অষ্টম অধ্যায় : বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর-১
নিচের চিত্রটি দেখে প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখ।
(ক) জাতিসংঘ কখন প্রতিষ্ঠিত হয়?
(খ) আন্তর্জাতিক সংস্থা বলতে কী বোঝায়?
(গ) উদ্দীপকের চিত্রের সংস্থাটির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।
(ঘ) বাংলাদেশের শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নয়নে ওই সংস্থার ভূমিকা মূল্যায়ন করো।
উত্তর: ক. ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়।
খ. আন্তর্জাতিক সংস্থা বলতে একাধিক জাতির সমন্বয়ে গঠিত সংগঠনকে বোঝায়, যা একাধিক দেশে তার কার্যক্রমের বিস্তৃতি ঘটিয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বা জাতির সমন্বয়ে গঠিত যেসব সংস্থা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সমাজকল্যাণ কার্যক্রম প্রণয়ন, উন্নয়ন ও প্রসারে নিয়োজিত থাকে সেসব সংস্থাকেই আন্তর্জাতিক সংস্থা বলা হয়। যেমন- জাতিসংঘ, ইউনিসেফ, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ইত্যাদি। এসব সংস্থা নিজ নিজ নীতিমালা অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
গ. উদ্দীপকের চিত্রের সংস্থাটি হলো ইউনিসেফ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউনিসেফের যাত্রা শুরু হয়। সে সময় ইউরোপের শিশুদের জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, বস্ত্র এবং ওষুধ সরবরাহের লক্ষ্যে ১৯৪৬ সালের ১১ ডিসেম্বর ইউনিসেফ আত্মপ্রকাশ করে।
ইউনিসেফ সারা বিশ্বে যেসব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে সেগুলোর মধ্যে শিশু স্বাস্থ্যের উন্নতি, শিশু ও নারীদের জন্য পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা এবং তাদের জন্য হাসপাতাল ও সদন নির্মাণ করা, তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ইত্যাদি অন্যতম। সেই সঙ্গে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা, তাদের স্বাস্থ্য রক্ষায় বিদ্যালয়ে খাদ্য প্রকল্প চালু করা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের পুনর্বাসনে সহায়তা করা, এইডসের ভয়াবহতা থেকে তাদের রক্ষা করা প্রভৃতি লক্ষ্য অর্জনে ইউনিসেফ কাজ করে যাচ্ছে। এ ছাড়া লিঙ্গবৈষম্য রোধে সহায়তা করা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় পদক্ষেপ গ্রহণ করাও সংস্থাটির অন্যতম লক্ষ্য।
ঘ. বাংলাদেশে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নয়নে উদ্দীপকে ইঙ্গিত করা প্রতিষ্ঠান ইউনিসেফের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইউনিসেফ হলো সারা বিশ্বের শিশুদের সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। উদ্দীপকে চিত্রের মাধ্যমে ইউনিসেফকে নির্দেশ করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ইউনিসেফ বাংলাদেশে কাজ করে আসছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের শিশুদের স্বাস্থ্যরক্ষা ও পুষ্টি কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের শিশুদের কল্যাণে খাদ্য, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, বিশুদ্ধ পানি, টিকা ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করে থাকে। বাংলাদেশে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় ইউনিসেফের গৃহীত কর্মসূচিগুলো হলো- স্বাস্থ্যকর্মী প্রশিক্ষণ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, পয়ঃপ্রণালি ব্যবস্থা, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি থেকে প্রতিকার ও প্রতিরোধ করা। আমাদের দেশের শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূর করতে ইউনিসেফ পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ, পুষ্টি সংক্রান্ত জ্ঞান দান এবং WHO-এর সঙ্গে যৌথভাবে ওষুধ সরবরাহ করে থাকে। শিক্ষাক্ষেত্রেও ইউনিসেফের অবদান অপরিসীম। বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা কর্মসূচির পাশাপাশি ইউনিসেফ নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ, পুরোনো প্রতিষ্ঠান সংস্কার, শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তাছাড়া ইউনিসেফের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম, এইচআইভি আক্রান্ত শিশুদের জন্য কার্যক্রম, জন্মনিবন্ধন, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রভৃতি। তাই বলা যায়, উল্লিখিত কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিশুদের কল্যাণে কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা রেখে চলেছে।
লেখক : প্রভাষক, সমাজকর্ম বিভাগ
শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মধুবাগ, মগবাজার, ঢাকা
কবীর