ কোটি টাকা।

প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বরাদ্দের সঙ্গে অর্থ ছাড়ের সামঞ্জস্য থাকলেও ব্যয়ের ক্ষেত্রে তা বজায় থাকেনি। প্রকল্পের বিভিন্ন অংশের ডিজাইন ও প্রাক্কলনে ত্রুটি থাকায় বারবার সংশোধনের প্রয়োজন হয়েছে। এ ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা প্রকল্পটির স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত করেছে। অর্থ প্রাক্কলনে ত্রুটিপূর্ণ পরিকল্পনার কারণে সম্পদের অপচয় হয়েছে বলে আইএমইডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

প্রকল্পের অনুমোদিত ২৫টি স্টেশনের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ১০টি স্টেশনের সিভিল ওয়ার্কের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। অথচ অবশিষ্ট ১৫টি স্টেশনের কাজ এখনো শুরুই করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানির দরপত্র পর্যন্ত এখনো আহ্বান করা হয়নি। 

বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয়েও সক্ষমতার ঘাটতি

প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দ ১৭৬ কোটি টাকার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১৪৪ কোটি টাকা। 

প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে অসমাপ্ত ভূমি অধিগ্রহণ শেষ করা সম্ভব নয়। এখন অর্থ ও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে ৮টি কন্ট্রোল স্টেশন বাদ দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। 

প্রকল্পের ইউটিলিটি স্থানান্তর কার্যক্রমের অবস্থাও নাজুক। এ খাতে ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে খরচ হয়েছে মাত্র ৬ কোটি টাকা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে জমি বুঝে না পাওয়ায় ইউটিলিটি স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরুই করা সম্ভব হয়নি।

সড়ক ও মহাসড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে অগ্রগতি মাত্র ২৬ শতাংশ। মোট ৮০১ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২১৩ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় অ্যাপ্রোচ রোডের রিজিড ও ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট, রোড ব্যরিয়ার, মিডিয়ান নির্মাণ এবং আরসিসি ড্রেন নির্মাণের মতো কাজ রয়েছে, যা প্রকল্পের ২৫টি সাইটের জন্য প্রযোজ্য। তবে জমি বুঝে না পাওয়ায় ১৫টি সাইটে কাজ শুরু করা যায়নি; শুধু ১০টি সাইটে কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

অনাবাসিক ভবন নির্মাণের চিত্রও প্রায় একই রকম। এ খাতে ২৫২ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৫৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের ২৫টি সাইটের জন্য নির্ধারিত  দ্বিতল কন্ট্রোল স্টেশন ভবন, কন্ট্রোল রুম, শৌচাগার, ক্যাফেটেরিয়া, ওয়্যার হাউস এবং বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কাজও কেবল ১০টিতেই সীমিত রয়েছে। বাকি ১৫টি সাইটে ভূমি জটিলতায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে ‘প্রকৌশল এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি’ খাতে বরাদ্দ ২৭৫ কোটি টাকা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য দুবার দরপত্র আহ্বান করা হলেও তা সফল হয়নি। প্রথমবার প্রয়োজনীয় যোগ্যতাসম্পন্ন কোনো দরদাতা পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয়বার মূল্যায়ন শেষ হওয়ার পর মন্ত্রণালয় তা বাতিল করে দেয়। তৃতীয়বারের মতো দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং বারবার সময় বৃদ্ধির ঘটনায় প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দক্ষতার অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। 

কেনাকাটাসংক্রান্ত একটি দরপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিপিপিতে নির্ধারিত তারিখের ২ মাস ৩ দিন আগে দরপত্র আহ্বান করে প্রকল্প অফিস। 

কেনাকাটায় দীর্ঘসূত্রতা

এই প্রকল্পের কেনাকাটায় সরকারি ক্রয় নীতিমালা (পিপিআর) মানা হলেও তা বাস্তবায়নে অনেক বেশি সময় ব্যয় হয়েছে বলে আইএমইডির পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। প্রকল্পের একটি প্যাকেজে কেনাকাটাসংক্রান্ত দরপত্র আহ্বান করা হয় ২০১৯ সালে। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ২০২১ সালের জুলাইয়ে। শুধু কাজ শুরু করার আগ পর্যন্ত সময় লেগেছে ১ বছর ৮ মাস। প্রকল্পের জন্য ‘ওয়ে-ইন-মোশন’ এবং ‘অটোমেটিক ভেহিকেল আইডেন্টিফিকেশন’ যন্ত্র সংগ্রহের জন্য বারবার দরপত্র আহ্বান করায় প্রকল্পের কাজে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে।

প্রকল্প সংশোধন

প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মতামতের ভিত্তিতে পুরোনো প্রযুক্তির ৩১টি স্ট্যাটিক ওয়ে স্কেল ব্রিজ স্থাপন ও কমিশনিংয়ের কাজ বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ডলারের বিনিময় মূল্য বিবেচনায় ওয়ে-ইন-মোশন স্কেল স্থাপন ও কমিশনিং খাতে ২৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দের সংস্থান রাখা হয়েছে।

প্রকল্পের সংশোধনীতে ২৮টি কন্ট্রোল স্টেশনের মধ্যে ৩টি স্টেশন বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাধারণত রাস্তার ওপরের স্তরে ইটের সলিং (এইচবিবি) ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই রাস্তায় প্রচুর ভারী ট্রাক চলাচল করবে, যা সাধারণ রাস্তার তুলনায় অনেক বেশি চাপ সৃষ্টি করবে। তাই রাস্তার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এবং ট্রাকের ভার সহ্য করার জন্য এইচবিবি পদ্ধতিটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এর বদলে রিজিড পেভমেন্ট বা ঢালাই করা কংক্রিটের রাস্তা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্টেশনে আসা ভঙ্গুর ও সংবেদনশীল মালামাল বহনে লরি বা উচ্চতাসম্পন্ন ট্রাকের সুবিধার্থে ওয়্যার হাউস বিল্ডিংয়ের উচ্চতা বাড়ানো হয়েছে, যাতে লোডিং ও আনলোডিংয়ের জন্য র‍্যাম্প ব্যবহার করা যায়।

পে-স্কেল বাস্তবায়নে দফায় দফায় বৈঠক

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৪ এএম
পে-স্কেল বাস্তবায়নে দফায় দফায় বৈঠক
প্রতীকী ছবি

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে খানিকটা বেকায়দায় পড়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার। আর্থিক সংকটে থাকলেও ঘোষণা অনুযায়ী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করতে হচ্ছে। তবে ঠিক কোন মাস থেকে সরকারি কর্মচারীদের হাতে নতুন কাঠামোর বেতন তুলে দিতে পারবে, তা নিয়ে সরকারি নীতিনির্ধারকরা গত কয়েক দিন দফায় দফায় বৈঠক করেছেন।

সূত্র জানায়, গতকালও (৬ জুলাই) সচিব কমিটির বৈঠকে পে-স্কেল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আরও কয়েক ধাপ পার করে নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন সরকারি কর্মচারীদের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানা গেছে। সচিব কমিটির সুপারিশে কিছু কাটছাঁটের কথা বলা হয়েছে। সুপারিশে গ্রেডগুলোতে মূল বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা এবং ভাতাদিতে পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে। দেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। 

গতকালের সচিব কমিটির বৈঠকে অংশ নেওয়া এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খবরের কাগজকে বলেন, তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হলে কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা হতে পারে। সেসব অসুবিধা মিনিমাইজ করে তিন ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে আজ (গতকাল) সচিব কমিটি। প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধি করা হবে। পরে অন্যান্য সুবিধা কার্যকর করা হবে। তবে ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন দেখিয়ে সে হিসেবে বেতন-ভাতাদিসহ সময়মতো পাওনা পরিশোধ করা হবে। 

অর্থ বিভাগের সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার খবরের কাগজকে বলেন, ‘সচিব কমিটি আমাদের এখনো সুপারিশমালা জমা দেয়নি। তাদের হয়তো আরও কিছু সময়ের প্রয়োজন। তাই নতুন এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য আরও হয়তো কিছু সময় লাগবে। তবে দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘তবে এক বা দুই ধাপে হয়তো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। সচিব কমিটি সে বিষয়টিও দেখছে। এখানে তিন ধাপ পর্যন্তও প্রয়োজন হতে পারে। তবে আমরা চাই বেতন বাড়ানোর সুবিধা দ্রুত একসঙ্গে সবার কাছে পৌঁছে দিতে। আর এ জন্য কাজ চলছে।’ 

অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলেছেন, দেশের অর্থনীতির এখন ভঙ্গুর দশা। রপ্তানি আয়ের ধারা নিম্নমুখী। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি তলানিতে। বিনিয়োগ বাড়ছে না। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা কমছে না। রাজস্ব ঘাটতি বেড়ে রেকর্ড করেছে। ব্যাংকের ঋণে নির্ভরতা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে একবারে সব সুবিধা দিয়ে নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য অনেক বড় চাপ হয়ে যাবে। 

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতিতে সরকারকে বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বেশ চাপে পড়তে হবে। বিশেষ করে যখন রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান অর্থনীতির বিশ্লেষক ড. মো. আবদুল মজিদ খবরের কাগজকে বলেন, সরকারের রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড ঘাটতি আছে। পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন সরকারের জন্য সহনীয় হবে। তবে ধাপে ধাপে এ কাজ বাস্তবায়ন করতে গেলে টাকা খরচ হবে বেশি। চাকরিজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে পারে। 

এর আগে এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অনেক দিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হয় না। এদিকে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো কার্যকর করতে সরকার কাজ করছে। ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা হবে। 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) এবং আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে মাসিক বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পরিচালিত হয়। ফলে বেসিক বেতনকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করে কার্যকর করতে গেলে পুরো সফটওয়্যার কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে। সেটাও বেশ জটিল কাজ। গতকালের সভায় এসব বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো কোনো কিছু চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।

অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, প্রথম থেকে নবম গ্রেড পর্যন্ত বেতন বাড়তে পারে ৬০-৭০ শতাংশ আর দশম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৯০-১০০ শতাংশ। 

গতকালের বৈঠকে পে-স্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া বাস্তবায়নের সময়সূচি, পর্যায়ক্রমিক বেতন সমন্বয় এবং বিভিন্ন ক্যাডার ও শ্রেণির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়গুলো নিয়েও কথা হয়। ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামোর মূল বেতন কার্যকর এবং ভাতা ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। 

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক খবরের কাগজকে বলেন, ‘২০১৫ সালের পে-স্কেল বাস্তবায়নের সময় অধিকাংশ কাজ ম্যানুয়ালি করা হতো। বর্তমানে পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারনির্ভর। যদি ধাপে ধাপে দেওয়া হয় অর্থাৎ ৫০ বা ৬০ শতাংশ বেসিক দেওয়া হয় এবং পরে অবশিষ্ট অংশ কার্যকর করা হয়, তাহলে দুই দফায় পুরো সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে। একযোগে এ পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জটিল। তাই সম্পূর্ণ বেতন কাঠামো একবারে বাস্তবায়নের দাবি ও পরামর্শ দিয়েছি।’

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১ জুলাই কমিশনের সুপারিশ করা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বাকি ৫০ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন ভাতা কার্যকর করার পরিকল্পনা ছিল।

তবে বাস্তবায়নের হিসাব করতে গিয়ে দেখা যায়, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কমিশনের সুপারিশের মাত্র অর্ধেক কার্যকর করলে প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি খুবই সামান্য হবে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মোট বেতন কমে যাওয়ারও আশঙ্কা তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিন ধাপের পরিবর্তে এবার দুই ধাপে বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন মূল বেতন এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরের শুরু থেকে নতুন ভাতা কার্যকর করা হবে। 

সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২১ সদস্যের বেতন কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। 

কমিশন ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রেখে প্রতিটি গ্রেডেই উল্লেখযোগ্য হারে বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।

এ ছাড়া বৈশাখী ভাতা বর্তমান ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত যাতায়াত ভাতা চালু এবং নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা দেওয়ার প্রস্তাবও ছিল কমিশনের প্রতিবেদনে।

কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় গ্রেডে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা, তৃতীয় গ্রেডে ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা এবং চতুর্থ গ্রেডে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত করার সুপারিশ ছিল।

তবে বর্তমান সচিব কমিটি কমিশনের বেশ কয়েকটি সুপারিশে পরিবর্তনের পক্ষে মত দেয়। বিশেষ করে বিভিন্ন ভাতা ও অতিরিক্ত সুবিধার ক্ষেত্রে ব্যয় কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। কুক, মালী ও গাড়িসংক্রান্ত ভাতাসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কিছু সুবিধা আগের মতো রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।