ঢাকা ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বকাপের ম্যাচকে কেন্দ্র করে মাভাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ১০ আর্জেন্টিনা ম্যাচে রেফারিং নিয়ে ফিফায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করল মিসর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম সাতকানিয়ায় হু হু করে ঢুকছে সাঙ্গুর পানি, পানিবন্দি হাজারো মানুষ ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে সব রেফারিই আর্জেন্টিনার চাঁদপুর যুব মহিলা লীগের সভাপতি ফরিদা গ্রেপ্তার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটেও ট্রেন চলাচল বাতিল পশ্চিমবঙ্গে ১১ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ-হত্যার আসামিকে এনকাউন্টার হালান্ডের প্রশংসায় পঞ্চমুখ নরওয়ে কোচ সলবাকেন আইডিয়া ছড়িয়ে দেওয়ার ৬টি কৌশল রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের ভিএআর বিতর্ক: মিশরকে কি ‘ডাকাতি’ করল আর্জেন্টিনা? চাকরি হারানো ১৬২ সৈনিক পাচ্ছেন ভূতাপেক্ষ সুযোগ সুবিধা নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারে পর্যবেক্ষকদের সুপারিশকে গুরুত্ব দেবে ইসি সমন্বয় ও নিঃসরণ অধ্যায়ের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান বাঁশখালীতে ভারি বর্ষণে জলাবদ্ধতা, পানিবন্দি প্রায় অর্ধ লাখ মানুষ রাজধানীতে ডিএমপির সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৩২ মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাইফুল গুলিবিদ্ধ পাহাড় উজাড় ও বিরূপ আবহাওয়ায় সংকটে আলীকদমের মৌচাষিরা ভারী বর্ষণে চবির সব ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত দেশের সব সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বাহুবলে দুই যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ২০ মিসরের গোল বাতিলে যা বললেন সাবেক রেফারি মানবপাচার রোধে বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক ভিএআর সমালোচনায় সাবেক ফুটবলার, কোচ ও বিশ্লেষক পাকিস্তানের কার্গো বিমান নিখোঁজ খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ ইতালিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মাদারীপুরের যুবকের মৃত্যু টুয়েলভ ক্লদিংয়ে চলছে ইনস্ট্যান্ট ভাউচার হুমকিতে সিরিয়া, ম্যাক্রোঁর দামেস্ক সফরকালীন হামলার নেপথ্যে কারা? ইরানে নতুন করে হামলা জরুরি ছিল: ন্যাটোপ্রধান

বাঁশখালীতে ভারি বর্ষণে জলাবদ্ধতা, পানিবন্দি প্রায় অর্ধ লাখ মানুষ

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:০১ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:১২ পিএম
বাঁশখালীতে ভারি বর্ষণে জলাবদ্ধতা, পানিবন্দি প্রায় অর্ধ লাখ মানুষ
ছবিঃখবরের কাগজ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে টানা চার দিনের বৃষ্টিতে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। হুমকির মুখে পড়েছে সাগর উপকূলীয় বেড়িবাঁধ।

অপরদিকে টানা বর্ষণে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন থেকে লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের প্রেমাশিয়া কদমরসুল এলাকায় বেড়িবাঁধের বড় অংশ ভেঙে গেছে। এতে যেকোন সময় বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে সাগরের নোনাপানি প্রবেশ করতে পারে। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি জায়গা দিয়ে পানি প্রবেশ করায় লোকালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার (৮ জুলাই) পর্যন্ত উপজেলা সদর ছাড়া কোথাও বিদ্যুৎব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়নি। এতে একদিকে পুরো উপজেলা অন্ধকার অন্যদিকে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই পানি তুলতে পারেননি। 

পল্লী বিদ্যুতের বাঁশখালী উপজেলার দায়িত্বরত ডিজিএম তৌহিদুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে তার ছিড়ে গেছে। তাছাড়া জাতীয় গ্রিডে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

বাঁশখালীর খানখানাবাদ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম জানান, ভারী বর্ষণে খানখানাবাদ ইউনিয়নের প্রেমাশিয়া, কদমরসুল ও রায়ছটা এলাকায় ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি। বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে। যে কোনো সময় বেড়িবাঁধ ভেঙে উপকূলীয় এলাকার ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যেতে পারে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারসহ সংশ্লিষ্টদের ঝুঁকি এড়াতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শফকত হোসাইন/হীরা/

সাতকানিয়ায় হু হু করে ঢুকছে সাঙ্গুর পানি, পানিবন্দি হাজারো মানুষ

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৩২ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম
সাতকানিয়ায় হু হু করে ঢুকছে সাঙ্গুর পানি, পানিবন্দি হাজারো মানুষ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু নদীর পাড় উপচে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) রাত থেকে সাঙ্গু নদীর বাজালিয়া ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া পয়েন্ট দিয়ে পাড় উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে। যা এখনো পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। এতে বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক, বাড়িঘর, কৃষিজমি ও মাছের খামার তলিয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া পয়েন্টে সাঙ্গু নদীর পাড় উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এ ছাড়াও একই নদীর বিশ্বেশ্বর হাট পয়েন্ট ঘেঁষে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

অপরদিকে; রামদা, কাটাখালীকুল, মাহালিয়া ও হাঙ্গর খালের পানি দুপাড় উপচে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে বাজালিয়া, ছদাহা ও কেঁওচিয়া ইউনিয়নের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

এ ছাড়াও বুড়ির দোকান ব্রিজ ও দস্তিদার হাট ব্রিজ এলাকায় কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়কের উপর দিয়ে একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তে সীমিত পরিসরে পানি প্রবাহিত হলেও যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

বাজালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বড়দুয়ারা গ্রামের বাসিন্দা মো. সাইফুদ্দিন বলেন, ’ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে এ এলাকার অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আমাদের বাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে। বর্তমান আমরা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় অবস্থায় নিয়েছি। এ ছাড়াও আমাদের চলাচলের একমাত্র সড়কটিতে কোমড় সমান পানি হওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।’

মাছচাষি শহিদুল ইসলাম বলেন, ’গত রাতে (৭ জুলাই) একটি পুকুরের চারপাশে জাল দিয়ে ঘেরা করার পরও ডুবে গেছে। ফলে ওই পুকুরে থাকা কয়েক লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এ ছাড়াও হরিণতোয়া সড়কের প্রবেশ মুখের পুকুরটিতে পানি ঢুকতে শুরু করছে। তারপরও চারপাশে জাল দিয়ে মাছ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

বুধবার (৮ জুলাই) পানি বিজ্ঞান উপ-বিভাগের প্রকৌশলী ইমরান হাসান বলেন, সাঙ্গু নদীর দোহাজারী পয়েন্টে সকাল ৬টায় ৫ দশমিক ৭২ মিটার, ৯টায় ৫ দশমিক ৮৭ মিটার এবং দুপুর ১২টায় ৫ দশমি ৯২ মিটার সীমা বরাবর প্রবাহিত হচ্ছে। 

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। আমরা সার্বক্ষণিকভাবে নদীর পানির স্তর পর্যবেক্ষণ করছি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। যেসব এলাকায় মানুষ বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন সেসব এলাকার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা প্রদানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে। এ ছাড়াও আমরা জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ দ্রুত সহায়তা পান।

সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. অমিত দে বলেন, বন্যা পরিস্থিতিতে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ইউনিয়নভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। খরব পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, পাহাড়ধস ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। এ ছাড়াও আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরিফুল/খাদিজা রুমি/

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটেও ট্রেন চলাচল বাতিল

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটেও ট্রেন চলাচল বাতিল
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের একটি অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আটকে পড়া পর্যটক এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এ রুটেও ট্রেন চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে প্রবল বৃষ্টিতে পানি বেড়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামের জানালীহাট স্টেশনের কাছে রেললাইনের একটি অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে সেখানে পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি আটকা পড়ে। বিকেলেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ট্রেনটির যাত্রা বাতিল ঘোষণা করে রেল কর্তৃপক্ষ।

অপরদিকে, রেললাইনের ওপর গাছ পড়ে যাওয়ায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা প্রবাল এক্সপ্রেস দোহাজারীতে আটকা পড়ে। পরে ট্রেনটি জানালীহাট রেলস্টেশনে নিয়ে আসা হয়।

