একটুখানি ভুলের জন্য কি অনুশোচনায় আপনার বুকটা কখনো ভেঙে এসেছে? মনে হয়েছে, ইশ! যদি অতীতটা বদলে দেওয়া যেত! সাহাবি মুয়াবিয়াহ ইবনুল হাকাম (রা)-এর জীবনেও তেমন একটা মুহূর্ত এসেছিল, যখন তিনি রাগের মাথায় নিজের দাসীকে আঘাত করে বসেন। এই ভুলের কাফফারা হিসেবে তিনি তাকে মুক্ত করতে চাইলেন।
কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.) মুক্তির আগে দাসীটির ঈমান পরীক্ষা করতে চাইলেন। রাসুল (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ কোথায় আছেন? দাসীটি হাত উঁচিয়ে আকাশের দিকে ইশারা করে বলল, আকাশে। আল্লাহর রাসুল (সা.) তখন বললেন, ওকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে মুমিনা। (আবু দাউদ, ৩২৮২)।
এই ছোট্ট ঘটনাটি আমাদের সামনে এক অনন্য ও জীবন্ত সুন্নাহর দুয়ার খুলে দেয়। দৈনন্দিন জীবনে আমরা যখনই কোনো সংকটে পড়ি, তখন চারপাশের মানুষের কাছে ছুটে যাই। কিন্তু এই হাদিস আমাদের শেখায়, আমাদের সমস্ত আকুতি, আশা আর ভরসার মূল কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত ঊর্ধ্বমুখী।
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে সিজদায় গিয়ে বলতেন, অর্থাৎ পবিত্র মহান আমার রব, যিনি সর্বোচ্চ (মুসলিম)। যখনই কোনো মজলুমের চোখ থেকে জল ঝরে, সে কিন্তু আকাশের দিকেই তাকায়। কারণ, মানব ফিতরাত বা সহজাত স্বভাবই বলে দেয়–সাহায্য ওপর থেকেই আসে।
পবিত্র কোরআনেও আল্লাহতায়ালা বলেছেন, যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদেরসহ জমিন ধসিয়ে দেওয়া থেকে কি তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছ? (সুরা আল-মুলক, ১৬)।
এই সুন্নাহর বাস্তব আমল হলো যেকোনো পরিস্থিতিতে অন্তরে এই বিশ্বাস রাখা যে, আমার রব আরশের ওপর সমুন্নত থেকে আমাকে দেখছেন (বুখারি, ৭৪৫৩)।
কষ্টের মুহূর্তে মানুষের দ্বারে দ্বারে না ঘুরে, হাত দুটো ওপরে তুলে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করাই হলো রাসুলের শেখানো পথ। এই বিশ্বাস অন্তরে লালন করে জীবনের প্রতিটি সংকটে আকাশের মালিকের দিকেই মুখ ফিরাই।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক