২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ক্রোয়েশিয়া ও পর্তুগাল। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ম্যাচটি লুকা মদ্রিচ ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দ্বৈরথ হিসেবে আলোচিত হলেও, ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ ততটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না । তার বিশ্বাস, ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হবে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণের ওপর।
দালিচ বলেন, ‘আমার মনে হয় এটি হতে যাচ্ছে মিডফিল্ডারদের মধ্যকার একটি যুদ্ধ। পর্তুগালের মাঝমাঠে দারুণ সব খেলোয়াড় রয়েছে এবং কৌশলের দিক থেকেও তারা বেশ পরিপক্ব। এই ম্যাচে প্রতিটি ভুলের জন্য বড় মাশুল গুনতে হবে।’
দুই দলের ফুটবল ইতিহাসে এটিই প্রথম বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হওয়া। নকআউট পর্বের এই লড়াইয়ে জয়ী দল এগিয়ে যাবে পরবর্তী ধাপে, আর পরাজিত দলের শেষ হয়ে যাবে বিশ্বকাপ স্বপ্ন।
চলতি বিশ্বকাপে শুরুটা ভালো হয়নি ক্রোয়েশিয়ার। প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়ে তারা পানামাকে ১-০ এবং ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে। অন্যদিকে পর্তুগাল গ্রুপ পর্বে একটি জয় ও দুটি ড্র নিয়ে নকআউটে উঠলেও প্রত্যাশিত ছন্দে দেখা যায়নি দলটিকে। তবে প্রতিপক্ষকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিতে নারাজ দালিচ।
তিনি বলেন, ‘তারা এমন একটি দল যারা সব সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। এই দলের দুর্বলতা খুব কম এবং তারা যেকোনো মুহূর্তে প্রতিপক্ষের জন্য বিপদ তৈরি করতে পারে।’
ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠের নেতৃত্বে থাকবেন ৪০ বছর বয়সী অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। তার সঙ্গে থাকবেন মার্টিন বাতুরিনা ও পেতার সুচিচ, যারা গ্রুপ পর্বে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। অন্যদিকে পর্তুগালের মিডফিল্ডে রয়েছেন ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস ও ব্রুনো ফার্নান্দেজের মতো নির্ভরযোগ্য ফুটবলার। যদিও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
টরন্টোয় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি শহরটির এবারের বিশ্বকাপের শেষ আয়োজন। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক ফুটবলে মদ্রিচ কিংবা রোনালদোর একজনের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচও হতে পারে।
দুই কিংবদন্তিকে নিয়ে ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ বলেন, ‘আমাদের দলে দুজন অসাধারণ খেলোয়াড় আছেন যারা ফুটবলের জন্য অসাধারণ অবদান রেখেছেন। আমি নিশ্চিত লুকা তার পথচলা অব্যাহত রাখবেন। এই দুই মহাতারকাকে নিয়ে ইতিবাচক কথা বলা ছাড়া আর কিছু বলার নেই।
পাপ্পু/অন্তরা/