উত্তর ইউরোপের গ্রীষ্ম যেন প্রকৃতির এক অনন্য উপহার। দীর্ঘ শীতের অবসান ঘটিয়ে জুলাই মাসের উজ্জ্বল রোদ, নির্মল আকাশ আর বাল্টিক সাগরের শীতল বাতাস মানুষের জীবনে নতুন প্রাণ এনে দেয়। সেই অপার সৌন্দর্যের মধ্যেই আমরা তিন বন্ধু সপরিবারে বেরিয়ে পড়ি এক অনন্য সমুদ্রভ্রমণে।
আমি জামান সরকার। সঙ্গে ছিলেন রুবেল ভুঁইয়া ও কামরুল হাসান জনি। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করি টালিংক সিলজা লাইনের বিলাসবহুল প্রমোদতরি ভিক্টোরিয়া ওয়ানে চড়ে।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় হেলসিংকি বন্দর ছেড়ে ধীরে ধীরে বাল্টিক সাগরের নীল জলরাশির বুকে এগিয়ে যায় ১২ তলাবিশিষ্ট এই ভাসমান প্রাসাদ। পরদিন বিকেল ৪টায় আবার হেলসিংকিতে ফিরে আসা পর্যন্ত প্রায় ২২ ঘণ্টার এই সমুদ্রযাত্রা আমাদের জন্য হয়ে ওঠে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
তিন বন্ধু, তিন পরিবার, তিনটি কেবিন
এই ভ্রমণে আমরা তিন বন্ধু নিজেদের পরিবার নিয়ে অংশ নিই। আমাদের জন্য জাহাজের ৯ম তলায় তিনটি পৃথক কেবিন বুক করা হয়েছিল।
আরামদায়ক, পরিচ্ছন্ন এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন কেবিনগুলো ছিল সমুদ্রের বুকে ছোট্ট এক শান্তির আশ্রয়। কেবিনের জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছিল বিস্তীর্ণ নীল জলরাশি, দূরের দ্বীপপুঞ্জ এবং সমুদ্রতীরের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
আমরা তিনজনই নিজস্ব গাড়ি নিয়ে এসেছিলাম। ভিক্টোরিয়া ওয়ানের সুবিশাল গাড়ি রাখার ডেকে নিরাপদে গাড়ি পার্ক করার ব্যবস্থা ছিল। প্রায় ৪০০টি গাড়ি বহনের সক্ষমতা রয়েছে জাহাজটির।
ভিক্টোরিয়া ওয়ান: সমুদ্রের বুকে এক ভাসমান নগরী
২০০৪ সালে নির্মিত ভিক্টোরিয়া ওয়ান আজও বাল্টিক সাগরের অন্যতম জনপ্রিয় প্রমোদতরি। জাহাজটি শুধু পরিবহনের মাধ্যম নয়, বরং এটি যেন সমুদ্রের বুকে গড়ে ওঠা একটি আধুনিক নগরী।
টালিংক সিলজা লাইনের ভিক্টোরিয়া ওয়ান জাহাজটির দৈর্ঘ্য ১৯৩ মিটার এবং প্রস্থ ২৯ মিটার। ১২ ডেকবিশিষ্ট জাহাজটিতে রয়েছে ৭৩৯টি কেবিন। এতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ যাত্রী ভ্রমণ করতে পারেন এবং শয্যা রয়েছে ২ হাজার ২৫০টিরও বেশি। পাশাপাশি জাহাজটিতে প্রায় ৪০০টি গাড়ি বহনের সক্ষমতা রয়েছে। জাহাজটি হেলসিংকি–তাল্লিন–হেলসিংকি রুটে চলাচল করে।
জাহাজটিতে রয়েছে আধুনিক আবাসন, আন্তর্জাতিক মানের রেস্তোরাঁ, কেনাকাটাকেন্দ্র, বিনোদনকেন্দ্র, নৈশক্লাব, শিশুদের খেলাধুলার স্থান এবং বিশ্রামের নানা ব্যবস্থা।
রাজকীয় খাবারের আয়োজন
ভিক্টোরিয়া ওয়ানের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল খাবারের বিপুল আয়োজন। জাহাজে রয়েছে ৮ থেকে ১০টি রেস্তোরাঁ, ক্যাফে, বার ও লাউঞ্জ। সন্ধ্যায় আমরা উপভোগ করি বিখ্যাত গ্র্যান্ড বুফে, যা সত্যিই ছিল রাজকীয়।
সেখানে ছিল সামুদ্রিক মাছ, স্যামন, গ্রিল করা মাংস, বিভিন্ন ধরনের পনির, তাজা ফলমূল, সালাদ, কেক, আইসক্রিম ও ডেজার্ট; পাশাপাশি ছিল ইউরোপীয় ও স্ক্যান্ডিনেভীয় বিশেষ খাবার।
প্রতিটি খাবারের পরিবেশনা ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও যত্নশীল।
