ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে যেভাবে শুরু হয়েছিল মেসি-অধ্যায় এআই ও ডেটা সায়েন্সে স্নাতক প্রোগ্রাম চালু করল আইএসইউ বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী পাবলিক স্পিকিংয়ে মঞ্চ মাতাবেন যেভাবে মহাকাশে পতনশীল সুইফট অবজারভেটরি উদ্ধারে নাসার সফল অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকির সতর্কবার্তা ব্রাজিলের রাতের রানিতে সেজেছে পেকুয়ার পাহাড় নোয়াখালীর ২ হাসপাতালকে জরিমানা লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি ৭৩১ জনকে চাকরি দেবে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বিমা খাতকে আইনি কাঠামোয় আনার তাগিদ তথ্যমন্ত্রীর ব্রাজিলিন্টিনা টানা বৃষ্টি ও জোয়ারে পতেঙ্গা সৈকতসংলগ্ন সড়কে ধস জাদুঘরে ফিরল ১১৯ বছরের পুরোনো তিমির কঙ্কাল ‘আল্লাহ কোথায় আছেন?’ দানবাক্স থেকে চুরি করে প্রেমিকাকে আইফোন দিলেন কর্মী খাদ্য অধ্যায়ের ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান বহুরূপী মতিন ভাই ফারাওদের রুখতে আর্জেন্টিনার একাদশে ৩ পরিবর্তন এনবিআরের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা চৌকিতে হামলায় ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হুন্দাই আনল প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক ইনস্টার লাউঞ্জ দামেস্কের ফোর সিজনস হোটেলের কাছে বিস্ফোরণ এআই অ্যান্ড ডেটা সায়েন্সে যুগান্তকারী বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রাম চালু করল আইএসইউ চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিপর্যয়, তিনটি পাঠানো হলো ঢাকায় খাগড়াছড়িতে টানা বর্ষণে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি ৪৫ বছরে পদার্পণ করলো আরএফএল পাইপ অ্যান্ড ফিটিংস নতুন ইউপি বরিশলের প্রশাসক ফজলুর রহমান ভূঁইয়া লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৮৬ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা কম বয়সে আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে খেলাধুলা, শিক্ষা ও মেন্টরশিপ: মেটলাইফের গবেষণা

‘আল্লাহ কোথায় আছেন?’

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
‘আল্লাহ কোথায় আছেন?’
ছবি: সংগৃহীত

একটুখানি ভুলের জন্য কি অনুশোচনায় আপনার বুকটা কখনো ভেঙে এসেছে? মনে হয়েছে, ইশ! যদি অতীতটা বদলে দেওয়া যেত! সাহাবি মুয়াবিয়াহ ইবনুল হাকাম (রা)-এর জীবনেও তেমন একটা মুহূর্ত এসেছিল, যখন তিনি রাগের মাথায় নিজের দাসীকে আঘাত করে বসেন। এই ভুলের কাফফারা হিসেবে তিনি তাকে মুক্ত করতে চাইলেন।

কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.) মুক্তির আগে দাসীটির ঈমান পরীক্ষা করতে চাইলেন। রাসুল (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ কোথায় আছেন? দাসীটি হাত উঁচিয়ে আকাশের দিকে ইশারা করে বলল, আকাশে। আল্লাহর রাসুল (সা.) তখন বললেন, ওকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে মুমিনা। (আবু দাউদ, ৩২৮২)।

এই ছোট্ট ঘটনাটি আমাদের সামনে এক অনন্য ও জীবন্ত সুন্নাহর দুয়ার খুলে দেয়। দৈনন্দিন জীবনে আমরা যখনই কোনো সংকটে পড়ি, তখন চারপাশের মানুষের কাছে ছুটে যাই। কিন্তু এই হাদিস আমাদের শেখায়, আমাদের সমস্ত আকুতি, আশা আর ভরসার মূল কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত ঊর্ধ্বমুখী।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে সিজদায় গিয়ে বলতেন, অর্থাৎ পবিত্র মহান আমার রব, যিনি সর্বোচ্চ (মুসলিম)। যখনই কোনো মজলুমের চোখ থেকে জল ঝরে, সে কিন্তু আকাশের দিকেই তাকায়। কারণ, মানব ফিতরাত বা সহজাত স্বভাবই বলে দেয়–সাহায্য ওপর থেকেই আসে।

পবিত্র কোরআনেও আল্লাহতায়ালা বলেছেন, যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদেরসহ জমিন ধসিয়ে দেওয়া থেকে কি তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছ? (সুরা আল-মুলক, ১৬)।
এই সুন্নাহর বাস্তব আমল হলো যেকোনো পরিস্থিতিতে অন্তরে এই বিশ্বাস রাখা যে, আমার রব আরশের ওপর সমুন্নত থেকে আমাকে দেখছেন (বুখারি, ৭৪৫৩)।

কষ্টের মুহূর্তে মানুষের দ্বারে দ্বারে না ঘুরে, হাত দুটো ওপরে তুলে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করাই হলো রাসুলের শেখানো পথ। এই বিশ্বাস অন্তরে লালন করে জীবনের প্রতিটি সংকটে আকাশের মালিকের দিকেই মুখ ফিরাই।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

‘আল্লাহ কোথায় আছেন?’

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
‘আল্লাহ কোথায় আছেন?’
ছবি: সংগৃহীত

একটুখানি ভুলের জন্য কি অনুশোচনায় আপনার বুকটা কখনো ভেঙে এসেছে? মনে হয়েছে, ইশ! যদি অতীতটা বদলে দেওয়া যেত! সাহাবি মুয়াবিয়াহ ইবনুল হাকাম (রা)-এর জীবনেও তেমন একটা মুহূর্ত এসেছিল, যখন তিনি রাগের মাথায় নিজের দাসীকে আঘাত করে বসেন। এই ভুলের কাফফারা হিসেবে তিনি তাকে মুক্ত করতে চাইলেন।

কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.) মুক্তির আগে দাসীটির ঈমান পরীক্ষা করতে চাইলেন। রাসুল (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ কোথায় আছেন? দাসীটি হাত উঁচিয়ে আকাশের দিকে ইশারা করে বলল, আকাশে। আল্লাহর রাসুল (সা.) তখন বললেন, ওকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে মুমিনা। (আবু দাউদ, ৩২৮২)।

এই ছোট্ট ঘটনাটি আমাদের সামনে এক অনন্য ও জীবন্ত সুন্নাহর দুয়ার খুলে দেয়। দৈনন্দিন জীবনে আমরা যখনই কোনো সংকটে পড়ি, তখন চারপাশের মানুষের কাছে ছুটে যাই। কিন্তু এই হাদিস আমাদের শেখায়, আমাদের সমস্ত আকুতি, আশা আর ভরসার মূল কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত ঊর্ধ্বমুখী।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে সিজদায় গিয়ে বলতেন, অর্থাৎ পবিত্র মহান আমার রব, যিনি সর্বোচ্চ (মুসলিম)। যখনই কোনো মজলুমের চোখ থেকে জল ঝরে, সে কিন্তু আকাশের দিকেই তাকায়। কারণ, মানব ফিতরাত বা সহজাত স্বভাবই বলে দেয়–সাহায্য ওপর থেকেই আসে।

পবিত্র কোরআনেও আল্লাহতায়ালা বলেছেন, যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদেরসহ জমিন ধসিয়ে দেওয়া থেকে কি তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছ? (সুরা আল-মুলক, ১৬)।
এই সুন্নাহর বাস্তব আমল হলো যেকোনো পরিস্থিতিতে অন্তরে এই বিশ্বাস রাখা যে, আমার রব আরশের ওপর সমুন্নত থেকে আমাকে দেখছেন (বুখারি, ৭৪৫৩)।

কষ্টের মুহূর্তে মানুষের দ্বারে দ্বারে না ঘুরে, হাত দুটো ওপরে তুলে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করাই হলো রাসুলের শেখানো পথ। এই বিশ্বাস অন্তরে লালন করে জীবনের প্রতিটি সংকটে আকাশের মালিকের দিকেই মুখ ফিরাই।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

সাহাবিদের গল্প-০৫ বিলাসী যুবক থেকে ছেঁড়া চাদরের শহিদ

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:০২ এএম
বিলাসী যুবক থেকে ছেঁড়া চাদরের শহিদ
ছবি: সংগৃহীত

মক্কার অলিগলিতে যখন তিনি হেঁটে যেতেন, মানুষ ঘুরে তাকাত। দামি পোশাক, উন্নত সুগন্ধি, পরিপাটি চুলধনাঢ্য পরিবারের আদরের সন্তান মুসআব ইবনে উমাইর ছিলেন মক্কার তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে পরিপাটি বিলাসী। সিরাত ও ইতিহাসগ্রন্থগুলো (তাবাকাতে ইবনে সাদ) তার এই বিলাসী জীবনের বিবরণ দিয়েছে, মা তাকে রাখতেন রাজপুত্রের মতো করে।

তারপর একদিন তিনি শুনলেন কোরআনের আহ্বান। ঈমান আনলেন। আর সঙ্গে সঙ্গে হারালেন সব মা তাকে বন্দি করলেন, সম্পদ থেকে বঞ্চিত করলেন, ঘর থেকে তাড়িয়ে দিলেন। সেই কোমল শরীরে উঠল মোটা, তালি দেওয়া কাপড়। কিন্তু অন্তরে? অন্তরে তখন এমন ঐশ্বর্য, যা মক্কার সব সোনা দিয়েও কেনা যায় না।

এই যুবকই হলেন ইসলামের প্রথম রাষ্ট্রদূতহিজরতের আগে মদিনায় গিয়ে যিনি ঘরে ঘরে ইসলামের আলো পৌঁছে দিয়েছিলেন। তারপর উহুদের ময়দান। ইসলামের পতাকা হাতে লড়তে লড়তে শহিদ হলেন মুসআব।

দাফনের সময় ঘটল হৃদয়বিদারক ঘটনাটি। খাব্বাব ইবনুল আরাত রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘মুসআব উহুদের দিন শহিদ হলেন, অথচ তাকে কাফন দেওয়ার মতো একটি চাদর ছাড়া কিছুই পেলাম না। সেই চাদরে মাথা ঢাকলে পা বেরিয়ে যায়, পা ঢাকলে মাথা। তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, চাদরে তার মাথা ঢেকে দাও, আর পায়ের ওপর ইজখির ঘাস বিছিয়ে দাও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ১২৭৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯৪০)

যে যুবকের একেকটি পোশাকের দাম ছিল বিপুল, তার কাফনের কাপড়টুকুও পুরো হলো না! দুনিয়ার হিসাবে এ কী ভয়ংকর ‘লোকসান’। অথচ আখিরাতের পাল্লায়? খাব্বাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলছেন, আমাদের কেউ কেউ পুরস্কারের কিছুই দুনিয়াতে ভোগ না করে চলে গেছেন; মুসআব তাদেরই একজন। তার পূর্ণ প্রতিদান জমা রইল আল্লাহর কাছে।

আজ আমাদের সারা জীবন কাটে ব্র্যান্ড, ব্যালান্স আর স্ট্যাটাসের পেছনে ছুটে। মুসআব রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রশ্ন রেখে গেলেন, যে পোশাক কবরে যাবে না, তার জন্য এত আয়োজন; আর যে আমল কবরে সঙ্গী হবে, তার জন্য কতটুকু?

হে আল্লাহ! দুনিয়াকে আমাদের হাতে রাখুন, অন্তরে নয়। আমাদের শেষ পরিণতি মুসআবের মতো সম্মানের করুন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

সাহাবিদের গল্প-০৪ শূলের মঞ্চে দুই রাকাত নামাজ

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ এএম
শূলের মঞ্চে দুই রাকাত নামাজ
ছবি: সংগৃহীত

মক্কার অদূরে তানইম প্রান্তর। উৎসবের আমেজে জড়ো হয়েছে কুরাইশরা–আজ বদরের প্রতিশোধ নেবে তারা। শূলের মঞ্চে দাঁড় করানো হয়েছে এক বন্দিকে। মৃত্যু নিশ্চিত জেনে বন্দি মানুষটি ঘাতকদের কাছে শুধু একটিই আবেদন করলেন, ‘আমাকে দুই রাকাত নামাজ পড়ার সুযোগ দাও।’

তিনি খুবাইব ইবনে আদি রাদিয়াল্লাহু আনহু। রাজি গোত্রের বিশ্বাসঘাতকতায় বন্দি হয়ে বিক্রি হয়েছিলেন মক্কায়, যেখানে বদরে নিহতদের স্বজনরা প্রতিশোধের আগুনে ফুঁসছিল।

অনুমতি মিলল। ধীরস্থির, প্রশান্ত দুই রাকাত নামাজ পড়লেন তিনি। সালাম ফিরিয়ে বললেন সেই ঐতিহাসিক কথা, ‘তোমরা যদি মনে না করতে যে আমি মৃত্যুর ভয়ে ভীত, তবে আমি নামাজ আরও দীর্ঘ করতাম!’ এরপর আবৃত্তি করলেন, ‘মুসলিম হিসেবে যখন আমার মৃত্যু হচ্ছে, তখন কোন পাশে আমি ঢলে পড়লাম তাতে কিছুই যায় আসে না। যখন এই মৃত্যু আল্লাহরই পথে...’

