ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
পড়ে পাওয়া গল্পের ৮টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা ল্যামিনের আত্মবিশ্বাসে মুগ্ধ স্পেন কোচ ফুটবল আসলেই এক নির্মম খেলা: সেনেগাল কোচ আইফোনে কাস্টম অ্যালার্ম টোন মাদারীপুরে কোটি টাকার নকল সিগারেট জব্দ রাশিয়ায় তীব্র জ্বালানিসংকট ঢাকার যানজট কমাতে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মনোনীত হলেন আজিজ আল কায়সার জেলেনস্কির সতর্কবার্তার পর কিয়েভে হামলা, নিহত ৮ মংডুতে জান্তা সরকারের বিমান হামলা, কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত দেশের বাজারে আসছে অনারের ম্যাজিক ভি৬ ফোন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে সিইউবি ন্যাশনাল মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬ সম্পন্ন ইউল্যাবে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অস্ট্রেলিয়ার নতুন ভরসা অধিনায়ক হ্যারি সাউটার রোনালদো–মদ্রিচ নয়, মিডফিল্ডের লড়াইয়েই চোখ ক্রোয়েশিয়া কোচের পেকুয়ায় প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির চারা ঢাকা পড়েছে বর্জ্যে মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল গুহার মুখে রাজবাড়ীতে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের লম্বা ছুটির সুযোগ ২২ আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে উত্তরা ইউনিভার্সিটির সমঝোতা তালতলীতে সরকারি রাস্তা কেটে জমি তৈরির প্রতিবাদে মানববন্ধন পদ্মার চরে রক্তাক্ত আধিপত্যের লড়াই: আট মাসে ৮ খুন, আতঙ্কে চরবাসী আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে স্পিকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা কাটল এক রাতেই শেষ মৌসুমের ফসল নরসিংদীতে পুলিশের কাছ থেকে এক ডজন মামলার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ডিজিটাল নজরদারিতে আসছে ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ ঢাকাসহ দেশের ১৬ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস আদাবরে ‘বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে’ বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা লক্ষ্মীপুরের ২ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার নিয়োগ

ফ্রি কিকে গোল, কে এই মার্কিন গোলস্কোরার?

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
ফ্রি কিকে গোল, কে এই মার্কিন গোলস্কোরার?
মালিক টিলম্যান। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ফ্রি কিকে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোলটি করেন মালিক টিলম্যান।

বুধবার (১ জুলাই) সান ফ্রান্সিসকো বে এরিনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে তার অসাধারণ নৈপুণ্যে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে জয় সুনিশ্চিত করে এ স্বাগতিক দেশ।

ম্যাচের ৮২তম মিনিটে ডেডবল পরিস্থিতি থেকে এক চোখ ধাঁধানো ‘নাকলবল’ স্ট্রাইকে গোল করে দলের লিড দ্বিগুণ করেন টিলম্যান। তার এই দুর্দান্ত গোলের পর স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উল্লাসের জোয়ার বয়ে যায়।

জার্মানি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জার্সিতে

২৪ বছর বয়সি এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের জন্ম জার্মানির নুরেমবার্গে। তার বাবা আমেরিকান এবং মা জার্মান। জন্মসূত্রে যুব পর্যায়ে জার্মানির প্রতিনিধিত্ব করলেও, ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের সিনিয়র ক্যারিয়ারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেন টিলম্যান।

ক্লাব ফুটবলে উত্থান

মালিক টিলম্যানের ফুটবলে হাতেখড়ি বায়ার্ন মিউনিখের যুব দলে। বাভারিয়ানদের সিনিয়র দলের হয়ে চারটি ম্যাচও খেলেন তিনি। এরপর ২০২৪ সালে নেদারল্যান্ডসের ইরেডিভিসির ক্লাব পিএসভি আইন্দহোভেনে যোগ দেন। সেখানে ধারে খেলার সময় চিত্তাকর্ষক পারফরম্যান্সের পর, পাকাপাকি যোগ দিয়ে ১২টি গোল করে নজর কাড়েন ফুটবল বিশ্বে।

