ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকান ও হকার বসিয়ে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে আট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত করেছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক)। নগরীর যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন।
তিনি জানান, কয়েক দিন ধরে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজট কমানো এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়। অভিযানের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে মাইকিং, লিখিত নোটিশ এবং গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে একাধিকবার সতর্ক করা হয়।
তিনি বলেন, ‘সিটি প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুসহ আমরা নিজেরা মাঠে গিয়ে নির্দেশনা দিই। পরে বারবার সতর্ক করার পরও কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দোকানের সামনের ফুটপাত দখল করে অবৈধ হকার ও অস্থায়ী দোকান বসিয়ে ভাড়া দিয়ে আসছিল। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় নগরীর রানীরবাজার এলাকার আটটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।’
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো রানীরবাজার সড়ক এলাকার সারা বয়লার হাউস, আরব সুইট অ্যান্ড বেকারি, ট্রাই বেকারি, কাজী ফজলুল হক স্টোর, জেলিকা বেকারি, আল বারাকা হোটেল, মেসার্স হাজি অ্যান্ড সন্স এবং আবেদন স্টোর।
গতকাল দুপুরে কুসিকের উপপ্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক স্মারকে জানানো হয়, নগরীর ফুটপাত, সড়ক এবং সড়কের পাশের দোকানের সামনে অবৈধভাবে হকার, ভ্যানগাড়ি ও অস্থায়ী দোকানপাট বসিয়ে যানজট সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি নগরীর স্বাভাবিক যান চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্মারকে আরও বলা হয়, এ সমস্যা নিরসনে কুসিকের পক্ষ থেকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া, মাইকিং, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ, উচ্ছেদ অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তা উপেক্ষা করে দোকানের সামনে অবৈধ হকার ও ভ্যানগাড়ি বসাতে সহযোগিতা করে আসছে। তদন্তে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা প্রমাণ হওয়ার পরই তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের চলমান উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে নগরীর রানীরবাজার এলাকায় ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারী হকারদের অন্তত ৩০টি ভ্যান নষ্ট করা হয়। একই অভিযানে একটি ভবনের পার্কিংয়ে হকারদের ভ্যান সংরক্ষণের জন্য জায়গা দেওয়ার অভিযোগে ভবন কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশও দেওয়া হয়। কুসিক জানিয়েছে, ফুটপাত দখল, যানজট সৃষ্টি এবং অবৈধ কার্যক্রমে সহযোগিতার বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।