সিলেটে নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার প্রায় ১৪ বছর পর মামলার রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্তদের ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার সিলেট শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম রুবাইয়া ইয়াসমিন এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন সিলেটের বিশ্বনাথের শাহবাজপুর গ্রামের মো. জয়নাল ও কাদিরগাঁও গ্রামের মো. নাজিমুদ্দিন। এর মধ্যে জয়নাল ধর্ষিত স্কুলছাত্রীর মামাতো ভাই।
সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি নুর আহমদ জানিয়েছেন, রায় প্রদানের সময় আদালত কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে আদালতের এ রায় সময়োপযোগী। বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হলেও প্রত্যাশিত রায় হয়েছে। এ ধরনের রায় সমাজে অপরাধপ্রবণ ও দুষ্কৃতকারীদের জন্য কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর বিশ্বনাথের ওই সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী নানাবাড়ি গিয়েছিল। সেখানে জয়নাল ও নাজিমুদ্দিন তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে একটি কক্ষে রেখে অন্য কক্ষে গেলে জয়নালের ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে পরিবারে খবর দেয় স্কুলছাত্রী। খবর পেয়ে স্কুলছাত্রীর মা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
ঘটনার পরদিনই স্কুলছাত্রীকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পরে এ ঘটনায় বিশ্বনাথ থানায় দুজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন স্কুলছাত্রীর বাবা।
পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালের ৪ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে গতকাল আদালতে এ রায় দেন। মামলায় ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।