সহিহ বুখারিতে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় এসেছে, মৃত্যুদণ্ডের আগে দুই রাকাত নামাজ পড়ার এই সুন্নত খুবাইবই সর্বপ্রথম চালু করেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩০৪৫)

একবার ভাবুন। সামনে নিশ্চিত মৃত্যু। সেই মুহূর্তে মানুষ কী চায়? প্রাণভিক্ষা? শেষবার প্রিয়জনের মুখ? খুবাইব চাইলেন নামাজ। কারণ তিনি জানতেন, কিছুক্ষণ পরেই তিনি যার সামনে দাঁড়াবেন, তার সামনে সিজদারত অবস্থায় শেষ প্রস্তুতিটুকু নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে বড় পাওয়া।

আর আমরা? সুস্থ শরীর, নিরাপদ ঘর, হাতে অফুরন্ত সময়। তবু আজানের ডাক শুনে বলি, ‘আর একটু পরে।’ মিটিং, ট্রাফিক, ঘুম–হাজারটা অজুহাতে নামাজ পেছাতে থাকি। খুবাইব রাদিয়াল্লাহু আনহু শূলের মঞ্চ থেকে আমাদের শিখিয়ে গেলেন; নামাজ বোঝা নয়, নামাজই মুমিনের শেষ আশ্রয়, শ্রেষ্ঠ প্রশান্তি। হে আল্লাহ! আমাদের জীবনের শেষ আমল যেন হয় নামাজ, আর অন্তরের শেষ কথা যেন হয় আপনার জিকির। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

৬ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৬ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৬ জুলাই ২০২৬, সোমবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৪৩ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

এশা

৮.২০ মিনিট

 

ফজর (৭ জুলাই)

.৫১ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমল ৩৬০ জোড়াকে সচল রাখার ইবাদত

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
৩৬০ জোড়াকে সচল রাখার ইবাদত
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই শুরু হয় আমাদের অন্তহীন কর্মব্যস্ততা। অফিস, ব্যবসা কিংবা পড়ালেখার পেছনে ছুটতে ছুটতে আমরা ভুলে যাই এই মানবদেহের কথা, যা ৩৬০টি হাড়ের জোড়া নিয়ে গঠিত। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য এই প্রতিটি জোড়া সচল ও সুস্থ থাকা অপরিহার্য।

কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবেছি, প্রতিদিন সকালে এই সুস্থতার জন্য আমাদের কোনো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত? অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন এক সহজ আমল শিখিয়েছেন, যা প্রতিদিন সকালে আমাদের পুরো শরীরের সুস্থতার পক্ষ থেকে এক মহত্তম শুকরিয়া বা সাদকা হিসেবে গণ্য হয়। তা হলো–চাশতের নামাজ (সালাতুদ দুহা)।

ইসলামে সকালের এই নফল ইবাদতের গুরুত্ব অপরিসীম। হজরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকেই এমন অবস্থায় সকাল করে যে, তার (শরীরের) প্রত্যেক জোড়ার বিপরীতে একটি করে সাদকা দেওয়া আবশ্যক।

কাজেই প্রত্যেকবার সুবহানাল্লাহ বলা সাদকা, আলহামদুলিল্লাহ বলা সাদকা, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা সাদকা, আল্লাহু আকবর বলা সাদকা, সৎ কাজের আদেশ দেওয়া সাদকা এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করাও সাদকা। আর এই সবকিছুর পক্ষ থেকে চাশতের দুই রাকাত নামাজ আদায় করাই যথেষ্ট। (মুসলিম, ৭২০)

এই নামাজের নিয়ম ও সময় অত্যন্ত সহজ। সূর্য পুরোপুরি উদিত হওয়ার পর (সাধারণত সকাল ৮টা থেকে ৯টার পর) থেকে শুরু করে ঠিক দুপুর হওয়ার আগ পর্যন্ত এই নামাজ পড়া যায়। চাশতের নামাজ কমপক্ষে দুই রাকাত, তবে চাইলে চার, আট বা তার বেশিও পড়া যায়।

যান্ত্রিক জীবনে একটু সময় বের করে এই আমলটি করলে একদিকে যেমন সুন্নতের অনুসরণ হয়, অন্যদিকে সারা দিনের কাজের বরকত ও মানসিক প্রশান্তি লাভ করা যায়। তাই সকালের শত ব্যস্ততার মাঝেও মাত্র ৫টি মিনিট বরাদ্দ করে আসুন আমরা চাশতের এই অনন্য সুন্নতের সুবাসে নিজেদের জীবনকে ধন্য করি।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক