ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মির্জা শরফউদ্দীন বেগ (রহ.)-এর স্মরণে বরিশালে দোয়া মাহফিল মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আক্ষেপ থেকেই যাবে! যাত্রীসেবায় আরও যত্নশীল হোক রেলওয়ে বাজেট প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা নাকি সংস্কারের হারানো সুযোগ ঢলে ভাসছে চকরিয়া-পেকুয়া, পাহাড়ধসে শিশুর মৃত্যু ‘বিড়ালের অভিশাপে’ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে ব্রাজিল রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের শঙ্কা, প্রস্তুত ৪৪ আশ্রয়কেন্দ্র মেসি ও সালাহর সামনে রেকর্ডের হাতছানি জয়পুরহাটে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৫ ভূমিরূপ পরিবর্তন অধ্যায়ের ১১টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র সদাচারী জ্ঞানসাধক আবুল কাসেম ফজলুল হক কিনব্রিজের পাদদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপন চট্টগ্রামে দেয়ালধসে নিহত ১, শিশুসহ আহত তিন টানা বৃষ্টির প্রভাব, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র অবিরাম বৃষ্টিতে ঝুঁকিতে বান্দরবান, খোলা হলো ২২০ আশ্রয়কেন্দ্র কারণ জানুন বিশ্ববাজারে ব্যবসা বাড়াতে নতুন রূপে ‘টিপসই’ মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে যেভাবে শুরু হয়েছিল মেসি-অধ্যায় এআই ও ডেটা সায়েন্সে স্নাতক প্রোগ্রাম চালু করল আইএসইউ বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী কম্বোডিয়ায় মানবপাচার ও তরুণ নিহতের ঘটনার মূলহোতা গ্রেপ্তার লাকড়ির স্তূপে বিষধর সাপ, প্রাণ গেল নারীর পাবলিক স্পিকিংয়ে মঞ্চ মাতাবেন যেভাবে মহাকাশে পতনশীল সুইফট অবজারভেটরি উদ্ধারে নাসার সফল অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকির সতর্কবার্তা ব্রাজিলের রাতের রানিতে সেজেছে পেকুয়ার পাহাড় নোয়াখালীর ২ হাসপাতালকে জরিমানা লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি ৭৩১ জনকে চাকরি দেবে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর

পাঠকের গল্প : ল্যান্ডফোনের ক্রসকানেকশন

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
পাঠকের গল্প : ল্যান্ডফোনের ক্রসকানেকশন
ছবি: এআই জেনারেট

নব্বই দশকের কথা। তখন মফস্বল থেকে ঢাকার জাতীয় দৈনিকে এত সহজে খবর পাঠানো যেত না। তখন ল্যান্ডফোন ডিজিটাল ছিল না। এনালগ লাইনের রিসিভারের ডায়াল ঘুরাতে ঘুরাতে হাত ব্যথা হয়ে যেত, তারপরও ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করা যেত না। তখনকার সাংবাদিকতা ছিল অত্যন্ত জটিল ও কঠিন কাজ। যে সময়ের কথা বলছি, তখন ফ্যাক্স, ই-মেইল আসেনি। মফস্বলের ফিচার নিউজ হাতে লিখে ডাক বিভাগের খোলা চিঠিতে এক টাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা ছিল। আর কারেন্ট নিউজ পাঠানো হতো টেলিফোনে। আমার এলাকার মফস্বলের সংবাদদাতাদের ফোনে নিউজ দেওয়ার জন্য পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জেলা টেলিফোন অফিসে যেতে হতো। 

সে সময় এনালগের একটি টেলিফোনের লাইন পেতে মানুষ দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে দ্বিধা করত না। তার অন্যতম কারণ হলো–এ অঞ্চলে প্রবাসীর সংখ্যা অনেক বেশি। চাহিদার তুলনা ল্যান্ডফোনের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। ঢাকায় তখন এক মিনিট কথা বলতে খরচ হতো ২০ টাকা। আবার দেশের অন্যান্য বিভাগ ও জেলায় খরচ ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা প্রতি মিনিট। এমন পরিস্থিতিতে ফোনে কারেন্ট নিউজ পাঠাতে গিয়ে অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হতো। তবে জেলা টেলিফোন অফিসে যেতে পারলে তারা দয়াবশত বিশেষ ব্যবস্থায় নিউজ পাঠানোর ব্যবস্থাটুকু করে দিতেন। টেলিফোন অফিসের কর্ডের মাধ্যমে তারা সরাসরি ঢাকার টেলিফোন অফিসে লাইন সংযোগ করে তাদের মাধ্যমে পত্রিকার অফিসে লাইন দেওয়া হতো। তাতে সরাসরি লাইন পাওয়া যেত। 

সে সময় টেলিফোন সংযোগের ডিমান্ড নোটে সরকারিভাবে খরচ হতো ৮ হাজার ৪০০ টাকা কিন্তু নেওয়া হতো দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত। এত টাকা দিয়েও অনেক সময় ফোনের সংযোগ পাওয়া যেত না। 

