কয়েক দফা পেছানোর পর অবশেষে সফলভাবে উড্ডয়ন করেছে নাসার ‘সুইফট বুস্ট’ মিশন। মহাকাশে ধারণার চেয়েও দ্রুতগতিতে নিচে নামতে থাকা ‘নিল গেহেরেলস সুইফট অবজারভেটরি’ উদ্ধারের লক্ষ্যে ৩ জুলাই এই অভিযান শুরু করে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
এর মধ্যে অ্যারিজোনাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ক্যাটালিস্ট স্পেসের তৈরি রোবোটিক মহাকাশযান ‘লিংক’-এর সঙ্গে সফলভাবে যোগাযোগ স্থাপন করেছে নাসার গ্রাউন্ড টিম। এই মহাকাশযানের মূল কাজ হলো পতনশীল মানমন্দিরটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেটিকে টেনে পুনরায় নিরাপদ উচ্চতায় ফিরিয়ে নেওয়া।
এটি কোনো সাধারণ রকেট উৎক্ষেপণ ছিল না। লিংক মহাকাশযানটিকে নর্থরপ গ্রাম্যানের ‘পেগাসাস এক্সএল’ রকেটের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল, যা বহন করছিল ‘স্টারগেজার’ নামের একটি বিমান। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ থেকে উড্ডয়নের পর প্রায় ৪০ হাজার ফুট উচ্চতায় বিমানটি মাঝ আকাশে রকেটটিকে ছেড়ে দেয়। কয়েক সেকেন্ড মুক্তভাবে নিচে পড়ার পর রকেটের ইঞ্জিন চালু হয় এবং লিংককে সফলভাবে মহাকাশে পৌঁছে দেয়।
নাসা জানিয়েছে, মহাকাশযানটি ইতোমধ্যে সক্রিয় হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে এর প্রোপালশন, নেভিগেশন ও সেন্সর সিস্টেম ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখবে ক্যাটালিস্ট। সব ধরনের কারিগরি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর লিংক তার তিনটি রোবোটিক হাতের সাহায্যে সুইফট অবজারভেটরির সঙ্গে যুক্ত হবে।
এরপর সেটিকে টেনে প্রায় ৩৭০ মাইল উচ্চতার একটি নিরাপদ কক্ষপথে নিয়ে যাবে লিংক। পুরো প্রক্রিয়ায় ১০ থেকে ১২ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সফল হলে মানমন্দিরটির আয়ু আরও প্রায় এক দশক বেড়ে যাবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।
সাধারণত সব মহাকাশযানই একসময় কক্ষপথ থেকে নিচে নেমে আসে। তবে সাম্প্রতিক তীব্র সৌর কার্যক্রমের কারণে সুইফটের কক্ষপথ প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দ্রুত সংকুচিত হচ্ছিল। লিংকের সাহায্য না পেলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ মহাকাশ টেলিস্কোপটি পুরোপুরি কক্ষচ্যুত হয়ে যেত।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে মহাকাশে গামা-রশ্মির বিস্ফোরণ নিয়ে গবেষণা করছে এই সুইফট অবজারভেটরি। সুইফটের প্রধান গবেষক ব্র্যাড সেংকো জানান, গামা-রশ্মির বিস্ফোরণ হলো উচ্চশক্তির আলোর ক্ষণস্থায়ী ঝলকানি। মাত্র কয়েক সেকেন্ডে এটি যে পরিমাণ শক্তি নির্গত করে, তা সূর্য তার পুরো জীবনকালেও নির্গত করতে পারে না।
ধারণা করা হয়, বিশালাকার নক্ষত্রের বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ফলে এ ধরনের অতিশক্তিশালী রশ্মি তৈরি হয়। সুইফট থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, আমাদের ব্যবহৃত স্বর্ণের গহনা ও প্ল্যাটিনামসহ পর্যায় সারণির সবচেয়ে ভারী মৌলগুলো মহাজাগতিক এসব সংঘর্ষের মাধ্যমেই তৈরি হয়। বর্তমানে মহাকাশের যেকোনো আকস্মিক ঘটনায় দ্রুততম সময়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে বিজ্ঞানীদের কাছে সুইফট একটি ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ বা দ্রুত সাড়াদানকারী যান হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।