ঢাকা ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মিসরীয় কোচের ফিফার বর্ণবাদ-বিরোধী অঙ্গভঙ্গি মেসির পেনাল্টি আটকে দেওয়া কে এই গোলরক্ষক? ৮ জুলাই মুদ্রা বাজার: বেড়েছে কানাডিয়ান ডলার, ইন্ডিয়ান রুপির দাম কুমিল্লায় আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ নিয়ে সংঘর্ষ, ব্রাজিল সমর্থক নিহত বিশ্বকাপ বিতর্ক: কে এই ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার? দিনাজপুরে স্বামীর শাবলের আঘাতে স্ত্রীর মৃত্যু, স্বামী আটক মার্কিন-ইরান সংঘাতে আফ্রিকার ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের হাওয়া পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী আবাসন প্রকল্পে শতাধিক গাছের চারা কর্তন, শাস্তি দাবি কাপ্তাই লেকের পানি বৃদ্ধি: বেড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন রাঙামাটিতে বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত, পাহাড়ধসের শংকা কোয়ার্টার ফাইনালের কার প্রতিপক্ষ কে? আইশোস্পিডকে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ, তদন্তে ফিফা ভারী বর্ষণে ও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত সেন্টমার্টিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মেহেরপুরে চুরি হওয়া প্রায় ৩০ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন ঈশ্বরগঞ্জের আলমগীর কবির ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের ৬০ মিলিয়ন ইউরো অর্থায়ন পেল ব্র্যাক ব্যাংক ভেবেছিলাম আমিই দলকে ডুবালাম: মেসি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস বেরোবি ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা অর্থ মন্ত্রনালয় ও যমুনা ব্যাংকের যৌথ আয়োজনে উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্বোধন বাউফলে উদ্বোধনের আগেই কোটি টাকার সেতুতে ফাটল নবিজির বিছানায়, মৃত্যুর মুখোমুখি পরীক্ষার খাতায় শিক্ষককে ‘আব্বু’ সম্বোধন করে উত্তরপত্র জমা বৃষ্টিতে দুর্ভোগ, চার দিন বন্ধ হাতিয়ার ফেরি চলাচল ফটিকছড়িতে ভারী বর্ষণে বন্যা ও পাহাড়ধসের শঙ্কা, প্রশাসনের সতর্কতা প্রিমিয়াম সুবিধা নিয়ে চাঙ্গানের সিএস৭৫ প্রো এসইউভি এখন বাংলাদেশে মেসিদের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষমতায়নে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে বাংলালিংকের অংশীদারিত্ব চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:০৩ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:০৯ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই প্রতিবেশী দেশ বাহরাইন এবং কুয়েতের বেশ কয়েকটি কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।

হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো শক্তিশালী বিমান হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় তেহরান এই পাল্টা আঘাত হানল। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তীব্র হয়েছে।

কুয়েত ও বাহরাইনের স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বুধবার (৮ জুলাই) ভোরে দেশ দুটির সামরিক ঘাঁটি এবং জ্বালানি অবকাঠামোর কাছাকাছি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী এই দুই দেশে থাকা তাদের ঘাঁটিগুলো থেকে ইরানি হামলা প্রতিরোধে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে।

ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, যেসব দেশ মার্কিন সামরিক বাহিনীকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানোর সুবিধা দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার যে হুঁশিয়ারি তেহরান আগে দিয়েছিল- এই হামলা তারই অংশ। বিশেষ করে বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহর এবং কুয়েতে বড় আকারের মার্কিন সেনা উপস্থিতি থাকায় দেশ দুটিকে নিশানা করেছে ইরান।

এই নজিরবিহীন হামলার পর বাহরাইন ও কুয়েত প্রশাসন তাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক ডেকেছে। পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ওই অঞ্চলের সার্বভৌমত্বের ওপর বড় আঘাত বলে অভিহিত করেছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে সংঘাতের পর এখন কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও আকাশচুম্বী হতে পারে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে। ওয়াশিংটন বা তেহরান কেউই এখনও এই হামলার ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক খতিয়ান প্রকাশ করেনি, তবে পেন্টাগন জানিয়েছে তারা পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। সূত্র: রয়টার্স

আজহার/

মার্কিন-ইরান সংঘাতে আফ্রিকার ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের হাওয়া

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৩১ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
মার্কিন-ইরান সংঘাতে আফ্রিকার ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের হাওয়া
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাতের রেশ এখন কেবল তেলের বাজার বা নৌপথের অনিশ্চয়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ধাক্কা সুদূর আফ্রিকাতেও নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। বৈশ্বিক এই অস্থিরতা আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য যেমন নতুন ঝুঁকি এনেছে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও সংস্কারের এক অভূতপূর্ব সুযোগও তৈরি করেছে।

নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়া

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে ওয়াশিংটন ও তার পশ্চিমা মিত্রদের মনোযোগ এখন ওদিকেই বেশি। ফলে সাহেল ও হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে পশ্চিমা নিরাপত্তা সহায়তা ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে স্থানীয় সরকাররা। এই সুযোগে আফ্রিকায় ইরানের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা যেমন দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে আর্থিক সংকটে পড়তে পারে, তেমনি রাশিয়া ও তুরস্কের মতো বিকল্প শক্তিগুলোর প্রভাবও বাড়ছে। রাশিয়ার ‘আফ্রিকা কর্পস’ এবং তুরস্কের ড্রোন প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা রপ্তানি আফ্রিকার নিরাপত্তা বাজারে নতুন প্রতিযোগিতার জন্ম দিচ্ছে।

সুদান ও লোহিত সাগরের লড়াইতে নতুন মাত্রা

ভূ-রাজনৈতিক এই দ্বৈরথের স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে সুদানের গৃহযুদ্ধে। বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, মার্কিন-ইরান সংকট সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে কাছাকাছি এনে সুদানের উত্তেজনা কমাবে। কিন্তু বাস্তবে লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণ ও আঞ্চলিক আধিপত্য নিয়ে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও গভীর হয়েছে। সুদানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ইরানের কথিত সহযোগিতা এই সামুদ্রিক করিডোরকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে, ফলে যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক নির্ভরতা হ্রাসের তাগিদ

হুরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কারণে আফ্রিকার আমদানি করা জ্বালানি, সার ও নিত্যপণ্যের পরিবহন খরচ আকাশচুম্বী হয়েছে। তবে এই সংকট আফ্রিকার নীতিনির্ধারকদের এক দশকের পুরনো কাঠামোগত দুর্বলতা সংশোধনে বাধ্য করছে। আফ্রিকা অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করলেও পরিশোধিত তেলের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

হুরমুজ সংকট এটাই মনে করিয়ে দেয়, আফ্রিকার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক ব্যবস্থার সঙ্গে কতটা জড়িত। এটি অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনা এবং জ্বালানি ও বাণিজ্য খাতে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা শক্তিশালী করার তাগিদকে আরও জোরদার করেছে।

সংকটই এখন বড় সুযোগ

আফ্রিকা সিইও ফোরামের পাবলিক সেক্টরের প্রধান মেরি কামারাসহ একাধিক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই বিশৃঙ্খলাকে কেবল বিঘ্ন হিসেবে না দেখে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আফ্রিকার অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে নেওয়া উচিত। আফ্রিকার দেশগুলো এখন ‘আফ্রিকান কন্টিনেন্টাল ফ্রি ট্রেড এরিয়ার’ (এএফসিএফটিএ) মাধ্যমে আন্তঃআফ্রিকান বাণিজ্য বাড়াতে এবং বহিরাগত শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে চাইছে।

তবে এখন একটাই চ্যালেঞ্জ, বাজার স্থিতিশীল হলে আফ্রিকান সরকারগুলো আবারও পুরনো ধারায় ফিরে যাবে, নাকি এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদী নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করবে?

থিওটোনিয়াস/

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:০৩ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:০৯ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই প্রতিবেশী দেশ বাহরাইন এবং কুয়েতের বেশ কয়েকটি কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।

হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো শক্তিশালী বিমান হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় তেহরান এই পাল্টা আঘাত হানল। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তীব্র হয়েছে।

কুয়েত ও বাহরাইনের স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বুধবার (৮ জুলাই) ভোরে দেশ দুটির সামরিক ঘাঁটি এবং জ্বালানি অবকাঠামোর কাছাকাছি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী এই দুই দেশে থাকা তাদের ঘাঁটিগুলো থেকে ইরানি হামলা প্রতিরোধে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে।

ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, যেসব দেশ মার্কিন সামরিক বাহিনীকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানোর সুবিধা দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার যে হুঁশিয়ারি তেহরান আগে দিয়েছিল- এই হামলা তারই অংশ। বিশেষ করে বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহর এবং কুয়েতে বড় আকারের মার্কিন সেনা উপস্থিতি থাকায় দেশ দুটিকে নিশানা করেছে ইরান।