তবে হঠাৎ করেই শুনতে পেলাম এ অফিসে লাইন বাড়ানোর জন্য চীন থেকে ২০০ নতুন সংযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু সেখানে সংযোগের জন্য আবেদন পড়েছে কয়েক হাজার। তাই ২০০ লাইন এলেও সংযোগ পাওয়াটা ছিল অনিশ্চিত। 

অল্প খরচে সংযোগের জন্য দেশের টেলিফোন সংসদীয় কমিটির সুপারিশ লাগবে। নইলে লাইন নিতে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা খরচ হবে। এত টাকা কোথায় পাব? তবে সে সময় আমাদের ২ আসনের সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমেলী আপা হলেন টেলিফোন সংস্থার সংসদীয় বোর্ডের স্থায়ী সদস্য। তার সুপারিশের বদৌলতে একটি টেলিফোন লাইনের গর্বিত মালিক হলাম। 

এবার আসা যাক আসল কথায়। লাইন সংযোগ পেয়ে এখন আর বাড়ি থেকে পাঁচ কিলোমিটার হেঁটে আমাকে সংবাদ সংগ্রহ করতে হয় না। তখন জেলার কন্ট্রোল রুমে পুরো জেলার কোথায় কী ঘটছে তার সংবাদ চলে আসত। সেখান থেকেই মূলত আমরা সংবাদ পেতাম। এখন ঘরে বসেই তা পাচ্ছি। কিন্তু আমার ফোনে কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে থাকে। একেকটা লাইন সংযোগে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা হওয়ায় টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসের কর্মকর্তারা নিয়মের অধিক পরিমাণে লাইন সংযোগ দিয়েছিলেন। তাতেই একজনের লাইনের কথা আরেকজনের লাইনে ঢুকে পড়ত। কারও গোপন কথাই আর গোপন থাকত না। তখন একটা লোকাল কলের মূল্য ছিল ২ টাকা। একবার ফোন করে লাইন না কাটা পর্যন্ত কথা বলা যেত। এ সুযোগই নিত কিছু প্রবাসীর স্ত্রী। রিক্তা নামের একটা মেয়ে প্রায়শই আমার লাইনে ঢুকে পড়ত। সে মেয়ে তার খালাতো ভাইয়ের জন্য পাগল। ফোনের সেই আকুতি এখন আমার কানে বাজে। সে হয়তো এখন নানি-দাদি হয়েছেন। 

আরো পড়ুন: গাছের গায়ে যে কারণে সাদা রং দেওয়া হয়

ফোন অফিসের কয়েকজন পিয়ন ছিল যারা টেলিফোন অফিসের সুইচ রুম পাহারায় রাতে থাকতেন। তারাই সারা রাত মানুষের কথা আড়ি পেতে শুনতেন। অনেকের সঙ্গে আবার সখ্য পর্যন্ত গড়ে তুলতেন। কাউকে আবার ব্ল্যাকমেইল করার ঘটনা ঘটেছিল। এ নিয়ে টেলিফোনের অনেক বড় কর্মকর্তা পর্যন্ত সে জল গড়িয়েছিল। এখন যেমন একটি ছেলে বা মেয়ে একাধিকজনের সঙ্গে সম্পর্ক করে বেড়ায় সে সময়ও ফোনের ক্রসকানেকশনে শুনতে পেতাম একাধিক মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ঘটনা। প্রযুক্তির সুবিধা যেমন আছে তেমন দুর্ভাবনার বিষয়গুলোও এড়ানো যায় না। তাই মানুষের নৈতিকভাবে ভালো না হলে কেউ তাকে সংশোধন করতে পারে না। 

মিরাপাড়া, রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ।

তারেক/

মেঘদূতের বার্তা নিয়ে আসে কদম

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
মেঘদূতের বার্তা নিয়ে আসে কদম
ছবি: সংগৃহীত

প্রকৃতির রুক্ষতা ও গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহে যখন ধরিত্রী তৃষ্ণার্থ, ঠিক তখনই ধূসর মেঘের ডানা মেলে আসে বর্ষা আর এই বর্ষার আগমনী বার্তা নিয়ে গাছে গাছে হাসে কদম ফুল। বর্ষার প্রথম কদম ফুল যেন মেঘের দেশে বার্তা পাঠায়। কদম ফুল বাংলা ও বাঙালি বর্ষার এক অনবদ্য প্রতীক। আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টি ও মেঘের গর্জনের সঙ্গে মিতালি করে ফোঁটা এই ফুলটি তার স্নিগ্ধ রূপ আর মিষ্টি সুবাসে প্রকৃতির এক মোহময় রূপ দান করে।

কদম ফুল কেবল একটি ঋতুর আগমনী বার্তা বহন করে না, বরং এটি আমাদের লোকজ সংস্কৃতি ও ভালোবাসার এক আবেগময় স্মারক। বর্ষার প্রথম কদম ফুল যেন মেঘদূতের দূত হয়ে বার্তা নিয়ে আসে। তাছাড়া আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে কদম গাছের ছাল ও পাতার ব্যবহার রয়েছে। এটি জ্বর, ডায়রিয়া ও মুখের ঘা সরাতে আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

আরো পড়ুন: বৃষ্টির সময় ‘কই মাছ’ কেন মাটিতে উঠে আসে?

বর্ষা আর কদম ফুল যেন একে অপরের পরিপূরক। মেঘের গুরুগর্জন আর ঝুমঝুম বৃষ্টির ছন্দে কদমের ডালে ডালে ফুলে ওঠা হলুদ সাদা রঙের গোল গোল ফুলগুলো প্রকৃতিতে নিয়ে আসে অন্যরকম রোমান্টিকতা। কদম ফুলকে কেন্দ্র করেই বাংলা সাহিত্য ও কাব্য জগতে রচিত হয়েছে অসংখ্য অমর পঙ্‌ক্তি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর সৃষ্টি ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান, আমি নিতে এসেছি শ্রাবনের গান’ বাঙালির মননে কদমকে চিরন্তন করেছে। বাংলা সাহিত্যে কদম ফুল প্রেম ও বিরহের প্রতীক হিসেবে বহুল ব্যবহৃত। রবীন্দ্রনাথের লেখায় বর্ষা ও কদম মিলেমিশে একাকার। কবিগুরু তার বিভিন্ন গানে ও কবিতায় বর্ষার আগমনী বার্তা নিয়ে কদমকে ফুটিয়ে তুলেছেন নিপুণভাবে। অন্যদিকে পল্লীকবি জসিমউদ্‌দীনের কবিতায় কদম ফুল হয়ে ওঠে পল্লী প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বৃষ্টিস্নাত দিনে কদমের সুবাসিত স্নিগ্ধতা চারপাশের প্রকৃতিকে এক স্নিগ্ধ মায়ায় জড়িয়ে ফেলে। পাতার আড়ালে থাকা কদমকে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো যখন ছুঁয়ে যায়, তখন মনে হয় যেন সবুজ গালিচায় মুক্তার দানা ছড়িয়ে আছে। বর্ষার আগমনী বার্তা, প্রেমিক হৃদয়ের আকুলতা আর প্রিয় মানুষের স্মৃতি জাগিয়ে তুলতে কদম ফুল ও বৃক্ষ এক অদ্ভুত আবেগের প্রতীক হিসেবে কাজ করে। বর্ষার প্রথম কদম ফুল মানেই প্রিয় মানুষের হাত ধরে বৃষ্টিতে ভেজার রোমান্টিক অনুভূতি। বৃষ্টিস্নাত বিকেলে বারান্দায় বসে প্রিয়জনকে নিয়ে স্বপ্ন বোনা যেন প্রতিটি প্রেমিক পুরুষের চিরাচরিত বৈশিষ্ট্য। ঝুম বৃষ্টির শব্দ আর কদম ফুলের ঘ্রাণ বিরহী মানুষের মনে প্রিয়জনের শূন্যতা তীব্র করে তোলে। দূর প্রবাসে থাকা প্রিয়জনের জন্য অপেক্ষায় থাকা মন কদম গাছের ডালে, বৃষ্টির কান্নায় নিজের বিষণ্নতা খুঁজে পায়।

কদম যেন প্রকৃতির এক অদ্ভুত ক্যানভাস, যার এক পাশে লুকিয়ে আছে ভালোবাসার স্নিগ্ধতা, আর অন্যপাশে রয়েছে বিরহের গভীর হাহাকার। বর্ষার দিনে তাই কদম ফুল হয়ে ওঠে মানব মনের অব্যক্ত সব অনুভূতির রূপক। গ্রামবাংলার প্রকৃতিতে বর্ষার কদম গাছের দৃশ্য আরও বেশি মোহনীয় হয়ে ওঠে। ঝুম বৃষ্টির মাঝে ছোট ছোট ছেলেমেয়ে কদম গাছের ডাল ধরে টানাটানি করে। মাটিতে ঝরে পড়া কদম ফুল কুড়িয়ে মালা গাঁথা বা খোপায় গুঁজে দেওয়া পল্লী বাংলার এক চিরায়ত রূপ। শহরের ইট-পাথরের খাঁচায় কদম হয়তো সচরাচর দেখা যায় না, তবে গ্রামের মেঠো পথে কদমের ঘ্রাণ এক অদ্ভুত নস্টালজিয়া তৈরি করে। বৃষ্টির দিনে কদম গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা, কিংবা ভিজে মাটিতে কদম ফুলের পাপড়ি ঝরে পড়ার দৃশ্যটি মানব মনকে মুহূর্তেই শৈশবের কোনো সোনালি দিনে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। 

বর্ষা আসে নবযৌবনা হয়ে, আর কদম তার পুষ্পাঞ্জলি নিয়ে তাকে বরণ করে নেয়। বৃষ্টির ছন্দপতন আর কদমের স্নিগ্ধ গান মিলেমিশে তৈরি করে এক মায়াবী আবহ, যা মানুষের মনকে বিষণ্নতা ও রোমান্টিকতার এক অপূর্ব মিশ্রণে ডুবিয়ে দেয়। কদম যেন বৃষ্টিস্নাত প্রকৃতিকে আরও মোহনীয় ও আকর্ষণীয় করে তোলে।

তারেক/

আমের নাম যেভাবে এল

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
আমের নাম যেভাবে এল
ছবি: সংগৃহীত

বাংলায় মধুমাসের জনপ্রিয় ফল হলো আম। মধুর মতো স্বাদ, অতুলনীয় রূপ ও মোহনীয় ঘ্রাণ আমকে বানিয়েছে সব ফলের রাজা। আমের আছে অসংখ্য প্রজাতি যেগুলোর মধ্যে কিছু প্রজাতি সুপরিচিত। সেগুলোর ইতিহাসও আমাদের মুগ্ধ করে।

‎হিমসাগর: আমের যদি রাজা থেকে থাকে তবে তা হিমসাগর। একে আদর করে খিরসাপাত নামেও অনেকে ডেকে থাকেন। স্বাদ, সুমিষ্ট ঘ্রাণ আর পুষ্টির এক অসাধারণ সমন্বয় হিমসাগরের রাজকীয় স্বাদ যে কারও মন জয় করে নিতে বাধ্য। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী এবং সাতক্ষীরার হিমসাগর তার অতুলনীয় স্বাদের জন্য দেশজুড়ে বিখ্যাত। হিমসাগরের আমের ইতিহাস বহু শতাব্দীর পুরোনো এবং মুঘল আমলে অবিভক্ত বাংলার মালদহ, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ অঞ্চলে এই আমের ব্যাপক প্রসার ঘটে। লোকেমুখে প্রচলিত ছিল যে, প্রচণ্ড গরমের দিনে এই আম খেলে অতিরিক্ত মিষ্টি রস ও শাঁস ভেতরে এক ধরনের শীতল বা ঠাণ্ডা আমেজ তৈরি করে, যা হিম বা বরফের মতো অনুভূতি দেয়। সেই সঙ্গে স্বাদের গভীরতা ও সুবাসের বিস্তৃতি বোঝাতে সাগর শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে।

‎ফজলি: ফজলি বা ফকিরভোগ আম বাংলাদেশের রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি নাবী জাতের সুস্বাদু আম। বড় আকারের ও মিষ্টি স্বাদের আমটির পেছনে রয়েছে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এক চমকপ্রদ ইতিহাস। ঔপনিবেশিক সময়ে প্রায় ১৮০০ সালের দিকে বাংলার গৌড়ে ফজলি বিবি নামে এক বৃদ্ধা বাস করতেন। নিজস্ব চিন্তাধারা অনুসারে তিনি সন্ন্যাসী-ফকিরদের ভোগ দিতেন গাছের আম দিয়ে।

আরো পড়ুন: যে অনুষ্ঠানে হবু দম্পতিরা জঞ্জাল সাফ করেন

একদিন মালদহের কালেক্টর র‍্যাভেনস বৃদ্ধার বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তৃষ্ণার্ত হয়ে তিনি ওই বৃদ্ধার বাড়িতে এসে পানি চান। পানির সঙ্গে ফজলি বিবি তাকে নিজের গাছের আমও খেতে দেন। রসালো ও সুমিষ্ট আম খেয়ে খুব ভালো লাগায় তখন তিনি সেই আমের জাতের নাম জানতে চান। কিন্তু ইংরেজি না বুঝে শুধু ‘নেম’ শুনেই নিজের নাম বলে দেন ফজলি বিবি। সেই থেকেই এই জাতের আম ‘ফজলি’ হিসেবে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসবই লোকমুখে প্রচলিত গল্প, অনেকেই বিশ্বাস করেন না। কারণ অনেকের মতে, পঞ্চদশ শতাব্দীতে সুলতান ইউসুফের আদরের নর্তকী ফজল বিবির নামেই নাকি এসেছে ফজলি আম।

‎ল্যাংড়া: ল্যাংড়া আম ভারত ও বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় এবং সুস্বাদু একটি আমের জাত। প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ বছর আগে ভারতের বেনারসে (বর্তমান বারাণসী) এই আমের উৎপত্তি হয়। ইতিহাস ঘেঁটে জানা গেছে, আঠারো শতকে বিহার প্রদেশে বেনারসের এক চাষি ব্যক্তি বা এক ফকির একটি বিশেষ জাতের সুস্বাদু আম খেয়ে বীজটি নিজ বাড়ির আঙিনায় রোপণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন মন্দিরের এক খোঁড়া পুরোহিত, লোকজন তাকে ল্যাংড়া পুরোহিত বলে সম্বোধন করত। সেই গাছের ফলগুলো যখন আশপাশের মানুষের কাছে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তখন সেই খোঁড়া বা শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির নাম বা উপাধি অনুসারেই আমটির নাম দেওয়া হয় ল্যাংড়া আম। তবে স্থানভেদে এটি ‘বারাণসী আম’ বা পশ্চিমবঙ্গের মালদা অঞ্চলে ‘মালদা আম’ নামেও পরিচিত।

