ঢাকা ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মিসরীয় কোচের ফিফার বর্ণবাদ-বিরোধী অঙ্গভঙ্গি মেসির পেনাল্টি আটকে দেওয়া কে এই গোলরক্ষক? ৮ জুলাই মুদ্রা বাজার: বেড়েছে কানাডিয়ান ডলার, ইন্ডিয়ান রুপির দাম কুমিল্লায় আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ নিয়ে সংঘর্ষ, ব্রাজিল সমর্থক নিহত বিশ্বকাপ বিতর্ক: কে এই ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার? দিনাজপুরে স্বামীর শাবলের আঘাতে স্ত্রীর মৃত্যু, স্বামী আটক মার্কিন-ইরান সংঘাতে আফ্রিকার ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের হাওয়া পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী আবাসন প্রকল্পে শতাধিক গাছের চারা কর্তন, শাস্তি দাবি কাপ্তাই লেকের পানি বৃদ্ধি: বেড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন রাঙামাটিতে বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত, পাহাড়ধসের শংকা কোয়ার্টার ফাইনালের কার প্রতিপক্ষ কে? আইশোস্পিডকে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ, তদন্তে ফিফা ভারী বর্ষণে ও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত সেন্টমার্টিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মেহেরপুরে চুরি হওয়া প্রায় ৩০ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন ঈশ্বরগঞ্জের আলমগীর কবির ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের ৬০ মিলিয়ন ইউরো অর্থায়ন পেল ব্র্যাক ব্যাংক ভেবেছিলাম আমিই দলকে ডুবালাম: মেসি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস বেরোবি ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা অর্থ মন্ত্রনালয় ও যমুনা ব্যাংকের যৌথ আয়োজনে উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্বোধন বাউফলে উদ্বোধনের আগেই কোটি টাকার সেতুতে ফাটল নবিজির বিছানায়, মৃত্যুর মুখোমুখি পরীক্ষার খাতায় শিক্ষককে ‘আব্বু’ সম্বোধন করে উত্তরপত্র জমা বৃষ্টিতে দুর্ভোগ, চার দিন বন্ধ হাতিয়ার ফেরি চলাচল ফটিকছড়িতে ভারী বর্ষণে বন্যা ও পাহাড়ধসের শঙ্কা, প্রশাসনের সতর্কতা প্রিমিয়াম সুবিধা নিয়ে চাঙ্গানের সিএস৭৫ প্রো এসইউভি এখন বাংলাদেশে মেসিদের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষমতায়নে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে বাংলালিংকের অংশীদারিত্ব চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা স্থগিত

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এছাড়াও সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়, দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড ও তৎসংলগ্ন উড়িষ্যা এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দুর্বল হয়ে পূর্ব মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

রিফাত/

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এছাড়াও সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়, দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড ও তৎসংলগ্ন উড়িষ্যা এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দুর্বল হয়ে পূর্ব মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

রিফাত/

চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা স্থগিত

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:০৪ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:০৯ এএম
চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা স্থগিত
ছবি: খবরের কাগজ

বন্যা পরিস্থিতি ও বৈরী আবহাওয়া বিবেচনায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলায় বুধবারের (৮ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে প্রথমে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলায় পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। 

পরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে জেলা প্রশাসকদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার মধ্যরাতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলার বুধবারের পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়। 

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পাঁচ জেলা অর্থাৎ চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার বুধবারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে। 

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্যা পরিস্থিতি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বুধবারের এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এসব পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি পরে জানানো হবে।

এদিকে গত চার দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে স্থবির হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের জনজীবন। কর্মজীবী মানুষের পাশাপাশি ভোগান্তি পোহাচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়ির মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। পানি প্রবেশ করায় ঘরের আসবাবপত্র ও দোকানের মালামাল ক্ষতি হয়েছে অনেকের। 

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই বৃষ্টিপাত আগামী শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

এদিকে পাহাড় থেকে লোকজনকে সরে যেতে জনসচেতনতামূলক মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করেছে। তাছাড়া সিটি করপোরেশন ও রেড ক্রিসেন্টের ভলান্টিয়ারদের সহযোগিতায় ১০১ সদস্যের র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিতে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনকে আহ্বায়ক এবং চট্টগ্রাম সিটি রেড ক্রিসেন্টের সেক্রেটারি গোলাম বাকি মাসুদকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। যেকোনো দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে এই র‌্যাপিড রেসপন্স টিম তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে কাজ করবে।

এ সময় রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে নগরবাসীকে যেকোনো জরুরি সহযোগিতার জন্য ০১৮০৫-৭৮৩৩৮৯ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল, অক্টোবরে শুরু ইউপি নির্বাচন: ডা. জাহেদ

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল, অক্টোবরে শুরু ইউপি নির্বাচন: ডা. জাহেদ
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

আগামী আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

ডা. জাহেদ বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য পৃথক রোডম্যাপ প্রণয়ন করছে। চলতি মাসের শেষ দিকে এসব রোডম্যাপ চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হতে পারে।’

ইসির তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার সুবিধার্থে সারা দেশকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে–হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চল, নদীপ্রধান ও চরাঞ্চল এবং সমতল ও শহরাঞ্চল। হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইউপি নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম শুরু হবে।’

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে কি না, এ নিয়ে নানা আলোচনা ছিল। তবে সরকার বলে আসছে, এ বছরের মধ্যেই নির্বাচন শুরু হবে। আবহাওয়া বিবেচনায় শুষ্ক ও শীত মৌসুমে বেশিসংখ্যক নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’ তার মতে, ‘অক্টোবরে নির্বাচন শুরু করা গেলে ২০২৭ সালের অক্টোবরের মধ্যে সব ধাপের নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বিদ্যমান আইনে এটি বর্তমানে ফৌজদারি অপরাধ নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্যকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।’

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘শেখ হাসিনা চেহারা দেখাতে কুণ্ঠাবোধ করেন। আমার ধারণা, পরাজিত ও বিধ্বস্ত চেহারা দেখাতে তিনি চান না। কিন্তু অডিওবার্তায় তিনি নানা নির্দেশনা ও বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। মিডিয়ায় প্রচারের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। টাকা আছে, তাই টাকা খরচ করে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করছেন।’

তিনি বলেন, ‘টাকা দিয়ে কিছু লোককে ব্যবহার করা সম্ভব। কিন্তু এভাবে দেশে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। কিছু চোর-ডাকাত ও দুর্বৃত্তকে টাকা দিয়ে ব্যবহার করা গেলেও তাদের আহ্বানে দেশে কোনো সাড়া মেলেনি, ভবিষ্যতেও মিলবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।’

ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রসঙ্গে বলেন, ‘তাদের অনেকেই বিভিন্ন মামলার আসামি। কারও বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, আবার কেউ কেউ সাজাপ্রাপ্ত। তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিয়মিতভাবে উত্থাপন করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সাভারে এনসিপির জনসভায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

রাজধানীতে থেমে থেমে বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
রাজধানীতে থেমে থেমে বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা
ছবি: খবরের কাগজ

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে রাজধানীসহ সারা দেশে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঢাকায় ভোর থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টিতে বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কোথাও ড্রেন উপচে পানি রাস্তায় উঠে আসে, কোথাও নিচু এলাকায় হাঁটুপানি থেকে কোমরসমান পানি জমে ব্যাহত হয় যান চলাচল। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, দিনমজুর, রিকশাচালক ও সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির চিত্র দেখা যায় পুরান ঢাকার বংশাল থানার পাকিস্তান মাঠ (বর্তমানে বাংলাদেশ মাঠ) ও আশপাশের এলাকায়। সকাল থেকেই সেখানে কোমরসমান পানি জমে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক ব্যবসায়ী তাদের প্রতিষ্ঠান খুলতে পারেননি। অনেকে বাধ্য হয়ে দোকান বন্ধ রাখেন। নিচু এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় অনেক পরিবার ঘরবন্দি হয়ে পড়ে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হতে পারেননি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই অল্প সময়ের বৃষ্টিতে এ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ওই এলাকার রিকশাচালক আব্দুল কাদের বলেন, ‘সকাল থেকে পানির মধ্যেই রিকশা চালাচ্ছি। কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তা বোঝা যায় না। কয়েকবার রিকশা আটকে গেছে। কষ্ট বেশি হলেও কাজ না করলে সংসার চলবে না।’