পরদিন সকালে পরিবেশন করা হয় সমৃদ্ধ রয়্যাল ব্রেকফাস্ট। গরম কফি, ক্রসাঁ, রুটি, ডিম, ফল, জুস, পনির, সসেজ এবং নানান সুস্বাদু খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সাজানো সকালের টেবিল আমাদের ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করে তোলে।
সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সকালের নাশতা উপভোগ করা ছিল ভ্রমণের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা।
শুল্কমুক্ত দোকান: যেন ছোট্ট এক আন্তর্জাতিক বাজার
ভিক্টোরিয়া ওয়ানের বিশাল শুল্কমুক্ত দোকানটি যেন সমুদ্রের বুকে গড়ে ওঠা একটি ছোট আন্তর্জাতিক কেনাকাটাকেন্দ্র। এখানে পাওয়া যায় বিশ্বখ্যাত সুগন্ধি, প্রসাধনী, চকলেট, পোশাক, খেলনা, উপহারসামগ্রী, ফিনিশ ও এস্তোনীয় বিশেষ পণ্য এবং নানা ধরনের সামগ্রী।
ধুলোবালি, ইট-পাথরের দেয়াল আর অবিরাম যান্ত্রিক কোলাহলে যখন ঢাকার নাগরিক জীবন হাঁপিয়ে ওঠে, তখন মন ব্যাকুল হয়ে খোঁজে একটুখানি সবুজ, এক ফালি খোলা আকাশ আর শান্ত কোনো নদীর হাওয়া। কিন্তু কর্মব্যস্ত জীবনে ঢাকার বাইরে দূর-দূরান্তে যাওয়ার সময়-সুযোগ সব সময় হয়ে ওঠে না। এই যান্ত্রিকতার বৃত্ত ভেঙে ঢাকার খুব কাছেই যদি গ্রামীণ নীরবতা আর প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে চান, তবে কেরানীগঞ্জের ‘সারিঘাট’ হতে পারে আদর্শ এক গন্তব্য। দিগন্তজোড়া সবুজ, খালের শান্ত জল, সারিবদ্ধ গাছের মায়াবী ছায়া আর শরতের শুভ্র কাশফুলের সমারোহ—সব মিলিয়ে সারিঘাট যেন এক টুকরো নিটোল বাংলার প্রতিচ্ছবি। খুব কম খরচে এবং অল্প সময়ে ঢাকার বুকে একদিনের ভ্রমণের জন্য এটি বর্তমানে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি স্থান।

ভৌগোলিক দিক থেকে সারিঘাট ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। আরও সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, ঢাকার দক্ষিণ প্রান্তে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা হাসনাবাদের ‘বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রজেক্ট’ বা আবাসন প্রকল্পের ঠিক পেছনেই এই মনোরম স্থানটির অবস্থান। এটি মূলত ‘আইন্তা’ ও ‘আড়াকুল’ নামক দুটি শান্ত গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি প্রাকৃতিক খালের অংশবিশেষ। এই খালের পাড় ধরেই প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্রকৃতির আপন খেয়ালে ও স্থানীয় উদ্যোগে গড়ে উঠেছে এক নয়নকাড়া সবুজ পরিবেশ, যা পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
সারিঘাটের কোনো প্রাচীন বা রাজকীয় মোগল ইতিহাস নেই, তবে এর নামকরণের পেছনে রয়েছে এক দারুণ প্রাকৃতিক রূপ। মূল কেরানীগঞ্জ অঞ্চলের রয়েছে সুদীর্ঘ ঐতিহাসিক পটভূমি। মোগল আমলে নবাব শায়েস্তা খানের শাসনামলে তার কর্মচারীরা বা ‘কেরানী’রা বুড়িগঙ্গার ওপারে এসে বসবাস শুরু করায় এই অঞ্চলের নাম হয়েছিল কেরানীগঞ্জ। আবার ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরিবারকে কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা প্রাসাদে বন্দি রাখা হয়েছিল।

