ঢাকা ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে সব রেফারিই আর্জেন্টিনার চাঁদপুর যুব মহিলা লীগের সভাপতি ফরিদা গ্রেপ্তার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটেও ট্রেন চলাচল বাতিল পশ্চিমবঙ্গে ১১ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ-হত্যার আসামিকে এনকাউন্টার হালান্ডের প্রশংসায় পঞ্চমুখ নরওয়ে কোচ সলবাকেন আইডিয়া ছড়িয়ে দেওয়ার ৬টি কৌশল রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের ভিএআর বিতর্ক: মিশরকে কি ‘ডাকাতি’ করল আর্জেন্টিনা? চাকরি হারানো ১৬২ সৈনিক পাচ্ছেন ভূতাপেক্ষ সুযোগ সুবিধা নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারে পর্যবেক্ষকদের সুপারিশকে গুরুত্ব দেবে ইসি সমন্বয় ও নিঃসরণ অধ্যায়ের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান বাঁশখালীতে ভারি বর্ষণে জলাবদ্ধতা, পানিবন্দি প্রায় অর্ধ লাখ মানুষ রাজধানীতে ডিএমপির সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৩২ মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাইফুল গুলিবিদ্ধ পাহাড় উজাড় ও বিরূপ আবহাওয়ায় সংকটে আলীকদমের মৌচাষিরা ভারী বর্ষণে চবির সব ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত দেশের সব সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বাহুবলে দুই যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ২০ মিসরের গোল বাতিলে যা বললেন সাবেক রেফারি মানবপাচার রোধে বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক ভিএআর সমালোচনায় সাবেক ফুটবলার, কোচ ও বিশ্লেষক পাকিস্তানের কার্গো বিমান নিখোঁজ খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ ইতালিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মাদারীপুরের যুবকের মৃত্যু টুয়েলভ ক্লদিংয়ে চলছে ইনস্ট্যান্ট ভাউচার হুমকিতে সিরিয়া, ম্যাক্রোঁর দামেস্ক সফরকালীন হামলার নেপথ্যে কারা? ইরানে নতুন করে হামলা জরুরি ছিল: ন্যাটোপ্রধান মিসরীয় কোচের ফিফার বর্ণবাদ-বিরোধী অঙ্গভঙ্গি ভারতে পাচারের শিকারদের জন্য বেনাপোলে চালু হলো হাফওয়ে শেল্টার হোম মেসির পেনাল্টি আটকে দেওয়া কে এই গোলরক্ষক? ৮ জুলাই মুদ্রা বাজার: বেড়েছে কানাডিয়ান ডলার, ইন্ডিয়ান রুপির দাম

ইরানে নতুন করে হামলা জরুরি ছিল: ন্যাটোপ্রধান

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
ইরানে নতুন করে হামলা জরুরি ছিল: ন্যাটোপ্রধান
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ওপর নতুন হামলা একান্তই জরুরি ছিল, বলেছেন ন্যাটোপ্রধান মার্ক রুটে।

ন্যাটো মহাসচিবের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, ‘ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা ছিল একান্তই জরুরি।’ 

রুটে সাংবাদিকদের বলেন, ‘যখন যুদ্ধবিরতি থাকে এবং ইরান মূলত সেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে, তখন আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখানোটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

আজহার/

পশ্চিমবঙ্গে ১১ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ-হত্যার আসামিকে এনকাউন্টার

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:২৬ পিএম
পশ্চিমবঙ্গে ১১ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ-হত্যার আসামিকে এনকাউন্টার
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতার বারুইপুরে পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়েছেন ১১ বছর বয়সি কিশোরীর ধর্ষণ-হত্যা ঘটনার অন্যতম সন্দেহভাজন প্রভাস মণ্ডল।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে অপরাধ পুনর্গঠনের জন্য প্রভাস মণ্ডলকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন তিনি পুলিশের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে এ ঘটনা ঘটে।

