ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কেপ ভার্দে ধাক্কার পর মিশরকে নিয়ে সতর্ক আর্জেন্টিনা ভারী বর্ষণে ডুবল চট্টগ্রাম, পাহাড়ধসের শঙ্কা দিনাজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-ছেলে নিহত সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: ডা. জোবাইদা রহমান বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সম্প্রসারণের খবরে কৃষিজমিতে বহুতল ভবন ট্রিলিয়নিয়ার তকমা হারালেন প্রযুক্তি মোগল ইলন মাস্ক চকরিয়ায় পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ ঘিওরে ৬০ বছরের বৃদ্ধের বিরুদ্ধে চার বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ওমানের উপকূলে ট্যাংকারে আগুন মিশরকে ‘দলগতভাবে’ রুখতে চান স্কালোনি বরগুনায় জনসাধারণের সুবিধা উপেক্ষা করে সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণের অভিযোগ দিনাজপুরে কোটি টাকার প্রত্নসম্পদ উদ্ধার ব্রাজিলের বিদায়ে অবাক হননি পারেদেস ফিলিস্তিনিদের জন্য যার অনুভুতি নেই সে ‘মানুষই নয়’: মিশরের কোচ আজকের মুদ্রার বাজার: ৭ জুলাই, ২০২৬ কোমে পৌঁছেছে খামেনির মরদেহ চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মতিনকে বদলি ন্যাটো সম্মেলনের আগে মস্কোর দিকে ৪ শতাধিক ড্রোন নিক্ষেপ ইউক্রেনের বিলাসী যুবক থেকে ছেঁড়া চাদরের শহিদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলের বৈঠক জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশ চীনে বন্যা ও বজ্রঝড়ে ১০ জনের প্রাণহানি যশোর-মাগুরা মহাসড়কে রহস্যজনক প্রাইভেটকার উদ্ধার বিশ্বকাপে কোনো দলই একক আধিপত্য বিস্তার করতে পারছে না: স্কালোনি দিনাজপুরে অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে যুব নাগরিক শক্তির নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫ ৬ দিন বিরতির পর বসছে সংসদ অধিবেশন হাতিয়ায় মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ মিলনের মরদেহ উদ্ধার মাদারীপুরে ডিবি পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই পদত্যাগ করলেন রবার্তো মার্তিনেস

ফুটপাতে দোকান বসিয়ে ভাড়া আট প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স স্থগিত

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
ফুটপাতে দোকান বসিয়ে ভাড়া আট প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স স্থগিত
ছবি: খবরের কাগজ

ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকান ও হকার বসিয়ে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে আট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত করেছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক)। নগরীর যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন।

তিনি জানান, কয়েক দিন ধরে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজট কমানো এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়। অভিযানের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে মাইকিং, লিখিত নোটিশ এবং গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে একাধিকবার সতর্ক করা হয়।

তিনি বলেন, ‘সিটি প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুসহ আমরা নিজেরা মাঠে গিয়ে নির্দেশনা দিই। পরে বারবার সতর্ক করার পরও কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দোকানের সামনের ফুটপাত দখল করে অবৈধ হকার ও অস্থায়ী দোকান বসিয়ে ভাড়া দিয়ে আসছিল। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় নগরীর রানীরবাজার এলাকার আটটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।’

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো রানীরবাজার সড়ক এলাকার সারা বয়লার হাউস, আরব সুইট অ্যান্ড বেকারি, ট্রাই বেকারি, কাজী ফজলুল হক স্টোর, জেলিকা বেকারি, আল বারাকা হোটেল, মেসার্স হাজি অ্যান্ড সন্স এবং আবেদন স্টোর।

গতকাল দুপুরে কুসিকের উপপ্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক স্মারকে জানানো হয়, নগরীর ফুটপাত, সড়ক এবং সড়কের পাশের দোকানের সামনে অবৈধভাবে হকার, ভ্যানগাড়ি ও অস্থায়ী দোকানপাট বসিয়ে যানজট সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি নগরীর স্বাভাবিক যান চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্মারকে আরও বলা হয়, এ সমস্যা নিরসনে কুসিকের পক্ষ থেকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া, মাইকিং, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ, উচ্ছেদ অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তা উপেক্ষা করে দোকানের সামনে অবৈধ হকার ও ভ্যানগাড়ি বসাতে সহযোগিতা করে আসছে। তদন্তে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা প্রমাণ হওয়ার পরই তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের চলমান উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে নগরীর রানীরবাজার এলাকায় ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারী হকারদের অন্তত ৩০টি ভ্যান নষ্ট করা হয়। একই অভিযানে একটি ভবনের পার্কিংয়ে হকারদের ভ্যান সংরক্ষণের জন্য জায়গা দেওয়ার অভিযোগে ভবন কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশও দেওয়া হয়। কুসিক জানিয়েছে, ফুটপাত দখল, যানজট সৃষ্টি এবং অবৈধ কার্যক্রমে সহযোগিতার বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ভারী বর্ষণে ডুবল চট্টগ্রাম, পাহাড়ধসের শঙ্কা

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
ভারী বর্ষণে ডুবল চট্টগ্রাম, পাহাড়ধসের শঙ্কা
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামে শনিবার (৪ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া টানা অতি ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানির প্রভাবে বন্দরনগরীর বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস  ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড  করেছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। 

মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ৪৮ ঘন্টায় ৪০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। 

আবহাওয়াবিদদের মতে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবেই এই অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।​ বঙ্গোপসাগরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। এছাড়া ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় চট্টগ্রামের পাহাড়গুলোতে মারাত্মক পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে মাইকিং ও উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

 টানা বৃষ্টির সঙ্গে সাগরের জোয়ারের পানি যুক্ত হওয়ায় নগরীর আগ্রাবাদ, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, হালিশহর, বড়পোল, কমার্স কলেজ এলাকা এবং পতেঙ্গা ও কুয়াইশের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত কোথাও গোড়ালি, আবার কোথাও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। নিচু এলাকার বহু বাসাবাড়ি এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র ও মালামালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।​

মঙ্গলবার সকালে জলাবদ্ধ পরিস্থিতি পরিদর্শনে নামেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ জানায়, নালা ও খালগুলো পরিষ্কার রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা চললেও বৃষ্টির তীব্রতা এবং জোয়ারের কারণে পানি নামতে কিছুটা সময় লাগছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চসিকের বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে।​

ভোগান্তিতে অফিসগামী ও সাধারণ মানুষ। সকাল থেকেই সড়কে গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী যাত্রী, পোশাকশ্রমিক ও সাধারণ মানুষ। অনেক এলাকায় রিকশা ও গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষকে পায়ে হেঁটে কিংবা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে নগরীর বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ও পাঠদান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।​

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড  করেছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। মঙ্গলবার  সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ৪৮ ঘন্টায় ৪০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বহাল রয়েছে।​ 

প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আকবরশাহ ঝিল, বিজয়নগর, শান্তিনগর, মতিঝরনা এবং লালখান বাজার পোড়া কলোনিসহ ৯টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের অবিলম্বে আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়ার তত্ত্বাবধানে সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) নেতৃত্বে গঠিত ৬টি বিশেষ টিম সকাল থেকেই উদ্ধার ও মাইকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের জন্য স্থানীয় স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাগুলোতে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।​

রিফাত/

দিনাজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-ছেলে নিহত

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
দিনাজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-ছেলে নিহত
মরদেহ/ ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে মালবাহী পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ গেলো মা-ছেলের।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের দিনাজপুর-পঞ্চগড় সড়কের পাঁচপীর নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- কাহারোল উপজেলার ৫নং সুন্দরপুর ইউনিয়নের মালগ্রাম এলাকার মো. নাজমুল ইসলামের স্ত্রী ফাহিমা আক্তার (২৮) ও ছেলে মো. আব্দুল্লাহ (৩)। 

আহত মোটরসাইকেল চালক মো. নাজমুল ইসলাম (৩২) বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

দিনাজপুর দশমাইল হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জিল্লুর রহমান জানায়, ফাহিমা আক্তার ও ছেলে মোটরসাইকেল নিয়ে ভোরে ঠাকুরগাঁও জেলার উত্তর গড়েয়া হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার পথে পিছন থেকে পিকাপ ধাক্কা দিলে তারা সড়কে ছিটকে পড়েন। পিকআপটি মা ও ছেলের শরীরের উপর দিয়ে যায়।

বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো সাইফুল ইসলাম জানান, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মরদেহ হাইওয়ে থানা পুলিশরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সুলতান মাহমুদ/তামান্না রুপা/

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সম্প্রসারণের খবরে কৃষিজমিতে বহুতল ভবন

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সম্প্রসারণের খবরে কৃষিজমিতে বহুতল ভবন
ছবি: খবরের কাগজ

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় কয়লা খনি সম্প্রসারণের খবরে বেশি ক্ষতিপূরণের আশায় কৃষি জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে বহুতল ভবন। এর ফলে কয়লা খনির উত্তর পাশের হামিদপুর ইউনিয়নের বাঁশপুকুর ও কাজীপাড়া গ্রামের চিত্র বদলে গেছে। 

কয়েক বছর আগেও যেখানে বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে ধান, ভুট্টা ও বিভিন্ন ফসলের আবাদ হতো, সেখানে এখন চোখে পড়ছে একতলা থেকে ছয়তলা পর্যন্ত অসংখ্য বহুতল ভবন।

আশ্চর্যের বিষয়, অধিকাংশ ভবনই জনশূন্য, নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, নেই যাতায়াতের উপযুক্ত রাস্তা। অনেক ভবনের মূল ফটকে ঝুলছে তালা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ফসলি জমির মাঝখানে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন। দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে রাজধানীর কোনো অভিজাত আবাসিক এলাকায় সারিবদ্ধ বহুতল ভবন দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু বাস্তবে সেখানে মানুষের বসবাস নেই, এমনকি গবাদিপশুও রাখা হয় না।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সম্ভাব্য ভূমি অধিগ্রহণের সময় বেশি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় কৃষি জমিতে এসব ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সম্প্রসারণের জন্য প্রায় ৩০০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। সম্ভাব্য অধিগ্রহণ এলাকার সীমানা চিহ্নিত হওয়ার পর থেকেই এলাকায় ভবন নির্মাণের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

এলাকায় সংবাদকর্মী বা অপরিচিত কেউ ছবি কিংবা ভিডিও ধারণ করতে গেলে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ছবি তুলতে নিরুৎসাহিত করারও অভিযোগ রয়েছে।

বহুতল ভবন নির্মাণ হওয়া বাঁশপুকুর গ্রামের যুবক ইলিয়াস আলী বলেন, ‘আগেও আমাদের অনেক জমি অধিগ্রহণ করেছে। যে ক্ষতিপূরণ পেয়েছি, তা দিয়ে অন্যত্র সমপরিমাণ জমি কেনা সম্ভব হয়নি। তাই এবার অনেকেই বেশি ক্ষতিপূরণের আশায় কৃষিজমির ওপর ভবন নির্মাণ করেছেন। অনেকের সামান্য কিছু জমি অধিগ্রহণের বাইরে থাকায় সেই জমিতেও বহুতল ভবন করা হয়েছে।’

কাজীপাড়া গ্রামের মোশারফ হোসেন বলেন, ‘ভূগর্ভে খনির বিস্ফোরণের কারণে আমাদের অনেক বাড়িঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। অন্যত্র গিয়ে নতুনভাবে বসতি গড়তে অনেক অর্থের প্রয়োজন। তাই অনেকেই ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন।’

বাঁশপুকুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হান্নান বলেন, ‘এখন যে ভবনগুলো তৈরি হচ্ছে, তার অধিকাংশেই কেউ থাকে না। শুধু ভবন বানিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা চাই সরকার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করুক, যাতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পান।’

পাশের পাতরাপাড়া গ্রামের বাড়ি রক্ষা কমিটির সভাপতি নূর মোহাম্মদ আব্দুল কালাম আজাদ অভিযোগ করে বলেন, ‘পাতরাপাড়া বা আশেপাশের অন্য গ্রামগুলোতে এভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ হয়নি। কিন্তু বাঁশপুকুর ও কাজীপাড়ায় অস্বাভাবিকভাবে ভবন তৈরি হয়েছে। কয়লা খনির কিছু অসাধু ব্যক্তি ও প্রভাবশালী মহলের প্ররোচনায় মানুষ এ কাজে উৎসাহিত হয়েছে। সরকার নিরপেক্ষ তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’

দিনাজপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ভুট্টু বলেন, সম্ভাব্য অধিগ্রহণ এলাকার কৃষি জমিতে অপরিকল্পিতভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ একদিকে উর্বর জমি ধ্বংস করছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত মালিক, ভবন নির্মাণের সময়, উদ্দেশ্য এবং আইনি বৈধতা যাচাই করা জরুরি।

এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিকভাবে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সুলতান/হীরা

চকরিয়ায় পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০১ পিএম
চকরিয়ায় পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ
ছবিঃ খবরের কাগজ

টানা তিন দিনের অবিরাম বৃষ্টি আর মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে দুই উপজেলার অন্তত ১৬টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

আকস্মিক এই প্লাবনে তলিয়ে গেছে অভ্যন্তরীণ বেশ কিছু গ্রামীণ সড়ক, ফলে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।  

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত মাতামুহুরী নদীর পানি অনেক বেড়ে গেলেও তা এখনো বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। তবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় এবং বৃষ্টিপাত চলতে থাকায় দুই উপজেলার মানুষের চোখে-মুখে এখন শুধুই বড় কোনো বন্যার আতঙ্ক। বৃষ্টি না কমলে যেকোনো মুহূর্তে মাতামুহুরীর দুই কূল ছাপিয়ে গ্রাস করবে পুরো জনপদ। 

বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী থেকে মহেশখালীর মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর সংযোগ সড়ক নির্মাণে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স কোম্পানির বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।  

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া একটি অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে ফাঁসিয়াখালী ও চিরিঙ্গা ইউনিয়নের অন্তত ৫টি গ্রামে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নিরুপায় হয়ে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা নিজেদের ঘরবাড়ি রক্ষায় ওই মাটির বাঁধ কেটে পানি অপসারণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। 

এদিকে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়বেষ্টিত এলাকাগুলোতে পাহাড় ধসের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে। 

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদ দেলোয়ার খবরের কাগজকে বলেন, ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছি। উজান থেকে আসা ঢলের পানি যাতে দ্রুত ভাটির দিকে নেমে যেতে পারে, সেজন্য উপকূলীয় সবকটি স্লুইস গেটের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। সার্বিক পরিস্থিতি তদারকির জন্য একটি জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। 

রাজু দাশ/অদিতি/

বরগুনায় জনসাধারণের সুবিধা উপেক্ষা করে সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণের অভিযোগ

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:২৯ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৫১ এএম
বরগুনায় জনসাধারণের সুবিধা উপেক্ষা করে সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণের অভিযোগ
ছবিঃখবরের কাগজ

বরগুনার তালতলীতে জনসাধারণের সুবিধাকে তোয়াক্কা না করে ব্যক্তিগত স্বার্থে একটি দুর্যোগকালীন নিরাপদ আশ্রয়স্থল (সাইক্লোন সেল্টার কাম স্কুল) নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী আশ্রাফ সরদারের বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও স্কুলের জমির ভুয়া দলিল ও নামজারি তৈরি এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে খাস জমিতে ওয়াশ ব্লক নির্মাণেরও অভিযোগ রয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে তালতলী প্রেসক্লাব হলরুমে এ ঘটনার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মো. রেদওয়ান সরদার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইউপি সদস্য মো. রেদওয়ান সরদার বলেন, উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চাবাড়িয়া গ্রামে ৫১নং হেলেঞ্চাবাড়িয়া শের-ই-বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি ঝুকিপূর্ন হওয়ার কারণে নতুন ভবনের প্রস্তাব করা হয়। পরবর্তীতে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক সাইক্লোন সেল্টার কাম-স্কুল ভবন বরাদ্ধ দেওয়া হয়। কিন্তু জনসাধারণের সুবিধাকে তোয়াক্কা না করে জমিদাতা আশ্রাফ সরদার কেবল নিজের ব্যক্তিস্বার্থ ও সুবিধার জন্য আশ্রয়কেন্দ্রটি তার বাড়ির সীমানা ঘেঁষে স্থাপন করার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে সাইক্লোন সেল্টার কাম স্কুলটি গ্রামের লিংকরোড সংলগ্ন স্থানে স্থাপনের দাবি জানালেও বিষয়টি কর্তৃপক্ষ আমলে নেয়নি। এর আগে ১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা সরকারি ব্যয়ে বিদ্যালয়ে একটি ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী এটি স্কুলের নিজস্ব সীমানার ভেতরে নির্মাণ করার কথা থাকলেও, জমিদাতা প্রভাব খাটিয়ে স্কুলের সীমানার বাইরে সরকারি বন্দোবস্তকৃত খাস জমির ওপর নির্মাণ করেন।

তিনি আরও বলেন, স্কুলের নামে অর্পণকৃত জমির দলিলে ৭০ শতাংশ উল্লেখ থাকলেও নামজারি ৫টি দাগে দেখানো হয়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ। এর মধ্যে ৩টি দাগের কোনো অস্তিত্ব দলিলে নেই এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বালামেও লিপিবদ্ধ নেই। তবে স্কুলের জমি বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির হলেও সাধারণ সদস্যদের অন্ধকারে রেখে জমিদাতার পুত্রবধূ সুমি আক্তারকে সভাপতি বানিয়ে জমিদাতার চক্রান্ত অনুযায়ী সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তাই স্কুলে অর্পণকৃত ৭০ শতাংশ জমির আসল দলিল ও নামজারি সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে জমি চিহ্নিত করার এবং জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে গ্রাম লিংকরোড সংলগ্ন স্থানে আধুনিক সাইক্লোন সেল্টার কাম স্কুলটি নির্মাণের জোর দাবি জানানো হয়।

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যেই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে স্থান নির্বাচন (সাইট সিলেকশন) ও মাটি পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট) সম্পন্ন হয়েছে। এখন এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী নতুন করে কাজ করতে গেলে পুরো প্রক্রিয়াটি আবারও শুরু করতে হবে। তারপরেও জনস্বার্থে এলাকাবাসীর দাবির বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লকটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নির্মাণ করেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন। এছাড়া স্কুলের নামে অর্পণকৃত জমি বুঝে নেওয়ার জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

মহিউদ্দিন/হীরা