ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে পর্যবেক্ষকদের দেওয়া সুপারিশকে বিশেষ গুরুত্ব এবং সেগুলো পর্যালোচনা করে নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে সুপারিশগুলো যাচাই-বাছাই এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী সংলাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ইসি জানায়, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ইতোমধ্যে তাদের মূল্যায়ন ও সুপারিশ জমা দিয়েছে। এসব সুপারিশ নিয়ে আলোচনা এবং বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার নির্ধারণের লক্ষ্যেই এ সংলাপের আয়োজন করা হয়েছে। এতে স্থানীয় পর্যবেক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, নির্বাচন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন অংশীজনসহ অর্ধশতাধিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে পর্যবেক্ষক দল এবং বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে। সবার সহযোগিতা পেয়েছি। এ সংলাপ থেকে নির্বাচনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য কার্যকর সুপারিশ আসবে বলে আমরা আশা করছি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের পর প্রাপ্ত সুপারিশগুলো কমিশন গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করছে। দুই দিনের এ সংলাপে উঠে আসা নতুন সুপারিশও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে বিবেচনায় নেওয়া হবে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন রয়েছে। এ নির্বাচন সফলভাবে আয়োজনেও সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতা ছিল। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে ১৯টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এ কর্মশালার আলোচনার মাধ্যমে আরও কার্যকর সুপারিশ উঠে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সুপারিশগুলোর অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে বাস্তবায়ন করা জরুরি। একটি গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে অংশীজনদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।
সংলাপের আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মাইকেল লিডাউয়ার বলেন, বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা ইতোমধ্যে তাদের মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে। সবার অভিজ্ঞতা ও সুপারিশ একত্র করে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী সংস্কারের কার্যকর রূপরেখা প্রণয়নে এ সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এসব সুপারিশ কাজে লাগবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দুই দিনের এই সংলাপের বিভিন্ন অধিবেশনে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।
এলিস/অন্তরা/