ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
দেশের বাজারে আসছে অনারের ম্যাজিক ভি৬ ফোন ইউল্যাবে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অস্ট্রেলিয়ার নতুন ভরসা অধিনায়ক হ্যারি সাউটার রোনালদো–মদ্রিচ নয়, মিডফিল্ডের লড়াইয়েই চোখ ক্রোয়েশিয়া কোচের মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল গুহার মুখে রাজবাড়ীতে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের লম্বা ছুটির সুযোগ ২২ আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে উত্তরা ইউনিভার্সিটির সমঝোতা তালতলীতে সরকারি রাস্তা কেটে জমি তৈরির প্রতিবাদে মানববন্ধন পদ্মার চরে রক্তাক্ত আধিপত্যের লড়াই: আট মাসে ৮ খুন, আতঙ্কে চরবাসী আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে স্পিকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা কাটল এক রাতেই শেষ মৌসুমের ফসল নরসিংদীতে পুলিশের কাছ থেকে এক ডজন মামলার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ডিজিটাল নজরদারিতে আসছে ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ ঢাকাসহ দেশের ১৬ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস আদাবরে ‘বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে’ বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা লক্ষ্মীপুরের ২ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার নিয়োগ পঞ্চগড়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করা নারীর বিরুদ্ধে মামলা পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বকাপের’ মতো দেখবেন মার্টিনেজ ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে রমরমা বাণিজ্য মুখোমুখি রোনালদো-মদ্রিচ: বিদায় নেবেন কে? মেসির কাঁধে এমবাপ্পের গরম নিশ্বাস স্পেনের হয়ে পুরো ম্যাচ খেলার মতো ফিট ইয়ামাল: দে লা ফুয়েন্তে বেরোবিতে জুলাই শহিদদের স্মরণে ছাত্রদলের মোমবাতি প্রজ্বালন দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক: তেহরানের দুই টার্গেট এনসিপি নেতা ভূমি অফিসের দালালকে ছাড়াতে ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন, অডিও ভাইরাল সিলেটে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: ১৪ বছর পর দুজনের মৃত্যুদণ্ড ক্রিপ্টো থেকেই বছরে ট্রাম্পের আয় ১৪০ কোটি ডলার বিলুপ্তির পথে ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ গিটারফিশ

’৯৮-এর বন্ধন ফিরেছে ’২৬-এ

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৫:০০ এএম
’৯৮-এর বন্ধন ফিরেছে ’২৬-এ
ছবি: সংগৃহীত

১৯৯৮। ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সোনালি বছর। নিজেদের মাটিতে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের সেই অভিযানের নেপথ্যে ছিল জিনেদিন জিদানের জাদু। ছিল আরেকটি অদৃশ্য শক্তি– কোচ আইমে জাকে ও মাঠে তার বিশ্বস্ত সেনাপতি দিদিয়ের দেশমের অসাধারণ বোঝাপড়া। কোচের দর্শনকে মাঠে বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব ছিল দেশমের কাঁধে। সেই বিশ্বাসের সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সকে পৌঁছে দিয়েছিল বিশ্বচূড়ায়।

২৮ বছর পর, ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই গল্প আবারও ফিরে এসেছে। এবার কোচের আসনে দেশম, আর তার বিশ্বস্ত অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। মাঠের ভেতরে ও বাইরে তাদের সম্পর্ক, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং পুরো দলকে এক সুতোয় গেঁথে রাখার ক্ষমতা নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে ফরাসিদের। ফ্রান্সের বিশ্বকাপ অভিযান যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে– এটি একটি বন্ধনের গল্পও।

সবশেষ রাউন্ড ৩২-এর ম্যাচে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। জোড়া গোল করেছেন এমবাপ্পে। কিন্তু ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি ছিল গোলের পর। প্রথম গোল করার সঙ্গে সঙ্গেই এমবাপ্পে ছুটে যান টাচলাইনের দিকে। গিয়ে জড়িয়ে ধরেন দেশমকে, যিনি চার দিন আগে মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করে দলে ফিরেছেন। এর পর একে একে দলের বাকি খেলোয়াড়রাও ছুটে এসে দেশমকে ঘিরে ধরেন। স্বতঃস্ফূর্ত সেই আলিঙ্গন ছিল কেবল গোল উদযাপন নয়; ছিল একাত্মতার প্রকাশ, ছিল একজন শোকাহত কোচের পাশে পুরো দলের নিঃশর্ত অবস্থান নেওয়ার প্রতীক।

এই দলটির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে তিনি ইতোমধ্যে ছয়টি গোল করেছেন, করিয়েছেন আরও দুটি। কিন্তু তার অবদান সংখ্যার গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে অনেক আগেই। তিনি প্রকাশ্যে কঠিন সময়ে সতীর্থ উসমান দেম্বেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বারবার বলেছেন, ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি জয়। উচ্চকণ্ঠে বলেছেন, ‘আমি নিশ্চিত যে লিও (মেসি) আরও গোল করবেন। তাই এসব নিয়ে আমি খুব বেশি ভাবি না। আমার মনোযোগ বরং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষদের দিকে এবং আমাদের লক্ষ্য ফাইনাল।’

এমবাপ্পের এই বক্তব্যের পেছনে লুকিয়ে আছে লুসাইলের সেই দুঃসহ স্মৃতি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেও শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি ফ্রান্স। সেই ম্যাচ এমবাপ্পেকে শিখিয়েছিল– একজন খেলোয়াড় যত বড় তারকাই হোক না কেন, একা বিশ্বকাপ জেতা যায় না। চার বছর পর তাই তিনি শুধু গোল করার মিশনে নেই; পুরো দলকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে নেমেছেন।

রিয়াল মাদ্রিদে ব্যক্তিকেন্দ্রিক আচরণের অভিযোগ শুনতে হয়েছে এমবাপ্পেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘স্বৈরশাসক’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছে মাদ্রিন ভক্তরা। সেটা যে কত বড় ভুল সেটাই বিশ্বকাপের প্রমাণ করছেন ফরাসি স্ট্রাইকার। সুইডেন ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে সহজ সুযোগ নষ্ট করার পর মাইকেল অলিসেকে তিনি আবারও খেলায় মনোযোগ দিতে উৎসাহ দেন। শুধু আক্রমণ নয়, রক্ষণেও আগের চেয়ে বেশি দায়িত্ব নিচ্ছেন ফরাসি অধিনায়ক।

দেশমও বারবার তুলে ধরছেন তার অধিনায়কের পরিবর্তিত রূপ, ‘কিলিয়ান জানে কীভাবে রক্ষণ করতে হয়। সে গোলও করে সবার চেয়ে বেশি। আমি প্রথম দিন থেকেই বলেছিলাম, সে একটি মিশনে আছে। যদিও সব সময় আমাকে এটা বলতে শোনো না... এমনকি ফিটনেস ড্রিলেও সে সবার আগে শেষ করত। অনেক আগেই আমি বলেছিলাম, অধিনায়কের ভূমিকা সে পুরোপুরি গ্রহণ করেছে। বাইরে থেকে মানুষ তাকে যেভাবে দেখে, সেটা খুব কম ক্ষেত্রেই তার প্রকৃত ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরে।’

বলাই যায়, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এমবাপ্পেকে যেন থামানোর কেউ নেই। বিপরীতে বিশ্বসেরা তারকার মর্যাদা উপভোগ করলেও তার পা রয়েছে মাটিতেই। ম্যাচ শেষে মাঠের ধারে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় সেটিই আবারও ফুটে উঠেছে, ‘আমি পুরোপুরি জানি সামনে কী আছে, আমি কোথায় আছি এবং আমাকে কী করতে হবে। দলও জানে এখানে আমাদের কী করতে হবে। একটি নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। শুরুটা কঠিন হলেও আজ আমরা ভালো খেলেছি।’

প্রিয় গুরু দেশমকে উৎসর্গ করা উদযাপন নিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘এটাই এই দলের ডিএনএ। আমরা সবাই একসঙ্গে আছি। কোচ এমন একটি সময় পার করছেন, যা দুর্ভাগ্যবশত জীবনের কোনো না কোনো সময় সবারই আসে। এটা ভীষণ কঠিন। কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গে কখনোই একা থাকবেন না। আমরা তার পাশে থাকব।’ শেষ ষোলোর প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়েকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নিজের স্বভাবসুলভ হাস্যরসও দেখিয়েছেন এমবাপ্পে, ‘প্যারাগুয়ে? এই মুহূর্তে আমার মনোযোগ শুধু এয়ার কন্ডিশনিং আর ড্রেসিং রুমে।’

সবশেষে দেশম যেন এক বাক্যেই এই ফ্রান্স দলের মানসিকতা তুলে ধরলেন, ‘ওরা একটি মিশনে আছে, আর আমিও ওদের সঙ্গে সেই মিশনে আছি।’ এক কথায়, ১৯৯৮ সালে জাকে ও দেশমের যে বিশ্বাসের বন্ধন ফ্রান্সকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছিল, ২০২৬-এ দেশম ও এমবাপ্পের সম্পর্কেও ফুটে উঠছে সেই একই রসায়ন। পার্থক্য শুধু চরিত্রে; গল্পের মূল সুরটি একই– বিশ্বাস, নেতৃত্ব এবং দলকে একসঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার। এখন দেখার বিষয়, ’৯৮-র সেই বন্ধনের পুনর্জন্ম শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সকে আবারও বিশ্বকাপ ট্রফির কাছে পৌঁছে দিতে পারে কি না।

রোনালদো–মদ্রিচ নয়, মিডফিল্ডের লড়াইয়েই চোখ ক্রোয়েশিয়া কোচের

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:২৬ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:২৭ এএম
রোনালদো–মদ্রিচ নয়, মিডফিল্ডের লড়াইয়েই চোখ ক্রোয়েশিয়া কোচের
ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ক্রোয়েশিয়া ও পর্তুগাল। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ম্যাচটি লুকা মদ্রিচ ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দ্বৈরথ হিসেবে আলোচিত হলেও, ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ ততটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না । তার বিশ্বাস, ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হবে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণের ওপর।

দালিচ বলেন, ‘আমার মনে হয় এটি হতে যাচ্ছে মিডফিল্ডারদের মধ্যকার একটি যুদ্ধ। পর্তুগালের মাঝমাঠে দারুণ সব খেলোয়াড় রয়েছে এবং কৌশলের দিক থেকেও তারা বেশ পরিপক্ব। এই ম্যাচে প্রতিটি ভুলের জন্য বড় মাশুল গুনতে হবে।’

দুই দলের ফুটবল ইতিহাসে এটিই প্রথম বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হওয়া। নকআউট পর্বের এই লড়াইয়ে জয়ী দল এগিয়ে যাবে পরবর্তী ধাপে, আর পরাজিত দলের শেষ হয়ে যাবে বিশ্বকাপ স্বপ্ন।

চলতি বিশ্বকাপে শুরুটা ভালো হয়নি ক্রোয়েশিয়ার। প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়ে তারা পানামাকে ১-০ এবং ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে। অন্যদিকে পর্তুগাল গ্রুপ পর্বে একটি জয় ও দুটি ড্র নিয়ে নকআউটে উঠলেও প্রত্যাশিত ছন্দে দেখা যায়নি দলটিকে। তবে প্রতিপক্ষকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিতে নারাজ দালিচ।

তিনি বলেন, ‘তারা এমন একটি দল যারা সব সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। এই দলের দুর্বলতা খুব কম এবং তারা যেকোনো মুহূর্তে প্রতিপক্ষের জন্য বিপদ তৈরি করতে পারে।’

ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠের নেতৃত্বে থাকবেন ৪০ বছর বয়সী অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। তার সঙ্গে থাকবেন মার্টিন বাতুরিনা ও পেতার সুচিচ, যারা গ্রুপ পর্বে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। অন্যদিকে পর্তুগালের মিডফিল্ডে রয়েছেন ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস ও ব্রুনো ফার্নান্দেজের মতো নির্ভরযোগ্য ফুটবলার। যদিও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

টরন্টোয় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি শহরটির এবারের বিশ্বকাপের শেষ আয়োজন। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক ফুটবলে মদ্রিচ কিংবা রোনালদোর একজনের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচও হতে পারে।

দুই কিংবদন্তিকে নিয়ে ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ বলেন, ‘আমাদের দলে দুজন অসাধারণ খেলোয়াড় আছেন যারা ফুটবলের জন্য অসাধারণ অবদান রেখেছেন। আমি নিশ্চিত লুকা তার পথচলা অব্যাহত রাখবেন। এই দুই মহাতারকাকে নিয়ে ইতিবাচক কথা বলা ছাড়া আর কিছু বলার নেই।

পাপ্পু/অন্তরা/

পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বকাপের’ মতো দেখবেন মার্টিনেজ

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:১৯ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৩০ এএম
পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বকাপের’ মতো দেখবেন মার্টিনেজ
পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। ছবি: সংগৃহীত

পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্টিনেজের দল বৃহস্পতিবার ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হওয়ার সময় এ নকআউট পর্বকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বকাপের’ মতো দেখবেন তিনি।

উদ্বোধনী পর্বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ গোলের জয়ের আগে ও পরে ডিআর কঙ্গো এবং কলম্বিয়ার সঙ্গে ড্র করে পর্তুগাল গ্রুপ ‘কে’-তে কলম্বিয়ানদের পিছনে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।

মার্টিনেজ বলেন, ‘আমরা আগামী ম্যাচ থেকে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শুরু করব।’

এ ছাড়াও গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচকে তিনি ‘কঠিন’ বলে উল্লেখ করেন।

ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিকদের মার্টিনেজ বলেন, ‘তিনি ক্রোয়েশিয়ার চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অবগত আছেন, কারণ তারা ২০১৮ সালে রানার্সআপ এবং ২০২২ সালে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল। ক্রোয়েশিয়া এমন একটি দল যাদের আমরা খুব ভালোভাবে চিনি। তারাও আমাদের শক্তি এবং প্রতিভা সম্পর্কে জানে, তাই এটি একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হবে।

কলম্বিয়ার বিপক্ষে দলের শেষ গ্রুপ ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পুরো ৯০ মিনিট খেলার পর স্প্যানিশ কোচ মার্টিনেজ সমালোচনার মুখে পড়েন। এ ছাড়াও পর্তুগিজ গণমাধ্যম তাদের আরেক স্ট্রাইকার গনসালো রামোসের খেলার সুযোগ কম পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

মার্টিনেজ বুধবার (১ জুলাই) সেই উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, তার খেলোয়াড়রা জানে তাদের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করা হয় এবং ডাক পেলেই তারা প্রস্তুত থাকবে।

বৃহস্পতিবার মাঠে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নামবে পর্তুগাল। গাড়ি দুর্ঘটনায় তাদের ফরোয়ার্ড দিওগো জোটার মৃত্যুবার্ষিকীর ঠিক একদিন আগে মাঠে নামার কারণে ম্যাচটি পর্তুগালের জন্য আবেগঘন তাৎপর্য বহন করবে।

মিডফিল্ডার ভিতিনহা বলেন, ‘জোটার স্মৃতিকে সম্মান জানানোটা শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত করার জন্য দলের কাছে বাড়তি প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।’

তিনি বলেন, ‘ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জেতার জন্য আমরা আমাদের সাধ্যমতো সবকিছু, সত্যিই সেরাটা, করব।’

থিওটোনিয়াস/

মেসির কাঁধে এমবাপ্পের গরম নিশ্বাস

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
মেসির কাঁধে এমবাপ্পের গরম নিশ্বাস
ছবি: সংগৃহীত

আকাশে চাঁদ থাকে একটিই, কিন্তু তারা থাকে অনেক। মেসি যদি ফুটবল আকাশের চাঁদ হয়ে থাকেন, তবে তো সেখানে আর কারও চাঁদ হওয়ার সুযোগ নেই। তাহলে এমবাপ্পের অবস্থান কোথায় থাকবে? তিনি তারা। যেভাবে খেলছেন, তাতে মেসির বিদায়ের পর আকাশের চাঁদ হয়তো এমবাপ্পেই হবেন! মেসি খেলছেন শেষ বিশ্বকাপ। এমবাপ্পে আছেন মধ্যগগনে।

বিশ্বকাপ ফুটবলে সবার নজর থাকে শিরোপার দিকে। শিরোপাপ্রত্যাশী দলগুলোকে নিয়ে সবার থাকে বাড়তি আকর্ষণ। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপের আবহ যেন অন্যরকম। সেখানে পরিবর্তনের আভাস। দলগত সাফল্য আড়ালে পড়ে যাচ্ছে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ঝলকানিতে। বিশ্বকাপের সবুজ গালিচায় মেসি হ্যাটট্রিক দিয়ে আসর শুরু করে সব আলো নিজের দিকে করে নিয়েছিলেন। পরে সেখানে ভাগ বসান নিজ নিজ প্রথম ম্যাচে দুটি করে গোল করে এমবাপ্পে-হালান্ড। এরপর সামনে চলে আসেন ত্রিরত্ন। ম্যাচ হয় আর তাদের নামের পাশে গোল লেখা হতে থাকে। একেকটি গোলও দৃষ্টিনন্দন। স্মৃতিপটে ধরে রাখার মতো। গোল্ডেন বলের লড়াইও জমে উঠেছে তাদের মাঝে। ছয় গোল করে মেসি-এমবাপ্পে সমানে সমান। এক গোল কম দিয়ে তাদের ঠিক পেছনেই হালান্ড। মেসি ষষ্ঠ, এমবাপ্পের তৃতীয় এবং হালান্ড প্রথম বিশ্বকাপ খেলছেন।

এই তিনজনের মাঝে আবার এগিয়ে মেসি-এমবাপ্পে। কারণ তারা রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়েই চলেছেন। রেকর্ড গড়ে নিজেদের নিয়ে যাচ্ছেন অনন্য উচ্চতায়। রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলায় শামিল হয়ে এখন তারা একে অপরকে স্পর্শ করছেন, আবার ছাড়িয়ে যাওয়ার মিশনেও নেমেছেন। এই লড়াইটা সামনে চলে এসেছে শেষ বত্রিশে সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের জয়ে এমবাপ্পের দুরন্তপনায়। চোখ ধাঁধানো নৈপুণ্যের সঙ্গে ছিল মনে রাখার মতো দুটি গোল। আরেকটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়েছে। আবার কয়েকটি সুযোগ নষ্ট হয়েছে। ম্যাচে দুই গোল করেই এমবাপ্পে এবারের আসরে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে চড়ে বসেছেন। যদিও সেখানে আগে থেকেই বসে আছেন ফুটবলের খুদে জাদুকর মেসি। দুজনেরই গোল ছয়টি করে। মেসি অবশ্য একটি ম্যাচ কম খেলেছেন। শেষ বত্রিশে মেসির এখনো মাঠে নামা হয়নি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে সেই ম্যাচে মেসি গোল পেলে আবার এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে যাবেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এবারের বিশ্বকাপে মেসি-এমবাপ্পের গোলের লড়াই বেশ ভালোভাবেই জমে উঠবে। কে কাকে ছাড়িয়ে যান, সেটিই এখন দেখার বিষয়। 

বিশ্বকাপ এলেই যেন এমবাপ্পেকে গোলের নেশায় পেয়ে বসে। গোলের নেশা তার এতটাই বেড়ে যায় যে, তাকে আটকে রাখাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। দুরন্ত গতি, ড্রিবলিং, ডজ, পাওয়ারফুল শট সবকিছুর সমন্বয় ঘটে তার মাঝে। ২০১৮ সালে নিজের প্রথম বিশ্বকাপে তিনি গোল করেন চারটি। দল হয় চ্যাম্পিয়ন। পরের আসরে আট গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে জিতে নেন গোল্ডেন বুট। কিন্তু আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেও দলকে জেতাতে পারেননি ট্রফি। এবার তার যথারীতি গোলক্ষুধা বিদ্যমান। যারা তার বিপক্ষে খেলতে নামছে, তারাই টের পাচ্ছে! আসর শুরুই করেন সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে। তারপর শুরু করেছেন জোড়া গোলের নামতা পড়া। জোড়া গোল ছাড়া যেন তার বুটজোড়া কথাই বলছে না। চার ম্যাচ খেলে তিন ম্যাচে জোড়া গোলে তার মোট গোল ছয়টি। শুধু গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে তিনি গোল করতে পারেননি। ম্যাচটিতে জ্বলে উঠেছিলেন উসমান দেম্বেলে। তার হ্যাটট্রিকে ফ্রান্স জয়ী হয়েছিল ৪-১ গোলে।

এমবাপ্পের মাথায় কিন্তু তার জোড়া গোল কিংবা মেসির সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ের বিষয়টি তার মাথায় নেই। তার লক্ষ্য দলের জন্য কিছু একটা করা। শিরোপা আবার এনে দেওয়া। সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তার কথায় ফুটে উঠেছিল সে রকমই। ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তার প্রধানতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘আমি জানি আমি কে, কীভাবে খেলি এবং আমার কী করা উচিত। এটা শুধু আমি নয়, আমাদের গোটা দলই জানে তাদের কী করতে হবে। ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলকে সামনে এগিয়ে যাওয়াই মূল লক্ষ্য।’ সুইডেনের বিপক্ষে জয়ের পর তিনি বলেন, ‘নতুন একটি প্রতিযোগিতা শুরু হলো। আমরা ভালো খেলেছি। সামনে আমাদের আরও ভালো করতে হবে।’