এদিকে ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, কাঁঠালবাগান, মালিবাগ, শান্তিনগর, রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, মুগদা, মিরপুর, ধানমন্ডি ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় যানবাহনের গতি কমে যায়। সড়কে পানি জমে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। বাসস্ট্যান্ডে গণপরিবহনের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। অনেক এলাকায় বাসের সংকট দেখা দেওয়ায় রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি নেওয়ার অভিযোগ করেন যাত্রীরা।

মতিঝিলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো সকালে অফিসের উদ্দেশে বের হয়েছিলাম। কিন্তু রামপুরা এলাকায় পানি জমে থাকায় দীর্ঘক্ষণ বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। অফিসে পৌঁছাতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে।’

আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিজনিত দুর্ভোগ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে। একই সঙ্গে একটি লঘুচাপের প্রভাবে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে আগামী চার থেকে পাঁচ দিন দেশের অধিকাংশ এলাকায় দফায় দফায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৭ জুলাই সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ১০ জুলাই পর্যন্ত দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে।

অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে পটুয়াখালীতে। এ ছাড়া টেকনাফে ১৯৫ মিলিমিটার, সন্দ্বীপে ১৬৭ মিলিমিটার, ফেনীতে ১২৯ মিলিমিটার এবং কুতুবদিয়ায় ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব ও উপকূলীয় অঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টির প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।

এদিকে টানা বর্ষণের কারণে কক্সবাজার, বান্দরবান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে। ইতোমধ্যে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের কয়েকটি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি কয়েকটি নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে আবহাওয়া অধিদপ্তর অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলা, বজ্রপাতের সময় খোলা স্থানে অবস্থান না করা এবং পাহাড়ি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধ এলাকায় চলাচলের সময় বিদ্যুতের খুঁটি, ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তার ও খোলা ম্যানহোল থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

চট্টগ্রামে টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা, বন্যা ও পাহাড়ধসের শঙ্কা

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
চট্টগ্রামে টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা, বন্যা ও পাহাড়ধসের শঙ্কা
ছবি: খবরের কাগজ

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলাগুলোর বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

পাহাড়ি ঢল, বন্যা, দেয়াল ও পাহাড়ধসে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) শিশুসহ আরও ৫ জন নিহত হয়েছেন। ঝুঁকিতে রয়েছেন লাখো বাসিন্দা। এর আগে গত সোমবার কক্সবাজারে পাহাড়ধসে রোহিঙ্গাসহ ১০ জন নিহত হন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন কয়েক শ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির জেলার আজকের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল রাতে বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর: 
চট্টগ্রাম: টানা ভারী বর্ষণে ডুবেছে বন্দরনগরী। পতেঙ্গা এলাকায় সড়ক ধসে পড়েছে। আবার  মঙ্গলবার বেলা ৩টা পর্যন্ত হাটহাজারী এলাকায় সড়কে পানি ওঠায় উত্তর চট্টগ্রামের সঙ্গে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ জানিয়েছে, নালা-খাল পরিষ্কারের কাজ চললেও অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে পানি নামতে সময় লাগছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চসিকের বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে।

