ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল সেনেগাল। শেষ মুহূর্তে জয়ের খুব কাছেই ছিল আফ্রিকার দলটি। কিন্তু মাত্র তিন মিনিটের ঝড়ে সব হিসাব পাল্টে দেয় বেলজিয়াম। রোমেলু লুকাকু ও ইউরি টিলেমানসের পরপর দুই গোলে নির্ধারিত সময়ের ম্যাচ ২-২ ব্যবধানে শেষ হয়। ফলে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর এই লড়াই গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় সিয়াটল স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সেনেগাল। ১৩ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি করে তারা। বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া বল ঠিকভাবে ক্লিয়ার করতে না পারলে তা ইসমাইলা সারের সামনে চলে আসে। তবে তার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি সুযোগও কাজে লাগাতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড।
এরপর বক্সের বাইরে থেকে ইদ্রিসা গায়ের নেওয়া জোরালো শট দারুণভাবে রুখে দেন কোর্তোয়া। তবে ২৪ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি বেলজিয়ামের। সাদিও মানের ক্রস থেকে ইসমাইলা সারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে এলে রিবাউন্ডে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফাঁকা জালে বল জড়িয়ে দেন হাবিব দিয়ারা। তাতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সেনেগাল।
৪৩ মিনিটে জেরেমি ডোকু বক্সের ভেতরে জায়গা তৈরি করলেও শট না নিয়ে ক্রস করেন। সেটি ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করলেও সহজেই বলটি তালুবন্দি করেন সেনেগালের গোলরক্ষক মোরি দিয়াও।
প্রথমার্ধের শেষদিকে ম্যাক্সিম ডি কুইপারের বাঁকানো শট দুর্দান্ত এক হাতে কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন দিয়াও। তার অসাধারণ সেভে লিড অক্ষুণ্ন রেখেই বিরতিতে যায় সেনেগাল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পান হাবিব দিয়ারা। সাদিও মানের পাস পেয়ে ভালো জায়গায় থেকেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন তিনি। তবে সেই আক্ষেপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৫১ মিনিটে ব্যবধান ২-০ করেন ইসমাইলা সার।
নিয়াখাতের লম্বা থ্রু বল বেলজিয়ামের দুই সেন্টার-ব্যাককে পিছনে ফেলে বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন সার। এরপর ডান পায়ের শক্তিশালী শটে কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন ক্রিস্টাল প্যালেসের এই ফরোয়ার্ড।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় বেলজিয়াম। একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। অবশেষে ৮৬ মিনিটে ব্যবধান কমান রোমেলু লুকাকু। থমাস মুনিয়ের নিচু ক্রসে নিজের মার্কারকে ফাঁকি দিয়ে দুর্দান্ত ফ্লিকে সেনেগালের গোলরক্ষক মোরি দিয়াওকে পরাস্ত করেন এই স্ট্রাইকার।
লুকাকুর গোলের মাত্র তিন মিনিট পরই সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। ডান প্রান্ত থেকে লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের ভাসানো ক্রসে বল ক্লিয়ার করতে বেরিয়ে এসে পাঞ্চ করতে ব্যর্থ হন দিয়াও। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফাঁকা জালে সহজ হেডে বল জড়িয়ে দেন ইউরি টিলেমানস।
শেষ মুহূর্তের এই দুই গোলে ২-২ ব্যবধানে সমতা ফিরিয়ে আনে বেলজিয়াম। এরপর নির্ধারিত সময়ে আর কোনো দল গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে দুই অর্ধে ১৫ মিনিট করে মোট ৩০ মিনিট খেলা হবে। অতিরিক্ত সময়েও নিষ্পত্তি না হলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হবে টাইব্রেকারে।
এসজি/