‎আম্রপালি: দেশের বাজারে যেসব জাতের আম পাওয়া যায় তার মধ্যে আম্রপালি বেশ জনপ্রিয়। কিছুটা নাবি জাতের আম্রপালিকে অনেকে আমের রানি বলে থাকেন। ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীন ভারতে আম্রপালি নামক এক নর্তকীর নামে এ আমের নামকরণ করা হয়। বিহারের বৈশালী শহরে ২৫০০ বছর আগে আম্রপালি জন্ম নেন। তিনি ছিলেন সে সময়ের শ্রেষ্ঠ সুন্দরী এবং নর্তকী। তার রূপে পাগল ছিল পুরো পৃথিবী আর এই রূপই তার জন্য কাল হয়ে ওঠে। যার কারণে তিনি ছিলেন ইতিহাসের এমন একজন নারী, যাকে রাষ্ট্রীয় আদেশে নগরবধূ বানানো হয়েছিল। মাহানামন নামে এক ব্যক্তি শিশুকালে আম্রপালিকে আম গাছের নিচে খুঁজে পান। তার আসল বাবা-মা কে ইতিহাস ঘেঁটেও তা জানা যায়নি। যেহেতু তাকে আম গাছের নিচে পাওয়া যায় তাই তার নাম রাখা হয় আম্রপালি। সংস্কৃতে আম্র মানে আম এবং পল্লব হল পাতা অর্থাৎ আমগাছের নবীন পাতা।

হাঁড়িভাঙা: রংপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু ‘হাঁড়িভাঙা’ আম সম্পূর্ণ আঁশবিহীন এবং মিষ্টি স্বাদের জন্য দেশ-বিদেশে বিখ্যাত। এর উৎপত্তি রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের তেকানী গ্রাম থেকে। আমটির ইতিহাসের গোড়াপত্তন করেছিলেন নফল উদ্দিন পাইকার নামের এক বৃক্ষবিলাসী মানুষ। শুরুতে এ আমের নাম মালদিয়া ছিল। রাজা তাজ বাহাদুর সিংয়ের আমলে আমদানি করা ও রোপিত বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ছিল, যা যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। জমিদার বাগান থেকে আনা চারা পরম যত্নে কলম করে মাটির হাঁড়ি বেঁধে ফিল্টার দিয়ে পানি দিতেন। এক রাতে কারা যেন মাটির হাঁড়িটি ভেঙে ফেলে। তবে পরবর্তী সময়ে গাছটিতে বিপুল পরিমাণ আম ধরে এবং সেগুলো ছিল খুবই সুস্বাদু। বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে গেলে মানুষ ওই আম সম্পর্কে জানতে চায়। তখন নফল উদ্দিন মানুষকে বলেছিলেন, যে গাছে লাগানো হাঁড়িটি মানুষ ভেঙে ফেলেছিল সেই হাঁড়িভাঙা গাছের আম এগুলো। তখন থেকেই ওই গাছটির আম ‘হাঁড়িভাঙা’ নামে পরিচিতি পায়। হাঁড়িভাঙার মাতৃগাছটির বয়স প্রায় ৬৪ বছর।

‎জনপ্রিয় আমগুলো ছাড়াও আছে ব্রিটিশ আমলে চণ্ডিপুরের বাসিন্দা লক্ষণ চাষির স্বাদে-ঘ্রাণে অতুলনীয় লক্ষণভোগ আম। নরহাট্টার গোপাল চাষির গোপালভোগ আম। গোলাপ ফুলের মতো ঘ্রাণ ও আভা থাকায় এক প্রজাতির আমের নামকরণ হয় গোলাপখাস। আশ্বিন মাসে পরিপক্ব হয় বলে এক প্রজাতির আমের নামকরণ হয় আশ্বিনা আম। এছাড়া আরও অনেক প্রজাতির আম আছে যাদের সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায় না বললেই চলে। যেমন–অরুণা, মল্লিকা, কালীভোগ, সুবর্ণরেখা, তোতাপুরী, কারাবাউ, পাহুতান, ছাতাপরা, নিলাম্বরী, মিশ্রিদানা, কলাবতী, লখনা ইত্যাদি।

তারেক/

পাঠকের গল্প : একটি খালি বেডের গল্প

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:২২ পিএম
পাঠকের গল্প : একটি খালি বেডের গল্প
ছবি: এআই

আমাদের এলাকায় গত বর্ষায় ডেঙ্গুর মহা প্রকোপ যেন শুরু হয়েছিল। এমন কোনো ঘর নেই যেখানে ডেঙ্গু হয়নি। একই ঘরের বড় ছেলেকে চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ভালো করে নিয়ে আসতে আসতে আবার ছোট ছেলেকে নিয়ে দৌড়াতে হচ্ছে হাসপাতালে। সে ভালো হলে আবার তার মা এ মহামারির কবলে পড়ছেন। চারদিকে ডেঙ্গু মশা যেন মানুষের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা শুরু করেছে। 

এবার আসল কথায় আসা যাক। আমার ঘরে প্রথমে বড় ছেলের ডেঙ্গু ধরা পড়ে। ফার্মেসিতে বসা এমবিবিএস ডাক্তার দেখালে তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেয়। রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে। ডেঙ্গু প্রথম অবস্থায় রোগ শনাক্তকরণ করা গেলে তেমন জটিলতা তৈরি হয় না। তাতে সামান্য চিকিৎসাতেই ভালো হয়ে যায়। তবে ডেঙ্গু রোগীর যদি বেশি বমি এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় তখন হাসপাতালের অক্সিজেন ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। আমার ছেলের অক্সিজেনের প্রয়োজন হলো। দুবার দেওয়ার পরই জটিলতা অনেকাংশে কমে গেল। এবার শুরু হলো বমি। তার জন্য ইনজেকশন অতি আবশ্যক। ইনজেকশন দেওয়া হলে বমির উপসর্গও নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তখন খাবার খেতে কোনো ধরনের সমস্যা হয় না। যারা জটিলতার জন্য মুখে খাবার খেতে পারেন না তাদের স্যালাইন দেওয়া হয় খাবারের বিকল্প হিসেবে। 

রোগ যখন মহামারি আকার ধারণ করে তখন চারদিকে রোগীর খাবারের জন্য হাহাকার পড়ে যায়। তখন হাসপাতালের গেটে ডাব আর ফলের দোকানের মালিকরা যেন সিন্ডিকেটের পসরা সাজিয়ে বসেন।

আরো পড়ুন: বরফ রাজ্যে বেঁচে থাকা আশ্চর্য ব্যাঙ

হাসপাতালের নানাবিধ সংকটের মধ্যে মানুষের মাঝে আতঙ্ক আর দুর্ভোগ যেন পাল্লা দিয়ে বেড়ে যাচ্ছিল তখন। সরকারি হাসপাতালে থেকে নাপা আর গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ছাড়া আর কিছুই দেওয়া হচ্ছিল না। স্যালাইনসহ যাবতীয় ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। আবার যে খাবার বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে তাও খাবার উপযোগী নয়। 

একদিন হঠাৎ করেই আমার চোখে পড়ল অনেক সময় ধরে আমার পাশের বেডে রোগী নেই। তিনি আবার ছুটি নিয়ে বাড়িতেও যাননি। তাহলে তিনি গেলেন কোথায়? আমি বিষয়টি নিয়ে ভাবছি। ডাক্তার ভিজিট করা পর্যন্ত রোগী তার বেডে থাকেন তারপরই বেড থেকে সারা দিনের জন্য কোথায় যেন উধাও হয়ে যান। বিষয়টি আমার কাছে একটা খটকা লাগল। তবে রোগী উধাও হলেও তার স্ত্রী মাঝে মাঝে এসে বেডের ওপর শুয়ে থাকেন। 

কয়েকদিন হলো আমি হাসপাতালে এসেছি। ছেলের প্লাটিলেট উন্নতির দিকে। ডাক্তারের ভাষায় প্লাটিলেট বাড়তে থাকলে তা আর কমে না। তখনই ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়েছেন বলে ধরা হয়। 

সেদিন বড় ডাক্তার এসেছেন ভিজিটে। আজকে পাশের সেই বেডের রোগীকে ডাক্তার দেখছেন। তার একটা পরীক্ষার রিপোর্টে দেখে তো তিনি অবাক হলেন। রিপোর্টে দেখলেন, এ রোগীর ডেঙ্গু হয়নি। এবার ডাক্তারকে চিন্তিত দেখা গেল। তবে কিছুক্ষণ পরই তিনি বললেন, যদি ডেঙ্গুই না হয় তাহলে দিন দিন তার প্লাটিলেট কমছে কেন? তার ডেঙ্গু, রিপোর্টে বিষয়টি ধরা পড়ছে না। প্লাটিলেট কমে মাত্র ১৬ হাজার রয়েছে তার। ১০ হাজারের নিচে নামলেই বিপজ্জনক ধরা হয়ে থাকে। এ রোগীর অবস্থাও এখন জটিল ও কঠিন।

এবার ডাক্তার চলে যাওয়ার পর আমি সে রোগীকে বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলাম, কেন তিনি সারা দিন বাইরে থাকেন। উত্তরে যা জানলাম, তিনি অনেক গরিব মানুষ। হাসপাতাল থেকে ওষুধ আর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেওয়া হলেও তা করানোর জন্য যে টাকা দরকার তা তার কাছে নেই। তিনি মৌসুমি কদবেল বিক্রেতা। বেলের গাছ কিনে তা পেড়ে পাইকারি আড়তে নিয়ে বিক্রি করে থাকেন তিনি। অনেক কদবেল গাছ তার কেনা রয়েছে কিন্তু অসুখের জন্য তা পেড়ে বিক্রি করতে পারছেন না। হাতে যা টাকা ছিল তা আগেই শেষ হয়ে গেছে। এখন বিপদের সময় সারা দিন আড়তে আড়তে ঘুরছেন কিছু টাকার জন্য। কিন্তু বেল দিতে পারছেন না বলে কোনো আড়ত থেকেই অ্যাডভান্স পাচ্ছেন না। সেখান থেকে ব্যর্থ হয়ে এবার দিনভর আত্মীয়স্বজনের কাছে ধরনা দিচ্ছেন রোগী মুজিবর মিয়া। এ কথাগুলো বলার সময় তার চোখের পাতা পানিতে ভিজে উঠছে। আমি তার পাশের সিটে থেকেও তার এমন দুর্দশার কথা বুঝতে পারিনি। আর তিনিও কিছু বলেননি। জেলা শহরের হাসপাতালে একজন গরিব রোগী ভর্তি হলেই যে তার টাকা ছাড়া চিকিৎসা মিলবে এ কথা ভাবা যায় না। এ গরিব রোগী হয়তো ভেবেছিলেন, টাকা ছাড়াই তিনি চিকিৎসা নিতে পারবেন। 

অবশেষে আমার ছেলের ডেঙ্গু সম্পূর্ণরূপে ভালো হয়ে গেছে। এবার আমার হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পালা। কিন্তু গরিব রোগী মুজিবের কী হবে এমন কথাই এখন আমি ভাবছি। আমার বেঁচে যাওয়া কিছু খাবার তাকে দিলাম। কিছু টাকাও রেখে আসলাম তার জন্য। কিন্তু পরে রোগী মুজিবরের কী হলো তা আর জানতে পারলাম না। মনের ভেতর একটা কষ্টবোধ রয়েই গেল। দেশের গরিব মানুষরা এভাবেই চিকিৎসার জন্য কি ধুঁকে ধুঁকে মারা যাবে? এখানে কী রাষ্ট্র গরিবদের জন্য আর একটু বাড়তি বাজেট দিতে পারে না? এ প্রশ্নই এখন আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

মিরাপাড়া, রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ।

তারেক/

গাছের গায়ে যে কারণে সাদা রং দেওয়া হয়

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
গাছের গায়ে যে কারণে সাদা রং দেওয়া হয়
ছবি: সংগৃহীত

রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলোর গোড়ায় সাদা রং দেখে অনেকেই বিস্মিত হন। অনেকেই ভাবেন, এটি হয়তো শুধু সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য। কিন্তু বাস্তবে এর পেছনে রয়েছে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ। কিন্তু এই সাদা রং শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কারণ। রয়েছে বিভিন্ন সুরক্ষামূলক উদ্দেশ্য, যা গাছের স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

গাছের গায়ে সাধারণত চুন বা বিশেষ ধরনের সাদা রং ব্যবহার করা হয় গাছকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য। দিনের বেলায় সূর্যের তাপ গাছের গায়ে পড়ে গাছের কাণ্ড দ্রুত গরম হয়ে যায়। আবার রাতে তাপমাত্রা কমে গেলে কাণ্ড দ্রুত ঠাণ্ডা হয়। এই হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তনের ফলে গাছের বাকল ফেটে যেতে পারে। সাদা রং সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে, ফলে গাছ অতিরিক্ত গরম হয় না এবং কাণ্ড সুরক্ষিত থাকে।

আরো পড়ুন: মরুভূমিতে জীবন রক্ষাকারী লেজার টাওয়ার

এছাড়া সাদা রং অনেক ক্ষতিকর পোকামাকড় ও ছত্রাকের আক্রমণ কমাতেও সাহায্য করে। বিশেষ করে চুনের প্রলেপ পিঁপড়া, উইপোকা বা কিছু রোগজীবাণুকে দূরে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই ফলজ ও শোভাবর্ধক গাছে এই পদ্ধতি বেশি দেখা যায়।

গাছের গায়ে সাদা রং দেওয়ার আরও কিছু কারণ হলো–

১. রাত্রিকালীন দৃশ্যমানতা: 
রাতের বেলা গাড়ি চালকদের জন্য রাস্তার ধারের গাছগুলো সহজে দৃশ্যমান হয়, যা দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করে।

২. সৌন্দর্য বৃদ্ধি:
সাদা রং শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং পরিচ্ছন্নতার ধারণা দেয়।

৩. গাছ চিহ্নিতকরণ:
বিভিন্ন প্রজাতির গাছ চিহ্নিত করার জন্যও এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

তবে সব গাছে সাদা রং করা হয় না। সাধারণত যেসব গাছ বেশি রোদে থাকে বা যেগুলোকে বিশেষ যত্নে রাখা হয়, সেসব গাছেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাই গাছের গায়ে সাদা রং শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়; এর পেছনে রয়েছে গাছের সুরক্ষা, রোগ প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তার মতো বাস্তব ও বৈজ্ঞানিক কারণ।

তারেক/

অদ্ভুত ঠোঁটের রহস্যময় শুবেল

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
অদ্ভুত ঠোঁটের রহস্যময় শুবেল
ছবি: সংগৃহীত

প্রকৃতির বিস্ময়কর প্রাণীদের মধ্যে শুবেল এক রহস্যময় নাম। বিশাল দেহ, অদ্ভুত জুতার মতো ঠোঁট এবং গম্ভীর চেহারার কারণে এই পাখি সহজেই সবার দৃষ্টি কাড়ে। আফ্রিকার জলাভূমিতে বসবাসকারী এই বিরল পাখিকে প্রথম দেখায় ভয়ংকর মনে হলেও, এর জীবনযাপন অত্যন্ত শান্ত ও ধীরস্থির। অদ্ভুত গঠন ও আচরণের জন্য শুবিলকে প্রকৃতির অন্যতম বিস্ময়কর পাখি বলা হয়।

শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য: শুবেল আকারে বড় ও শক্তিশালী পাখি। একটি পূর্ণবয়স্ক শুবেলের উচ্চতা প্রায় চার থেকে পাঁচ ফুট, আর ডানা মেলে ধরলে বিস্তার হয় প্রায় সাত থেকে আট ফুট। এদের দেহের রং ধূসরাভ, যা জলাভূমির পরিবেশের সঙ্গে মিশে যেতে সাহায্য করে।

তবে শুবেলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর বিশাল ঠোঁট। জুতার মতো আকৃতির এই ঠোঁট প্রায় এক ফুট লম্বা এবং অত্যন্ত শক্তিশালী। এই ঠোঁট দিয়েই শুবিল দক্ষতার সঙ্গে শিকার ধরে। বড় মাথা, লম্বা পা এবং তীক্ষ্ণ চোখ তাকে এক রাজকীয় ও রহস্যময় চেহারা দিয়েছে।

আরো পড়ুন: মরুভূমিতে জীবন রক্ষাকারী লেজার টাওয়ার

খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা: শুবেল মূলত মাংসাশী পাখি। মাছ, ব্যাঙ, জলজ সাপ, টিকটিকি এমনকি ছোট কুমিরও এদের খাদ্যতালিকায় থাকে। শিকার ধরার সময় এরা পানির ধারে দীর্ঘক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। শিকার কাছে এলেই দ্রুত ঠোঁটের আঘাতে ধরে ফেলে।

শুবেল সাধারণত একাকী থাকতে পছন্দ করে এবং খুব কম শব্দ করে। শান্ত ও ধৈর্যশীল স্বভাবের কারণে এরা নিঃশব্দ শিকারি হিসেবে পরিচিত। ধীর চলাফেরার আড়ালে লুকিয়ে আছে অসাধারণ শিকার দক্ষতা, যা তাকে জলাভূমির সফল শিকারিতে পরিণত করেছে।

বাসস্থান ও পরিবেশ: শুবেল মূলত পূর্ব ও মধ্য আফ্রিকার বিস্তৃত জলাভূমিতে বসবাস করে। উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান, তানজানিয়া ও জাম্বিয়া অঞ্চলের জলাভূমিতে এদের বেশি দেখা যায়। কাদা, পানি ও ঘন জলজ উদ্ভিদপূর্ণ পরিবেশ এদের বসবাসের জন্য উপযুক্ত।

এই জলাভূমিগুলো শুধু আশ্রয়ই দেয় না, বরং খাদ্যের উৎসও জোগায়। জলাভূমির পরিবেশ নষ্ট হলে শুবিলের জীবন হুমকির মুখে পড়ে। তাই এই বিরল পাখিকে টিকিয়ে রাখতে জলাভূমি সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।

প্রজনন: প্রজনন মৌসুমে শুবেল জলাভূমির ঘাস, শুকনো ডালপালা ও উদ্ভিদ দিয়ে বড় বাসা তৈরি করে। স্ত্রী শুবেল সাধারণত এক থেকে তিনটি ডিম পাড়ে। মা ও বাবা উভয়েই ডিমে তা দেয় এবং ছানার যত্ন নেয়।

ছানা জন্মের পর মা-বাবা তাকে খাদ্য জোগায় এবং সুরক্ষা দেয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে একটি ছানাই বড় হয়ে বেঁচে থাকে। শুবেল ধীরে বড় হয় এবং দীর্ঘজীবী পাখি হিসেবে পরিচিত। এরা প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

অদ্ভুত ঠোঁট, বিশাল দেহ এবং রহস্যময় জীবনযাপনের কারণে শুবিল প্রকৃতির এক অনন্য বিস্ময়। পৃথিবীর প্রাণিজগৎ কত বৈচিত্র্যময় ও রহস্যে ভরা। এই বিরল পাখিকে রক্ষা করা মানে প্রকৃতির এক অনন্য সৌন্দর্যকে রক্ষা করা। 

তারেক/