ঢাকা ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
টানা ভারী বর্ষণ, জোয়ারের পানিতে প্লাবিত সেন্টমার্টিন মেহেরপুরে চুরি হওয়া প্রায় ৩০ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন ঈশ্বরগঞ্জের আলমগীর কবির ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের ৬০ মিলিয়ন ইউরো অর্থায়ন পেল ব্র্যাক ব্যাংক ভেবেছিলাম আমিই দলকে ডুবালাম: মেসি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস বেরোবি ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা অর্থ মন্ত্রনালয় ও যমুনা ব্যাংকের যৌথ আয়োজনে উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্বোধন বাউফলে উদ্বোধনের আগেই কোটি টাকার সেতুতে ফাটল নবিজির বিছানায়, মৃত্যুর মুখোমুখি পরীক্ষার খাতায় শিক্ষককে ‘আব্বু’ সম্বোধন করে উত্তরপত্র জমা বৃষ্টিতে দুর্ভোগ, চার দিন বন্ধ হাতিয়ার ফেরি চলাচল ফটিকছড়িতে ভারী বর্ষণে বন্যা ও পাহাড়ধসের শঙ্কা, প্রশাসনের সতর্কতা প্রিমিয়াম সুবিধা নিয়ে চাঙ্গানের সিএস৭৫ প্রো এসইউভি এখন বাংলাদেশে মেসিদের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষমতায়নে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে বাংলালিংকের অংশীদারিত্ব চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা স্থগিত চট্টগ্রামে কাভার্ডভ্যানে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এনসিপি নেতা নিহত ভোলাহাটে তহসিলদারের ‘ঘুষ’ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল বরগুনায় সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ড, বিদ্যুৎহীন ৬৭ হাজার গ্রাহক রাঙামাটিতে ভারী বর্ষণে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা বরিশালে মাছের এলাকায় মাছের দাম চড়া রুদ্ধশ্বাস জয়ে আর্জেন্টিনা, মৌলভীবাজারে সমর্থকদের উল্লাস সঠিক সময়ে বদলি খেলোয়াড় নামানোই ছিল সুইজারল্যান্ডের জয়ের মূল চাবিকাঠি চাঁদপুরে নেই নজরুলের স্মৃতিচিহ্ন ইরানে শক্তিশালী বিমান হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ খামেনির শোকের মাঝে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা ডুবিসায়বর হাট প্রাথমিক বিদ্যালয়: আবর্জনার কারণে কমছে শিক্ষার্থী আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল, অক্টোবরে শুরু ইউপি নির্বাচন: ডা. জাহেদ বড় মূলধনি শেয়ারে পতন, কমেছে সূচক ও লেনদেন

খামেনির শোকের মাঝে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৪ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
খামেনির শোকের মাঝে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এই সমুদ্রসীমায় একটি কাতারি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ট্যাংকারসহ দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। কাতার এই হামলার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করেছে। আক্রান্ত কাতারি জাহাজটিতে আগুন ধরে যাওয়ায় এটি যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন এক সময়ে এই হামলার ঘটনা ঘটল, যখন ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে দেশটিতে পঞ্চম দিনের মতো লাখো মানুষের বিশাল শোকমিছিল চলছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি না হলে পুনরায় পুরোদমে যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিয়েছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের শঙ্কা তৈরি করেছে।

গতকাল ভোর রাতে কাতারের বিশাল এলএনজি ট্যাংকার ‘আল রেখায়াত’ ড্রোন হামলার শিকার হয়। হামলার পর জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে আগুন ধরে যায়। জাহাজের ক্যাপ্টেন এক জরুরি রেডিও বার্তায় বলেন, ‘মে ডে, মে ডে, মে ডে। এটি এলএনজি জাহাজ আল রেখায়াত। আমাদের জাহাজের বাম পাশে, ইঞ্জিন রুমের ওপর ড্রোন আঘাত হেনেছে। ইঞ্জিন রুমে আগুন লেগেছে এবং চারদিক ধোঁয়ায় ভরে গেছে। আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বুঝতে পারছি না।’ জাহাজটির ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হলেও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগুনের কারণে জাহাজটি যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরিত হতে পারে। এ ছাড়া ওমান উপকূলে ‘ওয়াদিয়ান’ নামে একটি সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলবাহী সুপারট্যাংকারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে এর সঠিক কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।

এই ঘটনার পর কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি একে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর একটি ‘অগ্রহণযোগ্য আক্রমণ’ এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। কাতার অবিলম্বে ইরানকে এই ধরনের আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকিস্বরূপ কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। দোহা স্পষ্ট করেছে, এই হামলার সব ধরনের আইনি দায় ও পরিণতির জন্য তেহরানই সম্পূর্ণ দায়ী থাকবে। এ বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য বা দায় স্বীকার করা হয়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক আলামত অনুযায়ী ইরানই এই দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়েছে। চার মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তার পর থেকে সাময়িক যুদ্ধবিরতির মাঝে হরমুজ প্রণালিতে এটিই প্রথম হামলার ঘটনা।

এদিকে ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্মরণে দেশটির পবিত্র নগরী কোমে লাখ লাখ মানুষের ঢল নেমেছে। গতকাল নগরীর সেমিনারি এলাকার রাস্তায় খামেনি এবং তার নিহত পরিবারের সদস্যদের কফিন নিয়ে বিশাল শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া লাখো মানুষ ব্যানার ও পতাকা হাতে নিয়ে খামেনিকে শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম শহিদ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তারা খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নেন এবং মিছিলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। এর আগে সোমবার তেহরানের বুকেও লাখো মানুষের উপস্থিতিতে একই ধরনের বড় জানাজা ও শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খামেনির মরদেহ প্রতিবেশী দেশ ইরাকের শিয়া পবিত্র শহরগুলোতে নিয়ে যাওয়া হবে এবং এরপর ইরানে এনে একটি ঐতিহাসিক মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে।

এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে এক কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গত মাসে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের একটি অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তির অধীনে বর্তমানে যুদ্ধটি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তবে কাতারে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনা কোনো স্থায়ী সমাধানের পথ দেখাতে ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘হয় আমাদের সঙ্গে একটি চুক্তি করুন, না হলে আমরা কাজ শেষ করব। আমরা এক ঘণ্টার মধ্যে তাদের সব সেতু উড়িয়ে দিতে পারি, আমরা তাদের জ্বালানি সরবরাহ ধ্বংস করে দিতে পারি।’

ট্রাম্পের এই হুমকির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতির স্মারক অনুযায়ী হুমকি অব্যাহত থাকলে চূড়ান্ত চুক্তির কোনো আলোচনা শুরু হবে না। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তাঁর নিজের স্বাক্ষরের প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।

চার মাস আগে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তখন ট্রাম্পের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং দেশটির সরকার পতনের পরিবেশ তৈরি করা। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এর কোনো লক্ষ্যই এখনো অর্জিত হয়নি। এদিকে এই হামলার খবরের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা স্থিতিশীল ছিল। সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা

ইরানে শক্তিশালী বিমান হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
ইরানে শক্তিশালী বিমান হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে ইরানের ওপর একযোগে একাধিক শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। 

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে রহস্যময় হামলার পরপরই এই পাল্টা আঘাত হানল যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্য বা পশ্চিম এশিয়া যুদ্ধ বন্ধের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বড় ধরনের ধাক্কা খেল।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের দ্বারা পরিচালিত বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার উপযুক্ত জবাব এবং এর চড়া মূল্য দেওয়ানোর লক্ষ্যেই এই শক্তিশালী হামলা চালানো হয়েছে।

যুক্তাষ্ট্রের দাবি, ইরানের এই উসকানিমূলক আগ্রাসন সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়, বিপজ্জনক এবং গত জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বা যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সূত্র: আল জাজিরা

আজহার/

খামেনির শোকের মাঝে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৪ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
খামেনির শোকের মাঝে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এই সমুদ্রসীমায় একটি কাতারি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ট্যাংকারসহ দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। কাতার এই হামলার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করেছে। আক্রান্ত কাতারি জাহাজটিতে আগুন ধরে যাওয়ায় এটি যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন এক সময়ে এই হামলার ঘটনা ঘটল, যখন ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে দেশটিতে পঞ্চম দিনের মতো লাখো মানুষের বিশাল শোকমিছিল চলছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি না হলে পুনরায় পুরোদমে যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিয়েছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের শঙ্কা তৈরি করেছে।

গতকাল ভোর রাতে কাতারের বিশাল এলএনজি ট্যাংকার ‘আল রেখায়াত’ ড্রোন হামলার শিকার হয়। হামলার পর জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে আগুন ধরে যায়। জাহাজের ক্যাপ্টেন এক জরুরি রেডিও বার্তায় বলেন, ‘মে ডে, মে ডে, মে ডে। এটি এলএনজি জাহাজ আল রেখায়াত। আমাদের জাহাজের বাম পাশে, ইঞ্জিন রুমের ওপর ড্রোন আঘাত হেনেছে। ইঞ্জিন রুমে আগুন লেগেছে এবং চারদিক ধোঁয়ায় ভরে গেছে। আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বুঝতে পারছি না।’ জাহাজটির ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হলেও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগুনের কারণে জাহাজটি যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরিত হতে পারে। এ ছাড়া ওমান উপকূলে ‘ওয়াদিয়ান’ নামে একটি সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলবাহী সুপারট্যাংকারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে এর সঠিক কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।

এই ঘটনার পর কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি একে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর একটি ‘অগ্রহণযোগ্য আক্রমণ’ এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। কাতার অবিলম্বে ইরানকে এই ধরনের আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকিস্বরূপ কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। দোহা স্পষ্ট করেছে, এই হামলার সব ধরনের আইনি দায় ও পরিণতির জন্য তেহরানই সম্পূর্ণ দায়ী থাকবে। এ বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য বা দায় স্বীকার করা হয়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক আলামত অনুযায়ী ইরানই এই দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়েছে। চার মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তার পর থেকে সাময়িক যুদ্ধবিরতির মাঝে হরমুজ প্রণালিতে এটিই প্রথম হামলার ঘটনা।

এদিকে ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্মরণে দেশটির পবিত্র নগরী কোমে লাখ লাখ মানুষের ঢল নেমেছে। গতকাল নগরীর সেমিনারি এলাকার রাস্তায় খামেনি এবং তার নিহত পরিবারের সদস্যদের কফিন নিয়ে বিশাল শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া লাখো মানুষ ব্যানার ও পতাকা হাতে নিয়ে খামেনিকে শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম শহিদ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তারা খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নেন এবং মিছিলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। এর আগে সোমবার তেহরানের বুকেও লাখো মানুষের উপস্থিতিতে একই ধরনের বড় জানাজা ও শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খামেনির মরদেহ প্রতিবেশী দেশ ইরাকের শিয়া পবিত্র শহরগুলোতে নিয়ে যাওয়া হবে এবং এরপর ইরানে এনে একটি ঐতিহাসিক মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে।

এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে এক কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গত মাসে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের একটি অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তির অধীনে বর্তমানে যুদ্ধটি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তবে কাতারে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনা কোনো স্থায়ী সমাধানের পথ দেখাতে ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘হয় আমাদের সঙ্গে একটি চুক্তি করুন, না হলে আমরা কাজ শেষ করব। আমরা এক ঘণ্টার মধ্যে তাদের সব সেতু উড়িয়ে দিতে পারি, আমরা তাদের জ্বালানি সরবরাহ ধ্বংস করে দিতে পারি।’

ট্রাম্পের এই হুমকির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতির স্মারক অনুযায়ী হুমকি অব্যাহত থাকলে চূড়ান্ত চুক্তির কোনো আলোচনা শুরু হবে না। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তাঁর নিজের স্বাক্ষরের প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।

চার মাস আগে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তখন ট্রাম্পের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং দেশটির সরকার পতনের পরিবেশ তৈরি করা। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এর কোনো লক্ষ্যই এখনো অর্জিত হয়নি। এদিকে এই হামলার খবরের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা স্থিতিশীল ছিল। সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা

তিন বার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম নিপার

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
তিন বার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম নিপার
ছবি: খবরের কাগজ

এক টুকরো সাদা কাগজ। কয়েকটি নিখুঁত ভাঁজ। তারপর কাঁচির দ্রুত চলাচল। সময় লাগে মাত্র ২১ দশমিক ৮৪ সেকেন্ড। এত অল্প সময়েই কাগজের টুকরোটি রূপ নেয় তুষারকণায়। আর সেই মুহূর্তেই বিশ্বের সবচেয়ে স্বীকৃত রেকর্ডের খাতা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে তৃতীয়বারের মতো জায়গা করে নেন বরিশালের তরুণী নুসরাত জাহান নিপা।

এর আগে কয়েন দিয়ে টাওয়ার তৈরি এবং চপস্টিক দিয়ে এক মিনিটে ২৭টি ভাতের দানা খেয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। এবার দ্রুততম সময়ে কাগজের স্নো-ফ্লেক বা তুষারকণা তৈরি করে যোগ করলেন তৃতীয় সাফল্য। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে তিনবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানোর কৃতিত্বও অর্জন করলেন তিনি। যাচাই-বাছাই শেষে সম্প্রতি তার হাতে পৌঁছেছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের আনুষ্ঠানিক সনদ।

বরিশাল নগরীর কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা নিপা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাগজ কেটে ও ভাঁজ করে স্নো-ফ্লেক তৈরির চ্যালেঞ্জে অংশ নেন। এই বিভাগে আগে ২৩ দশমিক ১৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে রেকর্ডটি ছিল চীনের এক প্রতিযোগীর দখলে। নিপা সেটি ভেঙে মাত্র ২১ দশমিক ৮৪ সেকেন্ডে কাজটি শেষ করেন।

নুসরাত জাহান নিপা বলেন, ‘কাগজের স্নো-ফ্লেক তৈরির রেকর্ড আগে ২৩ দশমিক ১৬ সেকেন্ডে স্নো-ফ্লেক তৈরির রেকর্ডটি চীনের দখলে ছিল। আমি তা ভেঙে রেকর্ডটি বাংলাদেশে এনেছি। কিছুদিন আগে সার্টিফিকেট পেয়েছি।’

নিপার বিশ্বরেকর্ডের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে, করোনা মহামারির সময়। এক হাতে এক মিনিটে ৭১টি কয়েন দিয়ে টাওয়ার তৈরি করে ইতালির সিলভিও সাব্বার গড়া রেকর্ড ভেঙে প্রথমবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখান তিনি। এরপর ২০২৪ সালে চপস্টিক দিয়ে এক মিনিটে ২৭টি ভাতের দানা মুখে তুলে দ্বিতীয়বার বিশ্বরেকর্ড গড়েন।

তিনি বলেন, ‘এক মিনিটে ২৫টি ভাতের দানা খেয়ে ইতালির এক নাগরিক গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করেছিলেন। আমি এক মিনিটে ২৭টি ভাত খেয়ে তার সেই রেকর্ড ভেঙেছি। আমি ছাড়া আট বছরের মধ্যে আর কেউ ওই রেকর্ড ভাঙতে পারেনি। গত বছরের মার্চ মাসে রেকর্ডটি করি। পরে যাচাই-বাছাই শেষে তারা সম্প্রতি আমাকে সার্টিফিকেট দিয়েছে।’

দ্বিতীয় রেকর্ডটি অর্জনের পেছনের গল্পটাও কম কঠিন নয়। নিপা বলেন, ‘চপস্টিক দিয়ে এক মিনিটে ২৭টি ভাতের দানা খাওয়ার রেকর্ড করতে টানা দুই বছর অনুশীলন করতে হয়েছে। চেষ্টা আর ভালো কিছু করার ইচ্ছা ও অধ্যবসায় থাকলে অনেক কঠিন কাজও সম্ভব।’
বরিশাল নগরীর দক্ষিণ সাগরদী এলাকার আব্দুর রশিদ ও মোসাম্মৎ পারভীনের মেয়ে নুসরাত জাহান নিপা। এআরএস স্কুল থেকে মাধ্যমিক, সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের রসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা করছেন। তার স্বামী কাজী শামসুজ্জামান মন্টি একজন ব্যাংক কর্মকর্তা।

