২০২৬ সালের ৫ জুলাই। ক্যালেন্ডারের পাতায় তারিখটি হয়তো আর ১০টি দিনের মতোই সাধারণ ছিল, কিন্তু বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক আকাশের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র এদিন নিঃশব্দে খসে পড়ল। অপরাহ্ণের সেই মলিন আলো যখন শ্রাবণের মেঘে ঢাকা পড়ছিল, তখন বাংলা একাডেমি আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডরগুলোতে যেন এক গভীর বিষণ্ণতা থমকে দাঁড়িয়েছিল। অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই–এ খবরটি যখন বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল, তখন অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছিল: আমরা কি কেবল একজন শিক্ষককে হারালাম, নাকি একটি আস্ত যুগের শেষ চিহ্নটুকুও মুছে গেল?
আসলে মানুষটির প্রস্থান কেবল রক্ত-মাংসের শরীরের বিনাশ নয়। এটি ছিল একটি ঋজু মেরুদণ্ডের প্রস্থান, যা কোনোকালেই কোনো শাসকের রক্তচক্ষু বা কোনো প্রলোভনের কাছে অবনত হয়নি। তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি সারাজীবন শব্দের আরাধনা করেছেন সত্যের সন্ধানে। তার প্রয়াণোত্তর এই লগ্নে যখন স্মৃতির পাতা ওল্টানো হয়, তখন কেবল তার পাণ্ডিত্য নয়, বরং তার সেই অমলিন সারল্য আর গভীর দার্শনিক নির্লিপ্ততা বারবার সামনে চলে আসে। নদী যেমন নিঃশব্দে পলল জমিয়ে উর্বর করে ভূমি, আবুল কাসেম ফজলুল হকও তেমনি কয়েক দশক ধরে বাঙালির চিন্তার জগতে সেই উর্বরতার কাজটুকু করে গেছেন।
আবুল কাসেম ফজলুল হককে বুঝতে হলে তার ‘লোকায়ত’ দর্শনের গভীরে প্রবেশ করা প্রয়োজন। তিনি কেবল পুঁথিগত পণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিলেন না। গ্রামীণ বাংলার ধুলোবালি আর সাধারণ মানুষের জীবনবোধ ছিল তার চিন্তার প্রধান রসদ। কেন তিনি তার সম্পাদিত পত্রিকার নাম ‘লোকায়ত’ রেখেছিলেন? উত্তরটি লুকিয়ে আছে আমাদের শিকড়ে। চার্বাক থেকে শুরু করে আরজ আলী মাতুব্বর পর্যন্ত যে যুক্তিবাদী ও ইহজাগতিক ধারাটি বাংলার মাটিতে বইছে, তিনি ছিলেন সেই ধারার আধুনিক উত্তরাধিকারী।
তার কাছে দর্শন মানে কেবল ঘরের কোণে বসে তত্ত্বকথা আওড়ানো ছিল না। তিনি বিশ্বাস করতেন, যে জ্ঞান মানুষের দৈনন্দিন যন্ত্রণাকে স্পর্শ করে না, তা নিছক বিলাসিতা। তার প্রবন্ধগুলো পাঠ করলে মনে হয়, তিনি যেন প্রতিটি বাক্যে পাঠকের সঙ্গে নিবিড় সংলাপে মগ্ন। ফরাসি দার্শনিক রনে দেকার্ত বলেছিলেন, ‘আমি চিন্তা করি, তাই আমি আছি’। আবুল কাসেম ফজলুল হক একে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি চিন্তা করি এবং সেই চিন্তাকে সমাজমুখী করি, তাই আমি সার্থক’। তার চিন্তার এই সমাজমুখী দায়বদ্ধতাই তাকে বাংলাদেশের অন্যান্য প্রথাগত বুদ্ধিজীবীদের থেকে আলাদা করেছিল। তিনি কেবল শ্রেণিসংগ্রামের চশমায় জগৎকে দেখেননি, বরং সংস্কৃতির সংকটকে মানুষের আত্মপরিচয়ের সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।
রাষ্ট্র ও সমাজ নিয়ে তার যে ভাবনা, তা ছিল এক গভীর স্বদেশি আধুনিকতার পরিচায়ক। আজকের এই বিশ্বায়নের যুগে যখন আমরা নিজেদের স্বকীয়তা হারিয়ে পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণে মগ্ন, তখন তিনি বারবার মনে করিয়ে দিতেন শেকড় হারানো বৃক্ষ কখনো ফুল ফোটাতে পারে না। রাষ্ট্রচিন্তার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এক নির্ভীক পথিক। উচ্চ আদালত থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষার সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর জন্য তিনি যে জেদ ধরেছিলেন, তা কেবল আবেগের বশবর্তী হয়ে নয়। তিনি জানতেন, ভাষার পরাধীনতা আসলে চিন্তার পরাধীনতা।
এডওয়ার্ড সাঈদ কিংবা ফ্রান্তজ ফানো যেভাবে উত্তর-উপনিবেশবাদী তত্ত্ব নিয়ে কাজ করেছেন, অধ্যাপক হকের কাজ ছিল সেই তত্ত্বকে বাংলার বাস্তবতায় প্রয়োগ করা। তিনি বুঝতেন, ইংরেজি ভাষার প্রতি আমাদের যে অগাধ মোহ, তা আসলে একপ্রকার মানসিক দাসত্বের অবশেষ। তার কাছে বাংলা ভাষা ছিল আত্মমর্যাদার প্রতীক। তিনি যখন লিখতেন, ‘উচ্চ আদালতে কেন বাংলা থাকবে না?’, তখন সেটি কেবল একটি প্রশ্ন থাকত না, সেটি হয়ে উঠত রাষ্ট্রের কাঠামোগত দুর্বলতার বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী দলিল। তিনি পশ্চিমা ধাঁচের গণতন্ত্রের সমালোচনা করতে পিছপা হননি। তার মতে, গণতন্ত্র কোনো প্যাকেটে আসা পণ্য নয় যে বিদেশ থেকে আমদানি করলেই তা দেশে শেকড় গড়বে। গণতন্ত্রকে এ দেশের মাটির রস নিতে হবে, সাধারণ মানুষের আকাক্ষার সঙ্গে মিশতে হবে। তিনি স্বপ্ন দেখতেন এমন এক আধুনিকতার, যা হবে নিজস্ব এবং বিশ্বজনীন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সেই পুরোনো বারান্দা আর শ্রেণিকক্ষগুলো আজও যেন তার উপস্থিতির সাক্ষ্য দেয়। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সেখানে শিক্ষকতা করেছেন। কিন্তু তিনি কি কেবল শিক্ষক ছিলেন? না, তিনি ছিলেন একজন ‘মেন্টর’ বা জীবন-পথের দিশারি। তার ক্লাসে শিক্ষার্থীরা কেবল ব্যাকরণ বা সাহিত্যের রসদ খুঁজে পেত না, তারা শিখত কীভাবে জীবনকে নির্মোহভাবে দেখতে হয়। তিনি কোনো নির্দিষ্ট দল বা মতের অনুসারী হতে কাউকে বাধ্য করেননি, বরং শিখিয়েছেন নিজের মস্তিষ্ক ব্যবহার করতে।
মিশেল ফুকোর মতে, জ্ঞান ও ক্ষমতা একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু আবুল কাসেম ফজলুল হকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, জ্ঞানই ছিল তার একমাত্র ক্ষমতা। তিনি কখনো পদ-পদবির পেছনে ছোটেননি, বরং পদই তাকে খুঁজে নিয়েছে। তার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে এক প্রকার হবসীয় দৃঢ়তা থাকলেও সেখানে কোমলতার অভাব ছিল না। তিনি বিশ্বাস করতেন, মেরুদণ্ড সোজা রাখা মানে অহংকার নয়, বরং তা হলো নিজের আদর্শের প্রতি সততা।
বর্তমানের এই ভোগবাদী পৃথিবীতে যেখানে সাফল্য মানেই অঢেল সম্পদ আর লোকচক্ষুর সামনে জাঁকজমক প্রদর্শন, সেখানে আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন এক বিপ্রতীপ স্রোত। তার জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাধারণ, অনেকটা মহর্ষিদের মতো। অথচ তার চিন্তার জগৎ ছিল সীমাহীন বিস্তৃত। তার প্রবন্ধে বারবার উঠে এসেছে এক গভীর আক্ষেপ কেন আমরা একটি প্রকৃত সুশীল সমাজ গঠন করতে পারলাম না? রাজনীতির যে অবক্ষয় তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন, তা তাকে পীড়িত করত।
আন্তোনিও গ্রামশির ‘সাংস্কৃতিক আধিপত্য’ বা হেজিমনি তত্ত্বের আলোকে তিনি মনে করতেন, শাসকগোষ্ঠী কেবল পেশি দিয়ে নয়, বরং সংস্কৃতি দিয়ে মানুষকে শাসন করে। আর এই শাসনের হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে সাধারণ মানুষের নিজস্ব সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করতে হবে। তিনি বলতেন, ‘যেদিন রিকশাচালক আর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক একই ভাষায় জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করবেন, সেদিনই প্রকৃত গণতন্ত্র আসবে।’ তার এই কথাগুলো শুনতে কিছুটা কাল্পনিক মনে হতে পারে, কিন্তু এর ভেতরেই লুকিয়ে ছিল সাম্যের এক সুগভীর দর্শন। তিনি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী অবস্থানে ছিলেন আপসহীন। বিদেশি শক্তির আধিপত্য যখন বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিকে গ্রাস করতে আসত, তিনি তার ক্ষুরধার কলমে তার প্রতিবাদ জানাতেন। সার্বভৌমত্বকে তিনি কেবল ভূখণ্ড রক্ষা নয়, বরং মানসিক মুক্তি হিসেবে দেখতেন।
সাহিত্য সমালোচক হিসেবেও আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন অনন্য উচ্চতায়। তিনি সাহিত্যকে কেবল নন্দনতত্ত্বের মাপকাঠিতে বিচার করেননি। তার কাছে সাহিত্য ছিল সমাজের দর্পণ এবং পরিবর্তনের হাতিয়ার। গ্যেটে কিংবা টলস্টয়কে তিনি যখন ব্যাখ্যা করতেন, তখন তাতে মিশে থাকত বাংলার মাটির ঘ্রাণ। তিনি বিশ্বাস করতেন, সাহিত্যের আবেদন তখনই চিরন্তন হয় যখন তা বিশ্বজনীন হয়ে ওঠে, কিন্তু তার শেকড় থাকতে হয় নিজের ঐতিহ্যে। রবীন্দ্র-উত্তর যুগে প্রবন্ধ সাহিত্যে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তিনি তা পূরণ করার চেষ্টা করেছেন গভীর প্রজ্ঞা দিয়ে।
তার গদ্য ছিল ঝরঝরে, কোথাও কোনো মেদ ছিল না। অতিরিক্ত পাণ্ডিত্যের বোঝা তিনি পাঠকের ওপর চাপিয়ে দিতেন না। বরং সহজ ভাষায় কঠিন সত্যটি বলে দেওয়াই ছিল তার বৈশিষ্ট্য। ‘আমাদের শিকড় বাংলায়, কিন্তু আমাদের শাখা থাকবে সারা বিশ্বে’ এই অমর বাণীটি কেবল তার নয়, বরং পুরো বাঙালি জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রযাত্রার মন্ত্র হওয়া উচিত। তিনি লালন আর হাসন রাজার দর্শনের মধ্যে যে সমন্বয় খুঁজতেন, তা আধুনিক শিক্ষিত সমাজের জন্য এক বড় শিক্ষা। তিনি শিখিয়েছেন, লোকজ ঐতিহ্য আর আধুনিক বিজ্ঞানমনস্কতা বিরোধী নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যখন আমরা চারদিকে তাকিয়ে দেখি বুদ্ধিজীবীদের চরম দলদাসত্ব, তখন আবুল কাসেম ফজলুল হকের অভাব আরও বেশি করে অনুভূত হয়। সত্য বলার সাহস এখন বিরল হয়ে যাচ্ছে। স্বার্থের সংঘাতে যখন বড় বড় পণ্ডিতরা নীরব থাকেন, তখন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন এক জ্বলজ্বলে ব্যতিক্রম। তিনি কখনো কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর তাবেদারি করেননি। এই একাকী লড়াইটা সহজ ছিল না। সমাজের স্রোতের বিপরীতে চলতে গিয়ে তাকে অনেক সময় সমালোচনার শিকার হতে হয়েছে, কিন্তু তিনি তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি।
তিনি বিশ্বাস করতেন, অন্ধকার যত ঘনীভূত হয়, প্রদীপের গুরুত্ব তত বেড়ে যায়। তিনি নিজে একটি প্রদীপ হয়ে জ্বলেছিলেন। তার সেই বিখ্যাত উক্তি ‘অন্ধকারকে গালি না দিয়ে একটি প্রদীপ জ্বালো’ এটি কেবল একটি প্রবাদ নয়, এটি ছিল তার জীবনদর্শন। তিনি জানতেন, সমাজ পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ। ইমানুয়েল কান্ট যেভাবে ‘চিরস্থায়ী শান্তি’র কথা বলেছিলেন, অধ্যাপক হকও তেমনি এক শান্তিপূর্ণ এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন দেখতেন। তবে তিনি ছিলেন বাস্তববাদী; জানতেন যে লড়াইটা মানসিক এবং সাংস্কৃতিক। তাই তিনি বারবার তরুণ প্রজন্মের ওপর জোর দিয়েছেন। তরুণদের সুশিক্ষিত এবং যুক্তিবাদী করে তোলাই ছিল তার জীবনের মূল লক্ষ্য।
আবুল কাসেম ফজলুল হকের শরীরী প্রস্থান হয়তো আমাদের মধ্যে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে, কিন্তু তার চিন্তা কি মরে গেছে? জর্জ উইলহেম হেগেলের ‘গেইস্ট’ বা বিশ্ব-আত্মার ধারণার মতো আবুল কাসেম ফজলুল হকের দর্শন আমাদের জাতীয় মননে প্রবাহিত হতে থাকবে। তিনি যে ‘চিন্তার কাঠামো’ রেখে গেছেন, তা আগামী বহু বছর ধরে গবেষক ও পাঠকদের পথ দেখাবে। তার লেখা বইগুলো কেবল আলমারিতে সাজিয়ে রাখার জন্য নয়, বরং বারবার পড়ার জন্য। সেখানে পাওয়া যায় এক অদ্ভুত প্রশান্তি এবং জীবনের অর্থ।
মানুষ হিসেবে তিনি কেমন ছিলেন? যারা তাকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন, তারা জানেন তার হাসির ভেতরে একটা নির্মল শিশুমন লুকিয়ে ছিল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তিনি আলাপ করতেন গম্ভীর সব বিষয় নিয়ে, কিন্তু তার মাঝেও থাকত রসবোধ। তিনি কোনো সংকীর্ণ দেয়াল তৈরি করেননি।
আবুল কাসেম ফজলুল হক আসলে কোনো বিশেষ সময়ের জন্য ছিলেন না। তিনি ছিলেন কালজয়ী। তার মেধা ও মনন বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসের নির্যাস। তিনি ছিলেন সেই প্রাজ্ঞ ঋষি, যিনি আধুনিকতার পোশাক পরলেও হৃদয়ে ধারণ করতেন বাংলার চিরন্তন লোকজ রূপ। তার প্রয়াণ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, চিন্তার লড়াই কখনো শেষ হয় না। একটি দীপ নিভে গেলে আরেকটি জ্বালিয়ে নিতে হয়।
তিনি নেই, কিন্তু তার পদচ্ছাপ এই বাংলার মাটিতে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। যখনই কোনো মানুষ সত্যের জন্য লড়াই করবে, যখনই কোনো ছাত্র প্রথাগত বিদ্যার বাইরে গিয়ে প্রশ্ন করবে, যখনই কোনো লেখক আপসহীন কলম ধরবে তখনই আবুল কাসেম ফজলুল হক সেখানে সশরীরে না থাকলেও উপস্থিত থাকবেন তার আদর্শ হয়ে। মুক্ত করো ভয়, নিজেরে করো জয়’ রবীন্দ্রনাথের এই পঙ্ক্তিটিই যেন ছিল তার জীবনের মূলমন্ত্র। বাঙালির মননবিশ্বে তিনি এক অক্ষয় বটবৃক্ষের মতো দাঁড়িয়ে থাকবেন, যা রোদ-বৃষ্টি সয়েও ছায়া দিয়ে যাবে আগামী প্রজন্মকে। তার প্রস্থান আমাদের হৃদয়ে এক গভীর ক্ষত তৈরি করেছে ঠিকই, কিন্তু তার রেখে যাওয়া দর্শনই সেই ক্ষত নিরাময়ের পথ দেখাবে। মহাকালের পটে তিনি এক ঋজু এবং শুভ্র পদচ্ছাপ হিসেবেই অমলিন থাকবেন। তার আত্মার এই অভিযাত্রা অনন্তের পথে সফল হোক, আর আমাদের জীবনে তার জীবনদর্শনের ছায়া দীর্ঘতর হোক।
লেখক: কবি, প্রাবন্ধিক ও কথাসাহিত্যিক