ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
দিনাজপুরে কোটি টাকার প্রত্নসম্পদ উদ্ধার ব্রাজিলের বিদায়ে অবাক হননি পারেদেস ফিলিস্তিনিদের জন্য যার অনুভুতি নেই সে ‘মানুষই নয়’: মিশর কোচ আজকের মুদ্রার বাজার: ৭ জুলাই, ২০২৬ কোমে পৌঁছেছে খামেনির মরদেহ ন্যাটো সম্মেলনের আগে মস্কোর দিকে ৪ শতাধিক ড্রোন নিক্ষেপ ইউক্রেনের বিলাসী যুবক থেকে ছেঁড়া চাদরের শহিদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলের বৈঠক জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশ চীনে বন্যা ও বজ্রঝড়ে ১০ জনের প্রাণহানি যশোর-মাগুরা মহাসড়কে রহস্যজনক প্রাইভেটকার উদ্ধার বিশ্বকাপে কোনো দলই একক আধিপত্য বিস্তার করতে পারছে না: স্কালোনি দিনাজপুরে অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে যুব নাগরিক শক্তির নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫ ৬ দিন বিরতির পর বসছে সংসদ অধিবেশন হাতিয়ায় মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ মিলনের মরদেহ উদ্ধার মাদারীপুরে ডিবি পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই পদত্যাগ করলেন রবার্তো মার্তিনেস পটিয়া পৌরসভার তিন  টেন্ডার নিয়ে বিতর্ক, বিক্ষুব্ধ স্থানীয় ঠিকাদাররা সোনারগাঁ ইউনিভার্সিটিতে শুরু হয়েছে ফল আপরাইজ অ্যাডমিশন ফেয়ার জাকার্তা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর, ঢাকা ‘সহনীয়’ অবস্থানে পেকুয়ায় পাহাড় ধসে ১ শিশু নিহত সাজেকে কীটনাশকে প্রস্তুত চা পান করে অসুস্থ ১২ গ্রামবাসী সিলেটে ব্যবস্থাপনা ও ইজারা নিয়ে সিসিক-বাজার কমিটি দ্বন্দ্ব যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ের পর লুকাকুর ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ডান্স’ ভাইরাল বালোগুনের লাল কার্ড বিতর্কে রেফারির পাশে ফিফা সোনারগাঁয় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগ লিডিং ইউনিভার্সিটি বিএনসিসি প্লাটুনের কালেক্টিভ ক্যাম্পে গৌরবময় অর্জন আবারও ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে ট্রাম্পের খোঁচা ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় কীভাবে উদযাপন করলেন হালান্ড? ফাঁশ করলেন বান্ধবী ৫ বিভাগে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

ট্রাম্প ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
ট্রাম্প ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গতকাল সোমবার রাশিয়ার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বাসিন্দারা দাঁড়িয়ে আছেন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগের দিন ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। গতকাল সোমবার ভোরে চালানো এ হামলায় কিয়েভে অন্তত ১২ জন এবং আশপাশের এলাকায় আরও ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। আজ মঙ্গলবার দুদিনব্যাপী ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাতে কিয়েভের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। হামলায় বহু আবাসিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়েন অনেক বাসিন্দা। এই হামলায় একটি পরিবারের সবাই নিহত হন এবং তাদের মরদেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়। 

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো বলেন, শহরের অন্তত চারটি এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। এর মধ্যে পোদিলস্কি এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ওই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বহুতল ভবনের ওপরের তলা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেন। হামলার সময় রাজধানীর অনেক মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করেন। 

হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করেছিলেন, মস্কো ‘আরও একটি বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে’। গত বৃহস্পতিবারও কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলায় ৩০ জন নিহত হন। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর রাজধানীতে এটি ছিল তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা। 

ইউক্রেনে জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশন গতকাল  জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রবিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, ‘এটাই পুতিনের স্বভাব। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের পরপরই এবং ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক আগে এ হামলা চালানো হলো।’ 

গতকালের হামলায় কিয়েভের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দারনিতস্কি এলাকাও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত সপ্তাহেও এলাকাটি রুশ হামলার শিকার হয়েছিল। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, গতকাল রাশিয়ার ছোড়া কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। 

ইউক্রেনের ৩৪টি স্থানে ২৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৮টি ড্রোন আঘাত হানে। রাশিয়া মোট ৩৫০টির বেশি ড্রোন এবং ৬৬টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল কিয়েভ। এ হামলার পর কিয়েভ, সুমি, খারকিভ ও দিনিপ্রোপেত্রোভস্কসহ কয়েকটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। 

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কিয়েভে সামরিক শিল্প স্থাপনা এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ‘নিখুঁত দূরপাল্লার অস্ত্র’ ব্যবহার করেছে। তাদের দাবি–রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার জবাব হিসেবেই এ অভিযান চালানো হয়েছে।

ন্যাটো সম্মেলনের প্রধান ইস্যু ইউক্রেন যুদ্ধ

তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধই হবে অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। সেখানে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন জেলেনস্কি। এর আগে দুই নেতা গত শনিবার ফোনে কথা বলেন। 

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার প্রায় ৯০ মিনিটের ফোনালাপে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আবারও যুদ্ধ বন্ধে সহযোগিতার প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু বর্তমান মেয়াদের ৫০০ দিনের বেশি সময় পার হয়েছে এবং একাধিক কূটনৈতিক উদ্যোগ সত্ত্বেও শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো পথ খুঁজে পায়নি তার প্রশাসন। 

ন্যাটো সম্মেলনের আগে জেলেনস্কি আবারও মিত্র দেশগুলোর কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য আরও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির কারণেই গতকালের হামলায় কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববাসী বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় অংশীদারদের ন্যাটো সম্মেলনে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারের বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।’

ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ফন ডার লিয়েনও বলেছেন, ‘ইউক্রেনের জরুরি ভিত্তিতে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন। এ বিষয়টি আমরা আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে আলোচনা করব।’

সূত্র: সিএনএন

কোমে পৌঁছেছে খামেনির মরদেহ

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:১০ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:১৬ এএম
কোমে পৌঁছেছে খামেনির মরদেহ
পবিত্র শহর কোমে পৌঁছেছে খামেনির মরদেহ, লাখো মানুষের শোকমিছিল। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ পবিত্র নগরী কোমে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নিজ শহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে রাজধানী তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত এই শহরে খামেনির মরদেহ বহনকারী একটি হেলিকপ্টার অবতরণের দৃশ্য দেখানো হয়।

এর আগে, টানা তৃতীয় দিনের মতো জানাজার মিছিলে অংশ নিতে রাজধানীর রাস্তায় বিপুলসংখ্যক ইরানি নাগরিক ভিড় জমান।

২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত খামেনি এবং তার পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ বহনকারী একটি ট্রাক শহরের পশ্চিমে অবস্থিত আজাদি স্কয়ারের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তেহরানের প্রধান প্রধান বুলেভার্ডগুলোতে বিশাল জনস্রোত দেখায় এবং জানায়, এই অনুষ্ঠানে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন, যা ১৯৮৯ সালে খামেনির পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনির বিশাল জানাজার সঙ্গে তুলনীয়। 

কালো পোশাক পরিহিত শোকগ্রস্ত মানুষ কফিনগুলোর ওপর ফুলের পাপড়ি ছুড়ে দিচ্ছিলেন, যার মধ্যে খামেনির ১৪ মাস বয়সি নাতনির ছোট কফিনটিও ছিল।

আল জাজিরাকে হামিদ নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‌‌‍'যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের লক্ষ্য ছিল ইরানকে বিভক্ত করা। কিন্তু আমাদের নেতা সেই বিভাজন রুখে দিয়েছেন। ইরানবাসী এখানে এসেছেন ইরানের জন্য তিনি যা করেছেন তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে।'

মারজিয়াহ নামে আরেক নারী বলেন, 'তিনি খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন, যিনি প্রায় ৪০ বছর ইরান শাসন করেছিলেন।

তিনি বলেন, 'আমরা এখানে আমাদের শহিদ নেতাকে বলতে এসেছি যে তার রক্ত বৃথা যায়নি। আমরা তার প্রতি আমাদের আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করতে এসেছি।'

সূত্র: আল জাজিরা

তামান্না রুপা/

ন্যাটো সম্মেলনের আগে মস্কোর দিকে ৪ শতাধিক ড্রোন নিক্ষেপ ইউক্রেনের

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:০৪ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:২৫ এএম
ন্যাটো সম্মেলনের আগে মস্কোর দিকে ৪ শতাধিক ড্রোন নিক্ষেপ ইউক্রেনের
ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কে অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর দিকে চার শতাধিক ড্রোন ছুড়েছে ইউক্রেন। শহরের মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সোবিয়ানিন বলেন, ‘স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত মস্কোর দিকে ৪৩০টিরও বেশি ড্রোন ছোড়া হয়েছে।’

তিনি জানান, ড্রোনগুলোর বেশির ভাগই রাজধানী থেকে অনেক দূরে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়। এছাড়া মস্কোর কাছাকাছি পৌঁছানোর সময় আরও ৩৬টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। 

আজহার/

চীনে বন্যা ও বজ্রঝড়ে ১০ জনের প্রাণহানি

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:১২ এএম
চীনে বন্যা ও বজ্রঝড়ে ১০ জনের প্রাণহানি
ছবি: সংগৃহীত

চীনের মধ্যাঞ্চলে প্রবল বজ্রঝড় এবং দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

চীনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ একটি নিয়মিত ঘটনা। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে অতিভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা দেখা দেয়, আবার কোথাও তীব্র দাবদাহ থাকে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির খবরে বলা হয়েছে, সোমবার (৬ জুলাই) মধ্য চীনের হুবেই প্রদেশের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রঝড়, দমকা হাওয়া আঘাত হানে। হুয়াংশি ও হুয়াংগাংসহ কয়েকটি শহরে সন্ধ্যার দিকে বজ্রঝড় ও প্রবল ঝড়ো হাওয়ায় অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে।

