ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেকে লক্ষ্য করে এক প্যারাগুয়েন সিনেটরের করা তীব্র বর্ণবাদী ও আপত্তিকর মন্তব্যের পর বিশ্ব ফুটবলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
এই ঘটনার কড়া জবাব দিয়ে সংশ্লিষ্ট সিনেটরকে ‘নিকৃষ্ট নারী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এমবাপ্পে। একই সঙ্গে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন ওই রাজনীতিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনের একটি রোমাঞ্চকর ও উত্তপ্ত ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ফ্রান্স। ম্যাচের একমাত্র জয়সূচক গোলটি আসে এমবাপ্পের পেনাল্টি শট থেকে। ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের সঙ্গে এমবাপ্পের কিছুটা কথা কাটাকাটি ও হাত মেলানো নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।
এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (টুইটার) প্যারাগুয়ের র্যাডিক্যাল লিবারেল পার্টি-র সিনেটর চেলেস্তে আমারিলা এমবাপ্পেকে লক্ষ্য করে একের পর এক বর্ণবাদী আক্রমণাত্মক পোস্ট করেন। তিনি এমবাপ্পেকে 'ঔপনিবেশিক ক্যামেরুনীয়, যে নিজেকে ফরাসি বলে জাহির করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে' বলে মন্তব্য করেন। এখানেই শেষ নয়, তিনি এমবাপ্পেকে "অশিক্ষিত ও বর্বর' আখ্যা দিয়ে বলেন যে, ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের উচিত ছিল তাকে চড় মারা। এমনকি তিনি আরও কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত করে লেখেন, 'সে মায়ের দুধের বদলে নারকেলের রস খেয়ে বড় হয়েছে এবং শিম্পাঞ্জিদের আওয়াজই তার শোনা সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
সিনেটরের এমন ন্যাক্কারজনক মন্তব্যের পর চুপ থাকেননি বিশ্ব ফুটবলের এই অন্যতম মহাতারকা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি দীর্ঘ ও কড়া বিবৃতি দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান ফরাসি অধিনায়ক।
সিনেটরকে উদ্দেশ্য করে এমবাপ্পে লেখেন, 'মাদাম চেলেস্তে আমারিলা, আপনি একজন নিকৃষ্ট নারী এবং আপনার পদের সম্পূর্ণ অযোগ্য। আপনি কোনোভাবেই প্যারাগুয়ে দেশটিকে প্রতিনিধিত্ব করেন না, যে দেশ পুরো টুর্নামেন্টে নিজেদের আবেগ ও সম্মান বিলিয়ে দিয়ে লড়াই করেছে।'
তিনি প্যারাগুয়ের ফুটবলারদের প্রশংসা করে আরও যোগ করেন, 'আপনার এই অবিবেচকের মতো আচরণ এবং প্রকাশ্য বর্ণবাদের কারণে আজ পুরো বিশ্ব আপনার দেশের খেলোয়াড়দের ঐতিহাসিক লড়াই এবং বিশ্বকাপের দারুণ যাত্রার কথা ভুলে গেছে। মানুষ এখন শুধু আপনার মতো এক অযোগ্য নারীর কথা বলছে, যে নিজের দেশের সবচেয়ে কুৎসিত রূপটা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে। আমি কখনই আপনার মতো মানুষদের পুরো বিশ্বে এভাবে ঘৃণা ও বর্ণবাদ ছড়ানোর স্বাধীনতা দেব না। সূত্র: এনডিটিভি
আজহার/