জানালীহাট স্টেশনের স্টেশনমাস্টার নিজাম উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস থামিয়ে দেওয়া হয়। পরে রাতে এর যাত্রা বাতিল করা হয়। যাত্রীরা রাতেই ফিরে গেছেন। টিকিটের টাকা সবাই ফেরত পাবেন। রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। অপরদিকে, দোহাজারীতে আটকে থাকা প্রবাল এক্সপ্রেসকে জানালীহাট স্টেশনে নিয়ে আসা হয়েছে। সেখানে রেললাইনের ওপর গাছ পড়ে ছিল। বৈরি আবহাওয়ার কারণে রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পানি নেমে গিয়ে রেললাইন নিরাপদ হলে ট্রেন চলাচল আবার শুরু হবে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ষোলশহর স্টেশন থেকে ঢাকা থেকে আসা কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ছেড়ে যায়। তবে সুন্নিয়া মাদরাসা এলাকায় রেললাইন পানির নিচে থাকায় ট্রেনটি থামিয়ে দেওয়া হয়। ট্রেনটিতে প্রায় ৮০০ জন যাত্রী ছিলেন।

রিফাত/

বাঁশখালীতে ভারি বর্ষণে জলাবদ্ধতা, পানিবন্দি প্রায় অর্ধ লাখ মানুষ

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:০১ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:১২ পিএম
বাঁশখালীতে ভারি বর্ষণে জলাবদ্ধতা, পানিবন্দি প্রায় অর্ধ লাখ মানুষ
ছবিঃখবরের কাগজ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে টানা চার দিনের বৃষ্টিতে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। হুমকির মুখে পড়েছে সাগর উপকূলীয় বেড়িবাঁধ।

অপরদিকে টানা বর্ষণে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন থেকে লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের প্রেমাশিয়া কদমরসুল এলাকায় বেড়িবাঁধের বড় অংশ ভেঙে গেছে। এতে যেকোন সময় বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে সাগরের নোনাপানি প্রবেশ করতে পারে। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি জায়গা দিয়ে পানি প্রবেশ করায় লোকালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার (৮ জুলাই) পর্যন্ত উপজেলা সদর ছাড়া কোথাও বিদ্যুৎব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়নি। এতে একদিকে পুরো উপজেলা অন্ধকার অন্যদিকে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই পানি তুলতে পারেননি। 

পল্লী বিদ্যুতের বাঁশখালী উপজেলার দায়িত্বরত ডিজিএম তৌহিদুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে তার ছিড়ে গেছে। তাছাড়া জাতীয় গ্রিডে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

বাঁশখালীর খানখানাবাদ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম জানান, ভারী বর্ষণে খানখানাবাদ ইউনিয়নের প্রেমাশিয়া, কদমরসুল ও রায়ছটা এলাকায় ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি। বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে। যে কোনো সময় বেড়িবাঁধ ভেঙে উপকূলীয় এলাকার ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যেতে পারে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারসহ সংশ্লিষ্টদের ঝুঁকি এড়াতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শফকত হোসাইন/হীরা/

বাহুবলে দুই যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ২০

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
বাহুবলে দুই যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ২০
ছবিঃখবরের কাগজ

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক বাসের চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ডুবাঐ বাজার এলাকায় আকিজ ভেঞ্চার কোম্পানির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাস ডুবাঐ বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা সিলেটগামী লাকি পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়ক থেকে ছিটকে পাশের খাদে পড়ে যায়। অন্যদিকে লাকি পরিবহনের বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহনের বাসচালক নিহত হন। এছাড়া লাকি পরিবহনের বাসচালকসহ উভয় বাসের অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হন। স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।

দুর্ঘটনার পর প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ ও বাহুবল ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ইউনিক পরিবহনের বাসচালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত চালকের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি ,চেষ্টা চলছে।

কাজল সরকার/হীরা

খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
ছবিঃখবরের কাগজ

খুলনায় ট্রাক ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দুপুরে হরিণটানা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলেন- মো. শেখ দিদারুল হক (৩০) ও তাপস হোর (৬০)। তাদের বাড়ি পাইকগাছার হরিঢালী এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনা থেকে সাতক্ষীরাগামী ট্রাক খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা দুইটি ইজিবাইকে ধাক্কা দিয়ে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই একটি ইজিবাইকের চালক ও এক যাত্রী নিহত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকাজ শুরু করে।

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, বৃষ্টির মধ্যে পিচ্ছিল রাস্তায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। দ্রুতগামী ট্রাকের ধাক্কায় ট্রাকসহ দুটি ইজিবাইক রাস্তার পাশে উল্টে যায়। এতে ইজিবাইকের এক চালক ও যাত্রী নিহত হন।

মাকসুদ/হীরা