এ সময় কয়েকটি এলাকায় টর্নেডোর হয়। এছাড়া এখনও এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন।

সিসিটিভি জানায়, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং উদ্ধার অভিযান পুরোদমে পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে, টাইফুন মেসাকের কারণে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংসি অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও ভয়াবহ বন্যায় অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ৪৮ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

খাদিজা রুমি/

আবারও ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে ট্রাম্পের খোঁচা

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:২২ এএম
আবারও ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে ট্রাম্পের খোঁচা
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জর্জিয়া মেলোনি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল সোমবার আবারও তার সাবেক মিত্র ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে খোঁচা দিয়েছেন। তবে ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সুসম্পর্কের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।

মেলোনি গত মাসে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তার সম্পর্কে একটি মনগড়া গল্প তৈরির অভিযোগ তোলেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক ইতালীয় টিভি চ্যানেলকে বলেন, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ‘অনুরোধ’ করেছিলেন।

চলতি সপ্তাহে তুরস্কে দুই নেতার ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকা মেলোনির একটি ছবি পোস্ট করে বলেন ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ প্রয়োজন’। তার এমন মন্তব্য দুই নেতার মধ্যে বিরোধকে পুনরায় উসকে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

স্কাই টিভিকে ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো বলেন, ‘পোস্টটির বিষয়ে আমার কোনো প্রতিক্রিয়া ছিল না, মূল বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।’ তিনি বলেন, মানুষ আসে আর যায় কিন্তু সম্পর্ক থেকে যায়।

ইতালির বিরোধী রাজনীতিকরা অবশ্য এতটা সংযত ছিলেন না। ছোট দল অ্যাজিওনের নেতা কার্লো ক্যালেন্দা এক্সে মেলোনির প্রতি সমর্থন জানিয়ে লিখেন, ‘ট্রাম্প একজন জঘন্য, নিম্নরুচির দাদাগিরি করা ব্যক্তি।’

মেলোনি একসময় ট্রাম্পের একজন প্রকাশ্য সমর্থক ছিলেন। তিনি  ২০২৫ সালে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন।

ইরান সংঘাতের নিন্দা করার জন্য পোপ লিওকে আক্রমণ করায় মেলোনি এ বছর ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। ট্রাম্পও তিরস্কার করে বলেন, তিনি যথেষ্ট সাহসী নন।

সূত্র: রয়টার্স

জরিপের প্রতিবেদন গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় ৬০ শতাংশ ইসরায়েলি

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় ৬০ শতাংশ ইসরায়েলি
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের ৬০ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, দেশে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন গভীর হওয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় দেশটির স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জিউইশ পলিসি ইনস্টিটিউটের একটি জরিপে এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। 

জরিপের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, উত্তরদাতাদের মধ্যে ৬০ শতাংশই মনে করেন ইসরায়েলে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা রয়েছে। ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান আহারন বারাকের ‘গৃহযুদ্ধ থেকে এক মুহূর্ত দূরে রয়েছে ইসরায়েল’–এমন মন্তব্যের পরই এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। গতকাল সোমবার ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

জরিপে ২৭ শতাংশ উত্তরদাতা বারাকের মন্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হন। আরও ৩৩ শতাংশ বলেন, তিনি পরিস্থিতিকে কিছুটা অতিরঞ্জিত করেছেন, তবে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি বাস্তব। বিপরীতে ১৬ শতাংশ উত্তরদাতা এমন কোনো আশঙ্কা দেখছেন না বলে জানান।

জরিপে ইসরায়েলের রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্ট ছিল। মধ্যপন্থি ও বাম ঘরানার উত্তরদাতারা সম্ভাব্য গৃহ-অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ডানপন্থিদের মধ্যে এ ধরনের আশঙ্কা কম ছিল।

এ ছাড়া জরিপে বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়েও মতভেদ তৈরি হয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত-প্রধান এবং অ্যাটর্নি জেনারেলসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করার মতো আইনি জটিলতায় বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়েও উত্তরদাতাদের মাঝে দ্বিমত দেখা গেছে।

এমন সময়ে এই জরিপ প্রকাশিত হলো, যখন ইসরায়েল একাধিক আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে রয়েছে এবং লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী বাহ্যিক সংঘাতের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের সমাধান না হলে ইসরায়েলি সমাজে বিদ্যমান বিভাজন আরও গভীর হতে পারে।

জিউইশ পলিসি ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. শুকি ফ্রিডম্যান বলেন, এই ফলাফল একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা নির্দেশ করছে। তিনি ইসরায়েলি নেতাদের সমঝোতার জন্য কাজ করা এবং জনসমক্ষে সংযত বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও সতর্ক করেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাড়তে থাকা অবিশ্বাস ও দ্বিমত দ্রুত সমাধান না হলে দেশ একটি সাংবিধানিক ও সামাজিক সংকটের দিকে ধাবিত হতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি