ঢাকা ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
আর্জেন্টিনার জয়ের মানসিকতা ও নেইমারকে পারেদেসের বার্তা যুবদল ৩০০ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে: মোনায়েম মুন্না পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের রায় বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সঙ্গে কমিউনিটি ব্যাংকের চুক্তি টেকনাফে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ারে মেমোরি চিপের সংকট ব্যাপক পরিসরে মানবসদৃশ রোবট ব্যবহারের দিকে চোখ টাটকার চেয়ে বাসি খেলে লাভ এই ৩ খাবার জনবল নেবে সোনারগাঁও হোটেল, দ্রুত আবেদন করুন মাভাবিপ্রবিতে বিশ্বকাপ ম্যাচকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০ ঝিনাইদহে আর্জেন্টিনার জয়ে উল্লাসের মুহূর্তে সমর্থকের মৃত্যু আর্জেন্টিনা ম্যাচে রেফারিং নিয়ে ফিফায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করল মিসর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম সাতকানিয়ায় হু হু করে ঢুকছে সাঙ্গুর পানি, পানিবন্দি হাজারো মানুষ ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে সব রেফারিই আর্জেন্টিনার চাঁদপুর যুব মহিলা লীগের সভাপতি ফরিদা গ্রেপ্তার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটেও ট্রেন চলাচল বাতিল পশ্চিমবঙ্গে ১১ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ-হত্যার আসামিকে এনকাউন্টার হালান্ডের প্রশংসায় পঞ্চমুখ নরওয়ে কোচ সলবাকেন আইডিয়া ছড়িয়ে দেওয়ার ৬টি কৌশল রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের ভিএআর বিতর্ক: মিশরকে কি ‘ডাকাতি’ করল আর্জেন্টিনা? চাকরি হারানো ১৬২ সৈনিক পাচ্ছেন ভূতাপেক্ষ সুযোগ সুবিধা নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারে পর্যবেক্ষকদের সুপারিশকে গুরুত্ব দেবে ইসি সমন্বয় ও নিঃসরণ অধ্যায়ের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান বাঁশখালীতে ভারি বর্ষণে জলাবদ্ধতা, পানিবন্দি প্রায় অর্ধ লাখ মানুষ রাজধানীতে ডিএমপির সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৩২ মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাইফুল গুলিবিদ্ধ পাহাড় উজাড় ও বিরূপ আবহাওয়ায় সংকটে আলীকদমের মৌচাষিরা ভারী বর্ষণে চবির সব ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত দেশের সব সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

মাভাবিপ্রবিতে বিশ্বকাপ ম্যাচকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০২:০৪ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
মাভাবিপ্রবিতে বিশ্বকাপ ম্যাচকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০
ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা-মিশরের ম্যাচ দেখা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সহকারী প্রক্টরসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রথম একাডেমিক ভবনের জানালার গ্লাস ও ফুলের টব ভাঙচুর করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত প্রায় ১০টার দিকে খেলা শুরুর আগে বসার স্থান নিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স (এফটিএনএস) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বহিরাগত সন্দেহকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রক্টরিয়াল বডির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে এলেও খেলা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ বাধে।

এ সময় তৃতীয় একাডেমিক ভবনের পাশে তিন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তৃতীয় একাডেমিক ভবনের সামনে এবং এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা জননেতা আব্দুল মান্নান হলের সামনে অবস্থান নেন। পরে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের বিভাগে ফিরে গেলেও রাত আনুমানিক ১টার দিকে প্রথম একাডেমিক ভবনে আইসিটি, এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে ভবনের জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডি ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল পর্যন্ত আহত সাত শিক্ষার্থী টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গুরুতর আহত একজনকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুল কুদ্দুস আহত হন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মনির মোর্শেদ বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও শিক্ষকরা মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তিনি আরও বলেন, উপাচার্য এবং এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, রাতে সংঘর্ষ থেমে গেলেও বুধবার সকাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। তবে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক।

জুয়েল রানা/রিফাত/

মাভাবিপ্রবিতে বিশ্বকাপ ম্যাচকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০২:০৪ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
মাভাবিপ্রবিতে বিশ্বকাপ ম্যাচকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০
ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা-মিশরের ম্যাচ দেখা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সহকারী প্রক্টরসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রথম একাডেমিক ভবনের জানালার গ্লাস ও ফুলের টব ভাঙচুর করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত প্রায় ১০টার দিকে খেলা শুরুর আগে বসার স্থান নিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স (এফটিএনএস) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বহিরাগত সন্দেহকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রক্টরিয়াল বডির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে এলেও খেলা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ বাধে।

এ সময় তৃতীয় একাডেমিক ভবনের পাশে তিন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তৃতীয় একাডেমিক ভবনের সামনে এবং এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা জননেতা আব্দুল মান্নান হলের সামনে অবস্থান নেন। পরে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের বিভাগে ফিরে গেলেও রাত আনুমানিক ১টার দিকে প্রথম একাডেমিক ভবনে আইসিটি, এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে ভবনের জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডি ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল পর্যন্ত আহত সাত শিক্ষার্থী টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গুরুতর আহত একজনকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুল কুদ্দুস আহত হন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মনির মোর্শেদ বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও শিক্ষকরা মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তিনি আরও বলেন, উপাচার্য এবং এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, রাতে সংঘর্ষ থেমে গেলেও বুধবার সকাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। তবে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক।

জুয়েল রানা/রিফাত/

ভারী বর্ষণে চবির সব ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
ভারী বর্ষণে চবির সব ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত
ছবি: খবরের কাগজ

টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা, পরিবহন সংকট ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বুধবার (৮ জুলাই) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও বিজ্ঞপ্তিটি প্রচার করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, জলাবদ্ধতা এবং পরিবহন সংকটের প্রেক্ষাপটে বুধবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষা আদেশক্রমে স্থগিত করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) থেকে টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এদিকে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে রেললাইনের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জলজটের কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অতিবৃষ্টির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাটাপাহাড় সড়কের একটি অংশে পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে, যা ওই সড়কে চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করেছে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা এবং যাতায়াতের সুবিধার্থে একদিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আল আরাফ/অন্তরা/

জবি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:১৮ পিএম
জবি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মুরগিটোলা মোড়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সংবাদকর্মীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা। মানববন্ধন থেকে জবি শিক্ষার্থী ও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং আমার দেশ পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি লিমন ইসলামের ওপর হামলার বিচার, দায়ী পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণের দাবি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করা হয়।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের নিচে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব, সাংবাদিক সমিতি, রিপোর্টার্স ইউনিটি ও মাল্টিমিডিয়া ইউনিটির যৌথ উদ্যোগে এই মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা একযোগে দাবি জানান, মুরগিটোলার ঘটনায় জবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লিমন ইসলামসহ আহত সকল সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীর চিকিৎসার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে, দায়ী পুলিশ সদস্য ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ছাত্র মজলিসের সদস্য সচিব ওবায়দুল ইসলাম বলেন, পুলিশের চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়ার পরও লিমনকে মারধর করা হয়েছে। তিনি দায়ী পুলিশ সদস্যদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রক্টরিয়াল বডির দায়িত্বহীনতারও সমালোচনা করেন।

জবি ছাত্রদলনেতা রিয়াসাল রাকিব বলেন, পুরান ঢাকায় আবাসিক শিক্ষার্থীরা প্রায়ই নানা সমস্যার মুখোমুখি হন, কিন্তু প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পান না। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় অপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়েই পুলিশ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও জকসু জিএস আব্দুল আলিম বলেন, গেন্ডারিয়া থানায় গিয়ে তারা তিনটি দাবি তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় মাদক কারবার দমন, সাংবাদিক লিমনের ওপর হামলার বিচার এবং পুরান ঢাকায় অবস্থানরত জবি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়ার পরও লিমনকে একাধিক পুলিশ সদস্য মিলে মারধর করেছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আহত লিমনসহ সব শিক্ষার্থীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।

জবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে কলম থামিয়ে দেওয়া যাবে না। তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। দায়ী পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন তিনি।

জবি সাংবাদিক সমিতির পক্ষ থেকে দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও লিমনকে নির্মমভাবে মারধর করতে দেখেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার শুরু থেকে দীর্ঘ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কেউ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। প্রশাসন শুরু থেকেই সক্রিয় থাকলে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের মার খেতে হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি আহত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহনের দাবি জানান।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুশফিকুর রহমান মুশফিক বলেন, তাদের সাধারণ সম্পাদক লিমন ইসলাম এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রয়োজনীয় তৎপরতা ছিল না। বারবার যোগাযোগ করেও প্রশাসনের কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, প্রশাসন দ্রুত পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না করলে জবি প্রেসক্লাব, সাংবাদিক সংগঠন, ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৬ জুলাই মধ্যরাতে পুরান ঢাকার মুরগিটোলা মোড়ে জুতা চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের পর পুলিশের লাঠিচার্জে জবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও আমার দেশ পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি লিমন ইসলামসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।

এসএন/

ইবিতে 'লোক্যাল ইমপ্যাক্ট অব গ্লোবাল লার্নিং' বিষয়ক প্রেস কনফারেন্স

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
ইবিতে 'লোক্যাল ইমপ্যাক্ট অব গ্লোবাল লার্নিং' বিষয়ক প্রেস কনফারেন্স
ছবি: খবরের কাগজ

‎ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) লোক প্রশাসন বিভাগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস+ (Erasmus+) অর্থায়নে পরিচালিত আন্তর্জাতিক RESHAPE (Local Impact of Global learning) প্রকল্পের আওতায় ইবি প্রতিনিধিগণ একটি তথ্যবিষয়ক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) 'লোক্যাল ইমপ্যাক্ট অব গ্লোবাল লার্নিং' বিষয়ক প্রেস কনফারেন্সটি অনুষ্ঠিত হয়।

‎এতে উপস্থিত ছিলেন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলি, লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম, অধ্যাপক ড. জুলফিকার হোসাইন, অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান এবং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফকরুল ইসলাম।

‎সেমিনারে প্রকল্পটির উদ্দেশ্য, উচ্চশিক্ষায় শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাদান পদ্ধতি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক টেকসই উন্নয়ন এবং Planetary Wellbeing বিষয়ক বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অংশীদার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে জ্ঞান বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা এবং শিক্ষক উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়।

‎এ সময় বক্তারা প্রকল্পের ধারণা কাজে লাগিয়ে গ্রিন ক্যাম্পাস গঠন, ডিজিটাল লার্নিং সেন্টার স্থাপন ও মাল্টি সেন্সরি লার্নিং স্পেস স্থাপনের কথা জানান।

‎অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, RESHAPE প্রকল্পের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষাদান ও গবেষণার মান উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকরা আধুনিক ডিজিটাল দক্ষতা, উদ্ভাবনী শিক্ষণ পদ্ধতি এবং বৈশ্বিক একাডেমিক নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

‎উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস+ কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত RESHAPE প্রকল্পের লক্ষ্য হলো উচ্চশিক্ষায় সামাজিক-সাংস্কৃতিক, টেকসই উন্নয়ন ও গ্রহগত কল্যাণ (Planetary Wellbeing) ধারণাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংযুক্ত করা, শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতা জোরদার করা।

নিয়ামতুল্লাহ/নাঈম

ইবি ছাত্রশক্তির কমিটিকে ‘হাইব্রিড পকেট কমিটি’ দাবি

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
ইবি ছাত্রশক্তির কমিটিকে ‘হাইব্রিড পকেট কমিটি’ দাবি
ছবি: খবরের কাগজ

