যশোরের শার্শা উপজেলার একটি ফাজিল মাদরাসার প্রধান শিক্ষক (সুপার) মমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক।
এ ঘটনায় গতকাল বুধবার ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উপজেলার সামটা ছিদ্দিকীয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার এক ছাত্রীকে একই প্রতিষ্ঠানের সুপার মমিনুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী ভয়ে দীর্ঘদিন পরিবারের কাছে বলতে পারেনি। পরে অভিযুক্তের আচরণ অসহনীয় হয়ে উঠলে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান।
এতে আরও বলা হয়, অভিযুক্তের প্রস্তাবে রাজি না হলে পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়া, বিভিন্নভাবে ক্ষতি করার হুমকি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এমনকি ১৮ জুন রাতে অভিযুক্ত বাড়িতে গিয়ে ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তিনি জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশের চেষ্টা এবং ছাত্রীর হাত ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও অভিযোগ করেন।
এরপর ২৯ জুন অভিযুক্ত মাদরাসা সুপার ছাত্রীর বাবার হাতে টিসি দিয়ে তার মেয়ের নাম প্রতিষ্ঠান থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে বলে জানান।
বর্তমানে ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, এর আগেও একই সুপারের বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। নতুন করে থানায় লিখিত অভিযোগ করায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নজরুল ইসলাম/আজহার/