বারুইপুরের একটি পুকুর থেকে বস্তার মধ্যে থেকে মেয়েটির মরদেহ উদ্ধারের পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। প্রভাস মণ্ডল তাদের মধ্যে একজন। বাকি দুজন হলো আনন্দ সর্দার এবং দিবাকর সর্দার। তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে। চতুর্থ অভিযুক্ত কবির মোল্লাকে সোমবার বসিরহাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রবিবার মেয়েটির মরদেহ উদ্ধারের পর দক্ষিণের শহরগুলোতে সহিংস বিক্ষোভের ঢেউ ওঠে এবং ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা রেললাইন ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সহিংস বিক্ষোভে উসকানি দেওয়ার জন্য ২০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। একজনকেও ছাড় দেওয়া হবে না। সরকার তাদের উপযুক্ত শিক্ষা দেবে।’

তিনি জানান, রাজ্যে নারীদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করতে জেলার সমস্ত থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি পুলিশ মহাপরিচালক সিদ্ধনাথ গুপ্তকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনা এবং তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন।

যদিও প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মণ্ডলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মেয়েটিকে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়ার, যেখানে অন্য দুই সন্দেহভাজন আগে থেকেই ছিল। অপরাধের পর, তারা মেয়েটিকে একটি বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেয়। 

ময়নাতদন্তে জানা গেছে, পুকুরে ফেলে দেওয়ার সময় সে জীবিত ছিল, কারণ তার ফুসফুসে জল পাওয়া গিয়েছিল। 

থিওটোনিয়াস/

পাকিস্তানের কার্গো বিমান নিখোঁজ

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
পাকিস্তানের কার্গো বিমান নিখোঁজ
নিখোঁজ কার্গো বিমান। ছবি: ডন

পাকিস্তানের করাচি উপকূলের অদূরে আরব সাগরের ওপর থেকে পাঁচ আরোহীসহ একটি বোয়িং ৭৩৭ কার্গো বিমান নিখোঁজ হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা একটি কার্গো বিমান মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাতে পাকিস্তানের করাচি বন্দরের কাছে দ্রুত নিচে নামার পর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে পাঁচজন ক্রু সদস্যসহ বিমানটি নিখোঁজ হয়।

ঘটনার পর পরই পাকিস্তান নৌবাহিনী এবং কোস্টগার্ড সাগরে ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে।

উদ্বেগজনক এই ঘটনার পর করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ  জানিয়েছে, বিমানটিতে কতজন ক্রু বা আরোহী ছিলেন এবং এটি কী ধরনের মালামাল বহন করছিল, তা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রাথমিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে পাইলটের পক্ষ থেকে একটি বিপদের সংকেত  পাঠানো হয়েছিল, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে বিমানটি কোনো বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির মুখে পড়েছিল।

তবে করাচি উপকূলের বর্তমান বৈরী আবহাওয়া এবং সাগরের উত্তাল পরিস্থিতির কারণেও এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিমানটির সর্বশেষ অবস্থান চিহ্নিত করে নৌবাহিনীর বিশেষ জাহাজ এবং হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। সাগরে কোনো ধ্বংসাবশেষ বা লাইফ-জ্যাকেট ভাসছে কি না, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তবে রাত নেমে আসা এবং সমুদ্রের তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

বিমানটির নিখোঁজ হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং এর আরোহীদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সূত্র: ডন

আজহার/

হুমকিতে সিরিয়া, ম্যাক্রোঁর দামেস্ক সফরকালীন হামলার নেপথ্যে কারা?

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
হুমকিতে সিরিয়া, ম্যাক্রোঁর দামেস্ক সফরকালীন হামলার নেপথ্যে কারা?
ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ার সাবেক শাসক বাশার আল-আসাদের পতনের দুই বছর পরও স্থিতিশীলতা ফেরেনি দেশটিতে। নতুন ও পুরোনো হুমকির মুখে দেশটির বর্তমান আহমেদ আল-শারা সরকার যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই নতুন করে কেঁপে উঠল রাজধানী দামেস্ক।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর দামেস্ক সফরের সময় এসব বিস্ফোরণ ঘটে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর ম্যাক্রোঁই প্রথম ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কোনো নেতা, যিনি সিরিয়া সফর করছেন।

হোটেলের কাছেই বিস্ফোরণ

দামেস্কের উমাইয়া মসজিদে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে ম্যাক্রোঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় এ হামলা চালানো হয়।

জানা গেছে, ফরাসি প্রেসিডেন্টের হোটেলের কাছে নিরাপত্তাবাহিনী একটি দূরনিয়ন্ত্রিত বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় সেটি বিস্ফোরিত হয়। এর কয়েক মিনিট পরেই ঘটে দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি। 

সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, মঙ্গলবারের এ হামলায় অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। গত সপ্তাহেও দামেস্কের একটি ক্যাফেতে বোমা বিস্ফোরণে ৯ জন নিহত হন।

হামলার নেপথ্যে কারা?

এখনও কোনো গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে বিশ্লেষকদের সন্দেহ আইএসআইএল (আইএসআইএস) এর দিকে। সিরিয়া ও ইরাকে এই গোষ্ঠীর অন্তত তিন হাজার সক্রিয় জঙ্গী রয়েছে।

থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘সেঞ্চুরি ইন্টারন্যাশনাল’ এর ফেলো অ্যারন লুন্ড বলেন, ‘সরকার যখন স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে এনে বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটন আকর্ষণের চেষ্টা করছে, তখন রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই হামলাগুলো চরম বিপর্যয় নিয়ে আসছে।’

ত্রিভুজ চ্যালেঞ্জের মুখে আল-শারা সরকার

ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র বিশ্লেষক নানার হাওয়াচের জানান, বর্তমান সরকারের সামনে প্রধানত তিনটি রয়েছে। প্রথমত; দেশের অভ্যন্তর থেকে অতর্কিত হামলা চালিয়ে নতুন শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে আইএসআইএল সেল।

দ্বিতীয়ত; সাবেক শাসক বাশার আল-আসাদের অনুগত বাহিনী এবং ইরানের মদদপুষ্ট শিয়া মিলিশিয়ারা অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। সম্প্রতি আসাদের ধনকুবের চাচাতো ভাই রামি মাখলুফ মস্কো থেকে আলাওয়াইট বন্দীদের মুক্তির দাবি জানিয়ে দামেস্ক সরকারকে হুমকি দিয়েছেন। 

তৃতীয়ত, দক্ষিণ সীমান্ত ও ড্রুজ-সংখ্যাগরিষ্ঠ সুওয়াইদা অঞ্চলে সরকারি নিয়ন্ত্রণ সবচেয়ে দুর্বল। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সেখানে ড্রুজ ও বেদুইনদের লড়াইয়ে ইসরায়েল ড্রুজদের পক্ষে সামরিক হস্তক্ষেপ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।

সবচেয়ে বড় হুমকি ‘ভেতর’ থেকেই

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেন, আল-শারার জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা আসতে পারে তার সাবেক সহযোগী ও রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে। আসাদকে হঠাতে আল-শারা কট্টরপন্থি 'হায়াত তাহরির আল-শাম'সহ (এইচটিএস) বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর নির্ভর করেছিলেন।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় বিদেশি বিনিয়োগের পথ সুগম হলেও, তা আল-শারার কট্টরপন্থি সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করেছে।

নিউ লাইনস ইনস্টিটিউটের ক্যারোলিন রোজ জানান, আল-শারা যদি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং মধ্যপন্থি নীতি অবলম্বন করেন, তবে তার মূল সমর্থক গোষ্ঠী এবং সাবেক এইচটিএস চক্রের ভেতরে থাকা অংশটিই বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিদ্রোহ গড়ে তুলতে পারে।

এ ছাড়াও ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি ও উচ্চ বেকারত্বের বাজারে এই অভ্যন্তরীণ ফাটল সিরিয়াকে নতুন কোনো গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

থিওটোনিয়াস/

ইরানে নতুন করে হামলা জরুরি ছিল: ন্যাটোপ্রধান

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
ইরানে নতুন করে হামলা জরুরি ছিল: ন্যাটোপ্রধান
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ওপর নতুন হামলা একান্তই জরুরি ছিল, বলেছেন ন্যাটোপ্রধান মার্ক রুটে।