প্রাণহানি এড়াতে আকবরশাহ ঝিল, বিজয়নগর, শান্তিনগর, মতিঝর্ণা ও লালখান বাজার পোড়া কলোনিসহ ৯টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়ার তত্ত্বাবধানে সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) নেতৃত্বে গঠিত ৬টি বিশেষ টিম গতকাল সকাল থেকে মাইকিং চালায়। স্থানীয় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টায় পূর্ব নাসিরাবাদ রহমান নগর বি-ব্লকের ৪ নম্বর রোডের মাথায় একটি দেয়ালধসে পড়ে। এতে একজন নিহত এবং একটি শিশুসহ আরও তিনজন আহত হন।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছাখালী গুচ্ছগ্রামে টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে পাহাড়ধসে রেনু আক্তার (৫৬) মারা গেছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। গতকাল বেলা ৩টার দিকে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা রেনু আক্তার ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে পতেঙ্গা সি-বিচ পুলিশ বক্সের বিপরীত পাশে সড়কের একটি অংশ ধসে পড়ায় ওই অংশে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

হাটহাজারীর বড়দীঘির পাড় এলাকায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে সড়কে কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় উত্তর চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিকেলের দিকে পানি কমে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

অন্যদিকে  মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ষোলশহর স্টেশন থেকে ঢাকা-কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ছেড়ে গেলেও সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকায় রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ৮০০ যাত্রী নিয়ে ট্রেনটি আটকে পড়ে। একই সময়ে রেললাইনের ওপর গাছ পড়ে যাওয়ায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা প্রবাল এক্সপ্রেসও দোহাজারিতে আটকা পড়ে। জানালীহাট স্টেশনের স্টেশনমাস্টার নিজাম উদ্দিন জানান, পানি নেমে গেলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।

চট্টগ্রাম ও রাঙামাটিতে আজকের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত
বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির জেলার আজকের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল রাতে বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

অফিস আদেশে বলা হয়, ‘বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার ৮/৭/২০২৬ তারিখ বুধবারের ইচএসসি/আলিম/এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা ২০২৬ স্থগিত করা হলো। অন্যান্য শিক্ষা বোর্ড এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন কক্সবাজার, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার ওই তারিখের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।’

৩টি ফ্লাইট ঢাকায় ডাইভার্ট
বৈরী আবহাওয়ার কারণে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। মঙ্গলবার তীব্র ঝোড়ো বাতাসের কারণে প্রায় সব ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা বিলম্বে চলাচল করে। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের তিনটি ফ্লাইট চট্টগ্রামে অবতরণ করতে না পেরে ঢাকায় চলে যায়।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের দায়িত্বরত প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, রানওয়েতে পানি জমে যাওয়ায় নিরাপদ অবতরণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল।

বান্দরবান
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়াতে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে বিভিন্ন স্থানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

জেলার থানচি ও রুমা উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত সাঙ্গু নদীসহ বিভিন্ন পাহাড়ি ঝিরি-ঝরনায় হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুমসহ দুর্গম পর্যটন এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হবে।

অব্যাহত বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবান-থানচি সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এ পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের প্রবেশ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, জেলার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে এবং ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি

টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ির চেঙ্গী ও মাইনী নদীসহ স্থানীয় ছড়া-খালের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতকাল দুপুর থেকে জেলা সদর, মহালছড়ি, পানছড়ি ও দীঘিনালাসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসের শঙ্কা আরও বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় জেলার সব পর্যটন এলাকা বন্ধ রাখা হয়েছে।

নদীর পানি বেড়ে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের একাধিক স্থানে পানি উঠে যাওয়ায় গতকাল দুপুর থেকে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মহালছড়ি উপজেলার চব্বিশ মাইল, মাইসছড়ি ও কেরেঙ্গেনালা এলাকায় হাঁটুপানি জমে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজনে হেঁটে চলাচল করতে হয়েছে।

এদিকে টানা বর্ষণে জেলা সদরের শালবন, কুমিল্লাটিলা, সবুজবাগসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। তবে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার কোথাও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেনি।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত বলেন, এখন পর্যন্ত বন্যাপরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা সদরে ৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং উপজেলাগুলোতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

