ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
চট্টগ্রামে দেয়ালধসে নিহত ১, শিশুসহ আহত তিন টানা বৃষ্টির প্রভাব, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র অবিরাম বৃষ্টিতে ঝুঁকিতে বান্দরবান, খোলা হলো ২২০ আশ্রয়কেন্দ্র কারণ জানুন বিশ্ববাজারে ব্যবসা বাড়াতে নতুন রূপে ‘টিপসই’ মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে যেভাবে শুরু হয়েছিল মেসি-অধ্যায় এআই ও ডেটা সায়েন্সে স্নাতক প্রোগ্রাম চালু করল আইএসইউ বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী কম্বোডিয়ায় মানবপাচার ও তরুণ নিহতের ঘটনার মূলহোতা গ্রেপ্তার লাকড়ির স্তূপে বিষধর সাপ, প্রাণ গেল নারীর পাবলিক স্পিকিংয়ে মঞ্চ মাতাবেন যেভাবে মহাকাশে পতনশীল সুইফট অবজারভেটরি উদ্ধারে নাসার সফল অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকির সতর্কবার্তা ব্রাজিলের রাতের রানিতে সেজেছে পেকুয়ার পাহাড় নোয়াখালীর ২ হাসপাতালকে জরিমানা লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি ৭৩১ জনকে চাকরি দেবে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বিমা খাতকে আইনি কাঠামোয় আনার তাগিদ তথ্যমন্ত্রীর ব্রাজিলিন্টিনা টানা বৃষ্টি ও জোয়ারে পতেঙ্গা সৈকতসংলগ্ন সড়কে ধস জাদুঘরে ফিরল ১১৯ বছরের পুরোনো তিমির কঙ্কাল ‘আল্লাহ কোথায় আছেন?’ বাল্টিক সাগরের বুকে ২২ ঘণ্টার স্বপ্নযাত্রা দানবাক্স থেকে চুরি করে প্রেমিকাকে আইফোন দিলেন কর্মী খাদ্য অধ্যায়ের ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান বহুরূপী মতিন ভাই ফারাওদের রুখতে আর্জেন্টিনার একাদশে ৩ পরিবর্তন এনবিআরের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা চৌকিতে হামলায় ৯ পুলিশ সদস্য নিহত

জাদুঘরে ফিরল ১১৯ বছরের পুরোনো তিমির কঙ্কাল

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
জাদুঘরে ফিরল ১১৯ বছরের পুরোনো তিমির কঙ্কাল
যুক্তরাজ্যের হাল মেরিটাইম জাদুঘরে ১১৯ বছরের পুরোনো একটি তিমির কঙ্কাল পুনরায় স্থাপন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের হাল মেরিটাইম জাদুঘরে ১১৯ বছরের পুরোনো একটি তিমির কঙ্কাল পুনরায় স্থাপন করা হয়েছে। ছয় বছর ধরে প্রায় ২ কোটি পাউন্ড ব্যয়ে জাদুঘরটির সংস্কারকাজ চলেছে। জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আগে এই কঙ্কাল স্থাপন জাদুঘরের জন্য একটি বড় মাইলফলক।

৪০ ফুট লম্বা এই কঙ্কালে ১৬৮টি হাড় রয়েছে। জাদুঘরের নতুন ‘এজ অব সেইল’ গ্যালারিতে এটি স্থাপনে পাঁচ দিন সময় লেগেছে। পরিষ্কার ও সংরক্ষণের পর চলতি সপ্তাহে কঙ্কালটি পুনরায় স্থাপনের কাজ শেষ করেন সংরক্ষক নাইজেল লার্কিন। এটি এই জাদুঘরের সবচেয়ে বড় নিদর্শন।

১৯০৭ সালে নিউইয়র্ক উপকূলে মায়ের সঙ্গে এই তিমিটি ধরা পড়েছিল। এটি নর্থ আটলান্টিক রাইট তিমি প্রজাতির। বর্তমানে প্রজাতিটি চরম বিপন্ন। ধারণা করা হয়, বিশ্বে এখন ৪০০টিরও কম এমন তিমি টিকে আছে। জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা ও মাছ ধরার জালে আটকে যাওয়ার কারণে এরা চরম হুমকির মুখে রয়েছে।