জাতীয় ছাত্রশক্তি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার নবগঠিত কমিটিকে বিতর্কিত দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে ইবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) সাবেক নেতা-কর্মীরা।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর দুইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস কর্নারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মুবাশ্বির আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মিশনু আল আসনাউন, সদস্য নিরব আলী ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে মোবাশ্বির আমিন অভিযোগ করে বলেন, "গত ৫ জুলাই ইবি ছাত্রশক্তির কমিটি হয়েছে। কিন্তু আমরা চরম বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলাম, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা রাজনৈতিক সংগঠন 'এনসিপির ছাত্র সংগঠন 'জাতীয় ছাত্রশক্তি'তে জুলাইয়ের সেই প্রকৃত লড়াকু যোদ্ধাদের বিন্দুমাত্র মূল্যায়ন করা হয়নি। জুলাইয়ের স্পিরিটকে পদদলিত করে শহিদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে যাদেরকে আজ নেতৃত্বে বসানো হলো, তারা বিগত দিনের স্বৈরাচারের উচ্ছিষ্টভোগী সাবেক ছাত্রলীগ এবং ছাত্রদলের সুবিধাবাদী কর্মী। এটি একটি চরম 'হাইব্রিড পকেট কমিটি'।"

তিনি ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসানকে ফ্যাসিবাদের দোসর দাবি করে বলেন, “এই তথাকথিত কমিটির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান কোনো সাধারণ মুখ নয়। ফ্যাসিবাদী আমলে প্রত্যক্ষভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত ও খুনি সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে তার যুক্ত থাকার যথেষ্ট প্রমাণ, ছবি আমাদের হাতে আছে। এ ছাড়া ৫ আগস্টের পর এই ফুয়াদ হাসানই শাহ আজিজুর রহমান হলে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের জন্য মধ্যস্থতা করেছিল। সে আবারও ক্যাম্পাসে নবরূপে ছাত্রলীগ পুনর্বাসনের নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে মাঠে নেমেছে। এ ছাড়া, সদস্য-সচিব ইফতেহার উদ্দীন রাজনৈতিক বহুরূপী এই ব্যক্তি পূর্বে ছাত্রলীগের সব প্রকার অপকর্মের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। অভ্যুত্থানের পর যখন সে দেখল বাতাস ঘুরে গেছে, তখন সে ছাত্রদলের কমিটিতে জায়গা পাওয়ার জন্য নির্লজ্জের মতো সিভি জমা দেয় এর একাধিক নিউজ ও প্রমাণ আমাদের কাছে আছে।

তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের রাজপথের পরীক্ষিত ক্যাম্পাস নেতৃত্বদেরকে অবজ্ঞা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রশক্তি ছাত্রদলের বি টিম এবং ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে কমিটি দিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মর্যাদা লঙ্ঘন ও রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করেছে।”

এ সময় তারা দাবি করে বলেন, “ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সমন্বয়ে গঠিত এই প্রহসনের পকেট কমিটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।”

এ বিষয়ে ইবি ছাত্রশক্তির নতুন আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান বলেন, যে ৩ জন কমিটিতে আসছেন তাদের কারো ছাত্রলীগে কোনো পদ পদবি বা ছাত্রলীগে পদ পাওয়ার জন্য ন্যূনতম সিভি দেওয়ার প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। অভিযোগকারী মুবাশ্বির আমিন কমিটি প্রকাশ হওয়ার পর ৫ই জুলাই রাতে আমাকে ফোন দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। সে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করে এবং নির্দিষ্ট একটি পদের নিশ্চয়তা চায়। আমি তাকে কার্যক্রমের ভিত্তিতে কেন্দ্র বিবেচনা করবে বলে আশ্বস্ত করি। কিন্তু আজ কেন হঠাৎ এমন বক্তব্য দিয়েছে ,তা আমার জানা নেই।

নিয়ামতুল্লাহ/নাঈম