২০২৫ সালে ৩৫ মিলিয়ন ইউরোর একটি বড় চুক্তিতে বায়ার লেভারকুসেনের হাত ধরে আবারও জার্মানির ঘরোয়া ফুটবলে ফিরে আসেন এই প্রতিভাবান মিডফিল্ডার। জাতীয় দলের হয়ে তার এই সাম্প্রতিক ফর্ম যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ অভিযানে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

থিওটোনিয়াস/

ল্যামিনের আত্মবিশ্বাসে মুগ্ধ স্পেন কোচ

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
ল্যামিনের আত্মবিশ্বাসে মুগ্ধ স্পেন কোচ
তরুণ তারকা ল্যামিন ইয়ামাল। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরতে পারলে স্পেনকে থামানো কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেছেন তরুণ তারকা ল্যামিন ইয়ামাল। শিষ্যের এমন আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার মতে, ইয়ামালের আত্মবিশ্বাস পুরো দলকে অনুপ্রাণিত করছে।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করলেও এখন পর্যন্ত নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে পারেনি স্পেন। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর সৌদি আরবকে ৪-০ এবং উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়েছে তারা। শুক্রবার (৩ জুলাই) সোফি স্টেডিয়ামে শেষ বত্রিশের ম্যাচে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে স্প্যানিশরা।

বিশ্বকাপের আগে চোট কাটিয়ে দলে ফেরা ইয়ামাল সম্প্রতি এক রেডিও সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা একবার আমাদের চেনা ছন্দে ফিরতে পারলে আমাদের থামানো প্রায় অসম্ভব হবে।’ তার মতে, স্পেনের কাছ থেকে সবাই এখনো প্রকৃত সুন্দর ফুটবল দেখার প্রত্যাশা করছে।

ইয়ামালের মন্তব্য নিয়ে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘ও একজন ইতিবাচক খেলোয়াড়, যে নিজের এবং সতীর্থদের সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখে। আমরা জানি আমাদের সম্ভাবনা কতটুকু এবং কতদূর যেতে পারি। ইয়ামালের কথাগুলো সঠিক প্রেক্ষাপটে দেখলে এগুলো দলের জন্য ইতিবাচক বার্তা। ও আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা আমার খুব ভালো লেগেছে।’

প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়ার কোচ রালফ রাংনিকও ইয়ামালের প্রতিভার ভূয়সী প্রশংসা বলেন, ‘ও অসাধারণ প্রতিভাবান একজন ফুটবলার। ফিট থাকতে পারলে আগামী এক যুগ কিংবা তারও বেশি সময় বিশ্ব ফুটবলে দাপট দেখাতে পারে। তবে আগামীকালের ম্যাচে আমাদের কাজ ওর খেলা উপভোগ করা নয়, বরং ওকে জায়গা না দেওয়া এবং বলের সংস্পর্শ যতটা সম্ভব কমিয়ে রাখা।’

বিজ্ঞপ্তি/

অস্ট্রেলিয়ার নতুন ভরসা অধিনায়ক হ্যারি সাউটার

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৩০ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৩২ এএম
অস্ট্রেলিয়ার নতুন ভরসা অধিনায়ক হ্যারি সাউটার
ডিফেন্ডার হ্যারি সাউটার। ছবি: সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপে অপ্রত্যাশিতভাবে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়ে নেতৃত্বগুণে মুগ্ধ করেছেন ডিফেন্ডার হ্যারি সাউটার। নিয়মিত অধিনায়ক ম্যাথু রায়ান ও জ্যাকসন আরভিনকে তুরস্কের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে বেঞ্চে রাখার পর সাউটারের হাতে ওঠে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। এরপর থেকে রক্ষণভাগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নেতৃত্বেও নিজেকে প্রমাণ করছেন তিনি।

তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচসেরা হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের বিপক্ষেও ছিলেন দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। অস্ট্রেলিয়ার সহকারী কোচ ও সাবেক অধিনায়ক মাইল জেডিনাক বলেন, ‘হ্যারি খুব স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্ব নিয়েছে। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে সে আরও পরিপক্ক হয়ে উঠছে, তবে নিজের স্বাভাবিক ব্যক্তিত্বও ধরে রেখেছে। মাঠে ও মাঠের বাইরে সে একই মানুষ।’

বিশ্বকাপের আগে দীর্ঘ চোট কাটিয়ে ফেরা সাউটারের এই পারফরম্যান্স আরও বেশি প্রশংসিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের শেষভাগ ও ২০২৫ সালের শুরুতে পরপর দুটি অ্যাকিলিস ইনজুরির কারণে প্রায় দুই বছর মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের আগে মাত্র দুটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেই জাতীয় দলে ফিরেছেন।

সাউটারের প্রত্যাবর্তনে মুগ্ধ হয়ে চিরকাতি বলেন, ‘প্রায় দুই বছর পর ফিরে এসে সে এমন খেলছে, যেন কোনো ম্যাচই মিস করেনি। এর পেছনে তার কঠোর পরিশ্রমই সবচেয়ে বড় কারণ।’

আক্রমণভাগের খেলোয়াড় আজদিনও সাউটারের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তার ভাষ্যে, ‘হ্যারি সহজাত নেতা। সে হয়তো খুব উচ্চকণ্ঠ নয়, কিন্তু প্রয়োজনের সময় সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়। দুটি বড় চোট কাটিয়ে যেভাবে ফিরে এসেছে, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।’

নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ মিসর। মোহামেদ সালাহ ও ওমর মারমুশকে সামলানোর বড় দায়িত্ব থাকবে সাউটারের কাঁধেই।

পাপ্পু/অন্তরা/

রোনালদো–মদ্রিচ নয়, মিডফিল্ডের লড়াইয়েই চোখ ক্রোয়েশিয়া কোচের

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:২৬ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:২৭ এএম
রোনালদো–মদ্রিচ নয়, মিডফিল্ডের লড়াইয়েই চোখ ক্রোয়েশিয়া কোচের
ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ক্রোয়েশিয়া ও পর্তুগাল। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ম্যাচটি লুকা মদ্রিচ ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দ্বৈরথ হিসেবে আলোচিত হলেও, ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ ততটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না । তার বিশ্বাস, ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হবে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণের ওপর।

দালিচ বলেন, ‘আমার মনে হয় এটি হতে যাচ্ছে মিডফিল্ডারদের মধ্যকার একটি যুদ্ধ। পর্তুগালের মাঝমাঠে দারুণ সব খেলোয়াড় রয়েছে এবং কৌশলের দিক থেকেও তারা বেশ পরিপক্ব। এই ম্যাচে প্রতিটি ভুলের জন্য বড় মাশুল গুনতে হবে।’

দুই দলের ফুটবল ইতিহাসে এটিই প্রথম বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হওয়া। নকআউট পর্বের এই লড়াইয়ে জয়ী দল এগিয়ে যাবে পরবর্তী ধাপে, আর পরাজিত দলের শেষ হয়ে যাবে বিশ্বকাপ স্বপ্ন।

চলতি বিশ্বকাপে শুরুটা ভালো হয়নি ক্রোয়েশিয়ার। প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়ে তারা পানামাকে ১-০ এবং ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে। অন্যদিকে পর্তুগাল গ্রুপ পর্বে একটি জয় ও দুটি ড্র নিয়ে নকআউটে উঠলেও প্রত্যাশিত ছন্দে দেখা যায়নি দলটিকে। তবে প্রতিপক্ষকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিতে নারাজ দালিচ।

তিনি বলেন, ‘তারা এমন একটি দল যারা সব সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। এই দলের দুর্বলতা খুব কম এবং তারা যেকোনো মুহূর্তে প্রতিপক্ষের জন্য বিপদ তৈরি করতে পারে।’

ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠের নেতৃত্বে থাকবেন ৪০ বছর বয়সী অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। তার সঙ্গে থাকবেন মার্টিন বাতুরিনা ও পেতার সুচিচ, যারা গ্রুপ পর্বে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। অন্যদিকে পর্তুগালের মিডফিল্ডে রয়েছেন ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস ও ব্রুনো ফার্নান্দেজের মতো নির্ভরযোগ্য ফুটবলার। যদিও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

টরন্টোয় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি শহরটির এবারের বিশ্বকাপের শেষ আয়োজন। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক ফুটবলে মদ্রিচ কিংবা রোনালদোর একজনের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচও হতে পারে।

দুই কিংবদন্তিকে নিয়ে ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ বলেন, ‘আমাদের দলে দুজন অসাধারণ খেলোয়াড় আছেন যারা ফুটবলের জন্য অসাধারণ অবদান রেখেছেন। আমি নিশ্চিত লুকা তার পথচলা অব্যাহত রাখবেন। এই দুই মহাতারকাকে নিয়ে ইতিবাচক কথা বলা ছাড়া আর কিছু বলার নেই।

পাপ্পু/অন্তরা/

পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বকাপের’ মতো দেখবেন মার্টিনেজ

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:১৯ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৩০ এএম
পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বকাপের’ মতো দেখবেন মার্টিনেজ
পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। ছবি: সংগৃহীত

পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্টিনেজের দল বৃহস্পতিবার ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হওয়ার সময় এ নকআউট পর্বকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বকাপের’ মতো দেখবেন তিনি।

উদ্বোধনী পর্বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ গোলের জয়ের আগে ও পরে ডিআর কঙ্গো এবং কলম্বিয়ার সঙ্গে ড্র করে পর্তুগাল গ্রুপ ‘কে’-তে কলম্বিয়ানদের পিছনে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।

মার্টিনেজ বলেন, ‘আমরা আগামী ম্যাচ থেকে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শুরু করব।’

এ ছাড়াও গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচকে তিনি ‘কঠিন’ বলে উল্লেখ করেন।

ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিকদের মার্টিনেজ বলেন, ‘তিনি ক্রোয়েশিয়ার চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অবগত আছেন, কারণ তারা ২০১৮ সালে রানার্সআপ এবং ২০২২ সালে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল। ক্রোয়েশিয়া এমন একটি দল যাদের আমরা খুব ভালোভাবে চিনি। তারাও আমাদের শক্তি এবং প্রতিভা সম্পর্কে জানে, তাই এটি একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হবে।

কলম্বিয়ার বিপক্ষে দলের শেষ গ্রুপ ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পুরো ৯০ মিনিট খেলার পর স্প্যানিশ কোচ মার্টিনেজ সমালোচনার মুখে পড়েন। এ ছাড়াও পর্তুগিজ গণমাধ্যম তাদের আরেক স্ট্রাইকার গনসালো রামোসের খেলার সুযোগ কম পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

মার্টিনেজ বুধবার (১ জুলাই) সেই উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, তার খেলোয়াড়রা জানে তাদের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করা হয় এবং ডাক পেলেই তারা প্রস্তুত থাকবে।

বৃহস্পতিবার মাঠে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নামবে পর্তুগাল। গাড়ি দুর্ঘটনায় তাদের ফরোয়ার্ড দিওগো জোটার মৃত্যুবার্ষিকীর ঠিক একদিন আগে মাঠে নামার কারণে ম্যাচটি পর্তুগালের জন্য আবেগঘন তাৎপর্য বহন করবে।

মিডফিল্ডার ভিতিনহা বলেন, ‘জোটার স্মৃতিকে সম্মান জানানোটা শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত করার জন্য দলের কাছে বাড়তি প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।’

তিনি বলেন, ‘ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জেতার জন্য আমরা আমাদের সাধ্যমতো সবকিছু, সত্যিই সেরাটা, করব।’

থিওটোনিয়াস/

মেসির কাঁধে এমবাপ্পের গরম নিশ্বাস

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
মেসির কাঁধে এমবাপ্পের গরম নিশ্বাস
ছবি: সংগৃহীত

আকাশে চাঁদ থাকে একটিই, কিন্তু তারা থাকে অনেক। মেসি যদি ফুটবল আকাশের চাঁদ হয়ে থাকেন, তবে তো সেখানে আর কারও চাঁদ হওয়ার সুযোগ নেই। তাহলে এমবাপ্পের অবস্থান কোথায় থাকবে? তিনি তারা। যেভাবে খেলছেন, তাতে মেসির বিদায়ের পর আকাশের চাঁদ হয়তো এমবাপ্পেই হবেন! মেসি খেলছেন শেষ বিশ্বকাপ। এমবাপ্পে আছেন মধ্যগগনে।

বিশ্বকাপ ফুটবলে সবার নজর থাকে শিরোপার দিকে। শিরোপাপ্রত্যাশী দলগুলোকে নিয়ে সবার থাকে বাড়তি আকর্ষণ। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপের আবহ যেন অন্যরকম। সেখানে পরিবর্তনের আভাস। দলগত সাফল্য আড়ালে পড়ে যাচ্ছে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ঝলকানিতে। বিশ্বকাপের সবুজ গালিচায় মেসি হ্যাটট্রিক দিয়ে আসর শুরু করে সব আলো নিজের দিকে করে নিয়েছিলেন। পরে সেখানে ভাগ বসান নিজ নিজ প্রথম ম্যাচে দুটি করে গোল করে এমবাপ্পে-হালান্ড। এরপর সামনে চলে আসেন ত্রিরত্ন। ম্যাচ হয় আর তাদের নামের পাশে গোল লেখা হতে থাকে। একেকটি গোলও দৃষ্টিনন্দন। স্মৃতিপটে ধরে রাখার মতো। গোল্ডেন বলের লড়াইও জমে উঠেছে তাদের মাঝে। ছয় গোল করে মেসি-এমবাপ্পে সমানে সমান। এক গোল কম দিয়ে তাদের ঠিক পেছনেই হালান্ড। মেসি ষষ্ঠ, এমবাপ্পের তৃতীয় এবং হালান্ড প্রথম বিশ্বকাপ খেলছেন।

এই তিনজনের মাঝে আবার এগিয়ে মেসি-এমবাপ্পে। কারণ তারা রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়েই চলেছেন। রেকর্ড গড়ে নিজেদের নিয়ে যাচ্ছেন অনন্য উচ্চতায়। রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলায় শামিল হয়ে এখন তারা একে অপরকে স্পর্শ করছেন, আবার ছাড়িয়ে যাওয়ার মিশনেও নেমেছেন। এই লড়াইটা সামনে চলে এসেছে শেষ বত্রিশে সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের জয়ে এমবাপ্পের দুরন্তপনায়। চোখ ধাঁধানো নৈপুণ্যের সঙ্গে ছিল মনে রাখার মতো দুটি গোল। আরেকটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়েছে। আবার কয়েকটি সুযোগ নষ্ট হয়েছে। ম্যাচে দুই গোল করেই এমবাপ্পে এবারের আসরে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে চড়ে বসেছেন। যদিও সেখানে আগে থেকেই বসে আছেন ফুটবলের খুদে জাদুকর মেসি। দুজনেরই গোল ছয়টি করে। মেসি অবশ্য একটি ম্যাচ কম খেলেছেন। শেষ বত্রিশে মেসির এখনো মাঠে নামা হয়নি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে সেই ম্যাচে মেসি গোল পেলে আবার এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে যাবেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এবারের বিশ্বকাপে মেসি-এমবাপ্পের গোলের লড়াই বেশ ভালোভাবেই জমে উঠবে। কে কাকে ছাড়িয়ে যান, সেটিই এখন দেখার বিষয়। 