নিপা জানান, খেলাধুলার প্রতি ছোটবেলা থেকেই ছিল আগ্রহ। কিন্তু বরিশালে মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও অনুকূল পরিবেশ না থাকায় ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর দিকে কিছুটা ঝুঁকে পড়েন। তিনি বলেন, ‘গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ভিডিও দেখে ঘরে বসেই অনুশীলন শুরু করি। এ কাজে আমাকে সবচেয়ে বেশি সাহস জুগিয়েছেন আমার স্বামী শামসুজ্জামান মন্টি। প্রতিটি চেষ্টায় তিনি সরাসরি সহযোগিতা করেছেন। তার সহযোগিতা না থাকলে হয়তো তিনবার গিনেস রেকর্ড করা সম্ভব হতো না। এ জন্য আমি তার প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।’

তিনি বলেন, ‘সাফল্যের এই পথ অবশ্য একেবারেই বাধাহীন ছিল না। প্রথম রেকর্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের কটূক্তি ও বিদ্রূপের মুখোমুখি হয়েছি। কিন্তু সেসব উপেক্ষা করেই এগিয়ে চলেছি। অনেকেই আমাকে হেয় করে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু আমি সেদিকে মনোযোগ দিইনি। নিজের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়েছি, নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছি। আজ তার ফল পেয়েছি। ভবিষ্যতেও নতুন কিছু করে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ ও আমার জন্মস্থান বরিশালকে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।’ পরবর্তী রেকর্ড কী নিয়ে এ প্রশ্নের জবাবে রহস্য রেখেই মুচকি হেসে বলেন,‘দেখা যাক!’

নিপার স্বামী কাজী শামসুজ্জামান মন্টি বলেন, ‘করোনার সময় নিপা কয়েন দিয়ে টাওয়ার তৈরি করে প্রথমবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখান। এরপর চপস্টিক দিয়ে এক মিনিটে ২৭টি ভাতের দানা খেয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বরেকর্ড গড়েন। এবার দ্রুততম সময়ে কাগজের স্নো-ফ্লেক তৈরি করে তৃতীয়বারও গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা করে নিয়েছেন। এতে আমরা খুব আনন্দিত। ভবিষ্যতেও তার প্রতিটি উদ্যোগে আগের মতোই পাশে থাকব।’

বরিশালের তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জিহাদ রানা বলেন, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রকাশিত তথ্য ও অন্যান্য উন্মুক্ত অনলাইন তথ্যভান্ডার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাংলাদেশের অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান গিনেস রেকর্ড অর্জন করলেও নুসরাত জাহান নিপা ছাড়া অন্য কোনো বাংলাদেশি নারী তিনবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখাননি।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে একাধিকবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানো বাংলাদেশিদের মধ্যে ফ্রিস্টাইল ফুটবলার কনক কর্মকার ১৫টি রেকর্ড নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন। নুসরাত জাহান নিপার নামে রয়েছে তিনটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। কয়েন স্ট্যাকিংয়ের ব্যক্তিগত ও দলগত বিভাগে আবদুল্লাহ আল নোমান অন্তত তিনটি রেকর্ড অর্জন করেছেন। মাগুরার মাহমুদুল হাসান দুটি রেকর্ড গড়েছেন ফুটবল ও বাস্কেটবল আর্ম রোল বিভাগে। এ ছাড়া রাসেল ইসলাম, জোবেরা রহমান লিনু এবং আশিক চৌধুরী একটি করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের অধিকারী।

তবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তালিকা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত ও হালনাগাদ হয়। তাই এখানে শুধু যাচাইযোগ্য ব্যক্তিগত রেকর্ডগুলোই উল্লেখ করা হয়েছে; দলগত বা প্রাতিষ্ঠানিক রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে চুক্তি করল ইন্দোনেশিয়া-ভারত

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে চুক্তি করল ইন্দোনেশিয়া-ভারত
প্রদর্শনীতে ব্রক্ষস ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে একমত হওয়ার পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়াকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে ভারত।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুই দেশের নেতাদের বৈঠকের পর ভারতের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাকার্তায় অবস্থানরত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আতিথ্য দিচ্ছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো। সফরের আলোচ্যসূচির শীর্ষে ছিল ভারতের তৈরি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে চুক্তি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, সফরকালে ‘ব্রহ্মোস সিস্টেমে সহযোগিতা’ বিষয়ক একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুই দেশ আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র (এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল) সহযোগিতা বিষয়েও একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে, যা ‘প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে’।

তবে এসব চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধেরও জবাব দেয়নি ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রবোওর সঙ্গে বৈঠকের পর মোদি বলেন, জাকার্তা ও নয়াদিল্লির মধ্যে ‘ক্রমবর্ধমান পারস্পরিক আস্থা’ প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক বিষয়ক সহযোগিতার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করেছে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ আমরা প্রতিরক্ষা বিনিময়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং শিল্পখাতে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হয়েছি।’

মোদি জানান, ভারত মহাসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দুই দেশের কোস্টগার্ডও একযোগে কাজ করবে।

এশিয়ার দুই বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ, যার বিপুল মজুত রয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়, এবং ইস্পাত শিল্পেও যৌথভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।

মোদি বলেন, ‘স্টেইনলেস স্টিল ও বিরল মৃত্তিকা (রেয়ার আর্থ) চুম্বক উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমাদের দুই দেশের কোম্পানিগুলোর মধ্যে নতুন অংশীদারিত্বের সূচনা হচ্ছে।’

প্রবোও বলেন, ইন্দোনেশিয়া ও ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে বিবেচনা করে।

তিনি জানান, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানো এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট) নিয়ে আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

এ ছাড়া, তারা উভয়েই মধ্য জাভার যোগ্যাকার্তায় অবস্থিত ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী প্রাম্বানান মন্দিরের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতিকে স্বাগত জানান। বুধবার তারা একসঙ্গে মন্দিরটি পরিদর্শন করবেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়া সফর শেষ করে মোদি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে যাবেন।

নাঈম/

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকির সতর্কবার্তা ব্রাজিলের

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকির সতর্কবার্তা ব্রাজিলের
ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরা। ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিলের দুটি বড় অপরাধী চক্রকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করায় দেশটিতে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকি বেড়েছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েইরা।

সোমবার (৬ জুলাই) কংগ্রেসে পাঠানো এক চিঠিতে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

গত মে মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র রেড কমান্ড (সিভি) ও ফার্স্ট ক্যাপিটাল কমান্ডকে (পিসিসি) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে নেওয়া এ পদক্ষেপে বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সরকার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়।

গত বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েইরা পাঠানো ওই চিঠিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা এই তালিকাভুক্তিকে ব্রাজিলের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বিশেষ করে আর্থিক, অভিবাসন এবং অপরাধ দমনসংক্রান্ত ক্ষেত্রে দেশের সীমানার বাইরে পদক্ষেপ নেওয়ার যৌক্তিকতা হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ছাড়া ব্রাজিলের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহারের ঝুঁকিও রয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্তির ঘোষণা দেওয়ার সময় সিভি ও পিসিসিকে ‘ব্রাজিলের সবচেয়ে সহিংস দুটি অপরাধী সংগঠন’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘তাদের প্রভাব ও অবৈধ নেটওয়ার্ক শুধু ব্রাজিলেই সীমাবদ্ধ নয়, তা পুরো অঞ্চলজুড়ে ও আমাদের দেশেও বিস্তৃত।’

ব্রাজিলে ডানপন্থি বিরোধীরা ওয়াশিংটনের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারকে অপরাধ দমনে নমনীয় থাকার অভিযোগ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ওয়াশিংটন মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সংগঠনকেও সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

শুল্ক ইস্যুতেও দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। কথিত অন্যায্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অভিযোগে তদন্তের পর ট্রাম্প প্রশাসন আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রাজিলের বিভিন্ন পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে ব্রাজিল সরকার আনীত এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সূত্র: এএফপি

আজহার/