ঢাকা ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মিসরের গোল বাতিলে যা বললেন সাবেক রেফারির মানবপাচার রোধে বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক ভিএআর সমালোচনায় সাবেক ফুটবলার, কোচ ও বিশ্লেষক খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ ইতালিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মাদারীপুরের যুবকের মৃত্যু টুয়েলভ ক্লদিংয়ে চলছে ইনস্ট্যান্ট ভাউচার হুমকিতে সিরিয়া, ম্যাক্রোঁর দামেস্ক সফরকালীন হামলার নেপথ্যে কারা? ইরানে নতুন করে হামলা জরুরি ছিল: ন্যাটোপ্রধান মিসরীয় কোচের ফিফার বর্ণবাদ-বিরোধী অঙ্গভঙ্গি ভারতে পাচারের শিকারদের জন্য বেনাপোলে চালু হলো হাফওয়ে শেল্টার হোম মেসির পেনাল্টি আটকে দেওয়া কে এই গোলরক্ষক? ৮ জুলাই মুদ্রা বাজার: বেড়েছে কানাডিয়ান ডলার, ইন্ডিয়ান রুপির দাম কুমিল্লায় আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ নিয়ে সংঘর্ষ, ব্রাজিল সমর্থক নিহত বিশ্বকাপ বিতর্ক: কে এই ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার? দিনাজপুরে স্বামীর শাবলের আঘাতে স্ত্রীর মৃত্যু, স্বামী আটক মার্কিন-ইরান সংঘাতে আফ্রিকার ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের হাওয়া পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী আবাসন প্রকল্পে শতাধিক গাছের চারা কর্তন, শাস্তি দাবি কাপ্তাই লেকের পানি বৃদ্ধি: বেড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন রাঙামাটিতে বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত, পাহাড়ধসের শংকা কোয়ার্টার ফাইনালের কার প্রতিপক্ষ কে? আইশোস্পিডকে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ, তদন্তে ফিফা ভারতে সাজাভোগ শেষে ফেরত আসলেন ১০ বাংলাদেশি ভারী বর্ষণে ও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত সেন্টমার্টিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মেহেরপুরে চুরি হওয়া প্রায় ৩০ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন ঈশ্বরগঞ্জের আলমগীর কবির ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের ৬০ মিলিয়ন ইউরো অর্থায়ন পেল ব্র্যাক ব্যাংক ভেবেছিলাম আমিই দলকে ডুবালাম: মেসি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস বেরোবি ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

রাঙামাটিতে বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত, পাহাড়ধসের শংকা

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:২৯ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৪০ এএম
রাঙামাটিতে বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত, পাহাড়ধসের শংকা
ছবি: খবরের কাগজ

রাঙামাটিতে বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ধসের শংকায় ঝুঁকিতে থাকা জেলার সদর, কাউখালী ও কাপ্তাই উপজেলায় চারটি আশ্রয়কেন্দ্র ২১০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। নিরাপত্তা শংকায় আজকের এইচএসসি ও আলীম পরীক্ষা বাতিল, প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ এবং সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরমধ্যে গতকাল সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় ২০৯ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। 

এদিকে বৃষ্টিপাতে কাপ্তাই হ্রদে পানি বাড়ায় উৎপাদন সংকটে পড়া দেশের একমাত্র কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট চালু করা হয়েছে। এতে উৎপাদিত ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। এছাড়া কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বাড়ায় উপজেলাগুলোর সঙ্গে নৌ যোগাযোগ বেড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে জেলা শহরসহ ১০ উপজেলায় পাহাড়ধসের সতর্কতা জানিয়ে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে প্রচার চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। জেলায় ৪৪টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কুইক রেসপন্স টিম ও পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদ রাখার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। 

জিয়াউর রহমান/অন্তরা/

খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
ছবিঃখবরের কাগজ

খুলনায় ট্রাক ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দুপুরে হরিণটানা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলেন- মো. শেখ দিদারুল হক (৩০) ও তাপস হোর (৬০)। তাদের বাড়ি পাইকগাছার হরিঢালী এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনা থেকে সাতক্ষীরাগামী ট্রাক খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা দুইটি ইজিবাইকে ধাক্কা দিয়ে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই একটি ইজিবাইকের চালক ও এক যাত্রী নিহত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকাজ শুরু করে।

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, বৃষ্টির মধ্যে পিচ্ছিল রাস্তায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। দ্রুতগামী ট্রাকের ধাক্কায় ট্রাকসহ দুটি ইজিবাইক রাস্তার পাশে উল্টে যায়। এতে ইজিবাইকের এক চালক ও যাত্রী নিহত হন।

মাকসুদ/হীরা

ভারতে পাচারের শিকারদের জন্য বেনাপোলে চালু হলো হাফওয়ে শেল্টার হোম

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
ভারতে পাচারের শিকারদের জন্য বেনাপোলে চালু হলো হাফওয়ে শেল্টার হোম
ছবিঃখবরের কাগজ

ভারতে পাচারের শিকার নারী, পুরুষ ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে যশোরের বেনাপোলে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে হাফওয়ে শেল্টার হোম।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে বেনাপোল হোটেলে সান রুফে আয়োজিত হাফওয়ে হোমের এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) পরিচালিত 'গ্লোবাল অ্যাকশন এগেইনেস্ট ট্রাফিকিং ইন পারসন্স অ্যান্ড স্মাগলিং অব মাইগ্রেন্টস' প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রাইটস যশোর।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের জন্য জেন্ডার-সংবেদনশীল ও প্রতিবন্ধী-বান্ধব সুরক্ষা সেবা নিশ্চিত করাই এই হাফওয়ে হোমের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি তাদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এখানে ভুক্তভোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী আবাসন, নিরাপদ আশ্রয়, খাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা, আইনি সহায়তা এবং মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং সেবা দেওয়া হবে।

বেনাপোলের ভবেরবেড় এলাকায় স্থাপিত এই শেল্টার হোমটিতে একসঙ্গে ৩০ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। সাধারণত ভুক্তভোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী দুই থেকে সাত দিন পর্যন্ত এখানে রাখা হবে। কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য একজন হোম ম্যানেজার, একজন হোম মাদার, দুজন মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলরসহ ৯ সদস্যের একটি দক্ষ টিম নিয়োজিত রয়েছে।

রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থাটির প্রোগ্রাম ডিরেক্টর প্রদীপ দত্ত।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর তাসনীম বিনতে করিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বেনাপোল পৌর প্রশাসক ফজলে ওয়াহিদ, প্রেসক্লাব বেনাপোলের সভাপতি আলহাজ মহসিন মিলন, বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন।

এ সময় হাফওয়ে হোমের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন রাইটস যশোরের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এস এম আজহারুল ইসলাম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

নজরুল/হীরা

দিনাজপুরে স্বামীর শাবলের আঘাতে স্ত্রীর মৃত্যু, স্বামী আটক

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
দিনাজপুরে স্বামীর শাবলের আঘাতে স্ত্রীর মৃত্যু, স্বামী আটক
ছবিঃ নিহত স্ত্রীর বাড়ির আশেপাশের চিত্র

দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে পারিবারিক কলহে স্বামীর খুন্তির (লোহার শাবল) আঘাতে স্ত্রী কুলসুম আক্তার মিমি (৩০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত তিনটায় ফুলবাড়ী পৌরসভার স্বজনপুকুর (রুন্দিপাড়া) এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মানিক হোসেন (৩৫)-কে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত মিমি ওই এলাকার মৃত আব্দুল কাশেমের মেয়ে। অভিযুক্ত মানিক হোসেন ফুলবাড়ী পৌর এলাকার পূর্ব গৌরীপাড়া গ্রামের মৃত মতিনের ছেলে। বিয়ের পর থেকেই তিনি স্ত্রীর বাবার বাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করতেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দাম্পত্য জীবনে তাদের তিনটি ছেলে সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মানিক হোসেন কোনো পেশায় নিয়োজিত না থাকায় সংসার পরিচালনা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত।

ঘটনার দিন রাতে মিমি স্বামীকে অন্য কক্ষে গিয়ে ঘুমানোর কথা বলেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মানিক হোসেন স্ত্রীকে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘরে থাকা একটি শাবল দিয়ে তার মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। পরে শাবলের পেছনের অংশ দিয়ে বুকে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই মিমির মৃত্যু হয়।

মায়ের চিৎকারে তিন সন্তান ও আশপাশের লোকজন ছুটে এসে মানিক হোসেনকে আটক করে বেঁধে রাখেন। পরে খবর পেয়ে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় নিহতের মা মেহেরুন নেছা বাদী হয়ে ফুলবাড়ী থানায় মানিক হোসেনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।

নিহতের বড় ছেলে আল-আমিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের চোখের সামনেই আমার মাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যার বিচার চাই, হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ শাহ বলেন, ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর  মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়। গ্রেপ্তার  স্বামীকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

সুলতান/হীরা

ভারতে সাজাভোগ শেষে ফেরত আসলেন ১০ বাংলাদেশি

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:১৬ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:১২ পিএম
ভারতে সাজাভোগ শেষে ফেরত আসলেন ১০ বাংলাদেশি
ছবিঃফেরত আসা বাংলাদেশিরা

ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে সাজাভোগ শেষে ১০ বাংলাদেশিকে সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে পাঠানো হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) উপস্থিতিতে তাদেরকে হস্তান্তর করা হয়।

তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফেরত আসা এসব বাংলাদেশি নাগরিক চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ সীমান্ত ও সিলেটের গুচ্ছগ্রাম সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। 

অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশ আটক করে আদালতে দিলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠায়।

ভারতের তোবা কারাগারে দীর্ঘ মেয়াদে সাজাভোগ শেষে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের ফেরত পাঠায়। 

ফেরত আসা বাংলাদেশিরা হলেন, রাজশাহীর বোরগাছি এলাকার বশির আহমেদ (২০), ডিয়ার মানিক চর এলাকার মো. আহসান হাবীব (১৯), চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোটাপাড়া এলকার বাদশাহ মিয়া (২৯), ফেলুপাড়া এলাকার মো. সাজাদ (২১), মো. রুবেল মিয়া (৩৫), মো. আল মামুন (২৮), শেরপুরের ঘুগুরাকান্দি এলকার মো. মনিরুল ইসলাম (২২), নেত্রকোনার বিজয়পুর এলকার রেজাউল ইসলাম (২৮), বাওয়াইপাড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলাম (২৪), কাজিমুদ্দিন (২৪)।

তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. বজলুর রশিদ জানান, বিজিবি, বিএসএফ ও উভয় দেশের পুলিশের উপস্থিতিতে ১০ বাংলাদেশিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে  তাদেরকে নিজ নিজ আত্মীয়স্বজনের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

হীরা/

ভারী বর্ষণে ও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত সেন্টমার্টিন

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:০৫ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:১৬ এএম
ভারী বর্ষণে ও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত সেন্টমার্টিন
ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে জোয়ারের পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এতে দ্বীপের বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এদিকে উত্তাল বঙ্গোপসাগরের বিশাল ঢেউ উপকূলে আছড়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) টানা তিন দিন ধরে কক্সবাজার, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত দমকা হাওয়ায় সাগর আরও উত্তাল হয়ে উঠেছে। মাঝেমধ্যে বাতাসের দিক পরিবর্তন হওয়ায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, জোয়ারের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় দ্বীপের নিচু এলাকার অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ মানুষ ঘরেই অবস্থান করছেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরতে যেতে পারছেন না জেলেরা। এতে তাদের জীবিকাও ব্যাহত হচ্ছে।
 
সেন্টমার্টিন দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা আবু তালেব জানান, টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উত্তাল সাগরের কারণে বঙ্গোপসাগরের পানির উচ্চতা আগের তুলনায় আনুমানিক ৪ থেকে ৫ ফুট বেড়েছে। বড় বড় ঢেউ একের পর এক দ্বীপের চারপাশে আছড়ে পড়ছে।

একই সঙ্গে ভারী বৃষ্টির পানিতে দ্বীপের বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ বাসিন্দা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করছেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।

সাগর উত্তাল থাকায় জেলেরাও মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে দ্বীপের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সেন্টমাটিন সাভিস ট্রলার সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। সতক সংকেত কেটে গেলে পুনরায় ট্রলার চলাচল শুরু হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী জানান, ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। টানা ভারী বৃষ্টির কারণে সেন্টমার্টিনে বঙ্গোপসাগরের পানির উচ্চতা বেড়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সেন্টমার্টিনের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, দ্বীপে অনেক বাড়িঘর ডুবে গেছে। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারনে টেকনাফ-সেন্টমার্টিনে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।  ফলে দ্বীপে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

রিফাত/