ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
জবি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন বিশ্বকাপে দুই পেনাল্টি মিসে অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়লেন মেসি মেসির পেনাল্টি মিস, শুরুর গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে মিশর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে চুক্তি করল ইন্দোনেশিয়া-ভারত টানা বর্ষণে প্লাবিত চকরিয়া-পেকুয়া, অনিশ্চয়তায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা শুরুতেই এগিয়ে গেল মিশর, পেনাল্টি মিস করলেন মেসি জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে চসিকের র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন ইবিতে 'লোক্যাল ইমপ্যাক্ট অব গ্লোবাল লার্নিং' বিষয়ক প্রেস কনফারেন্স বার্নার্দো সিলভার কাছে ক্ষমা চাইলেন রদ্রি কসবায় ব্যাংক কর্মকর্তাকে কুপিয়ে হত্যা আমার হাতে পুলিশ নয়, মুরগি আছে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ১৩ জুলাই বরিশাল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী চিনিকল চালুর দাবিতে ঢাকায় বড় কর্মসূচির ঘোষণা তারাকান্দায় মাদক সেবন করায় তিনজনের কারাদণ্ড আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে ফরাসি রেফারি বাংলাদেশে মসজিদের সংখ্যা প্রকাশ, শীর্ষে কোন বিভাগ? মিশরের বিপক্ষে যে একাদশ নিয়ে নামছে আর্জেন্টিনা এনসিপির সমাবেশে হামলায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে: আইনমন্ত্রী স্বেচ্ছাচারিতার অবসান, জবাবদিহিতা ফিরেছে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রস্তাবিত বিলে বিএমইউ-এর চিকিৎসা ব্যয় বাড়ার শঙ্কা বিরোধীদলীয় নেতার প্রশ্নফাঁস ও অনলাইন জালিয়াতি রোধে সংসদে বিল পাস ভারতীয় চিকিৎসায় শ্রবণশক্তি ফিরে পাচ্ছে বাংলাদেশি শিশু জাতীয় বাজেট বাস্তবায়নে শিক্ষা, গবেষণা ও সুশাসনকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার আহ্বান অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদদের জামালপুরে আইন কর্মকর্তার অফিস থেকে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক উদ্ধার ঈশ্বরগঞ্জে একরাতে ১০ গরু চুরি, আতঙ্কে কৃষক মুক্তির আগেই বিতর্ক থানচিতে ফিরেছে শতাধিক পর্যটক, পথে আরও ১৮ জন ইবি ছাত্রশক্তির কমিটিকে ‘হাইব্রিড পকেট কমিটি’ দাবি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার ধৈর্যই আমাদের জয়ের চাবিকাঠি:  স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে

স্বেচ্ছাচারিতার অবসান, জবাবদিহিতা ফিরেছে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
স্বেচ্ছাচারিতার অবসান, জবাবদিহিতা ফিরেছে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিষ্টার ফারজানা শারমীন। ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ও গর্বের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন। তিনি বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মানুষের জীবনমান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি সম্ভাবনাময় ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণ’-এই প্রতিপাদ্য বিষয়ে পিএসটিসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। ঐ সময়ে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করা হয়েছিল। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনার কর্মপ্রণালী বা পদ্ধতিকে ধ্বংস করা হয়েছে। দেশের অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ধ্বংস করা হয়েছে। দেশের এই ক্রান্তিকালে জনগণের ভোটে বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। আমরা ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাষ্ট্র পরিচালনার কর্মপ্রণালী বা পদ্ধতিকে পুনরায় স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করেছি। এই পদ্ধতিকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসলে কোন অনিয়ম আর নিয়মে পরিণত হবে না। নিয়মের মধ্যে সব কিছু পরিচালিত হবে। দেশের সব নাগরিক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হবে।  প্রত্যেক নাগরিক যেন গর্বের সাথে বলতে পারে, আমার দেশ।