চলতি বছরের আগস্টে দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরটি আবার খুলে দেওয়া হবে। জাদুঘরটি খুললে দর্শনার্থীরা একটি সুড়ঙ্গ দিয়ে তিমির পাঁজরের ভেতরে প্রবেশ করার সুযোগ পাবেন।

২০২০ সালে সংস্কারের জন্য জাদুঘরটি বন্ধ হয়ে যায়। তখন নাইজেল লার্কিন ১৬৮টি হাড় আলাদা করে পরিষ্কার ও সংরক্ষণের জন্য শ্রপশায়ারে তার কারখানায় নিয়ে যান। হাল সিটি কাউন্সিলের নেতা মাইক রস বলেন, ‘জাদুঘরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর নিদর্শনগুলোর একটি এই কঙ্কাল। এটি আবার আগের জায়গায় ফিরে আসা দারুণ ব্যাপার। দর্শনার্থীদের কাছে নতুন উপায়ে তিমির গল্প তুলে ধরা হবে। এতে তারা এই প্রজাতির গুরুত্ব বুঝতে পারবেন।’

১৯৩৫ সালে কেমব্রিজের ইউনিভার্সিটি মিউজিয়াম অব জুওলজি থেকে কঙ্কালটি হাল মেরিটাইম জাদুঘরে আনা হয়। বিনিময়ে তাদের একটি নীল তিমির কঙ্কাল দেওয়া হয়েছিল। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় আবার ১৯০৮ সালে একটি ডোডো পাখির কঙ্কালের বিনিময়ে নিউইয়র্কের আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি থেকে কঙ্কালটি পেয়েছিল।

অন্যদিকে, বিজ্ঞান জগতের আরেক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, আদিম মানবসমাজ আগের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি জটিল ও উন্নত ছিল। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রায় ৩ লাখ বছর আগে ‘হোমো নালেদি’ নামের এক বিলুপ্ত মানব প্রজাতি অত্যন্ত জটিল সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। তাদের মধ্যে নারী-পুরুষভিত্তিক চরম সাংস্কৃতিক বিভাজন এবং নারীদের শক্তিশালী লিঙ্গপরিচয় ছিল।

গবেষণায় দেখা যায়, এই প্রজাতি মৃত নারী ও পুরুষদের আলাদা করে রাখত। এর থেকে ধারণা করা হয়, জীবিত অবস্থায়ও তাদের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে নারী ও পুরুষের বিভাজন ছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রজাতির নারীদের একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক পরিচয় গড়ে উঠেছিল। কোনো কোনো দিক থেকে একে প্রাগৈতিহাসিক নারীবাদের একটি রূপ হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে।

মহাকাশে পতনশীল সুইফট অবজারভেটরি উদ্ধারে নাসার সফল অভিযান

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
মহাকাশে পতনশীল সুইফট অবজারভেটরি উদ্ধারে নাসার সফল অভিযান
ছবি: নাসা

কয়েক দফা পেছানোর পর অবশেষে সফলভাবে উড্ডয়ন করেছে নাসার ‘সুইফট বুস্ট’ মিশন। মহাকাশে ধারণার চেয়েও দ্রুতগতিতে নিচে নামতে থাকা ‘নিল গেহেরেলস সুইফট অবজারভেটরি’ উদ্ধারের লক্ষ্যে ৩ জুলাই এই অভিযান শুরু করে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

এর মধ্যে অ্যারিজোনাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ক্যাটালিস্ট স্পেসের তৈরি রোবোটিক মহাকাশযান ‘লিংক’-এর সঙ্গে সফলভাবে যোগাযোগ স্থাপন করেছে নাসার গ্রাউন্ড টিম। এই মহাকাশযানের মূল কাজ হলো পতনশীল মানমন্দিরটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেটিকে টেনে পুনরায় নিরাপদ উচ্চতায় ফিরিয়ে নেওয়া।