তবে আজকের এই ‘সারিঘাট’ সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারণে পরিচিত। আইন্তা এবং আড়াকুল গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের পাড় ধরে সারিবদ্ধভাবে অসংখ্য কড়ই ও নানাবিধ গাছ রোপণ করা হয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় গাছগুলো যেন দলবেঁধে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে খালের জল পাহারা দিচ্ছে। এই গাছের চমৎকার সারি এবং নৌকার ঘাটের মেলবন্ধনের কারণেই স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে এর নাম হয়ে যায় ‘সারিঘাট’। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ভ্রমণপিপাসুদের মাঝে একটি নান্দনিক বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে সারিঘাটে যাতায়াত করা বেশ সহজ এবং সাশ্রয়ী। নিচে সহজ কিছু রুট দেওয়া হলো–
যাত্রাবাড়ী বা পোস্তগোলা হয়ে: ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে প্রথমে আপনাকে যাত্রাবাড়ী অথবা জুরাইন রেলগেটে আসতে হবে। জুরাইন বা যাত্রাবাড়ী থেকে বাস, লেগুনা অথবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে চলে আসুন পোস্তগোলা ব্রিজের (বুড়িগঙ্গা প্রথম সেতু) ওপারে, অর্থাৎ হাসনাবাদ প্রান্তে। পোস্তগোলা ব্রিজ পার হওয়ার পর সেখানে সারিঘাট যাওয়ার জন্য সরাসরি লোকাল সিএনজি বা অটোরিকশা পাওয়া যায়, যার ভাড়া জনপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা।
রিজার্ভ সিএনজি বা বাইকে: আপনি যদি ঝামেলা এড়াতে চান, তবে জুরাইন রেলগেট বা পোস্তগোলা থেকে সরাসরি সিএনজি রিজার্ভ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এছাড়া নিজস্ব বাইক বা গাড়ি থাকলে হাসনাবাদ বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রজেক্টের রাস্তা ধরে সরাসরি সারিঘাট ব্রিজের গোড়ায় চলে যাওয়া যায়।

যান্ত্রিক ঢাকা থেকে মাত্র আধা ঘণ্টার দূরত্বে যে এমন এক শান্ত পরিবেশ লুকিয়ে আছে, তা সারিঘাটে না পৌঁছালে বিশ্বাস করা কঠিন। সারিঘাটের রাস্তায় পা রাখতেই চারপাশের শান্ত পরিবেশ আপনার মন ভালো করে দেবে। পিচঢালা সরু রাস্তার দুপাশে সারিবদ্ধ সবুজ গাছ মাথার ওপর ছাতার মতো ছায়া দিয়ে রাখে। খালের শান্ত জলে সূর্যের আলো ঝিকমিক করে।
এখানে এলে আপনি গ্রামীণ মাঝির মতো নৌকায় চড়ে বেড়াতে পারবেন। খালের মৃদু বাতাসে নৌকার ছইয়ের নিচে বসে কিংবা কায়াকিং করার অভিজ্ঞতা সত্যিই রোমাঞ্চকর। বিকেলে যখন সূর্য হেলে পড়ে, তখন পানির ওপর গোধূলির আলো এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে। ঢাকা শহরের কোলাহল ভুলে সবুজের মাঝে পাখির কিচিরমিচির শব্দে কাটানো একটি বিকেল আপনার মানসিক ক্লান্তি নিমেষেই দূর করে দেবে।
সারিঘাটে শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই নয়, ভ্রমণকারীদের মন ভরাতে রয়েছে নানা আয়োজন–
বৈকালিক নৌকা ভ্রমণ ও কায়াকিং: সারিঘাটের মূল প্রাণ হলো এখানকার খালের পানি। এখানে ঘণ্টা চুক্তি হিসেবে ছোট ছোট ডিঙি নৌকা ভাড়া পাওয়া যায়। বন্ধুদের নিয়ে বৈঠা বাওয়া বা মাঝির নৌকায় চিল করা দারুণ উপভোগ্য। এছাড়া ইদানীং তরুণদের মাঝে এখানে ‘কায়াকিং’ বা আধুনিক ক্যানো বোটিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
শরতের কাশবন: আপনি যদি শরৎকালে সারিঘাটে যান, তবে আপনার চোখ জুড়িয়ে যাবে। খালের দুপাশে এবং রিভারভিউ প্রজেক্টের খালি জমিতে দিগন্তজোড়া সাদা কাশবনের সমারোহ ঘটে। বাতাসে দোল খাওয়া সাদা মেঘের মতো কাশফুলের মাঝে ছবি তোলা ও হেঁটে বেড়ানোর অনুভূতি অন্যরকম।
স্ট্রিট ফুড ও বিখ্যাত চাপটি: ভ্রমণ মানেই তো খাওয়া-দাওয়া। সারিঘাটের আশপাশে এবং ঐতিহ্যবাহী ‘কাজিরগাঁও’ গ্রামে রয়েছে দারুণ সব খাবারের দোকান। বিশেষ করে এখানকার হরেক রকমের ভর্তা দিয়ে গরম গরম ‘চাপটি’ এবং পরশ ভাইয়ের বিশেষ চা অত্যন্ত বিখ্যাত। সারিঘাট থেকে মাত্র ২০ টাকা অটো ভাড়ায় কাজিরগাঁও গিয়ে এই স্বাদ নেওয়া যায়।

সারিঘাটে বছরের যেকোনো সময়ই যাওয়া যায়, তবে ঋতুভেদে এর রূপ বদলায়।
শরৎকাল (আগস্ট-অক্টোবর): সারিঘাট ভ্রমণের সেরা সময় হলো শরৎকাল। এই সময়ে চারপাশের কাশবনগুলো সাদা হয়ে ফোটে, যা এই জায়গার সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়: বর্ষাকালে খালের পানি টইটম্বুর থাকে, ফলে নৌকাভ্রমণ ও কায়াকিং করার সেরা আমেজ পাওয়া যায় চারপাশের সতেজ সবুজের মাঝে।
দিনের কোন সময়: দিনের তীব্র রোদে না গিয়ে বিকেল ৩টা বা ৪টার দিকে যাওয়া সবচেয়ে ভালো। এতে পড়ন্ত বিকেলের মিষ্টি রোদ, কাশবনের হাওয়া এবং সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য একসঙ্গে উপভোগ করা যায়।
যেকোনো পর্যটন স্থানে ভ্রমণের সময় কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি–
পানির ব্যাপারে সতর্কতা: খালের পানিতে নৌকাভ্রমণ বা কায়াকিং করার সময় সাবধানে থাকবেন। বিশেষ করে যারা সাঁতার জানেন না, তারা কায়াকিং করার সময় অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট পরবেন।
পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা: সারিঘাট আমাদের দেশের একটি সুন্দর প্রাকৃতিক সম্পদ। তাই সেখানে গিয়ে চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বোতল বা কোনো বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলে পরিবেশ দূষিত করবেন না।
সন্ধ্যা হওয়ার আগে ফেরা: সারিঘাট এলাকাটি বিকেলের জন্য চমৎকার হলেও সন্ধ্যার পর জায়গাটি বেশ নিরিবিলি হয়ে যায়। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে অন্ধকার হওয়ার আগেই মূল সড়কের উদ্দেশে রওনা হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
অতিরিক্ত খরচ এড়াতে দরদাম: নৌকা ভাড়া করা বা কাজিরগাঁওয়ে চাপটি খাওয়ার সময় আগে থেকেই দাম জেনে নেওয়া ভালো, যাতে অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়তে না হয়।

ব্যস্ত নাগরিক জীবনে আমাদের ফুসফুস যখন একটু বিশুদ্ধ বাতাসের জন্য ছটফট করে, তখন সারিঘাটের মতো জায়গাগুলো আমাদের নতুন করে বাঁচতে শেখায়। মাত্র ১০০ থেকে ২০০ টাকা বাজেটের মধ্যে ঢাকার এত কাছে গ্রামীণ আবহ, শান্ত নদী আর প্রকৃতির এমন নিখাদ মেলবন্ধন সত্যিই দুর্লভ। তাই আগামী সপ্তাহের যেকোনো ছুটির দিনে পরিবার বা বন্ধুদের দলবল নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন কেরানীগঞ্জের এই চমৎকার সারিঘাট থেকে। প্রকৃতির এই সান্নিধ্য আপনার কর্মব্যস্ত জীবনে ফিরিয়ে আনবে এক নতুন উদ্দীপনা।
বান্দরবানের কয়েকটি এলাকায় পর্যটকদের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির তথ্যকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে জেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস এম হাসান।
তিনি জানান, জনগণের বিভ্রান্তি দূর করতে এ বিষয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বান্দরবানের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক একটি বিজ্ঞপ্তি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। এটি ভুয়া ও ভিত্তিহীন।
জনসাধারণকে এই ভুয়া বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
গত রবিবার বান্দরবান জেলা প্রশাসনের পক্ষে স্থানীয় সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা শাখার সহকারী কমিশনার মো. সাজ্জাদ হোসেনের সই করা একটি গণবিজ্ঞপ্তি দেখা যায় ফেসবুকে।
এতে নিরাপত্তাজনিত কারণে দেখিয়ে কয়েকটি এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারির কথা জানানো হয়।
এই ভুয়া বিজ্ঞপ্তি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনসাধারণ ও পর্যটকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
অমিয়/
ফিনল্যান্ডে গ্রীষ্মের সবচেয়ে বড় উৎসবের নাম জুহান্নুস (Juhannus), যা ইংরেজিতে Midsummer নামে পরিচিত। প্রতিবছর জুন মাসের শেষভাগে পালিত এই উৎসব শুধু একটি ছুটির দিন নয়, বরং এটি ফিনিশ সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও পারিবারিক জীবনের এক অনন্য মিলনমেলা। অনেকের মতে, বড়দিনের পর এটিই ফিনল্যান্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব।
২০২৬ সালে জুহান্নুস ইভ বা Midsummer Eve পালিত হচ্ছে ১৯ জুন শুক্রবার এবং মূল জুহান্নুস দিবস ২০ জুন শনিবার। এই সময়টিকে ফিনল্যান্ডে গ্রীষ্মের আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে ধরা হয়।
শহর ফাঁকা, মানুষ প্রকৃতির কাছে
জুহান্নুসের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো, এই সময়ে দেশের বড় বড় শহরগুলো প্রায় জনশূন্য হয়ে যায়। রাজধানী Helsinki-সহ বিভিন্ন শহর থেকে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে যায় গ্রামের বাড়ি, হ্রদের তীর, বনাঞ্চল কিংবা গ্রীষ্মকালীন কটেজে। রাস্তাঘাট, অফিস, এমনকি অনেক দোকানপাটও বন্ধ বা সীমিত সময়ের জন্য খোলা থাকে।
বাংলাদেশে ঈদ বা পহেলা বৈশাখ যেমন জাতীয় আবেগের উৎসব, ফিনল্যান্ডে জুহান্নুসের গুরুত্ব অনেকটা তেমনই।
আগুন, হ্রদ আর মধ্যরাতের সূর্য
জুহান্নুসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ঐতিহ্য হলো জুহান্নুস কোক্কো (Juhannuskokko) বা বিশাল অগ্নিকুণ্ড। হ্রদ কিংবা সমুদ্রের তীরে কাঠের স্তূপ জ্বালিয়ে রাতভর উৎসব চলে। পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীরা একত্রিত হয়ে গান, আড্ডা এবং খাবারের মাধ্যমে আনন্দ উদযাপন করেন।
