ইসলামি শরিয়তে সদকা কেবল অর্থ দান করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরোপকার বা জনকল্যাণমূলক প্রতিটি কাজই ইসলামের দৃষ্টিতে সদকা। বর্তমান ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে আমরা যদি দ্বীন প্রচার ও মানুষের উপকারের নিয়তে ব্যবহার করি, তবে প্রতিটি শেয়ার বা লাইক আমাদের জন্য সদকার সওয়াব বয়ে আনতে পারে।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি বিখ্যাত হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘প্রত্যেক সৎকাজই সদকা’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৬০২১)। এই হাদিসের আলোকে বোঝা যায়, ভালো কোনো তথ্য, ধর্মীয় উপদেশ কিংবা শিক্ষামূলক ভিডিও শেয়ার করা একটি ‘সৎকাজ’। যখন কেউ আপনার শেয়ার করা পোস্ট দেখে দ্বীনের কোনো বিধান শিখবে বা নিজের জীবন সংশোধন করবে, তখন আপনি ঘরে বসেই সদকার সওয়াব পেতে থাকবেন। এমনকি আপনার মৃত্যুর পরও এই ভালো কাজের ধারা (সদকায়ে জারিয়া) অব্যাহত থাকতে পারে।
যেকোনো আমল কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত হলো নিয়ত। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রতিটি কাজের ফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। (মিশকাতুল মাসাবিহ)। আপনি যখন একটি ইসলামিক পোস্ট শেয়ার করছেন, তখন আপনার মনে যদি কেবল লাইক বা ফলোয়ার বাড়ানোর ইচ্ছা থাকে, তবে তা দুনিয়াবি কাজ হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু যদি আপনার উদ্দেশ্য হয় আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছানো, তবে তা ইবাদতে পরিণত হবে।
১. ছোট কাজ, বড় সওয়াব: নিয়তের গুণে সামান্য একটি শেয়ার বা কাউকে হাসিমুখে সালাম দেওয়ার মতো ছোট কাজও আল্লাহর কাছে অনেক বড় ও মহৎ আমল হিসেবে গণ্য হতে পারে।
২. একাধিক সওয়াব লাভের সুযোগ: নিয়তের মাধ্যমে একটি কাজ থেকেই বহুবিধ সওয়াব অর্জন সম্ভব। যেমন-একটি দ্বীনি পোস্ট শেয়ার করার সময় যদি নিয়ত থাকে যে এর মাধ্যমে মানুষ শিখবে, আমি দাওয়াতের সওয়াব পাব এবং মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বাড়বে, তবে প্রতিটি নিয়তের জন্য আলাদা সওয়াব পাওয়া যাবে।
৩. বর্জনও একটি ইবাদত: আল্লাহর ভয়ে কোনো মন্দ বা অশ্লীল পোস্ট শেয়ার করা থেকে বিরত থাকাও একটি কাজ, যার জন্য নিয়ত ঠিক থাকলে সওয়াব পাওয়া যায়।
৪. কুধারণা বর্জন: নিয়ত একান্তই মনের বিষয়। তাই অন্য কেউ কী উদ্দেশ্যে পোস্ট করছে তা নিয়ে কুধারণা করা গুনাহের কাজ। আমাদের কর্তব্য কেবল নিজ নিজ নিয়তকে পরিশুদ্ধ করা।
আমাদের প্রতিটি ক্লিক বা শেয়ার যেন কিয়ামতের ময়দানে আমাদের পক্ষে সাক্ষী দেয়, সেই লক্ষ্য রাখা উচিত। সোশ্যাল মিডিয়াকে কেবল বিনোদনের মাধ্যম না বানিয়ে একে একটি ‘ডিজিটাল দাওয়াত’ বা সদকার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা সময়ের দাবি। আল্লাহ আমাদের প্রতিটি আমলকে সহিহ নিয়তের মাধ্যমে কবুল করুন। আমিন।
তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৬০২১; মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ১
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক