ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বকাপে লাল কার্ডের আপিলের সুযোগ নেই, বাড়তে পারে শাস্তি শাহজালালে বিমানের ফ্লাইট থেকে ১৯ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার সংবাদ সম্মেলনেই বাবার মৃত্যুর খবর পেলেন কঙ্গো কোচ দেসাব্রে উচ্চতা নিয়ে উদ্বিগ্ন টুখেল রূপগঞ্জে তৌহিদী জনতার ওপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন রাঙামাটিতে ইয়াবাসহ সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য গ্রেপ্তার সরকার রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী ভয়াবহতা রুখতে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে চাঁদপুরের পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা বিদ্যুৎসংকটে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত চীন: ইয়াও ওয়েন চট্টগ্রাম ওয়াসায় খুলেছে পদোন্নতির জট কাশিয়ানীতে বাসের ধাক্কায় যুবক নিহত তরুণীদের স্তনের সাধারণ সমস্যা ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা টানা দুই দফা কমার পর ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম নোয়াখালীতে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী পড়ে পাওয়া গল্পের ৮টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রসহ অপু গ্রুপের প্রধান গ্রেপ্তার ল্যামিনের আত্মবিশ্বাসে মুগ্ধ স্পেন কোচ ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল চুয়েটে স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম আজ ফুটবল আসলেই এক নির্মম খেলা: সেনেগাল কোচ আইফোনে কাস্টম অ্যালার্ম টোন মাদারীপুরে কোটি টাকার নকল সিগারেট জব্দ অনলাইন জুয়া-বেটিং দমনে নতুন আইন রাশিয়ায় তীব্র জ্বালানিসংকট ঢাকার যানজট কমাতে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মনোনীত হলেন আজিজ আল কায়সার জেলেনস্কির সতর্কবার্তার পর কিয়েভে হামলা, নিহত ৮ মংডুতে জান্তা সরকারের বিমান হামলা, কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত দেশের বাজারে আসছে অনারের ম্যাজিক ভি৬ ফোন

সিলেটে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: ১৪ বছর পর দুজনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:০৫ এএম
সিলেটে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: ১৪ বছর পর দুজনের মৃত্যুদণ্ড
সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালত

সিলেটে নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার প্রায় ১৪ বছর পর মামলার রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্তদের ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার সিলেট শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম রুবাইয়া ইয়াসমিন এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন সিলেটের বিশ্বনাথের শাহবাজপুর গ্রামের মো. জয়নাল ও কাদিরগাঁও গ্রামের মো. নাজিমুদ্দিন। এর মধ্যে জয়নাল ধর্ষিত স্কুলছাত্রীর মামাতো ভাই।

সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি নুর আহমদ জানিয়েছেন, রায় প্রদানের সময় আদালত কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে আদালতের এ রায় সময়োপযোগী। বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হলেও প্রত্যাশিত রায় হয়েছে। এ ধরনের রায় সমাজে অপরাধপ্রবণ ও দুষ্কৃতকারীদের জন্য কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর বিশ্বনাথের ওই সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী নানাবাড়ি গিয়েছিল। সেখানে জয়নাল ও নাজিমুদ্দিন তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে একটি কক্ষে রেখে অন্য কক্ষে গেলে জয়নালের ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে পরিবারে খবর দেয় স্কুলছাত্রী। খবর পেয়ে স্কুলছাত্রীর মা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।

ঘটনার পরদিনই স্কুলছাত্রীকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পরে এ ঘটনায় বিশ্বনাথ থানায় দুজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন স্কুলছাত্রীর বাবা। 

পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালের ৪ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে গতকাল আদালতে এ রায় দেন। মামলায় ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা কাটল

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৫০ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:১৪ এএম
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা কাটল

দেশের ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর কোনো আইনি বাধা রইল না। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি মামলার বিষয়ে আপিল বিভাগ এই রায় দিয়েছেন।

এর আগে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছিলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের সংকট দূর করতে ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে আটকে রয়েছে। এই জটিলতা নিরসনে সরকার কাজ করছে।

অমিয়/

দুর্নীতির মামলায় বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন ছয়জন

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
দুর্নীতির মামলায় বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন ছয়জন
সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদে। ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পলাতক পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও ছয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ পঞ্চম আদালতে বিচারাধীন এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিলো।

সংশ্লিষ্ট বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। আগামি ১৬ জুলাই পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার মো.আব্দুল হাফিজ, চাঁদপুর হাজীগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, নওগা মহাদেবপুরের সাব-রেজিস্টার মো. রফিকুল ইসলাম, ভোলা চরফ্যাশনের সাব-রেজিস্ট্রার কাওসার খান, বন অধিদফতরের উপপরিচালক মো. আব্দুস সালাম, বাড্ডার সাব রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম।

দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, চার্জশিটভুক্ত ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। আসামি পলাতক থাকায় তার পক্ষে সাক্ষিদের জেরা করার আইনগত সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

গত ১৩ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে ৩ মে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

বেনজীরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত এগারো কোটি টাকার সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থপাচারের অভিযোগে গত বছরের ৩০ নভেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম।

চার্জশিটে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন।

তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। এতে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে। বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেন।

বেনজীর আহমেদ এসব অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।

২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর এ মামলাটি দায়ের করে দুদক।

প্রসঙ্গত, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর দায়ের করা বেশ কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের জারি করা রেড নোটিশের প্রেক্ষিতে গত ১২ জুন ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) বাংলাদেশ সরকারকে ইমেইল করে বেনজীরের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে।‌

কুটনৈতিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দ্রুতই তাকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে বলে গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

বেনজির ও তার স্ত্রী-কন্যাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়াসহ নামে-বেনামে দেশে-বিদেশে থাকা সমস্ত স্থাবর অস্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়। জব্দ করা হয়েছে তাদের আয়কর নথিও।

গত বছরের ৪ মে সপরিবার দেশ ছাড়া বেনজীরের দুবাইয়ে আবাসন ও সোনার ব্যবসায় বিনিয়োগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়।

এম এ জলিল উজ্জ্বল/এএফ

শিশু আসমা হত্যা মামলার রায় ফের পেছাল

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০২:০৪ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
শিশু আসমা হত্যা মামলার রায় ফের পেছাল
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর চাটখিলের চাঞ্চল্যকর শিশু আসমা আক্তার (৫) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় তৃতীয় দফায় পিছিয়েছে। রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৬ জুলাই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

বুধবার (১ জুলাই) জেলার বিশেষ শিশু ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তার এ আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুক্লা সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার রায় ঘোষণার তারিখ তৃতীয় দফা পরিবর্তন করে ৬ জুলাই নির্ধারণ করা হয়।

নিহত আসমা উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির বাসিন্দা মাওলানা মো. শাহজাহানের মেয়ে। মামলার একমাত্র আসামি শাহাদাত (২৬) একই গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে এবং শিশুটির জেঠাতো ভাই।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় আসমা। ঘটনার ৯ দিন পর বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংক থেকে আসামির তথ্যের ভিত্তিতে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ভিকটিমের জেঠাতো ভাই শাহাদাতকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্ত চলাকালে শাহাদাত আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, ধর্ষণের পর ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় সে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখে।

এ ঘটনার পর পুরো নোয়াখালীজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয়রা শুরু থেকেই দ্রুত বিচার ও আসামির ফাঁসির দাবি জানিয়ে আসছেন। সূত্র: বাসস

আজহার/

জয়পুরহাটে ধর্ষণ মামলায় সেনা সদস্যের যাবজ্জীবন

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
জয়পুরহাটে ধর্ষণ মামলায় সেনা সদস্যের যাবজ্জীবন
ছবিঃ খবরের কাগজ

জয়পুরহাটে কিশোরীকে (১৫) ধর্ষণের মামলায় সিরাতুল ইসলাম মোস্তাকিম রনি (২২) নামে সেনা সদস্যের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এবং বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আবদুর রহমান এ রায় দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আবু বক্কর সিদ্দিক।  

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৪ জুন মেয়েটি বাড়ির পাশে অন্য শিশুদের সাথে খেলাধুলা করছিল। খেলা শেষে অন্য শিশুরা চলে গেলে অভিযুক্ত রনি মেয়েটিকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং ঘটনাটি কাউকে না জানাতে হুমকি দেয়। মেয়েটি বাড়িতে আসার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার পরিবারকে বিষয়টি খুলে বলে। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট আক্কেলপুর থানায় মামলা করা হয়।

পরে ২০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন আক্কেলপুর থানার এসআই মো. আসাদুজ্জামান।   

মামলার শুনানি ও আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে দীর্ঘ চার বছর পর মঙ্গলবার রায় দেওয়া হয়। এরপর আসামিকে জয়পুরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।  

সাগর কুমার/অদিতি/

হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা: মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ১০ বছর

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:০৮ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৮ এএম
হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা: মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ১০ বছর
ছবি: সংগৃহীত

দশ বছর আগে এই দিনে ঢাকার গুলশানে অবস্থিত হোলি আর্টিজান বেকারিতে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও নৃশংস জঙ্গি হামলা ঘটে। ২০১৬ সালের ১ জুলাই সন্ধ্যার পর গুলশানে কূটনৈতিক এলাকার ওই বেকারিতে নিরীহ মানুষের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় জঙ্গিরা।

নারকীয় ওই হামলায় মোট ২২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। যাদের ১৭ জনই ছিলেন বিদেশি নাগরিক। নিহতদের মধ্যে নয়জন ইতালির, ছয়জন জাপানের, একজন ভারতীয়, একজন মার্কিন নাগরিক এবং তিনজন বাংলাদেশি নির্মমভাবে প্রাণ হারান। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে অভিযানে যাওয়া পুলিশের দুই কর্মকর্তা জঙ্গিদের নিক্ষেপ করা বোমায় নিহত হন। ভয়াবহ এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে আপিল বিভাগে।

দশ বছর আগে বিভীষিকাময় সেই রাতভর চলে জঙ্গিদের নৃশংস তাণ্ডব। পরদিন সকালে সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ কমান্ডো অভিযানের মধ্য দিয়ে সেই জিম্মি পরিস্থিতির অবসান ঘটে। ওই অভিযানে হামলাকারী পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। জিম্মি থাকা ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে নিহত পাঁচ জঙ্গি হলেন নিবরাস ইসলাম, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল।

এ নারকীয় হামলার দায় স্বীকার করে ওই রাতেই বিবৃতি দিয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। তৎকালীন সরকার আইএসের এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছিল, দেশীয় জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবি এই হামলা চালায়।

বিচার ও আদালতের রায়

২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নৃশংস সেই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মামলার রায় দেন। বিচারিক আদালতের রায়ে ‘নব্য জেএমবির’ সাত সদস্যকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এরপর ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর রায় দেন। রায়ে সাত আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা ২০২৫ সালের জুনে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৃথক লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন। বর্তমানে সেটি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন ওরফে র‌্যাশ, হাদিসুর রহমান, আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ, মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন ও শরিফুল ইসলাম খালেদ। তাদের মধ্যে আসলাম হোসেন ২০২৪ সালের ৬ জুন গণ-অভ্যুত্থানে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে পালানোর সময় কারারক্ষীদের গুলিতে নিহত হন।