এই নজিরবিহীন হামলার পর বাহরাইন ও কুয়েত প্রশাসন তাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক ডেকেছে। পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ওই অঞ্চলের সার্বভৌমত্বের ওপর বড় আঘাত বলে অভিহিত করেছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে সংঘাতের পর এখন কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও আকাশচুম্বী হতে পারে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে। ওয়াশিংটন বা তেহরান কেউই এখনও এই হামলার ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক খতিয়ান প্রকাশ করেনি, তবে পেন্টাগন জানিয়েছে তারা পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। সূত্র: রয়টার্স

আজহার/

ইরানে শক্তিশালী বিমান হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
ইরানে শক্তিশালী বিমান হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে ইরানের ওপর একযোগে একাধিক শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। 

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে রহস্যময় হামলার পরপরই এই পাল্টা আঘাত হানল যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্য বা পশ্চিম এশিয়া যুদ্ধ বন্ধের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বড় ধরনের ধাক্কা খেল।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের দ্বারা পরিচালিত বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার উপযুক্ত জবাব এবং এর চড়া মূল্য দেওয়ানোর লক্ষ্যেই এই শক্তিশালী হামলা চালানো হয়েছে।

যুক্তাষ্ট্রের দাবি, ইরানের এই উসকানিমূলক আগ্রাসন সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়, বিপজ্জনক এবং গত জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বা যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সূত্র: আল জাজিরা

আজহার/

খামেনির শোকের মাঝে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৪ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
খামেনির শোকের মাঝে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এই সমুদ্রসীমায় একটি কাতারি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ট্যাংকারসহ দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। কাতার এই হামলার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করেছে। আক্রান্ত কাতারি জাহাজটিতে আগুন ধরে যাওয়ায় এটি যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন এক সময়ে এই হামলার ঘটনা ঘটল, যখন ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে দেশটিতে পঞ্চম দিনের মতো লাখো মানুষের বিশাল শোকমিছিল চলছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি না হলে পুনরায় পুরোদমে যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিয়েছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের শঙ্কা তৈরি করেছে।

গতকাল ভোর রাতে কাতারের বিশাল এলএনজি ট্যাংকার ‘আল রেখায়াত’ ড্রোন হামলার শিকার হয়। হামলার পর জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে আগুন ধরে যায়। জাহাজের ক্যাপ্টেন এক জরুরি রেডিও বার্তায় বলেন, ‘মে ডে, মে ডে, মে ডে। এটি এলএনজি জাহাজ আল রেখায়াত। আমাদের জাহাজের বাম পাশে, ইঞ্জিন রুমের ওপর ড্রোন আঘাত হেনেছে। ইঞ্জিন রুমে আগুন লেগেছে এবং চারদিক ধোঁয়ায় ভরে গেছে। আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বুঝতে পারছি না।’ জাহাজটির ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হলেও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগুনের কারণে জাহাজটি যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরিত হতে পারে। এ ছাড়া ওমান উপকূলে ‘ওয়াদিয়ান’ নামে একটি সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলবাহী সুপারট্যাংকারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে এর সঠিক কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।

এই ঘটনার পর কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি একে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর একটি ‘অগ্রহণযোগ্য আক্রমণ’ এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। কাতার অবিলম্বে ইরানকে এই ধরনের আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকিস্বরূপ কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। দোহা স্পষ্ট করেছে, এই হামলার সব ধরনের আইনি দায় ও পরিণতির জন্য তেহরানই সম্পূর্ণ দায়ী থাকবে। এ বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য বা দায় স্বীকার করা হয়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক আলামত অনুযায়ী ইরানই এই দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়েছে। চার মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তার পর থেকে সাময়িক যুদ্ধবিরতির মাঝে হরমুজ প্রণালিতে এটিই প্রথম হামলার ঘটনা।

এদিকে ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্মরণে দেশটির পবিত্র নগরী কোমে লাখ লাখ মানুষের ঢল নেমেছে। গতকাল নগরীর সেমিনারি এলাকার রাস্তায় খামেনি এবং তার নিহত পরিবারের সদস্যদের কফিন নিয়ে বিশাল শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া লাখো মানুষ ব্যানার ও পতাকা হাতে নিয়ে খামেনিকে শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম শহিদ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তারা খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নেন এবং মিছিলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। এর আগে সোমবার তেহরানের বুকেও লাখো মানুষের উপস্থিতিতে একই ধরনের বড় জানাজা ও শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খামেনির মরদেহ প্রতিবেশী দেশ ইরাকের শিয়া পবিত্র শহরগুলোতে নিয়ে যাওয়া হবে এবং এরপর ইরানে এনে একটি ঐতিহাসিক মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে।

এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে এক কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গত মাসে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের একটি অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তির অধীনে বর্তমানে যুদ্ধটি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তবে কাতারে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনা কোনো স্থায়ী সমাধানের পথ দেখাতে ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘হয় আমাদের সঙ্গে একটি চুক্তি করুন, না হলে আমরা কাজ শেষ করব। আমরা এক ঘণ্টার মধ্যে তাদের সব সেতু উড়িয়ে দিতে পারি, আমরা তাদের জ্বালানি সরবরাহ ধ্বংস করে দিতে পারি।’

ট্রাম্পের এই হুমকির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতির স্মারক অনুযায়ী হুমকি অব্যাহত থাকলে চূড়ান্ত চুক্তির কোনো আলোচনা শুরু হবে না। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তাঁর নিজের স্বাক্ষরের প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।

চার মাস আগে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তখন ট্রাম্পের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং দেশটির সরকার পতনের পরিবেশ তৈরি করা। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এর কোনো লক্ষ্যই এখনো অর্জিত হয়নি। এদিকে এই হামলার খবরের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা স্থিতিশীল ছিল। সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা

তিন বার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম নিপার

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
তিন বার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম নিপার
ছবি: খবরের কাগজ

এক টুকরো সাদা কাগজ। কয়েকটি নিখুঁত ভাঁজ। তারপর কাঁচির দ্রুত চলাচল। সময় লাগে মাত্র ২১ দশমিক ৮৪ সেকেন্ড। এত অল্প সময়েই কাগজের টুকরোটি রূপ নেয় তুষারকণায়। আর সেই মুহূর্তেই বিশ্বের সবচেয়ে স্বীকৃত রেকর্ডের খাতা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে তৃতীয়বারের মতো জায়গা করে নেন বরিশালের তরুণী নুসরাত জাহান নিপা।

এর আগে কয়েন দিয়ে টাওয়ার তৈরি এবং চপস্টিক দিয়ে এক মিনিটে ২৭টি ভাতের দানা খেয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। এবার দ্রুততম সময়ে কাগজের স্নো-ফ্লেক বা তুষারকণা তৈরি করে যোগ করলেন তৃতীয় সাফল্য। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে তিনবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানোর কৃতিত্বও অর্জন করলেন তিনি। যাচাই-বাছাই শেষে সম্প্রতি তার হাতে পৌঁছেছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের আনুষ্ঠানিক সনদ।

বরিশাল নগরীর কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা নিপা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাগজ কেটে ও ভাঁজ করে স্নো-ফ্লেক তৈরির চ্যালেঞ্জে অংশ নেন। এই বিভাগে আগে ২৩ দশমিক ১৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে রেকর্ডটি ছিল চীনের এক প্রতিযোগীর দখলে। নিপা সেটি ভেঙে মাত্র ২১ দশমিক ৮৪ সেকেন্ডে কাজটি শেষ করেন।

নুসরাত জাহান নিপা বলেন, ‘কাগজের স্নো-ফ্লেক তৈরির রেকর্ড আগে ২৩ দশমিক ১৬ সেকেন্ডে স্নো-ফ্লেক তৈরির রেকর্ডটি চীনের দখলে ছিল। আমি তা ভেঙে রেকর্ডটি বাংলাদেশে এনেছি। কিছুদিন আগে সার্টিফিকেট পেয়েছি।’

নিপার বিশ্বরেকর্ডের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে, করোনা মহামারির সময়। এক হাতে এক মিনিটে ৭১টি কয়েন দিয়ে টাওয়ার তৈরি করে ইতালির সিলভিও সাব্বার গড়া রেকর্ড ভেঙে প্রথমবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখান তিনি। এরপর ২০২৪ সালে চপস্টিক দিয়ে এক মিনিটে ২৭টি ভাতের দানা মুখে তুলে দ্বিতীয়বার বিশ্বরেকর্ড গড়েন।

তিনি বলেন, ‘এক মিনিটে ২৫টি ভাতের দানা খেয়ে ইতালির এক নাগরিক গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করেছিলেন। আমি এক মিনিটে ২৭টি ভাত খেয়ে তার সেই রেকর্ড ভেঙেছি। আমি ছাড়া আট বছরের মধ্যে আর কেউ ওই রেকর্ড ভাঙতে পারেনি। গত বছরের মার্চ মাসে রেকর্ডটি করি। পরে যাচাই-বাছাই শেষে তারা সম্প্রতি আমাকে সার্টিফিকেট দিয়েছে।’

