২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে কোনো খেলোয়াড় বা দলের কর্মকর্তা লাল কার্ড দেখলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দলের পরবর্তী অন্তত একটি ম্যাচে খেলতে বা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। সরাসরি লাল কার্ড এবং দুটি হলুদ কার্ডের ফলে পাওয়া পরোক্ষ লাল কার্ড-উভয় ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য।
বিশ্বকাপের বিধিমালার ১০.৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো খেলোয়াড় বা দলের কর্মকর্তাকে সরাসরি কিংবা পরোক্ষ লাল কার্ডের কারণে মাঠ থেকে বহিষ্কার করা হলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দলের পরবর্তী ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকবেন। পাশাপাশি অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি অতিরিক্ত শাস্তিও আরোপ করতে পারে।
অর্থাৎ, গুরুতর ফাউল, অসদাচরণ বা সহিংস আচরণের মতো ঘটনায় এক ম্যাচের বেশি নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হতে পারে। শাস্তির মেয়াদ নির্ধারণের ক্ষেত্রে ঘটনার প্রকৃতি ও গুরুতরতা বিবেচনা করবে ডিসিপ্লিনারি কমিটি।
চলতি টুর্নামেন্টেই এমন একটি নজির দেখা গেছে। কানাডার ইসমায়েল কোনের ওপর বিপজ্জনক ট্যাকল করে তার পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় কাতারের আসিম মাদিবোকে পাঁচ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি।
অন্যদিকে, লাল কার্ড প্রত্যাহারের জন্য কোনো দলই ফিফার কাছে আপিল করতে পারবে না। বিধিমালার ৯.৬ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, মাঠের ঘটনার ভিত্তিতে রেফারির নেওয়া সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং ডিসিপ্লিনারি কোডে বিশেষ কোনো বিধান না থাকলে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ বা আপিল গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে ডিসিপ্লিনারি কমিটি যদি অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রাথমিক এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার বাইরে অতিরিক্ত শাস্তি আরোপ করে, তাহলে সেই বর্ধিত নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দল আপিল করতে পারবে। তবে আপিল সফল হলেও লাল কার্ডের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হওয়া এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কোনো অবস্থাতেই প্রত্যাহার বা মওকুফ হবে না।
পাপ্পু/অন্তরা/