শেষ বত্রিশে সুইডেনের বিপক্ষে এমবাপ্পের জোড়া গোলের প্রদর্শনীতে এমবাপ্পে ছয় গোল করে শুধু মেসিকে স্পর্শই করেননি, মোট ১৮ গোল করে জার্মানির ক্লসাকে (১৭ গোল) ছাড়িয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে মেসির ঘাড়ে গরম নিশ্বাস ফেলেছেন। মেসির গোল সর্বোচ্চ ১৯টি। দুজনেই যেভাবে খেলছেন এবং তাদের দল যেভাবে একেকটি ম্যাচের প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করে চলেছে, তাতে করে চলতি আসরেই তাদের কাছ থেকে আরও একাধিক গোল দেখা যাবে। কে জানে তখন মেসিকে এমবাপ্পে ছাড়িয়ে যান কি না কিংবা মেসি নিজেকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান? মেসি যদি নিজেকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান, তবে তা হবে স্বল্প সময়ের জন্য। কারণ তিনি খেলছেন শেষ বিশ্বকাপ। এমবাপ্পে আছেন মধ্যগগনে। বয়স ২৭। ফর্ম ধরে রাখতে পারলে এবং ইনজুরি বাসা না বাঁধলে একাধিক বিশ্বকাপ খেলার হাতছানি তার সামনে। তখন তিনি শুধু মেসিকেই টপকাবেন না, সর্বোচ্চ গোলদাতার সংখ্যাটি অনেকেরই ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাবেন। যা শুধু দেখা যাবে, কিন্তু সহজে স্পর্শ করা যাবে না। ফ্রান্সের হয়ে ইতোমধ্যে তিনি এটি নিজের করে নিয়েছেন। তার বর্তমান গোল ৬১টি। তার পেছনে পড়ে আছেন অলিভার জিরো ৫৭ গোল ও থিয়েরি অরি ৫১ গোল করে। এমবাপ্পে যেভাবে নিজেকে গোল মেশিনে পরিণত করেছেন, তাতে করে জাতীয় দলের হয়েও তিনি গোল করায় নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।

স্পেনের হয়ে পুরো ম্যাচ খেলার মতো ফিট ইয়ামাল: দে লা ফুয়েন্তে

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
স্পেনের হয়ে পুরো ম্যাচ খেলার মতো ফিট ইয়ামাল: দে লা ফুয়েন্তে
অনুশীলনের সময় স্পেনের লামিন ইয়ামাল। ছবি: রয়টার্স

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে স্পেনের হয়ে প্রয়োজনে এখন পুরো ম্যাচ খেলার মতো সম্পূর্ণ ফিট রয়েছেন লামিনে ইয়ামাল। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

বার্সেলোনার ১৮ বছর বয়সী এই উইঙ্গার গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে মাত্র ১৪১ মিনিট মাঠে ছিলেন এবং গোল করেছেন একটি। এই বিশ্বকাপে বিশ্বমানের সুপারস্টারদের মধ্যে একমাত্র তিনিই এখন পর্যন্ত নিজের চেনা ছন্দে ফিরতে পারেননি। গত ২২ এপ্রিল হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট পাওয়ার পর তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে নিখুঁত করতেই স্পেন দল তার খেলার সময় (মিনিট) নিয়ন্ত্রণ করছিল।

বৃহস্পতিবার শেষ বত্রিশের (রাউন্ড অব ৩২) ম্যাচে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে সোফি স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দে লা ফুয়েন্তে। সেখানে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, 'লা রোহা' খ্যাত স্পেনের এই ফরোয়ার্ডের চোট পুরোপুরি সেরে উঠেছে।

দোভাষীর মাধ্যমে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, 'লামিনেকে আমরা যেভাবে খেলতে বলব, সে সেভাবেই খেলতে প্রস্তুত। আমরা তাকে নিয়ে বেশ সতর্ক ছিলাম, যা আমরা আমাদের সব খেলোয়াড়ের চোট কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে করে থাকি—তাদের নির্দিষ্ট সময়সীমাকে সম্মান করা এবং ম্যাচের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা। লামিন এখন খুব ভালো অবস্থায় আছে এবং সবচেয়ে বড় কথা হলো, আপনারা সবাই দেখতে পাচ্ছেন সে মাঠে নামার জন্য কতটা মরিয়া।'

এরপর মৃদু হেসে স্প্যানিশ কোচ যোগ করেন, 'সুতরাং, দেখা যাক আগামীকাল সে খেলে কি না।'

হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে লা লিগার শেষ ছয়টি ম্যাচ মিস করলেও সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৪টি গোল এবং ১৭টি অ্যাসিস্ট করেছেন ইয়ামাল। চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে স্পেনের অপ্রত্যাশিত গোলশূন্য ড্র-এর ম্যাচে তিনি বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। এরপর সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথমবার শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়ে ১০ মিনিটের মাথায় নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোলটি করেন। আর সর্বশেষ উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি ৭৬ মিনিট খেলেন।

লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেন, আর্লিং হালান্ড এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের মতো বিশ্বসেরা তারকারা যখন এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করছেন, তখন ইয়ামালও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে—এই বড় মঞ্চে তিনিও নিজের প্রতিভা প্রমাণ করতে কতটা উদগ্রীব।

২০১০ সালে শিরোপা জেতার পর থেকে বিশ্বকাপে আর কোনো নকআউট ম্যাচ জিততে না পারা স্পেনের জন্য বুধবার ইনজুরি নিয়ে আরও কিছু ভালো খবর এসেছে।

কোচ দে লা ফুয়েন্তে জানিয়েছেন, উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বাম কাঁধে চোট পাওয়া উইঙ্গার ইয়েরেমি পিনো 'অলৌকিকভাবে' সুস্থ হয়ে উঠেছেন। ক্রিস্টাল প্যালেসের এই উইঙ্গার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের জন্য স্কোয়াডে থাকছেন।

আজহার/

ফ্রি কিকে গোল, কে এই মার্কিন গোলস্কোরার?

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
ফ্রি কিকে গোল, কে এই মার্কিন গোলস্কোরার?
মালিক টিলম্যান। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ফ্রি কিকে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোলটি করেন মালিক টিলম্যান।

বুধবার (১ জুলাই) সান ফ্রান্সিসকো বে এরিনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে তার অসাধারণ নৈপুণ্যে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে জয় সুনিশ্চিত করে এ স্বাগতিক দেশ।

ম্যাচের ৮২তম মিনিটে ডেডবল পরিস্থিতি থেকে এক চোখ ধাঁধানো ‘নাকলবল’ স্ট্রাইকে গোল করে দলের লিড দ্বিগুণ করেন টিলম্যান। তার এই দুর্দান্ত গোলের পর স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উল্লাসের জোয়ার বয়ে যায়।

জার্মানি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জার্সিতে

২৪ বছর বয়সি এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের জন্ম জার্মানির নুরেমবার্গে। তার বাবা আমেরিকান এবং মা জার্মান। জন্মসূত্রে যুব পর্যায়ে জার্মানির প্রতিনিধিত্ব করলেও, ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের সিনিয়র ক্যারিয়ারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেন টিলম্যান।

ক্লাব ফুটবলে উত্থান

মালিক টিলম্যানের ফুটবলে হাতেখড়ি বায়ার্ন মিউনিখের যুব দলে। বাভারিয়ানদের সিনিয়র দলের হয়ে চারটি ম্যাচও খেলেন তিনি। এরপর ২০২৪ সালে নেদারল্যান্ডসের ইরেডিভিসির ক্লাব পিএসভি আইন্দহোভেনে যোগ দেন। সেখানে ধারে খেলার সময় চিত্তাকর্ষক পারফরম্যান্সের পর, পাকাপাকি যোগ দিয়ে ১২টি গোল করে নজর কাড়েন ফুটবল বিশ্বে।

২০২৫ সালে ৩৫ মিলিয়ন ইউরোর একটি বড় চুক্তিতে বায়ার লেভারকুসেনের হাত ধরে আবারও জার্মানির ঘরোয়া ফুটবলে ফিরে আসেন এই প্রতিভাবান মিডফিল্ডার। জাতীয় দলের হয়ে তার এই সাম্প্রতিক ফর্ম যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ অভিযানে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

থিওটোনিয়াস/