ন্যাটো মহাসচিবের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, ‘ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা ছিল একান্তই জরুরি।’ 

রুটে সাংবাদিকদের বলেন, ‘যখন যুদ্ধবিরতি থাকে এবং ইরান মূলত সেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে, তখন আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখানোটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

আজহার/

মার্কিন-ইরান সংঘাতে আফ্রিকার ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের হাওয়া

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৩১ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
মার্কিন-ইরান সংঘাতে আফ্রিকার ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের হাওয়া
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাতের রেশ এখন কেবল তেলের বাজার বা নৌপথের অনিশ্চয়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ধাক্কা সুদূর আফ্রিকাতেও নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। বৈশ্বিক এই অস্থিরতা আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য যেমন নতুন ঝুঁকি এনেছে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও সংস্কারের এক অভূতপূর্ব সুযোগও তৈরি করেছে।

নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়া

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে ওয়াশিংটন ও তার পশ্চিমা মিত্রদের মনোযোগ এখন ওদিকেই বেশি। ফলে সাহেল ও হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে পশ্চিমা নিরাপত্তা সহায়তা ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে স্থানীয় সরকাররা। এই সুযোগে আফ্রিকায় ইরানের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা যেমন দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে আর্থিক সংকটে পড়তে পারে, তেমনি রাশিয়া ও তুরস্কের মতো বিকল্প শক্তিগুলোর প্রভাবও বাড়ছে। রাশিয়ার ‘আফ্রিকা কর্পস’ এবং তুরস্কের ড্রোন প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা রপ্তানি আফ্রিকার নিরাপত্তা বাজারে নতুন প্রতিযোগিতার জন্ম দিচ্ছে।

সুদান ও লোহিত সাগরের লড়াইতে নতুন মাত্রা

ভূ-রাজনৈতিক এই দ্বৈরথের স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে সুদানের গৃহযুদ্ধে। বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, মার্কিন-ইরান সংকট সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে কাছাকাছি এনে সুদানের উত্তেজনা কমাবে। কিন্তু বাস্তবে লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণ ও আঞ্চলিক আধিপত্য নিয়ে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও গভীর হয়েছে। সুদানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ইরানের কথিত সহযোগিতা এই সামুদ্রিক করিডোরকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে, ফলে যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক নির্ভরতা হ্রাসের তাগিদ

হুরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কারণে আফ্রিকার আমদানি করা জ্বালানি, সার ও নিত্যপণ্যের পরিবহন খরচ আকাশচুম্বী হয়েছে। তবে এই সংকট আফ্রিকার নীতিনির্ধারকদের এক দশকের পুরনো কাঠামোগত দুর্বলতা সংশোধনে বাধ্য করছে। আফ্রিকা অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করলেও পরিশোধিত তেলের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

হুরমুজ সংকট এটাই মনে করিয়ে দেয়, আফ্রিকার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক ব্যবস্থার সঙ্গে কতটা জড়িত। এটি অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনা এবং জ্বালানি ও বাণিজ্য খাতে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা শক্তিশালী করার তাগিদকে আরও জোরদার করেছে।

সংকটই এখন বড় সুযোগ

আফ্রিকা সিইও ফোরামের পাবলিক সেক্টরের প্রধান মেরি কামারাসহ একাধিক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই বিশৃঙ্খলাকে কেবল বিঘ্ন হিসেবে না দেখে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আফ্রিকার অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে নেওয়া উচিত। আফ্রিকার দেশগুলো এখন ‘আফ্রিকান কন্টিনেন্টাল ফ্রি ট্রেড এরিয়ার’ (এএফসিএফটিএ) মাধ্যমে আন্তঃআফ্রিকান বাণিজ্য বাড়াতে এবং বহিরাগত শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে চাইছে।

তবে এখন একটাই চ্যালেঞ্জ, বাজার স্থিতিশীল হলে আফ্রিকান সরকারগুলো আবারও পুরনো ধারায় ফিরে যাবে, নাকি এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদী নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করবে?

থিওটোনিয়াস/