এটি কোনো সাধারণ রকেট উৎক্ষেপণ ছিল না। লিংক মহাকাশযানটিকে নর্থরপ গ্রাম্যানের ‘পেগাসাস এক্সএল’ রকেটের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল, যা বহন করছিল ‘স্টারগেজার’ নামের একটি বিমান। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ থেকে উড্ডয়নের পর প্রায় ৪০ হাজার ফুট উচ্চতায় বিমানটি মাঝ আকাশে রকেটটিকে ছেড়ে দেয়। কয়েক সেকেন্ড মুক্তভাবে নিচে পড়ার পর রকেটের ইঞ্জিন চালু হয় এবং লিংককে সফলভাবে মহাকাশে পৌঁছে দেয়।

নাসা জানিয়েছে, মহাকাশযানটি ইতোমধ্যে সক্রিয় হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে এর প্রোপালশন, নেভিগেশন ও সেন্সর সিস্টেম ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখবে ক্যাটালিস্ট। সব ধরনের কারিগরি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর লিংক তার তিনটি রোবোটিক হাতের সাহায্যে সুইফট অবজারভেটরির সঙ্গে যুক্ত হবে।

এরপর সেটিকে টেনে প্রায় ৩৭০ মাইল উচ্চতার একটি নিরাপদ কক্ষপথে নিয়ে যাবে লিংক। পুরো প্রক্রিয়ায় ১০ থেকে ১২ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সফল হলে মানমন্দিরটির আয়ু আরও প্রায় এক দশক বেড়ে যাবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

সাধারণত সব মহাকাশযানই একসময় কক্ষপথ থেকে নিচে নেমে আসে। তবে সাম্প্রতিক তীব্র সৌর কার্যক্রমের কারণে সুইফটের কক্ষপথ প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দ্রুত সংকুচিত হচ্ছিল। লিংকের সাহায্য না পেলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ মহাকাশ টেলিস্কোপটি পুরোপুরি কক্ষচ্যুত হয়ে যেত।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে মহাকাশে গামা-রশ্মির বিস্ফোরণ নিয়ে গবেষণা করছে এই সুইফট অবজারভেটরি। সুইফটের প্রধান গবেষক ব্র্যাড সেংকো জানান, গামা-রশ্মির বিস্ফোরণ হলো উচ্চশক্তির আলোর ক্ষণস্থায়ী ঝলকানি। মাত্র কয়েক সেকেন্ডে এটি যে পরিমাণ শক্তি নির্গত করে, তা সূর্য তার পুরো জীবনকালেও নির্গত করতে পারে না।

ধারণা করা হয়, বিশালাকার নক্ষত্রের বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ফলে এ ধরনের অতিশক্তিশালী রশ্মি তৈরি হয়। সুইফট থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, আমাদের ব্যবহৃত স্বর্ণের গহনা ও প্ল্যাটিনামসহ পর্যায় সারণির সবচেয়ে ভারী মৌলগুলো মহাজাগতিক এসব সংঘর্ষের মাধ্যমেই তৈরি হয়। বর্তমানে মহাকাশের যেকোনো আকস্মিক ঘটনায় দ্রুততম সময়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে বিজ্ঞানীদের কাছে সুইফট একটি ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ বা দ্রুত সাড়াদানকারী যান হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

২৫ আলোকবর্ষ দূরে পৃথিবীর মতো গ্রহ

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
২৫ আলোকবর্ষ দূরে পৃথিবীর মতো গ্রহ
পৃথিবীর বাইরে বায়ুমণ্ডল এবং সূর্য। ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের সন্ধানে বিজ্ঞানীরা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির খবর দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে ২৫ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত ‘জিজে ৩৩৭৮বি’ নামের একটি গ্রহকে পৃথিবীর মতো পাথুরে এবং সম্ভাব্য বাসযোগ্য বলে মনে করছেন। গবেষকদের মতে, এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বলছে, প্রাণের অস্তিত্ব অনুসন্ধানের জন্য এটি অন্যতম সম্ভাবনাময় গ্রহ।

গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল’-এ প্রকাশিত হয়েছে। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাকডোনাল্ড পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে হবি-এবারলি টেলিস্কোপ ব্যবহার করে গ্রহটি সম্পর্কে নতুন তথ্য সংগ্রহ করেন গবেষকরা। সর্বশেষ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগে ধারণার চেয়ে গ্রহটির ভর অনেক কম, যা এটিকে পৃথিবীর মতোই পাথুরে গ্রহ হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো করেছে।

তবে গ্রহটি নিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, জিজে ৩৩৭৮বি একটি ছোট লাল নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। ওই নক্ষত্রের তীব্র বিকিরণের কারণে সেখানে স্থায়ী বায়ুমণ্ডল টিকে থাকা কঠিন হতে পারে। ফলে গ্রহটি সত্যিই প্রাণের উপযোগী কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও গবেষণার প্রয়োজন।

গবেষক পল রবার্টসন বলেন, ২৫ আলোকবর্ষ শুনতে অনেক দূরে মনে হলেও মহাজাগতিক হিসেবে এটি পৃথিবীর খুব কাছের প্রতিবেশী। কারণ আমাদের ছায়াপথ মিল্কিওয়ের ব্যাস প্রায় ১ লাখ আলোকবর্ষ। সেই তুলনায় জিজে ৩৩৭৮বি কার্যত পৃথিবীর ‘মহাজাগতিক প্রতিবেশী’।

বিজ্ঞানীদের কাছে গ্রহটি প্রথম ধরা পড়ে ২০২৪ সালে। তখন ধারণা করা হয়েছিল, এর ভর পৃথিবীর প্রায় পাঁচ গুণ এবং এটি নিজ নক্ষত্রকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ২৪ দশমিক ৭ দিন। তবে নতুন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গ্রহটির ভর পৃথিবীর মাত্র ২ দশমিক ৩ গুণ এবং এর কক্ষপথ সম্পূর্ণ করতে সময় লাগে ২১ দিন। এ কারণেই গবেষকরা এটিকে ‘সুপার আর্থ’ শ্রেণির গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করছেন। গবেষকদের ভাষ্য, কোনো গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা যাচাইয়ের প্রথম শর্ত হলো সেখানে তরল পানির অস্তিত্ব। তাই এখন জিজে ৩৩৭৮বিতে পানির উপস্থিতি এবং বায়ুমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করার দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জিজে ৩৩৭৮বির নক্ষত্রটি সূর্যের তুলনায় ছোট ও কম উজ্জ্বল। এ ধরনের লাল ছোট নক্ষত্র আমাদের ছায়াপথে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। গবেষক মাইকেল এন্ডল জানান, মিল্কিওয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ নক্ষত্রই এ ধরনের। ফলে এসব নক্ষত্রকে ঘিরে পৃথিবীর মতো পাথুরে গ্রহের সংখ্যাও অনেক হতে পারে। সেই কারণেই বিজ্ঞানীরা এসব গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এন্ডলের ভাষায়, ‘মহাবিশ্বে আমরা কি একাই বুদ্ধিমান প্রাণী, নাকি আমাদের মতো আরও কেউ রয়েছে–এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আমাদের গবেষণা। জিজে ৩৩৭৮বি সেই অনুসন্ধানকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে।’

তবে প্রযুক্তিগত বাস্তবতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে মানুষের তৈরি সবচেয়ে দ্রুতগতির মহাকাশযান ‘ভয়েজার–১’ যদি এই গ্রহের উদ্দেশে যাত্রা করে, তা হলে সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় ৪ লাখ ৪১ হাজার বছর। ফলে আপাতত দূরবর্তী টেলিস্কোপ ও আধুনিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করেই জিজে ৩৩৭৮বির রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। সূত্র: স্পেস

চীনে এবার রোবটের ব্যান্ডদল

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
চীনে এবার রোবটের ব্যান্ডদল
ছবি সিএমজি বাংলা

প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে চীনা উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদ চাং চেংথাও  দীর্ঘদিনের রোবটিক্স গবেষণাকে ব্যবহারিক উদ্ভাবনে রূপ দিয়েছেন। দক্ষ শিল্প রোবট থেকে শুরু করে দর্শকদের নজর কেড়ে নেওয়া একটি হিউম্যানয়েড রোবট ব্যান্ড—সবই তার প্রতিষ্ঠিত চোংখে হুইলিং রোবটিক্সের উদ্ভাবনের অংশ।

প্রতিষ্ঠানটির রোবট ব্যান্ড ইতোমধ্যে অনলাইনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ড্রামস, কিবোর্ড, লিড গিটার ও বেস গিটার নিয়ে গঠিত এই ব্যান্ডের পরিবেশনার পেছনে রয়েছে সূক্ষ্ম গতিনিয়ন্ত্রণ, সমন্বিত পরিচালনা এবং দেহধারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বহু বছরের গবেষণা।

চাংয়ের মতে, রোবট ব্যান্ড তার বৃহত্তর স্বপ্নের একটি ছোট অংশ মাত্র। রোবটিক্স গবেষক হিসেবে তিনি ২০২৩ সালে চোংখে হুইলিং রোবটিক্স প্রতিষ্ঠা করেন, যাতে গবেষণাগারের প্রযুক্তিকে বাস্তব শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহার করে বিভিন্ন জটিল সমস্যার সমাধান করা যায়।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির এসব প্রযুক্তি উৎপাদন শিল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে জুতা তৈরির কারখানায় দক্ষ হাতযুক্ত রোবটগুলো মানুষের কাজ পর্যবেক্ষণ করে সূক্ষ্ম সংযোজনের কৌশল শিখছে এবং তা বাস্তবে প্রয়োগ করছে। সূত্র: সিএমজি

‘কৃত্রিম সূর্য’ প্রকল্পে রেকর্ড গড়ল চীনের সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
‘কৃত্রিম সূর্য’ প্রকল্পে রেকর্ড গড়ল চীনের সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট
ছবি সিসিটিভি।

‘কৃত্রিম সূর্য’ প্রকল্পের জন্য তৈরি উচ্চ-তাপমাত্রার একটি সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট বা চুম্বকের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। এই মাইলফলকটি পারমাণবিক ফিউশন প্রযুক্তিকে গবেষণাগার থেকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের দিকে নিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করল।

চীনের আনহুই প্রদেশের হেফেই ফিউচার সায়েন্স সিটিতে অবস্থিত ‘বার্নিং প্লাজমা এক্সপেরিমেন্টাল সুপারকন্ডাক্টিং টোকামাক’ নামের একটি ফিউশন পরীক্ষার যন্ত্রের জন্য এই ম্যাগনেটটি তৈরি করা হয়েছে। প্রযুক্তিগত ভাষায় একে বলা হয় ‘সেন্ট্রাল সোলেনয়েড ম্যাগনেট’। বিজ্ঞানীরা একে গাড়ির ইঞ্জিনের ‘স্পার্ক প্লাগ’-এর সাথে তুলনা করছেন। এটি প্লাজমার মধ্য দিয়ে বৈদ্যুতিক প্রবাহ চালনা করে ফিউশন প্রক্রিয়া শুরু করতে সাহায্য করে।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ম্যাগনেটটি ৬০ কিলোঅ্যাম্পিয়ার স্থিতিশীল বৈদ্যুতিক প্রবাহ বহন করতে সক্ষম এবং এটি ৬ দশমিক শূন্য ৩ মেগাজুল শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পারমাণবিক ফিউশন গবেষণায় বিশ্বজুড়ে অর্জিত সাফল্যের মধ্যে এর মূল কর্মক্ষমতা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

চীনের বিজ্ঞান একাডেমির প্লাজমা ফিজিক্স ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক ছিন চিংকাং বলেন, সেন্ট্রাল সোলেনয়েড ম্যাগনেট হলো সবচেয়ে জটিল অপারেটিং কন্ডিশনের একটি যন্ত্র। এর কর্মক্ষমতার ওপরই নির্ভর করে ফিউশন ডিভাইসটি চালু থাকবে কি না এবং স্থিতিশীল থাকবে কি না। এটিই সেই মূল উপাদান, যা ফিউশনকে পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে ব্যবহারিক জ্বালানি শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে নির্ধারণকারী ভূমিকা পালন করবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘এই ফিউশন পরীক্ষার যন্ত্রটির নির্মাণ কাজ ২০২৭ সালের মধ্যে শেষ হবে। আর ২০৩০ সালের মধ্যেই এর মাধ্যমে পারমাণবিক ফিউশন থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে চীন। সূত্র: সিএমজি

প্রাণী কি মৃত্যু বুঝতে পারে?

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
প্রাণী কি মৃত্যু বুঝতে পারে?
ছবি: সংগৃহীত

পোষা প্রাণীর মৃত্যু সব সময় কষ্টদায়ক। অনেকে মনে করেন,  মৃত্যু সম্পর্কে কেবল মানুষের সুস্পষ্ট ধারণা রয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, জীববিজ্ঞানে মৃত্যু একটি সর্বজনীন বিষয়। অনেক প্রাণী তাদের সঙ্গীর মৃত্যুতে নানারকম প্রতিক্রিয়া দেখায়। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের নটিংহাম ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটির প্রাণীবিজ্ঞানের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক জ্যাকুলিন বয়েড তার পোষা কুকুর ববির মৃত্যুর পর প্রাণীদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। ওরাল মেলানোমায় আক্রান্ত হয়ে কুকুরটির মৃত্যুর পর তিনি অন্য কুকুরদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন।

মৃত্যুর সবচেয়ে প্রাথমিক ধারণা হলো একটি প্রাণী বুঝতে পারে যে, অন্য প্রাণীর জীবনের সমাপ্তি ঘটেছে এবং সে আর ফিরে আসবে না। প্রাণিজগতে সঙ্গীর মৃত্যুতে বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কিছু প্রাণী বেঁচে থাকার কৌশল হিসেবে মরার ভান করে। যেমন–ওপোসাম নামের প্রাণী শিকারির হাত থেকে বাঁচতে এই কৌশল নেয়। একে বিজ্ঞানের ভাষায় থ্যানাটোসিস বলা হয়। কিছু পাখি, সাপ ও কীটপতঙ্গের মধ্যেও এই আচরণ দেখা যায়।

গৃহপালিত প্রাণীদের মধ্যেও শোক প্রকাশের প্রমাণ পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা যায়, কাছের সঙ্গী কুকুর বা বিড়ালের মৃত্যুতে অনেক সময় বিড়াল খাওয়া, ঘুমানো বা বিচরণ কমিয়ে দেয়। ডলফিনের মতো সামুদ্রিক প্রাণীরা মৃত শাবকের প্রতি গভীর মনোযোগ দেখায় এবং দিনের পর দিন তাদের বহন করে। ২০১৮ সালে একটি স্ত্রী অর্কা তার মৃত শাবককে ১৭ দিন ধরে বহন করেছিল। এছাড়া হাতি, প্রাইমেট এবং পাখিদের মধ্যেও মৃত সঙ্গীর প্রতি মানুষের মতো শোক প্রকাশের আচরণ করতে দেখা গেছে।

সব প্রাণীর প্রতিক্রিয়া আবেগতাড়িত নয়। কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রে এটি কেবলই বেঁচে থাকার তাগিদ। যেমন–মৌমাছিরা মৃত সঙ্গীর গন্ধ বা মরদেহ থাকা ফুল এড়িয়ে চলে। মূলত শিকারির হাত থেকে বাঁচতে তারা এমন আচরণ করে। আবার লাল পিঁপড়ারা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি এড়াতে মৃত সঙ্গীদের বাসা থেকে দূরে সরিয়ে ফেলে। এগুলো তাদের সম্পূর্ণ সহজাত আচরণ। অন্যদিকে শিম্পাঞ্জিদের মতো উন্নত বুদ্ধিমত্তার প্রাণীর আচরণ অনেকটা মানুষের শোকের কাছাকাছি। তারা মৃত সঙ্গীর শরীর পরিষ্কার করে ও শাবকের মরদেহ দীর্ঘ সময় আগলে রাখে।

গবেষক জ্যাকুলিন বয়েড তার পোষা কুকুর ববির মৃত্যুর পর নিজের অন্য কুকুরদের আচরণ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি মৃত কুকুরটিকে ঘাসের ওপর রাখার পর দেখেন, অন্য কুকুরগুলো সেটিকে শুঁকে দেখে চলে গেলেও বার্টি নামের একটি কুকুর প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে মৃত সঙ্গীর পাশে বসে ছিল। সে তার বন্ধুকে শুঁকে ও চেটে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করে। এ ঘটনা প্রমাণ করে, প্রাণীরাও নিজেদের মতো করে মৃত্যু উপলব্ধি করতে পারে। মানুষের মতো হয়তো তাদের শোক প্রকাশের ভাষা নেই, তবে সঙ্গীর মৃত্যুতে তাদের সামাজিক ও মানসিক আচরণে পরিবর্তন আসে।