বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে মিশরের ৩-২ ব্যবধানের হারটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় ম্যাচ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। ৬৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা মিশর শেষ ১৩ মিনিটে ৩টি গোল খেয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। তবে এই অবিশ্বাস্য কামব্যাকের চেয়েও ফুটবল বিশ্বে এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ম্যাচের রেফারিং।
মিশর শিবিরের দাবি, রেফারি এবং ভিএআর টিম সম্পূর্ণভাবে আর্জেন্টিনার পক্ষে কাজ করেছে। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির বিতর্কিত দুটি সিদ্ধান্ত দেখা যাক একনজরে:
মোস্তফা জিকোর গোল বাতিল ও ১০০ গজের বিতর্ক
ম্যাচে যখন মিশর ১-০ গোলে এগিয়ে, তখন এক দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন মিশরীয় মিডফিল্ডার মোস্তফা জিকো। কিন্তু আলবিসেলেস্তেদের খেলোয়াড়দের প্রতিবাদের মুখে প্রধান রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ারকে পিচসাইড মনিটর দেখার সংকেত দেয় ভিএআর।
রিপ্লেতে দেখা যায়, গোলটি হওয়ার প্রায় ১০ সেকেন্ড আগে এবং প্রায় ১০০ গজ দূরে মিশরের নিজেদের হাফে মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজের জার্সি টেনে ধরেছিলেন এবং পায়ে পাড়া দিয়েছিলেন। এই সামান্য ফাউলের অজুহাতে গোলটি বাতিল করা হয়।
ফুটবল বিশ্লেষক ও সাবেক রেফারিদের অনেকেই এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, ফাউলটি গোল হওয়া থেকে অনেক দূরে এবং অনেক আগে ঘটেছিল, যেখানে ভিএআর-এর এত পেছনে গিয়ে হস্তক্ষেপ করা নিয়মবহির্ভূত ও নজিরবিহীন।
মোহাম্মদ সালাহকে পেনাল্টি প্রত্যাখ্যান ও আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোল
ম্যাচের শেষ দিকে যখন ২-২ সমতা, তখন আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সের ভেতর মিশরের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহকে ধাক্কা ও জার্সি টেনে ফেলে দেন হুলিয়ান আলভারেজ এবং ম্যাক অ্যালিস্টার। এটি একটি স্পষ্ট পেনাল্টির দাবি ছিল। কিন্তু রেফারি লেটেক্সিয়ার খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং আশ্চর্যজনকভাবে এবার ভিএআর রেফারি কোনো হস্তক্ষেপই করেননি।
মিশরীয় শিবিরের ক্ষোভ এখানেই যে, তাদের গোলের বেলায় রেফারি ১০০ গজ পেছনে গিয়ে ফাউল খুঁজে বের করলেন, অথচ সালাহর ক্ষেত্রে বক্সের ভেতরের স্পষ্ট ফাউলটি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হলো। আরও বড় ট্র্যাজেডি হলো, এই ঘটনার পরপরই কাউন্টার অ্যাটাক থেকে এনজো ফার্নান্দেজ গোল করে আর্জেন্টিনার ৩-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।
পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ও ফুটবল বিশ্বের সমালোচনা
ম্যাচ শেষে ফুটবল বিশেষজ্ঞ এবং ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা সোশ্যাল মিডিয়ায় রেফারি প্যানেলের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
সাবেক ফিফা রেফারি মার্ক ক্ল্যাটেনবার্গ বলেন, ’এই টুর্নামেন্টে যেভাবে রেফারিং হচ্ছে, তার সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত একেবারেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ভিএআর এখানে অতিরিক্ত ঘাঁটাঘাঁটি করে মিশরের গোলটি বাতিল করার উসিলা খুঁজেছে।’
মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান এবং গোলদাতা মোস্তফা জিকো ম্যাচটিকে ‘পাতানো’ এবং ফিফা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও মেসিকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে এই রেফারিদের ব্যবহার করেছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন। এই ম্যাচটি ২০২৬ বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম বড় রেফারিং কেলেঙ্কারি হিসেবে থেকে যাবে। সূত্র: এনডিটিভি
আজহার/অমিয়/