ফারজানান শারমীন বলেন, অতীতে স্বেচ্ছাচারিতা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছিল। কোন জবাবদিহিতা ছিল না। এই অবস্থার উত্তরণ ঘটেছে। জনগণ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছে। এই সংসদে সরকারের পাশাপাশি প্রকৃতই বিরোধীদল আছে। এই সংসদে জনগণের কল্যাণে কথা হয়। রাষ্ট্র যন্ত্র পরিচালনার পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়। দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ শুরু হয়েছে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হচ্ছে পরিবারের সবচেয়ে’ বয়োজ্যেষ্ঠ নারীকে। কারণ, পুরো পরিবারকে সেবা প্রদানকারী এই নারীকে যেন তার ্ওষুধ কেনা বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ কোন প্রয়োজনে কারো মুখাপেক্ষী না হতে হয়। ঐ নারী যেন পরিবারে কারো অবহেলার শিকার না হন। অর্থনৈতিক এবং মানসিকভাবে তিনি যেন স্বস্তিতে থাকেন। পরিবার থেকে শুরু করে দেশের সব মানুষের মনে আমরা স্বস্তি নিয়ে আসতে চাই।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত ৭২ হাজার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ছিলো। সক্রিয় না থাকার কারণে এই সংখ্যা কমে ৫৬ হাজার হয়েছে। আগামীতে এই সংখ্যা দুই থেকে তিন হাজারে কমে আসবে। দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যারা কাজ করছে, তারাই টিকে থাকবে। এসব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের লক্ষ্য এবং সরকারের লক্ষ্যের মধ্যে সাদৃশ্য আছে। প্রকৃত কল্যাণমুখী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে সরকার পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে বিগত ৪৮ বছর ধরে দেশের জনস্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গসমতা, কিশোর-কিশোরীদের উন্নয়ন, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অন্তভর্‚ক্তিমূলক উন্নয়নে কাজ করে যাওয়া পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের প্রশংসিত কার্যক্রম আগামীতে আরো বেগবান হবে বলে আমি আশা করছি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি’র বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরো’র মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব। পিএসটিসি’র কোষাধ্যক্ষ মো. বদরুল মুনীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পিএসটিসি’র নির্বাহী পরিচালক ড. নূর মোহাম্মদ।

এসএন/

আমার হাতে পুলিশ নয়, মুরগি আছে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
আমার হাতে পুলিশ নয়, মুরগি আছে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। ছবি: সংগৃহীত

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনের কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নৌ-পুলিশের থানা বা ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি করে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে হাস্যরসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হেসে বলেন, ‘পুলিশ তো আমার হাতে নেই, তবে আমার কাছে মুরগি আছে।’ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ ঘটনা ঘটে। 

আলোচনায় ফরিদা ইয়াসমিন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে খোকসা পর্যন্ত প্রায় ৬০-৬৫ কিলোমিটার নদীপথে আইন-শৃঙ্খলার অবনতির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এলাকাটি পাবনার ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডা নৌ-ফাঁড়ির আওতায় থাকায় কার্যকর নজরদারির অভাবে অপরাধ বেড়েছে। নদীপথে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও গোলাগুলির ঘটনা রোধে তিনি একটি নৌ-থানা বা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানান।

এ সময় স্পিকার প্রশ্ন করেন, নৌ-পুলিশের বিষয়টি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর কাছে কেন উত্থাপন করা হচ্ছে। তিনি রসিকতার সুরে মন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনার অধীনে থানা-পুলিশ কিছু আছে কি না, সেটাই বলুন।’

জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হেসে বলেন, ‘পুলিশ তো আমার হাতে নেই, তবে আমার কাছে মুরগি আছে।’ তিনি আরও বলেন, ওই এলাকায় তার মন্ত্রণালয়ের সংরক্ষিত জলাশয়ের মাছ চুরির ঘটনা ঘটলে সে সূত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পুলিশ পাঠানোর অনুরোধ করা যেতে পারে। তবে নৌ-পুলিশের থানা স্থাপনের বিষয়ে তার মন্ত্রণালয়ের কোনো এখতিয়ার নেই।

মন্ত্রীর এ মন্তব্যে সংসদ কক্ষে হাসির রোল পড়ে। পরে স্পিকার বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে উত্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে পরামর্শ দেন।

এলিস/এসএন

চিনিকল চালুর দাবিতে ঢাকায় বড় কর্মসূচির ঘোষণা

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
চিনিকল চালুর দাবিতে ঢাকায় বড় কর্মসূচির ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করে কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান, চিনিকল পাটকলসহ বন্ধকৃত রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৪টি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পুনরায় চালু করতে হবে 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল রক্ষা সংগ্রাম জাতীয় কমিটির উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক কাইয়ুম হোসেনের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান ফিরোজের পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়ক  কমরেড টিপু বিশ্বাস, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক শামীম ইমাম, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য কর্পোরেশন শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন, আইয়ুব আলী, দেলোয়ার হোসেন, বহুমুখী শ্রমজীবী ও হকার সমিতির সভাপতি বাচ্চু ভূঁইয়া, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির এস.এম শুভ, জাতীয় গণতান্ত্রিক শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি তৈমুর খান অপু,চাষি নেতা মাসুদুর রহমান মাসুদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। 

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ জাতীয় বাজেটে বন্ধকৃত রাষ্ট্রায়ত্ত চিনি কল পুনরায় চালু করতে অর্থ বরাদ্দের দাবি জানান। তারা বলেন, চিনি শিল্পে সংঘটিত দুর্নীতি তদন্ত করতে হবে ও তা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। চিনিকলগুলো আধুনিকীকরণ করে উৎপাদনে  যাওয়ার দাবি জানানোর  পাশাপাশি তারা আখের ক্রয়  মূল্য বৃদ্ধির দাবি জানান। একই সঙ্গে আখ চাষীদের শিল্প ঋণ দেওয়া বন্ধ করে স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ প্রদান করার দাবি জানান। 

নেতৃবৃন্দ সরকার কর্তৃক চিনিকল পাটকলসহ ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প বাণিজ্যিক  প্রতিষ্ঠান বেসরকারি উদ্যোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়ার গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিলের জোর দাবি জানিয়ে বলেন, চিনিকল শ্রমিকসহ এদেশের শ্রমজীবী জনগণ সরকারের এই গণবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে  আন্দোলন গড়ে  তুলবে। 

বিক্ষোভ সমাবেশে জুলাই মাসে চিনিকলগুলোতে শ্রমিক সমাবেশ ও গণসংযোগ এবং আগামী ১০ই আগস্ট ঢাকায়  শ্রমিক সমাবেশ করার পূর্ব ঘোষিত  কর্মসূচি সফল করার ঘোষণা করা হয়। 

বিজ্ঞপ্তি /এসএন

এনসিপির সমাবেশে হামলায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে: আইনমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম
এনসিপির সমাবেশে হামলায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে: আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের পর বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, এ ঘটনাকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করছে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি উত্থাপন করেন এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

তিনি অভিযোগ করেন, সোমবার রাতে সাভারে দলের ‘জুলাই পথযাত্রা’ কর্মসূচির সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে ওঠার আগে রহস্যজনকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। অন্ধকারের মধ্যে বক্তব্য চলাকালে উপস্থিত জনতার মধ্যে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ আহত হন। পরিস্থিতির অবনতির কারণে সমাবেশ সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য হন নেতারা। পরে তারা স্থানীয় থানায় গিয়ে আইনি সহায়তা চান।

আখতার হোসেন সংসদে আরও বলেন, সরকারি দলের মতো বিরোধী দলগুলোরও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। কিন্তু জুলাইকে ঘিরে এনসিপির কর্মসূচিগুলো বারবার বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর আগেও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

তিনি স্পিকারের মাধ্যমে সরকারের কাছে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী দলের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সাভারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় উদ্ঘাটন করে আইনি ব্যবস্থা নিতে সরকার বদ্ধপরিকর।

এলিস/নাঈম

স্বেচ্ছাচারিতার অবসান, জবাবদিহিতা ফিরেছে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
স্বেচ্ছাচারিতার অবসান, জবাবদিহিতা ফিরেছে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিষ্টার ফারজানা শারমীন। ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ও গর্বের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন। তিনি বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মানুষের জীবনমান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি সম্ভাবনাময় ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণ’-এই প্রতিপাদ্য বিষয়ে পিএসটিসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। ঐ সময়ে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করা হয়েছিল। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনার কর্মপ্রণালী বা পদ্ধতিকে ধ্বংস করা হয়েছে। দেশের অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ধ্বংস করা হয়েছে। দেশের এই ক্রান্তিকালে জনগণের ভোটে বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। আমরা ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাষ্ট্র পরিচালনার কর্মপ্রণালী বা পদ্ধতিকে পুনরায় স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করেছি। এই পদ্ধতিকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসলে কোন অনিয়ম আর নিয়মে পরিণত হবে না। নিয়মের মধ্যে সব কিছু পরিচালিত হবে। দেশের সব নাগরিক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হবে।  প্রত্যেক নাগরিক যেন গর্বের সাথে বলতে পারে, আমার দেশ।

ফারজানান শারমীন বলেন, অতীতে স্বেচ্ছাচারিতা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছিল। কোন জবাবদিহিতা ছিল না। এই অবস্থার উত্তরণ ঘটেছে। জনগণ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছে। এই সংসদে সরকারের পাশাপাশি প্রকৃতই বিরোধীদল আছে। এই সংসদে জনগণের কল্যাণে কথা হয়। রাষ্ট্র যন্ত্র পরিচালনার পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়। দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ শুরু হয়েছে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হচ্ছে পরিবারের সবচেয়ে’ বয়োজ্যেষ্ঠ নারীকে। কারণ, পুরো পরিবারকে সেবা প্রদানকারী এই নারীকে যেন তার ্ওষুধ কেনা বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ কোন প্রয়োজনে কারো মুখাপেক্ষী না হতে হয়। ঐ নারী যেন পরিবারে কারো অবহেলার শিকার না হন। অর্থনৈতিক এবং মানসিকভাবে তিনি যেন স্বস্তিতে থাকেন। পরিবার থেকে শুরু করে দেশের সব মানুষের মনে আমরা স্বস্তি নিয়ে আসতে চাই।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত ৭২ হাজার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ছিলো। সক্রিয় না থাকার কারণে এই সংখ্যা কমে ৫৬ হাজার হয়েছে। আগামীতে এই সংখ্যা দুই থেকে তিন হাজারে কমে আসবে। দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যারা কাজ করছে, তারাই টিকে থাকবে। এসব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের লক্ষ্য এবং সরকারের লক্ষ্যের মধ্যে সাদৃশ্য আছে। প্রকৃত কল্যাণমুখী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে সরকার পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে বিগত ৪৮ বছর ধরে দেশের জনস্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গসমতা, কিশোর-কিশোরীদের উন্নয়ন, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অন্তভর্‚ক্তিমূলক উন্নয়নে কাজ করে যাওয়া পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের প্রশংসিত কার্যক্রম আগামীতে আরো বেগবান হবে বলে আমি আশা করছি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি’র বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরো’র মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব। পিএসটিসি’র কোষাধ্যক্ষ মো. বদরুল মুনীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পিএসটিসি’র নির্বাহী পরিচালক ড. নূর মোহাম্মদ।

এসএন/

প্রশ্নফাঁস ও অনলাইন জালিয়াতি রোধে সংসদে বিল পাস

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
প্রশ্নফাঁস ও অনলাইন জালিয়াতি রোধে সংসদে বিল পাস
ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্নপত্র ফাঁস, ডিজিটাল কারসাজি, জাল সনদ এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধ দমনে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সংসদে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন পাবলিক পরীক্ষা-সংশোধন বিল উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। 

একই দিনে বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৬ সংসদে উত্থাপন করা হয় এবং অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তা সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

সংশোধিত আইনে প্রথমবারের মতো ‘ডিজিটাল কারসাজি’র সংজ্ঞা যুক্ত করে পাবলিক পরীক্ষার ডাটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য পরিবর্তন বা গোপন করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশ, প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র ফাঁস, অনুমোদনহীন পরীক্ষাকেন্দ্র পরিচালনা এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নে কারসাজির বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান, তথ্যদাতাদের আইনি সুরক্ষা, শিশু অভিযুক্তদের জন্য শিশু আইন অনুযায়ী বিচার এবং সব অপরাধকে আমলযোগ্য করার বিধান রাখা হয়েছে। 

সরকারের মতে, ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি মোকাবিলা এবং পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতেই আইনটি সংশোধন করা হয়েছে।

অপরদিকে, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল উত্থাপনের পর তা সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। 

প্রস্তাবিত আইনে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, কৃষি, চিকিৎসাবিজ্ঞান, আইন ও ব্যবসায় প্রশাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ রেখে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। 

সরকার আশা করছে, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি উত্তরাঞ্চলে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এলিস/এসএন