২০২৮ সালের পর প্লেস্টেশনের কোনো গেম ডিস্ক আর বাজারে পাওয়া যাবে না। একই সঙ্গে প্লেস্টেশন-৩ ও প্লেস্টেশন ভিটার ডিজিটাল স্টোরগুলোও পুরোপুরি বন্ধ করে দিচ্ছে সনি। সনির এই সিদ্ধান্ত ফিজিক্যাল মিডিয়া এবং পুরোনো গেম সংরক্ষণের ভবিষ্যতের জন্য বড় একটি ধাক্কা।
দুই দশক ধরে সনি ডিজিটাল গেমের দিকে ঝুঁকছে। প্লেস্টেশন ব্লগে সনির কনটেন্ট কমিউনিকেশনস দলের জ্যেষ্ঠ পরিচালক সিড শুমান জানান, গ্রাহকরা এখন ফিজিক্যাল ডিস্কের চেয়ে ডিজিটাল মিডিয়া বেশি পছন্দ করছেন। তাই এই পরিবর্তন বর্তমান ক্রেতাদের চাহিদার সঙ্গে মানানসই।
সনি জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্লেস্টেশন-৪ ও ৫-এর প্রায় ৮০ শতাংশ গেম ডিজিটাল ফরম্যাটে বিক্রি হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে এই হার ছিল ৮৫ শতাংশ। অন্য প্রকাশকদের ক্ষেত্রে এই অনুপাত আরও বেশি। ক্যাপকমের মতো প্রতিষ্ঠানের ৯৫ শতাংশ বিক্রি এখন ডিজিটাল।
সনির জন্য পুরোপুরি ডিজিটাল মাধ্যমে যাওয়া লাভজনক। ডিস্ক তৈরি ও বিতরণের খরচ কমবে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী প্লেস্টেশন-৬-এ কোনো ডিস্ক ড্রাইভ থাকবে না। এতে কনসোল তৈরির খরচ কমানো সম্ভব হবে। তবে এই সিদ্ধান্তটি মূলত ভোক্তাদের স্বার্থের পরিপন্থী। এর ফলে গ্রাহকদের হাতে গেম কেনাবেচা বা পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ থাকবে না। প্লেস্টেশন স্টোরের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়লে সনি গেমের দাম নিজেদের ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। গেমের সেকেন্ড-হ্যান্ড বাজার পুরোপুরি বিলুপ্ত হবে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হবে গেম সংরক্ষণে। ফিজিক্যাল ডিস্ক থাকলে গেমগুলো দীর্ঘদিন খেলা যায়। কিন্তু ডিজিটাল স্টোর বন্ধ হলে অনেক এক্সক্লুসিভ ডিজিটাল গেম চিরতরে হারিয়ে যাবে। এর আগে সনি স্টোর বন্ধের চেষ্টা করলে প্রায় ২ হাজার ২০০টি গেম হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এছাড়া ডিজিটাল গেম কেনার মাধ্যমে ব্যবহারকারী মূলত গেমটি খেলার একটি লাইসেন্স পান। সনি চাইলে যেকোনো সময় এই লাইসেন্স বাতিল করতে পারে।
অন্যদিকে মাইক্রোসফটের পরবর্তী এক্সবক্স কনসোলে পিসি গেম খেলার সুবিধা থাকতে পারে। তারা থার্ড-পার্টি প্ল্যাটফর্মগুলোকে সমর্থন দেওয়ায় সেখানে গেম সংরক্ষণের ঝুঁকি কিছুটা কম। তবে শেষ পর্যন্ত তারাও হয়তো ডিস্কবিহীন ভবিষ্যতের দিকেই হাঁটবে। সনির এই পদক্ষেপ গেম সংরক্ষকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ।