চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আজ বৃহস্পতিবার শুরু। পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত রাখতে দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রই এবার রাজধানীর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য থাকবে বডি-ওর্ন ক্যামেরা।
বুধবার (২ জুন) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মন্ত্রী বলেন, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল থেকে দেশের যেকোনো কেন্দ্রের পরীক্ষা তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এতে অনিয়ম ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এবার মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যেসব দিনে পরীক্ষা থাকবে না, সেসব দিনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চলবে।
পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, পরীক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত খাতার চাপ কমানো হয়েছে এবং আইন সংশোধনের মাধ্যমে প্রয়োজন হলে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের (রি-এক্সামিন) সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে র্যান্ডম স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষকরা সঠিকভাবে খাতা মূল্যায়ন করছেন কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।
কোচিং সেন্টার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করা গেলে কোচিংয়ের প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে যাবে। এ লক্ষ্যেই পরীক্ষা, ফল প্রকাশ ও ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচি সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় কোচিংনির্ভর না হয়ে পড়ে। তিনি আরও জানান, কোচিং সেন্টার পরিচালনায় সরকারি অনুমোদন ও তদারকি জোরদার করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীক্ষা নিয়ে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হলে যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে সতর্ক করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার হলে ফেসবুক লাইভ করা উচিত নয়। এ ছাড়া কোনো কেন্দ্রে ভুল প্রশ্ন বিতরণ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায় নিতে হবে। দুর্যোগ পরিস্থিতিতে কোনো এলাকায় পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হলে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, মাদ্রাসা বোর্ডে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।