চাঁদপুর জেলার মোট বিদ্যুতের চাহিদার প্রায় ৮৭ শতাংশই পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন গ্রাহকদের। জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে গ্রামীণ জনপদে।
গত কয়েক দিনের তীব্র গরম ও বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদার সময় পল্লী এলাকায় বিদ্যুৎ ঘাটতি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এতে বিভিন্ন এলাকায় দিনে ও রাতে বারবার লোডশেডিং হয়েছে। যদিও বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
জেলার বিদ্যুতের মোট চাহিদা ২৩৩ মেগাওয়াট। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের আওতায় গ্রাহকদের চাহিদা ২০২ মেগাওয়াট এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) আওতাধীন গ্রাহকদের চাহিদা ৩১ মেগাওয়াট।
বুধবার (১ জুলাই) চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) চাঁদপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর মহাব্যবস্থাপক গোবিন্দ আগারওয়াল জানান, তাদের আওতাধীন উপজেলাগুলোতে বিদ্যুতের চাহিদা ৯২ মেগাওয়াট। গ্রাহকসংখ্যা প্রায় চার লাখ। বর্তমানে শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর মহাব্যবস্থাপক আতিকুজ্জামান জানান, তাদের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ১১০ মেগাওয়াট এবং গ্রাহকসংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ। বর্তমানে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চাঁদপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, চাঁদপুর শহর এলাকায় তাদের প্রায় ৭৫ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এ অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩১ মেগাওয়াট। চলতি মৌসুমে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ সংকটের সময় প্রতিদিন ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং দিতে হয়েছে। বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, সেই অনুযায়ী গ্রাহকদের বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই চাঁদপুরে বিদ্যুৎ বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়। ফলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কমে গেলে জেলার পল্লী ও শহর- উভয় এলাকাতেই এর প্রভাব পড়ে। তবে বর্তমানে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় আগের তুলনায় লোডশেডিং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং গ্রাহকরাও কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।
ফয়েজ আহমেদ/অদিতি/