জাতীয় পর্যায়ে পরিবেশ সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে সেজে ওঠা কক্সবাজারের পেকুয়া চৌমুহনীস্থ গোল চত্বরের সৌন্দর্যবর্ধন উদ্যোগটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উদ্বোধনের রেশ না কাটতেই স্থানীয় কিছু অসচেতন ব্যবসায়ী ও পথচারীর যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে চত্বরের ভেতরে রোপণ করা নান্দনিক চারাগাছগুলো এখন ময়লার স্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। ফলে একদিকে যেমন চারাগুলো মরতে বসেছে, অন্যদিকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলকে ব্যাহত করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চৌমুহনী গোল চত্বরের লাল রঙের লোহার বেষ্টনীর ভেতরে যেখানে নতুন সবুজ চারাগাছগুলো মাথা তুলে দাঁড়ানোর কথা, ঠিক তার ওপরই প্লাস্টিকের বস্তা ও পলিথিন ভর্তি ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখা হয়েছে। চত্বরের ভেতরের ঘাস ও চারাগাছগুলো আবর্জনার নিচে ঢাকা পড়ে নষ্ট হচ্ছে। অথচ, গত ১৩ জুন এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কারের পর এখানে বিভিন্ন প্রজাতির নান্দনিক চারাগাছ রোপণ করা হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ দিদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তড়িঘড়ি করে এই স্থানটি পরিষ্কার ও সুন্দর করা হয়েছিল। কিন্তু একশ্রেণির অসচেতন ব্যবসায়ী ও পথচারী নিয়মিত এই চারাগাছগুলোর ওপরই ময়লা ফেলছেন। লোহার বেষ্টনি দিয়ে ঘেরা থাকার পরও এভাবে ময়লা ফেলায় একদিকে যেমন চারাগাছগুলো মারা যাচ্ছে, অন্যদিকে পুরো চৌমুহনী এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
চৌমুহনী বাজারের সাধারণ পথচারীদের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর তদারকি এবং ময়লা ফেলার সুনির্দিষ্ট ডাস্টবিন বা বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত এই আবর্জনা অপসারণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সরকারের উদ্যোগটি ব্যর্থ হবে।
এ বিষয়ে পেকুয়া বাজারের সচেতন মহল স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যেন চত্বরটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণসহ রোপণ করা চারাগাছগুলো বাঁচিয়ে রাখতে যথাযথ আইনী ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, গোলচত্বরে সৌন্দর্যবর্ধনের চারার ওপর যারা ময়লা-আবর্জনা ফেলেছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
রাকিবুল/হীরা