রাঙামাটি
অবিরাম বর্ষণে রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের আশঙ্কা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে জেলা শহরসহ ১০ উপজেলায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে স্থানীয় প্রশাসন মাইকিং করছে। ইতোমধ্যে শহরের লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্রে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষ আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। জেলায় মোট ৪৪টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার লাইল্যাঘোনা এলাকায় বৃষ্টির মধ্যে গড়িয়ে পড়া গাছের গুঁড়ির আঘাতে লক্ষ্মীবিলাশ চাকমা (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান।

অন্যদিকে মঙ্গলবার সকালে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের বালুচরা এলাকায় পাহাড়ধস ও গাছ উপড়ে পড়ায় সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মাটি ও গাছ অপসারণের পর সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

গত সোমবার সকাল থেকেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। গতকাল বিকেল ৪টা পর্যন্ত শহরের লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্রে ২১টি পরিবারের শিশুসহ ৭০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী লোকনাথ মন্দির এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে বলেন, মানুষের জীবন রক্ষাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সম্ভাব্য পাহাড়ধস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাতে কোনো প্রাণহানি না ঘটে, সে লক্ষ্যে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।
ফেনী

২০২৪ সালের আগস্টের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি ফেনীর মানুষ। সেই ক্ষত না শুকাতেই উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা বর্ষণে জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে।

জেলার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র গতকাল জানিয়েছে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য ও পাহাড়ি এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর প্রভাবে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত আরও বৃদ্ধি পেলে এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ বেড়েছে। ২০২৪ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করা হলেও প্রবল পানির চাপ সেগুলো সহ্য করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, ফেনীসহ পাঁচ জেলার জন্য বন্যা পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। বর্তমানে জেলায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। অতিবৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢল দেখা দিলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
কক্সবাজার

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার জেলার অন্তত ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক, কুতুবদিয়ার পাঁচটি গ্রাম এবং মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া টানা বৃষ্টিতে উখিয়ার ২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৪০টির বেশি আশ্রয়ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, পাহাড়ি ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অতিরিক্ত জলাবদ্ধতার কারণে পানির তীব্র স্রোতে কুতুবদিয়ার লেমশীখালী ইউনিয়নের শাহাজীরপাড়া ও কৈয়ারবিল ইউনিয়নের মলমচর এলাকার সংযোগ সেতু ভেঙে পড়েছে।

অন্যদিকে ২০১৭ সালে উখিয়া ও টেকনাফে প্রায় ৮ হাজার একর বনভূমি উজাড় করে গড়ে তোলা ৩৩টি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে অন্তত ১ লাখ মানুষ ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন।

কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ক্যাম্পে পাহাড়ধসে আট রোহিঙ্গার মৃত্যুর পর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী ৪০০ থেকে ৫০০ পরিবারের প্রায় ২০ হাজার রোহিঙ্গাকে মাইকিং করে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ পরিচালিত বিভিন্ন সংস্থা তাদের জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করেছে বলে জানিয়েছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

এ ছাড়া টানা তিন দিনের বৃষ্টি ও মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার অন্তত ১৬টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, প্লাবনের পর উপকূলীয় সব স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে।

পেকুয়া (কক্সবাজার)
টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যার মধ্যেই পেকুয়া উপজেলার টৈটং এলাকায় পাহাড়ধসে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে চকরিয়ায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয় পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। 

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন, কোথাও বেড়িবাঁধ ভাঙছে কি না কিংবা পাহাড়ধসে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে কি না, তা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

উখিয়া (কক্সবাজার)
কক্সবাজারের উখিয়ায় টানা বর্ষণের মধ্যে ঘরের দেয়াল ধসে আব্দুল মালেক (৪০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বেলা ৩টার দিকে উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামবাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, অতিবৃষ্টির সময় শ্বশুরবাড়িতে দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় ঘরের মাটির দেয়ালধসে পড়লে আব্দুল মালেক চাপা পড়েন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে বিকেল ৫টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, হলদিয়াপালং ইউনিয়নে দেয়ালচাপায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।