বিশ্বকাপ এলেই যেন এমবাপ্পেকে গোলের নেশায় পেয়ে বসে। গোলের নেশা তার এতটাই বেড়ে যায় যে, তাকে আটকে রাখাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। দুরন্ত গতি, ড্রিবলিং, ডজ, পাওয়ারফুল শট সবকিছুর সমন্বয় ঘটে তার মাঝে। ২০১৮ সালে নিজের প্রথম বিশ্বকাপে তিনি গোল করেন চারটি। দল হয় চ্যাম্পিয়ন। পরের আসরে আট গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে জিতে নেন গোল্ডেন বুট। কিন্তু আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেও দলকে জেতাতে পারেননি ট্রফি। এবার তার যথারীতি গোলক্ষুধা বিদ্যমান। যারা তার বিপক্ষে খেলতে নামছে, তারাই টের পাচ্ছে! আসর শুরুই করেন সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে। তারপর শুরু করেছেন জোড়া গোলের নামতা পড়া। জোড়া গোল ছাড়া যেন তার বুটজোড়া কথাই বলছে না। চার ম্যাচ খেলে তিন ম্যাচে জোড়া গোলে তার মোট গোল ছয়টি। শুধু গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে তিনি গোল করতে পারেননি। ম্যাচটিতে জ্বলে উঠেছিলেন উসমান দেম্বেলে। তার হ্যাটট্রিকে ফ্রান্স জয়ী হয়েছিল ৪-১ গোলে।

এমবাপ্পের মাথায় কিন্তু তার জোড়া গোল কিংবা মেসির সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ের বিষয়টি তার মাথায় নেই। তার লক্ষ্য দলের জন্য কিছু একটা করা। শিরোপা আবার এনে দেওয়া। সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তার কথায় ফুটে উঠেছিল সে রকমই। ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তার প্রধানতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘আমি জানি আমি কে, কীভাবে খেলি এবং আমার কী করা উচিত। এটা শুধু আমি নয়, আমাদের গোটা দলই জানে তাদের কী করতে হবে। ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলকে সামনে এগিয়ে যাওয়াই মূল লক্ষ্য।’ সুইডেনের বিপক্ষে জয়ের পর তিনি বলেন, ‘নতুন একটি প্রতিযোগিতা শুরু হলো। আমরা ভালো খেলেছি। সামনে আমাদের আরও ভালো করতে হবে।’

শেষ বত্রিশে সুইডেনের বিপক্ষে এমবাপ্পের জোড়া গোলের প্রদর্শনীতে এমবাপ্পে ছয় গোল করে শুধু মেসিকে স্পর্শই করেননি, মোট ১৮ গোল করে জার্মানির ক্লসাকে (১৭ গোল) ছাড়িয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে মেসির ঘাড়ে গরম নিশ্বাস ফেলেছেন। মেসির গোল সর্বোচ্চ ১৯টি। দুজনেই যেভাবে খেলছেন এবং তাদের দল যেভাবে একেকটি ম্যাচের প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করে চলেছে, তাতে করে চলতি আসরেই তাদের কাছ থেকে আরও একাধিক গোল দেখা যাবে। কে জানে তখন মেসিকে এমবাপ্পে ছাড়িয়ে যান কি না কিংবা মেসি নিজেকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান? মেসি যদি নিজেকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান, তবে তা হবে স্বল্প সময়ের জন্য। কারণ তিনি খেলছেন শেষ বিশ্বকাপ। এমবাপ্পে আছেন মধ্যগগনে। বয়স ২৭। ফর্ম ধরে রাখতে পারলে এবং ইনজুরি বাসা না বাঁধলে একাধিক বিশ্বকাপ খেলার হাতছানি তার সামনে। তখন তিনি শুধু মেসিকেই টপকাবেন না, সর্বোচ্চ গোলদাতার সংখ্যাটি অনেকেরই ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাবেন। যা শুধু দেখা যাবে, কিন্তু সহজে স্পর্শ করা যাবে না। ফ্রান্সের হয়ে ইতোমধ্যে তিনি এটি নিজের করে নিয়েছেন। তার বর্তমান গোল ৬১টি। তার পেছনে পড়ে আছেন অলিভার জিরো ৫৭ গোল ও থিয়েরি অরি ৫১ গোল করে। এমবাপ্পে যেভাবে নিজেকে গোল মেশিনে পরিণত করেছেন, তাতে করে জাতীয় দলের হয়েও তিনি গোল করায় নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।