দ্বিতীয় রেকর্ডটি অর্জনের পেছনের গল্পটাও কম কঠিন নয়। নিপা বলেন, ‘চপস্টিক দিয়ে এক মিনিটে ২৭টি ভাতের দানা খাওয়ার রেকর্ড করতে টানা দুই বছর অনুশীলন করতে হয়েছে। চেষ্টা আর ভালো কিছু করার ইচ্ছা ও অধ্যবসায় থাকলে অনেক কঠিন কাজও সম্ভব।’
বরিশাল নগরীর দক্ষিণ সাগরদী এলাকার আব্দুর রশিদ ও মোসাম্মৎ পারভীনের মেয়ে নুসরাত জাহান নিপা। এআরএস স্কুল থেকে মাধ্যমিক, সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের রসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা করছেন। তার স্বামী কাজী শামসুজ্জামান মন্টি একজন ব্যাংক কর্মকর্তা।

নিপা জানান, খেলাধুলার প্রতি ছোটবেলা থেকেই ছিল আগ্রহ। কিন্তু বরিশালে মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও অনুকূল পরিবেশ না থাকায় ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর দিকে কিছুটা ঝুঁকে পড়েন। তিনি বলেন, ‘গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ভিডিও দেখে ঘরে বসেই অনুশীলন শুরু করি। এ কাজে আমাকে সবচেয়ে বেশি সাহস জুগিয়েছেন আমার স্বামী শামসুজ্জামান মন্টি। প্রতিটি চেষ্টায় তিনি সরাসরি সহযোগিতা করেছেন। তার সহযোগিতা না থাকলে হয়তো তিনবার গিনেস রেকর্ড করা সম্ভব হতো না। এ জন্য আমি তার প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।’

তিনি বলেন, ‘সাফল্যের এই পথ অবশ্য একেবারেই বাধাহীন ছিল না। প্রথম রেকর্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের কটূক্তি ও বিদ্রূপের মুখোমুখি হয়েছি। কিন্তু সেসব উপেক্ষা করেই এগিয়ে চলেছি। অনেকেই আমাকে হেয় করে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু আমি সেদিকে মনোযোগ দিইনি। নিজের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়েছি, নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছি। আজ তার ফল পেয়েছি। ভবিষ্যতেও নতুন কিছু করে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ ও আমার জন্মস্থান বরিশালকে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।’ পরবর্তী রেকর্ড কী নিয়ে এ প্রশ্নের জবাবে রহস্য রেখেই মুচকি হেসে বলেন,‘দেখা যাক!’

নিপার স্বামী কাজী শামসুজ্জামান মন্টি বলেন, ‘করোনার সময় নিপা কয়েন দিয়ে টাওয়ার তৈরি করে প্রথমবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখান। এরপর চপস্টিক দিয়ে এক মিনিটে ২৭টি ভাতের দানা খেয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বরেকর্ড গড়েন। এবার দ্রুততম সময়ে কাগজের স্নো-ফ্লেক তৈরি করে তৃতীয়বারও গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা করে নিয়েছেন। এতে আমরা খুব আনন্দিত। ভবিষ্যতেও তার প্রতিটি উদ্যোগে আগের মতোই পাশে থাকব।’

বরিশালের তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জিহাদ রানা বলেন, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রকাশিত তথ্য ও অন্যান্য উন্মুক্ত অনলাইন তথ্যভান্ডার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাংলাদেশের অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান গিনেস রেকর্ড অর্জন করলেও নুসরাত জাহান নিপা ছাড়া অন্য কোনো বাংলাদেশি নারী তিনবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখাননি।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে একাধিকবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানো বাংলাদেশিদের মধ্যে ফ্রিস্টাইল ফুটবলার কনক কর্মকার ১৫টি রেকর্ড নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন। নুসরাত জাহান নিপার নামে রয়েছে তিনটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। কয়েন স্ট্যাকিংয়ের ব্যক্তিগত ও দলগত বিভাগে আবদুল্লাহ আল নোমান অন্তত তিনটি রেকর্ড অর্জন করেছেন। মাগুরার মাহমুদুল হাসান দুটি রেকর্ড গড়েছেন ফুটবল ও বাস্কেটবল আর্ম রোল বিভাগে। এ ছাড়া রাসেল ইসলাম, জোবেরা রহমান লিনু এবং আশিক চৌধুরী একটি করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের অধিকারী।

তবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তালিকা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত ও হালনাগাদ হয়। তাই এখানে শুধু যাচাইযোগ্য ব্যক্তিগত রেকর্ডগুলোই উল্লেখ করা হয়েছে; দলগত বা প্রাতিষ্ঠানিক রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।