ফিনল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে এ সময় সূর্য প্রায় অস্ত যায় না। রাত ১২টার পরও আকাশে আলো থাকে। এই মিডনাইট সান বা মধ্যরাতের সূর্য দেখতে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের ভিড় জমে। দক্ষিণ ফিনল্যান্ডেও রাত পুরোপুরি অন্ধকার হয় না।
সাউনা ছাড়া উৎসব অসম্পূর্ণ
ফিনিশদের কাছে সাউনা শুধু বিনোদন নয়, এটি জীবনযাত্রার অংশ। জুহান্নুসের সময় পরিবারের সবাই একসঙ্গে সাউনায় যান। এরপর ঠান্ডা হ্রদের পানিতে ঝাঁপ দেওয়া কিংবা সাঁতার কাটা যেন উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
অনেক পরিবার ঐতিহ্যবাহী ফিনিশ খাবার, গ্রিল করা মাছ, সসেজ এবং নতুন আলু দিয়ে উৎসবের ভোজের আয়োজন করে।
শত শত বছরের ঐতিহ্য
জুহান্নুসের ইতিহাস বহু পুরোনো। খ্রিস্টধর্ম আগমনের আগে এটি ছিল গ্রীষ্মকালীন অয়ন বা Summer Solstice উদযাপনের উৎসব। পরে এটি সেন্ট জন দ্য ব্যাপটিস্টের স্মরণে "জুহান্নুস" নামে পরিচিতি পায়। তবুও প্রকৃতি, আলো এবং উর্বরতার সঙ্গে সম্পর্কিত বহু প্রাচীন লোকজ ঐতিহ্য এখনও টিকে আছে।
হেলসিংকিতেও উৎসবের আমেজ
যদিও অধিকাংশ মানুষ শহর ছেড়ে চলে যান, তবুও হেলসিংকির Seurasaari Open-Air Museum এলাকায় ঐতিহ্যবাহী জুহান্নুস উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। লোকসংগীত, লোকনৃত্য, ঐতিহ্যবাহী পোশাক এবং বিশাল অগ্নিকুণ্ড দেখতে হাজারো মানুষ সেখানে জড়ো হন। এই অনুষ্ঠান ১৯৫৬ সাল থেকে রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় গ্রীষ্মকালীন ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
অন্য দেশেও মিডসামার আছে, তবে ফিনল্যান্ড আলাদা
উত্তর ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে মিডসামার উদযাপিত হলেও ফিনল্যান্ডে এর ব্যাপ্তি এবং আবেগ ভিন্ন মাত্রার। পুরো জাতি যেন একসঙ্গে প্রকৃতির কাছে ফিরে যায়। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জীবন থেকে সাময়িক মুক্তি নিয়ে মানুষ পরিবার, বন্ধু, বন, হ্রদ এবং অসীম আলোর মাঝে কয়েকটি দিন কাটায়।
এই উৎসব তাই শুধু একটি ছুটির দিন নয়, বরং ফিনিশ জাতিসত্তা, প্রকৃতিপ্রেম এবং পারিবারিক বন্ধনের এক জীবন্ত প্রতীক।
জামান সরকার/তামান্না রুপা/
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা উঠলেই পাহাড়, ঝর্ণা, সমুদ্র কিংবা হাওরের কথা বেশি শোনা যায়। তবে প্রকৃতির নিভৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বাওয়াছড়া লেক হতে পারে একটি চমৎকার গন্তব্য। পাহাড়ঘেরা শান্ত পরিবেশ, সবুজ বনভূমি এবং নীলাভ জলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই লেক প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক অনন্য আকর্ষণ। শহরের কোলাহল থেকে দূরে কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও প্রকৃতির সান্নিধ্যে হারিয়ে যেতে চাইলে বাওয়াছড়া লেক হতে পারে আদর্শ ভ্রমণস্থল।
বাওয়াছড়া লেকের ইতিহাস
বাওয়াছড়া লেক মূলত একটি কৃত্রিম জলাধার। স্থানীয় মানুষের সেচ সুবিধা এবং পানি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এটি তৈরি করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লেকটির চারপাশে গড়ে ওঠে ঘন সবুজ বনভূমি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে এটি ধীরে ধীরে পর্যটকদের কাছে পরিচিতি লাভ করে।
বর্তমানে বাওয়াছড়া লেক শুধু একটি জলাধার নয়, বরং মিরসরাই অঞ্চলের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের কাছে এটি দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত থাকলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভ্রমণপ্রেমীদের মাধ্যমে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

কোথায় অবস্থিত
বাওয়াছড়া লেক চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন এলাকায় অবস্থিত। এটি মূলত বাওয়াছড়া ইকোপার্ক ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত একটি মনোরম জলাধার। চারপাশে পাহাড়, বন আর নীরব পরিবেশ লেকটিকে দিয়েছে আলাদা সৌন্দর্য।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে খুব বেশি দূরে নয় বলে এখানে যাতায়াত তুলনামূলক সহজ। ফলে একদিনের ভ্রমণের জন্যও অনেক পর্যটক এই স্থানটি বেছে নেন।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে যেতে চাইলে প্রথমে চট্টগ্রামমুখী বাসে করে মিরসরাই পৌঁছাতে হবে। ঢাকা থেকে মিরসরাই যেতে সাধারণত চার থেকে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে, যা যানজটের ওপর নির্ভর করে।
মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া বা বারইয়ারহাট এলাকায় নেমে স্থানীয় সিএনজি অটোরিকশা, রিকশা কিংবা মোটরসাইকেলে করে বাওয়াছড়া লেকের দিকে যাওয়া যায়। চট্টগ্রাম শহর থেকেও বাস বা স্থানীয় পরিবহনে মিরসরাই এসে একইভাবে লেকে পৌঁছানো সম্ভব।
নিজস্ব গাড়ি নিয়ে গেলে যাত্রা আরও সুবিধাজনক হয়। তবে শেষ অংশে কিছু কাঁচা ও সরু রাস্তা থাকতে পারে, তাই সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানো প্রয়োজন।

ভ্রমণ অভিজ্ঞতা
বাওয়াছড়া লেকে পৌঁছানোর আগেই ভ্রমণপিপাসুদের মন ভালো হয়ে যেতে শুরু করে। মিরসরাইয়ের গ্রামীণ পথ ধরে এগোতে এগোতে চারপাশে চোখে পড়ে সবুজ গাছপালা, ছোট ছোট পাহাড় এবং প্রকৃতির শান্ত পরিবেশ। শহরের ব্যস্ততা, যানজট আর কোলাহল পেছনে ফেলে যখন লেকের কাছে পৌঁছাবেন, তখনই অনুভব করবেন এক অন্যরকম প্রশান্তি। দূর থেকে নীলাভ জলরাশি আর সবুজ পাহাড়ের মিলন যেন চোখের সামনে একটি জীবন্ত ছবির মতো ধরা দেয়।
লেকের তীরে দাঁড়ালে প্রথমেই মন ভরে যায় নির্মল সৌন্দর্যে। বিশাল জলরাশির ওপর আকাশের নীল রং এবং আশপাশের পাহাড়ের ছায়া পড়ে এক অপূর্ব দৃশ্য তৈরি করে। হালকা বাতাস মুখে এসে লাগলে মনে হবে প্রকৃতি যেন আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছে। চারদিকে এতটাই নীরব থাকে যে ঝিঁঝিঁর ডাক, বাতাসে পাতার মৃদু শব্দ কিংবা দূরের কোনো অচেনা পাখির সুরও স্পষ্ট শোনা যায়।
ভোরবেলা বা বিকেলের দিকে লেকের সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি উপভোগ করা যায়। সূর্যের কোমল আলো যখন পানির ওপর পড়ে ঝিলমিল করে, তখন পুরো পরিবেশ আরও মোহময় হয়ে ওঠে। যারা ফটোগ্রাফি করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান। লেকের বিভিন্ন কোণ থেকে ছবি তুললে প্রতিটি ছবিই যেন পোস্টকার্ডের মতো সুন্দর দেখায়।

বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কিছু নিরিবিলি সময় কাটানো কিংবা একা বসে প্রকৃতিকে অনুভব করার জন্য বাওয়াছড়া লেক একটি চমৎকার জায়গা। এখানে বসে অনেকেই বই পড়েন, প্রকৃতির ছবি আঁকেন বা শুধু নীরবে চারপাশের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। পাহাড়, বন আর জলরাশির সম্মিলিত দৃশ্য মনকে সতেজ করে তোলে এবং মানসিক ক্লান্তি অনেকটাই দূর করে দেয়।
বিশেষ করে যারা প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে ভালোবাসেন, তাদের কাছে বাওয়াছড়া লেকের ভ্রমণ হবে স্মরণীয় এক অভিজ্ঞতা। দিনের শেষে যখন ফিরে আসবেন, তখনো লেকের শান্ত পরিবেশ, পাহাড়ের সবুজ রং আর জলের সৌন্দর্য দীর্ঘদিন ধরে স্মৃতিতে ভাসতে থাকবে।
কখন গেলে সবচেয়ে ভালো
বাওয়াছড়া লেক ভ্রমণের জন্য অক্টোবর থেকে মার্চ মাস সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এ সময় আবহাওয়া তুলনামূলক শীতল ও আরামদায়ক থাকে। আকাশ পরিষ্কার থাকায় লেক এবং আশপাশের পাহাড়ের সৌন্দর্যও ভালোভাবে উপভোগ করা যায়। তবে চাইলে বছরের অন্যান্য সময়েও যাওয়া যায়।
বর্ষাকালেও লেকের সৌন্দর্য বেড়ে যায়। চারপাশের পাহাড় ও বন আরও সবুজ হয়ে ওঠে এবং লেকে পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তবে অতিবৃষ্টি হলে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যেতে পারে, তাই বর্ষাকালে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

কী কী সঙ্গে নেবেন
ভ্রমণে বের হওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানীয়, হালকা খাবার, ক্যাপ, সানস্ক্রিন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখা ভালো। মোবাইল ফোন ও ক্যামেরার জন্য পাওয়ার ব্যাংকও কাজে আসতে পারে। যদি দীর্ঘ সময় অবস্থান করার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে অতিরিক্ত পোশাক ও একটি ছোট ব্যাগ সঙ্গে রাখা সুবিধাজনক হবে।
ভ্রমণের সময় সতর্কতা
প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। লেকের গভীর অংশে অযথা নামা উচিত নয়। সঙ্গে শিশু থাকলে তাদের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবে।
বর্ষাকালে পাহাড়ি পথ পিচ্ছিল থাকতে পারে, তাই ভালো গ্রিপযুক্ত জুতা ব্যবহার করা উচিত। বনের মধ্যে প্রবেশ করলে নির্ধারিত পথ অনুসরণ করা ভালো।
এছাড়া প্লাস্টিক, বোতল কিংবা অন্যান্য আবর্জনা যেখানে-সেখানে না ফেলে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও পর্যটকদের।
আশপাশের দর্শনীয় স্থান
বাওয়াছড়া লেকে ভ্রমণের পাশাপাশি মিরসরাইয়ের আরও কয়েকটি জনপ্রিয় স্থান ঘুরে দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে বাওয়াছড়া ইকোপার্ক, খৈয়াছড়া ঝর্ণা, নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা এবং মহামায়া লেক। সময় নিয়ে পরিকল্পনা করলে একই সফরে এসব স্থানও উপভোগ করা সম্ভব। বিশেষ করে মহামায়া লেক ও খৈয়াছড়া ঝর্ণা দেশের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকৃতিনির্ভর পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিত।