যুক্তরাজ্যের হাল মেরিটাইম জাদুঘরে ১১৯ বছরের পুরোনো একটি তিমির কঙ্কাল পুনরায় স্থাপন করা হয়েছে। ছয় বছর ধরে প্রায় ২ কোটি পাউন্ড ব্যয়ে জাদুঘরটির সংস্কারকাজ চলেছে। জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আগে এই কঙ্কাল স্থাপন জাদুঘরের জন্য একটি বড় মাইলফলক।
৪০ ফুট লম্বা এই কঙ্কালে ১৬৮টি হাড় রয়েছে। জাদুঘরের নতুন ‘এজ অব সেইল’ গ্যালারিতে এটি স্থাপনে পাঁচ দিন সময় লেগেছে। পরিষ্কার ও সংরক্ষণের পর চলতি সপ্তাহে কঙ্কালটি পুনরায় স্থাপনের কাজ শেষ করেন সংরক্ষক নাইজেল লার্কিন। এটি এই জাদুঘরের সবচেয়ে বড় নিদর্শন।
১৯০৭ সালে নিউইয়র্ক উপকূলে মায়ের সঙ্গে এই তিমিটি ধরা পড়েছিল। এটি নর্থ আটলান্টিক রাইট তিমি প্রজাতির। বর্তমানে প্রজাতিটি চরম বিপন্ন। ধারণা করা হয়, বিশ্বে এখন ৪০০টিরও কম এমন তিমি টিকে আছে। জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা ও মাছ ধরার জালে আটকে যাওয়ার কারণে এরা চরম হুমকির মুখে রয়েছে।
চলতি বছরের আগস্টে দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরটি আবার খুলে দেওয়া হবে। জাদুঘরটি খুললে দর্শনার্থীরা একটি সুড়ঙ্গ দিয়ে তিমির পাঁজরের ভেতরে প্রবেশ করার সুযোগ পাবেন।
২০২০ সালে সংস্কারের জন্য জাদুঘরটি বন্ধ হয়ে যায়। তখন নাইজেল লার্কিন ১৬৮টি হাড় আলাদা করে পরিষ্কার ও সংরক্ষণের জন্য শ্রপশায়ারে তার কারখানায় নিয়ে যান। হাল সিটি কাউন্সিলের নেতা মাইক রস বলেন, ‘জাদুঘরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর নিদর্শনগুলোর একটি এই কঙ্কাল। এটি আবার আগের জায়গায় ফিরে আসা দারুণ ব্যাপার। দর্শনার্থীদের কাছে নতুন উপায়ে তিমির গল্প তুলে ধরা হবে। এতে তারা এই প্রজাতির গুরুত্ব বুঝতে পারবেন।’
১৯৩৫ সালে কেমব্রিজের ইউনিভার্সিটি মিউজিয়াম অব জুওলজি থেকে কঙ্কালটি হাল মেরিটাইম জাদুঘরে আনা হয়। বিনিময়ে তাদের একটি নীল তিমির কঙ্কাল দেওয়া হয়েছিল। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় আবার ১৯০৮ সালে একটি ডোডো পাখির কঙ্কালের বিনিময়ে নিউইয়র্কের আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি থেকে কঙ্কালটি পেয়েছিল।
অন্যদিকে, বিজ্ঞান জগতের আরেক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, আদিম মানবসমাজ আগের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি জটিল ও উন্নত ছিল। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রায় ৩ লাখ বছর আগে ‘হোমো নালেদি’ নামের এক বিলুপ্ত মানব প্রজাতি অত্যন্ত জটিল সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। তাদের মধ্যে নারী-পুরুষভিত্তিক চরম সাংস্কৃতিক বিভাজন এবং নারীদের শক্তিশালী লিঙ্গপরিচয় ছিল।
গবেষণায় দেখা যায়, এই প্রজাতি মৃত নারী ও পুরুষদের আলাদা করে রাখত। এর থেকে ধারণা করা হয়, জীবিত অবস্থায়ও তাদের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে নারী ও পুরুষের বিভাজন ছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রজাতির নারীদের একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক পরিচয় গড়ে উঠেছিল। কোনো কোনো দিক থেকে একে প্রাগৈতিহাসিক নারীবাদের একটি রূপ হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে।