একদিকে ইউরোপীয় শৃঙ্খলা ও ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের প্রতীক সুইজারল্যান্ড। অন্যদিকে আফ্রিকার গতি, আবেগ ও সাহসী আক্রমণের প্রতিনিধি আলজেরিয়া। শেষ ষোলোতে খেলার অভিন্ন স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের দ্বিতীয় রাউন্ডে মখোমুখি হচ্ছে দেশ দুটি। কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসে ম্যাচটি মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ৯টায়। এই ম্যাচটি শুধু দুই দলের জন্য নয়; বরং দুই মহাদেশের ফুটবল দর্শনেরও এক আকর্ষণীয় দ্বৈরথ।
সুইজারল্যান্ড বরাবরই বিশ্বকাপে ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে পরিচিত। বড় তারকার ছড়াছড়ি না থাকলেও দলগত সমন্বয়, রক্ষণে দৃঢ়তা এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। এবার ১৩তম বারের মতো বিশ্বকাপে খেলছে সুইসরা। তারা ১৯৩৪, ১৯৩৮ ও ১৯৫৪ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দলটি নিয়মিত নকআউটে উঠলেও শেষ ষোলো পেরোনোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ টানা তিন আসরেই নকআউটে উঠেছিল তারা। এবারের ২৩তম বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্বে তারা দারুণ ছন্দে ছিল। ‘বি’ গ্রুপে ৩ ম্যাচে ২ জয় ও ১ ড্র নিয়ে গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে এসেছে সুইসরা। রক্ষণে ম্যানুয়েল অ্যাকাঞ্জি ও আক্রমণে রুবেন ভারগেস দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছেন।
অন্যদিকে ইতিহাস গড়ার স্বপ্নে বিভোর আলজেরিয়া। দেশটি এবার বিশ্বকাপে ফিরেছে দীর্ঘ ১২ বছর পর। অর্থাৎ ২০১৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বমঞ্চে খেলছে মরুর যোদ্ধারা। এবার আলজেরিয়া পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলছে। তাদের সেরা সাফল্য ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে ওঠা। ওই আসরে জার্মানির মতো পরাশক্তিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে গিয়েছিল তারা। ১৯৮২ সালে ঐতিহাসিকভাবে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়েও বিতর্কিত কারণে বিদায় নিতে হয়েছিল। এবার ‘জে’ গ্রুপ থেকে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে নকআউটে এসেছে আলজেরিয়া। গ্রুপ পর্বে তারা লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। বিশেষ করে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-৩ ড্র তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। অভিজ্ঞ অধিনায়ক, তারকা ফরোয়ার্ড রিয়াদ মাহরেজ এখনো দলটির সবচেয়ে বড় ভরসা। তার নেতৃত্বে আলজেরিয়া স্বপ্ন দেখছে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ নকআউটে জয় পাওয়ার।
মজার বিষয় হলো আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই দুই দলের আগে কখনো মুখোমুখি দেখা হয়নি। অর্থাৎ ২০২৬ বিশ্বকাপের এই ম্যাচ দিয়েই শুরু হচ্ছে তাদের দ্বৈরথ। এই ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় দিক হলো আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ। কারণ তিনি একসময় সুইজারল্যান্ডের কোচ ছিলেন। ফলে সুইস ফুটবলের শক্তি-দুর্বলতা তার খুব ভালো জানা। পেতকোভিচের বার্তা পরিষ্কার, ‘আমরা এখানে শুধু অংশ নিতে আসিনি, ইতিহাস গড়তে এসেছি।’ অন্যদিকে সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিন বলেন, ‘নকআউট ম্যাচে ছোট দল বলে কিছু নেই। আলজেরিয়া ভয়ংকর প্রতিপক্ষ।’
সুইজারল্যান্ড অধিনায়ক গ্রানিত জাকা মনে করেন, অভিজ্ঞতাই তাদের বড় শক্তি, ‘আমরা জানি নকআউট ম্যাচে কীভাবে চাপ সামলাতে হয়। আমার দল নিয়ে আমি আশাবাদী।’
অন্যদিকে আলজেরিয়ার অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজও আত্মবিশ্বাসী, ‘আমরা ভয় পাই না। আমরা সুযোগ তৈরি করব এবং লড়াই করব শেষ মিনিট পর্যন্ত। আমাদেরও ভালো সুযোগ আছে পরের রাউন্ডে যাওয়ার। এখন মাঠে নিজেদের মেলে ধরার পালা।’